দূর্গা কথা – লাহা বাড়ির দূর্গা পুজো

221

কলকাতার বড়ো বনেদি বাড়ির পারিবারিক পুজো গুলির মধ্যে লাহা বাড়ির পুজো অন্যতম|আজকের পর্বে এই লাহা বাড়ির পুজোনিয়ে লিখবো।কলকাতায় এসে পাকাপাকি ভাবে বাস করার আগে বর্ধমানে প্রথম পুজো শুরু করেন লাহা বাড়ির অন্যতম কর্তা বনমালী লাহা|তারপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয় বর্ধমানের পাট চুকিয়ে লাহারা কলকাতায় এসে বসবাস শুরু করেন। কলকাতার বাড়িতে দূর্গা পুজো শুরু করেন দুর্গাচরণ লাহা|এই বাড়ির পুজোর এমন কিছু বৈশিষ্ট আছে যা আর বেশ অদ্ভুত এবং আর কথাও চোখে পড়েনা|লাহা বাড়ির কুল দেবী সিংহ বাহিনী।দূর্গা পুজোর সময়ে দশ ভূজা দেবী দূর্গা এবং সিংহ বাহিনী একই সাথে পূজিতা হন|সিংহ বাহিনী কি করে এবাড়ির কুলদেবী হলো সে নিয়েও একটি অলৌকিক ঘটনা আছে|শোনা যায় কোনো এক সময় নাকি দেবীর এই মূর্তি কোন এক গভীর জঙ্গলে অনাদরে অযত্নে পড়ে ছিল।লাহা বাড়িরই এক সদস্য দেবীর কাছে স্বপ্নাদেশ পেয়ে মূর্তি উদ্ধার করতে গিয়ে দেবীকে খুঁজে পান এবং স্বযত্নে দেবীকে তুলে নিয়ে এসে  কুলদেবী রূপে পুজো করতে শুরু করেন|সেই থেকেই অষ্ট ধাতুর সেই মূর্তি কুল দেবী রূপে এবাড়িতে প্রতিষ্ঠিত|মনে করা হয় ওই ঘটনার পর থেকে লাহাদের ব্যাপক উন্নত হয়|পরবর্তীতে শিবচরণ লাহা ইংরেজদের সঙ্গে পেন খাতাপত্র এবং মূল্যবান রত্নের ব্যবসা করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছিলেন। পুজোর জাঁকজমকও বাড়ে এই সময়|এই বাড়ির পুজো হয়ে ওঠে কলকাতার বিখ্যাত বনেদি বাড়ির বড়ো পুজোগুলোর একটা|এ বাড়িতে দেবী দুর্গার রূপ অন্য|তিনি এখানে হরপার্বতী রূপে পূজিতা হন|এই রূপে শিবের কোলে দেবী দুর্গা উপবিষ্টা|মহিষাসুর থাকেনা, দেবীর হাতে কোনো অস্ত্রও থাকেনা|লাহাবাড়ির পুজোর রীতিও একটু আলাদা লাহাবাড়িতে কাঠামো পুজো হয় জন্মাষ্টমীর দুই তিন পরে এবং দেবীপক্ষের শুরুতে বোধন হয়|লাহা বাড়ির পুজো হয় বৈষ্ণব মতে।প্রথা মেনে এখানে অন্ন ভোগ হয় না এখানে ভোগের বিশেষত্ব নানা ধরণের মিষ্টি| প্রাণী হত্যার পরিবর্তে বলী হয় কুমড়ো বা শসা|বিসর্জন ঘিরেও এবাড়িতে রয়েছে এক অদ্ভুত প্রথা বিসর্জন দিয়ে ফিরে বাড়ির পুরুষরা জিজ্ঞাসা করেন, ‘মা আছেন ঘরে’ ? তখন বাড়ির কোনও মহিলা ভিতর থেকে  উত্তর দেন, ‘হ্যাঁ মা আছেন।‘ বাইরে থেকে ফের জিজ্ঞাসা করা হয় ‘মা আছেন ঘরে ?’ একই উত্তর দেওয়া হয় ভিতর থেকে। এভাবে পরপর তিনবার জিজ্ঞাসা করার পর সবাই ভেতরে প্রবেশ করে|এই প্রথা কেনো এবং কবে শুরু হয়েছে তার ইতিহাস জানা যায়না তবে নিষ্ঠার সাথে বর্তমান লাহাবাড়ির সদস্যরা এই রীতি নীতি সবই আজও পালন করে আসছেন।আসন্ন দুর্গাপুজো উপলক্ষে আগামী পর্ব গুলিতে এমন সব বনেদি বাড়ির পুজো সংক্রান্ত আরো অনেক ইতিহাস, গল্প ও শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নিয়ে যথা সময়ে ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।