বাংলার কালী – সরিষার কাঠের কালীর পুজো

20

সে আজ থেকে প্রায় তিনশো বছর আগের কথা মুড়াগাছার জমিদার বরদাপ্রসাদ রায়চৌধুরীর প্রতিপত্তি ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা দক্ষিণ বঙ্গে তিনি ছিলেন শিবের তবে আজ আলোচনা করবো তার প্রতিষ্ঠিত একটি কালী মন্দির নিয়ে।এই কালী মন্দিরটি রয়েছ ডায়মন্ড হারবারের সরিষা গ্রামে

 

স্থানীয়দের মধ্যে এই প্রাচীন কালী মন্দির নিয়ে একাধিক জনশ্রুতি প্রচলিত আছে। শোনা যায় এক সময় এই সব অঞ্চলে বসন্ত রোগের ভয়ানক প্রকোপ দেখা দেয়। প্রজারা আসেন জমিদার বাবুর কাছে সমাধানের। চিন্তিত হয়ে পড়েন বরদাপ্রসাদ। তখনই এক রাতে দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে কালী মন্দির নির্মাণ করেন।

 

দেবীর নির্দেশেই মন্দিরের জন্য নির্বাচিত স্থানের পশের এক পুকুর থেকে কাঠ উদ্ধার করে সেই কাঠ দিয়ে তৈরি হয় কালীমূর্তি। সেই কাঠের কালীমূর্তিকেই আজও পুজো করেন সরিষা গ্রামের মানুষ।এই কারণে এই দেবীকে অনেকেই কাঠের কালী নামে চেনেন।

 

পরবর্তীতে বরদাপ্রসাদের বিরাট জমিদারির অধিকাংশ জমি এবং প্রভাব প্রতিপত্তি চলে যায় স্থানীয় হালদার পরিবারের হাতে সেই সঙ্গে মন্দিরের পুজো এবং রক্ষনাবেক্ষণের দায়িত্ব চলে যায় এই হালদার পরিবারের হাতে। সেই থেকে মন্দির ও মূর্তি দুই আগলে রেখেছেন হালদার পরিবারের সদস্যরা ।

 

আজও এই পুজো একই রীতিনীতি মেনে পালন করে আসছেন হালদার পরিবার। এই পুজোকে কেন্দ্র করে রয়েছে একাধিক রীতি নীতি।

শোনা যায় কালীপুজোর দিন এই গ্রামে অন্য কোথাও কালী পুজো হয় না। আগে একাধিকবার গ্রামবাসীরা বারোয়ারি কালীপুজোর উদ্যোগ নিলেও বিভিন্ন অঘটন ঘটেছে। সেই থেকে এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কাঠের কালীর পুজোই প্রায় একমাত্র এবং প্রধান পুজো।

 

সব নিয়ম মেনে দেবীর নিত্যপুজো হয় এখানে। তবে কালীপুজোর সময় বিশেষ পুজোর আয়োজন হয়। দেবীকে প্রতিদিন অন্নভোগ দেওয়া হয়। তবে কালীপুজোর সময় দেবীমূর্তির  সামনে হয় তন্ত্র মতে পশু বলির রীতি আছে। নিয়ম রক্ষা করে প্রতি বছর মাছ বলি হয় । এছাড়া সবজি বলি দেওয়া হয়। সেই বলির মাংস, মাছ ও সবজি নিয়ে মায়ের অন্নভোগের আয়োজন করা হয় মন্দিরে।

পরবর্তীতে ভোগ বিতরণ হয়। কালীপুজোর সময়ে বিশেষ পুজো উপলক্ষে সারারাত ধরে এখানে ভক্তদের ভিড় হয়।

 

ফিরে আসবো বাংলার কালীর পরবর্তী পর্ব নিয়ে যথা সময়ে। থাকবে এমনই এক ঐতিহাসিক এবং প্রাচীন কালী পুজোর কথা।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।