Home Blog Page 68

স্বেত কালীর পুজো

স্বেত কালীর পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সাধারণত কালী মানেই আমরা কৃষ্ণ বর্ণা দেবীকে বুঝি।শ্যামা রূপই দেবী কালীকা পূজিত হন সর্বত্র।

তবে আজ কালী কথায় এমন এক কালী পুজোর কথা জানাবো যেখানে দেবী কালো নন তিনি স্বেত বর্ণা। শুনতে অদ্ভুত লাগলেই এটা সত্যি।

 

কুলটি তে রয়েছে এই অদ্ভুত কালী মন্দির যেখানে সাদা রূপে পূজিতা হন মা কালী|শোনা যায় এইরূপে ভবতারিণী প্রথম দর্শন দিয়েছিলেন সাধক রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবকে।যাই হোক সে অন্য প্রসঙ্গ।এই কুলটির সাদা কালীর পুজো সাধক মধুময় ঘোষ স্বপ্নাদেশ পেয়ে পুজো শুরু করেন এখানে ।

 

দেবী কালীর এমন সাদা রূপের আরাধনা, সচরাচর দেখতে পাওয়া যায়না পশ্চিম বর্ধমান জেলায় একমাত্র এখানেই রয়েছে সাদা রংয়ের কালীমূর্তি। এই দেবী একইসঙ্গে অসুরদলনী ও অন্যদিকে রক্ষাকর্ত্রী এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা এবং পূজারী মধুময় ঘোষ বলতেন দেবী কালিকা তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন নিত্য পূজা করার জন্য। আর দেবী তার এইরূপ আগে থেকেই নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন। তারপর থেকে নিয়মিত পুজো নিয়ে আসছেন কুলটির সাদা কালী যাকে অনেকে ফলহারিণী কালীও বলেন।কারন এই কালীর পুজো করলে নাকি কর্মফল ভুগতে হয়না এবং ফল হারিণী অমাবস্যাই এই মন্দিরের প্রধান উৎসব

 

আজ সেই সাধকের পরিবারের সদস্যরা পুজো করে আসছেন পাশাপাশি গ্রামের মানুষও দেবী কালিকার সাধনায় মেতে ওঠেন। ফল হারিণী অমাবস্যা সহ প্রত্যেক অমাবস্যায় জাঁকজমক সহকারে হয় পুজো। স্থানীয় মানুষজনও সেই পুজোয় অংশগ্রহণ করেন।

 

পাশের জেলা বাঁকুড়ার শুশুনিয়া থেকে মূর্তিটি নিয়ে এসে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। সেই মূর্তির নিত্য পুজো হয়। প্রতিষ্ঠাতা মধুময় ঘোষ স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পরেই বাঁকুড়ায় উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সেখানে গিয়ে তিনি মায়ের মূর্তিটি পান এই রূপেই। তাই সেই রুপেরই আরাধনা শুরু করেছেন তিনি।

বর্তমানে স্বেত কালী নিঃসন্দেহে বাংলার জাগ্রত এবং প্রসিদ্ধ কালী মন্দির গুলির অন্যতম।

 

কালী কথার পরবর্তী পর্বে থাকবে এমনই এক ঐতিহাসিক এবং অলৌকিক ঘটনায় সমৃদ্ধ কালী মন্দিরের কথা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – বর্ধমানের মহারাজার কালী পুজো

কালী কথা – বর্ধমানের মহারাজার কালী পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

একসময় অবিভক্ত বাংলা বিহার উড়িষ্যায় ছোটো স্থানীয় রাজ্য গুলি বেশ ক্ষমতাশালী এবং প্রভাব শালী ছিলো এবং এই সব রাজ্যের রাজাদের মধ্যে কয়েকজন ছিলেন বেশ ধার্মিক যেমন নদিয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র বা বর্ধমানের রাজা কন্দর্পনারায়ণ। তারা তাদের রাজত্ব কাকে নির্মাণ করেছেন একাধিক মন্দির।যার অনেকগুলি আজও টিকে আছেন।তেমনই এক মন্দির নিয়ে আজ

এই কালী কথা পর্ব।

 

বর্ধমানের মহারাজা কন্দর্পনারায় হাওড়া জেলায় বৃন্দাবনতলায় এক কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দেবী দক্ষিনা কালী এখানে বাগেশ্বরী নামে বিরাজ করছেন।

 

মন্দির প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে একটি অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ ও পাওয়া যায়।শোনা যায় কালীভক্ত মহারাজা কন্দর্পনারায়ণ এক রাতে দক্ষিণা কালীকে স্বপ্নে দেখেছিলেন এবং স্বপ্নে মা দক্ষিণা কালী স্বয়ং মহারাজাকে দামোদরের তীরে তাঁর মন্দির প্রতিষ্ঠা এবং নিমকাঠের মূর্তি তৈরী করার নির্দেশ দেন শুধু তাই নয় দেবী এও বলেন মূর্তির জন্য প্রয়োজনীয় নিমকাঠ নিজে থেকেই ভেসে আসবে দামোদর নদীতে।ঠিক যেমন পুরীতে সমুদ্রে জগন্নাথদেবের মূর্তি তৈরীর জন্য দারুব্রহ্ম ভেসে এসে ছিলো।

 

শুধু সেই প্রথমবার নয় আশ্চর্য জনক ভাবে মন্দির সংস্কার এবং সেই উপলক্ষে নতুন প্রতিমা নির্মাণের সময় প্রতিবারই দেবীর মূর্তির জন্য প্রয়োজনীয় নীম কাঠ ভেসে এসেছিলো পার্শবর্তী দামোদর নদীর স্রোতে।

 

বাস্তবেও তাই হয়।মন্দির তৈরী হয়ার পর সত্যিই একদিন জলের স্রোতে ভেসে এসেছিল নিমগাছের প্রকাণ্ড এক গুঁড়ি। সেই গুঁড়ির কাঠ দিয়েই নির্মাণ করা হয়েছিল বিশাল আকৃতির দক্ষিণা কালী এবং দেবীর পদতলে থাকা মহাদেব।

 

শাস্ত্র মতে প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর শুরু হয়েছিলো পুজো এবং দ্রুত বাগেশ্বরী কালীর নাম ছড়িয়ে পড়েছিল দিকে দিকে। তাঁর করুণা লাভ করার জন্য তাঁর দরবারে আসতে শুরু করেছিলেন দেশ বিদেশের ভক্তের দল।সেই জনপ্রিয়তা এবং শ্রদ্ধা ভক্তি আজও অটুট আছে।

 

আজও দেবীর মন্দিরের আশেপাশের অঞ্চলে কোনও শুভকাজ হলে, আগে মায়ের পুজো দিয়ে তাঁর আশীর্বাদ নেওয়ার রীতি প্রচলিত আছে।

আজও প্রতিটি অমাবস্যা তিথিতে মহা সমারোহে দেবীর পুজোর আয়োজন করা হয়। দূর দূর থেকে দেবীর পুজো অংশ নিতে আসেন মানুষ।

 

বাংলায় এমন বিখ্যাত এবং ঐতিহাসিক কালী মন্দিরের সংখ্যা অসংখ্য।ফিরে আসবো আগামী দিনে।কালী কথার পরবর্তী

পর্ব নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বীরভূমের হাড় কাটা কালী মন্দিরের ইতিহাস

বীরভূমের হাড় কাটা কালী মন্দিরের ইতিহাস

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

প্রাচীন বীরভূমি বা বীরভূমের অজয় তীরে এক প্রাচীন দেবী মন্দির হাড়কাটা মন্দির।আজ

কালী কথায় এই হাড়কাটা মন্দির নিয়ে লিখবো।

 

মন্দিরের প্রাচীনত্ব বোঝা যায়, তার জোড় বাংলা বা প্রাচীন মন্দির শৈলী ও টেরাকোটার কাজ থেকে। এই মন্দিরে তার নমুনা অসংখ্য। গ্রামবাসীদের মতে কালাপাহাড় কর্তৃক আক্রান্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৭৫১ সালে বর্গী আক্রমণে প্রায় ধ্বংসের মুখে পতিত হয়েছিল এই মন্দির।

 

এক কালে এই স্থানের অস্থিশিল্পের বেশ সুনাম ছিল। এইখানে প্রধানত অস্থিশিল্পীদের লোকজন বসবাস করতেন। এবং তাঁরা ষোড়শ শতকে বাণিজ্য করতে আসা বিট্রিশদের অস্থি থেকে বিভিন্ন কারুকার্যমন্ডিত শিল্প সামগ্রী তৈরি করে দিতেন। এই সামগ্রীর ইউরোপে দারুণ চাহিদা ছিল।মুলত বিভিন্ন প্রাণী বা হাতির দাঁত দিয়ে বিভিন্ন মূর্তি বানানোই ছিলো এই শিল্পের বিশেষত্ব।

 

এইভাবে উপার্জিত অর্থ দ্বারা অস্থিশিল্পী তোতারাম মতোবিগঁর নেতৃত্বে সমগ্র অস্থিশিল্পীরা একত্রিত হয়ে মায়ের মৃন্ময়ী মূর্তি ও নয়নাভিরাম মন্দির গড়ে পূজাপাঠ শুরু করেন। যেহেতু অস্থি বা হাড়কাটা কারিগর দ্বারা নির্মিত হয় মন্দির, তাই এই মন্দিরের নাম ‘হাড়কাটা’ মন্দির।

 

মন্দিরে মায়ের যে মূর্তি তা প্রধানত দক্ষিণা কালী। তাঁর ডানের উর্ধ হস্তে খড়্গ ও অধ হস্তে মুণ্ড। এবং বামের উর্ধ হস্তে বর ও অধ হস্তে অভয় মুদ্রা। মা শিবের বুকে দণ্ডায়মানা। কিন্তু মা এখানে একই সঙ্গে ভীষণা এবং একই সাথে বরাভয়প্রদায়নী।

 

অতীতে ১২০ শের আতপ চাল ও বিবিধ ফলমূলের দ্বারা পূজা হত। শোনা যায়, এখানে মা ভীষণই জাগ্রত। কোনও এক সময়ে মূল সেবাইতের দ্বারা কিছু ত্রুটি হলে, তাঁর দ্বাদশ বর্ষীয়া কন্যা নিখোঁজ হন। এবং তাকে খুঁজতে খুঁজতে বিগ্রহের মুখে রক্ত ও কাপড়ের টুকরো দেখতে পাওয়া যায়। তখন মায়ের কাছে আকুল হয়ে ডেকে সেই সেবাইত কন্যাকে ফিরে পান।এসবই অবশ্য প্রচলিত জনশ্রুতি। তবে সবার বিশ্বাস এখানে ভীষণা এবং একি সাথে মঙ্গলময়ী।

 

অতীতে সব অমাবস্যা তিথিতে পুজো হলেও বর্তমান কেবলমাত্র বাৎসরিক দীপান্বিতা অমাবস্যায় প্রধান পুজো সংঘটিত হয়।

 

বাংলার আরো একটি প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক কালী নিয়ে আলোচনা করবো আগামী পর্বে।

চলতে থাকবে কালী কথা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – সংগ্রাম পুরের কালী পুজো 

কালী কথা – সংগ্রাম পুরের কালী পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বসিরহাটের সংগ্রামপুরে রয়েছে এক  ছশো বছরের পুরনো ঐতিহাসিক কালীমন্দির যে মন্দিরের এক কিলোমিটারের মধ্যে অন্য কোনও কালীপুজো হয় না।আজ কালী কথায় এই সংগ্রামপুরের কালী মন্দিরের কথা লিখবো।

 

বাংলার আরো অনেক ঐতিহাসিক মন্দিরের

ন্যায় এই কালী মন্দিরের সাথেও জড়িয়ে আছে মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের নাম।রাজা কৃষ্ণচন্দ্র দে স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই মন্দির নির্মাণের জন্য জায়গা দান করেন। এরপর কৃষ্ণচন্দ্র দে এবং গ্রামবাসীদের উদ্যোগে এই কালী মন্দির স্থাপিত হয়।শুরুতে ছিল একটা খড়ের চাল দেওয়া মন্দির। তারপর ভক্তদের দানে ও মন্দিরের উন্নয়ন কমিটির সৌজন্যে সুন্দর পাকা মন্দির নির্মাণ হয়।

 

মন্দিরে মা কালীর সামনে রাখা আছে একটি ঘট শোনা যায় এই ঘটকে অবলম্বন করেই এই মন্দির গড়ে ওঠে।পরে তৈরী হয় কালী মূর্তি তবে মন্দিরে মায়ের যে মূর্তিটা রয়েছে তা কী দিয়ে তৈরি

সেটা কেউ জানেন না এখনও। এমনকী কে মূর্তিটি প্রতিষ্ঠা করেন কবে প্রতিষ্ঠা হয় তাও এই মন্দিরের প্রবীণ পূজারিদের কাছে অজানা।

 

দেবী এখানে অত্যন্ত জাগ্রত এবং তিনি এই এলাকার বাসিন্দাদের ঘরের মেয়ে। জনশ্রুতি আছে মন্দিরের পিছনে যে পুকুরটি আছে, সেই পুকুরে গভীর রাতে একটা ছোট্ট মেয়ে লাল শাড়ি পড়ে পুকুরে নেমে স্নান করে। গ্রামবাসীরা মনে করেন ওই ছোট্ট মেয়েটি আর কেউ নন, তিনি স্বয়ং মা কালী। আর তাই গ্রামবাসীদের ধারণা, মা তাঁদের মধ্যেই থাকেন। এবং তাঁদের সব ইচ্ছেই পূরণ করেন।

 

কালী মা এখানে দক্ষিণা কালী রূপে বিরাজমান। মন্দিরে নিত্য পুজো হয় এবং ভোগও থাকে মায়ের জন্য প্রতিদিন। দেবীকে একেক দিন একেক রকম ভোগ নিবেদন করা হয়। যেমন লুচি, চিঁড়ে, ফল, খিচুড়ি,পায়েস ইত্যাদি। এমনকী আমিষ ভোগও দেওয়া হয় কোনও কোনও দিন। এবং যদি কোনওদিন পাঁঠা বলি দেন, তবে সেদিন মাকে বলির কাঁচা মাংস নিবেদন করা হয়।

 

পুজো হয় তন্ত্র মতে। ভাদ্র মাসে হয় ভদ্রা কালি পুজো,শ্যামা পুজোর রাতে হয় শ্যামা কালি পুজো।

শ্যামা পুজোর রাতেই ভিড় হয় সব থেকে বেশি। এই সময়ে প্রতিমার নতুন করে রঙ হয়। ছয়শো বছর ধরে চলে আসছে এই রীতি।মায়ের এই নব রুপ দেখতে বিরাট সংখ্যায় ভক্তরা জড়ো হন।

 

ধারাবাহিক ভাবে চলতে থাকবে কালী কথা। এখনো অনেক দেবী মন্দির নিয়ে আলোচনা

বাকি আছে। ফিরে আসবো

আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

কালী কথা – দেবী চৌধুরানীর কালী পুজো

কালী কথা – দেবী চৌধুরানীর কালী পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বাংলা সাহিত্য তথা বাংলার ইতিহাসের এক বর্ণময় চরিত্র দেবী চৌধুরানী এবং ভবানী পাঠক। ভবানী পাঠক দস্যু হওয়ার পাশাপাশি ছিলেন দেশপ্রেমিক এবং কালী সাধক। তার সুযোগ্য শিস্যা দেবী চৌধুরানীও কালী পুজো করতেন। আজ এই দেবী চৌধুরানীর কালী পুজো নিয়ে কালী কথায় আলোচনা করবো।

 

জলপাইগুড়ি ছিলো দেবী চৌধুরানীর কর্ম ভূমি। ত্রিশ্রোতা বা তিস্তা দিয়েই তিনি নিজ বজরায় যাতায়াত করতেন।জলপাইগুড়ির গোশালা মোড়ের কাছে দেবী চৌধুরানির শ্মশান কালীর মন্দিরটি রয়েছে।কথিত আছে, এই মন্দিরে শ্মশান কালী মায়ের পুজো দিয়ে অভিযানে অর্থাৎ ডাকাতির উদ্দেশে বেরোতেন দেবী চৌধুরানি

সঙ্গী থাকতেন ভবানী পাঠক এবং দলের বাকিরা।

 

এই মন্দিরের প্রথম পুরোহিত ছিলেন ভবানী পাঠক।ভবানী পাঠকের পরে এই মন্দিরের পুরোহিতের তালিকায় নাম উল্লেখ আছে- নয়ন কাপালিকের। শোনা যায় সেই সময় কালী পুজোয় নরবলী হতো তারপর ১৮৯০ সালে নরবলি দেওয়ার অভিযোগে নয়ন কাপালিকের প্রাণদণ্ড হয়। তার পর থেকেই এই মন্দিরে বন্ধ হয়ে যায় নরবলি প্রথা।কালীপুজোর রাতে আজও পশু

বলি হয়ে আসছে দেবী চৌধুরানি কালী মন্দিরে।

 

শুরু থেকেই শোল এবং বোয়ালের ভোগ দিয়ে মায়ের পুজো হয় দেবী চৌধুরানী কালী মন্দিরে। শোল এবং বোয়াল মাছ নাকি নিজেও পছন্দ করতেন দেবী চৌধুরানী।বিশেষ করে তিস্তা নদীর বোয়াল মাছও ছিল তাঁর পছন্দের তাই দেবী চৌধুরানীর পছন্দের সেই শোল বোয়াল মাছ দিয়ে আজও ভোগ নিবেদন হয়।

 

শোনা যায় কিছুকাল আগেও ঘন জঙ্গল প্রাচীন বট পাকুড়ে ঘেরা নিস্তব্ধ মন্দির প্রাঙ্গনে প্রবেশ করলেই গা ছম ছম করে উঠতো।

 

এখন নিত্যপুজোর পাশাপাশি কালীপুজোর রাতে বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। বহু মানুষ সেই পুজো দেখতে আসেন।

 

আগামী পর্বে বাংলার আরো একটি প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক কালী নিয়ে আলোচনা করবো।

চলতে থাকবে কালী কথা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – আনন্দময়ী কালীর পুজো

কালী কথা – আনন্দময়ী কালীর পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বাংলার রাজনীতি তথা আধ্যাত্মিক জগতে একটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র। বাংলার দূর্গা পুজো, কালী পুজো এবং জগদ্ধাত্রী পুজো সহ যেকোনো পুজোর প্রাচীন ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করলে মাঝে মাঝেই তার নাম উঠে আসে। আজ কে যে কালী মন্দিরটি নিয়ে লিখবো তা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এই মহারাজ কৃষ্ণ চন্দ্রের প্রপৌত্র গিরিশচন্দ্র রায় বাহাদুর।আনন্দময়ী কালী মন্দির নামেই কৃষ্ণনগরের এই মন্দির বিখ্যাত।

 

শোনা যায় রাজা গিরিশচন্দ্র রায় তন্ত্রসাধক ছিলেন।গিরিশচন্দ্র রাজা হওয়ার ২ বছর পর

১৮০৪ সালে মন্দিরটি স্থাপিত হয়েছিল।

মন্দিরে রাজা গিরিশচন্দ্র রায়ের নাম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে খোদাই করা আছে। ছবিও আছে তাঁর।

 

জনশ্রুতি আছে দেবী আনন্দময়ীর ধ্যানরতা মূর্তিতে স্বপ্নে দর্শন দিয়ে নিজের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করতে বলেছিলেন রাজা গিরিশচন্দ্রকে। দেবী মূর্তিটি আজ যেখানে প্রতিষ্ঠিত সেখানেই নাকি পাওয়া গিয়েছিল প্রকাণ্ড একটি কষ্টিপাথর। যে পাথরে নির্মিত হয়েছে মহারাজের স্বপ্নে দেখা বিগ্রহ। শিলাখন্ড থেকে মূর্তি নির্মাণ করা হয় দুটি। একটি আনন্দময়ী কালী আর একটি

ভবতারিণী কালী।

 

চারদিক প্রাচীরে ঘেরা দক্ষিণমুখী আনন্দময়ী মন্দিরের গর্ভ গৃহে পঞ্চমুন্ডের আসনের উপর পাথরের বেদিতে হাঁটু মুড়ে যোগাসনে শুয়ে আছেন মহাদেব। শ্বেতপাথর নির্মিত বিগ্রহ। পূর্ব-পশ্চিমে শায়িত। মহাদেবের বুকের উপরে পদ্মাসনে বসে আছেন দেবী আনন্দময়ী। কষ্টিপাথরে নির্মিত নয়নাভিরাম বিগ্রহ উচ্চতায় সাড়ে ৩ ফুটের কাছাকাছি, দেবী চতুর্ভুজা। এই রূপেই দেবী রাজা মশাইকে স্বপ্নে দেখা দিয়ে ছিলেন।

 

মন্দির প্রাঙ্গনে রয়েছে অন্নপূর্ণা, গৌরাঙ্গদেবের মন্দির এছাড়াও রয়েছে শিব মন্দির এবং

গোপাল বিগ্রহ। সব মিলিয়ে মন্দির চত্বরে পদার্পন করলেই এক অদ্ভুত আধ্যাত্মিক শান্তি পাওয়া যায়।

 

বহু পূর্বে মা আনন্দময়ীর ছিলেন দিগম্বরী রূপে পরবর্তীকালে ভক্তদের অনুরোধে তাঁদের দেওয়া কাপড় মাকে পরানো হয়।দীপান্বিতা অমাবস্যা এখানে বেশ জাঁকজমক সহকারে পালন করা হয়।পুজোতে মাছ ভোগ দেয়া হয়। আগে বলিপ্রথা চালু ছিল তবে বর্তমানে তা বন্ধ আছে।

 

বাংলার এমন সব প্রাচীন কালী মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে চলতে থাকবে কালী কথা। আবার যথা সময়ে ফিরে আসবো।

পরবর্তী পর্ব নিয়ে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – জীবন্ত কালী শ্যামসুন্দরীর পুজো 

কালী কথা – জীবন্ত কালী শ্যামসুন্দরীর পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

এই কলকাতার  উত্তরে বিরাজমান ‘জীবন্ত কালী’র বিশাল মন্দির। তিনি আবার শ্যামসুন্দরী নামেও পরিচিত। কালী এখানে পূজিতা ছোট্ট মেয়ে রূপে।আজ কালী কথায় জানাবো এই মন্দিরের বর্ণময় ইতিহাস।

 

শ্যামসুন্দরীকে ঘিরে প্রচলিক আছে এক অলৌকিক কাহিনী। সে বহুকাল আগের কথা। দিনটি ছিল অমাবস্যা তিথি। শ্যামসুন্দরীর মন্দিরের তৎকালীন পুজারী বাজারে গিয়েছিলেন অমাবস্যার পুজোর বাজার করতে। সেই সময়ে বছর পাঁচেকের একটি মেয়ে তাঁর কাছে চালকলা খেতে চেয়ে সে জানায়, দু’দিন ধরে কিছু খায়নি সে। কিন্তু, পুরোহিতের এসব মোটেই পছন্দ হয়নি। তিনি ওই বালিকাকে অবজ্ঞা করে নিজের কাজে চলে যান।

 

সন্ধ্যায় যখন মন্দিরে দেবীর ভোগের ব্যবস্থা হয়েছিল অমাবস্যার সে রাতে। নিয়ম মেনে অন্ধকারেই চলছিল দেবীর আরাধনা। পুজো চলাকালীন পুরোহিত হঠাৎ লক্ষ্য করেন যে শুধু মহাদেবই শায়িত রয়েছেন। কিন্তু, তাঁর ওপর কালী নেই। প্রথমে ভ্রম মনে হলেও পরে ঘি-এর প্রদীপ বাড়িয়ে মূর্তি দেখার চেষ্টা করেন এবং একই জিনিস দেখেন। তৎক্ষণাৎ নুপুরের শব্দে সম্বিত ফেরে পুরোহিতের।সে দিনই সয়ং তিনিই সকালে ছোট্ট মেয়ে রূপে যে তিনিই খাবার চাইতে এসেছিলেন সে কথাও জানিয়েছিলেন পুরোহিতকে। সেই থেকেই চলছে চালকলা দিয়ে শ্যামসুন্দরীর পুজোর রীতি।

 

এখানে দেবী বালিকা তাই অম্ববাচি পালিত হয় না এই মন্দিরে। বলির কোনও রীতি নেই। পুরোপুরি নিষিদ্ধ মাছ, মাংস।মন্দিরের বেদীতে উপবেষ্টিতা শ্যামসুন্দরী। তাঁর গা ঘেঁসেই বসে রয়েছেন জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা। শ্যামসুন্দরীর পাশের ঘরেই রয়েছেন ভৈরব।দেবী কিশোরীদের মতো সাজতে ভালো বাসেন তাই তাকে প্রতিটি বিশেষ পুজোয় সুন্দর করে সাজানো হয়।

 

ভক্তদের বিশ্বাস, কাউকে কক্ষণও খালি হাতে ফিরিয়ে দেন না শ্যামসুন্দরী। ভক্তে কাতর প্রার্থনায় ঠিক সাড়া দেন তিনি, পূরণ করেন প্রত্যেকের মনবাঞ্ছা।

 

বাংলার এমন সব প্রাচীন কালী মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে চলতে থাকবে কালী কথা। যথা সময়ে ফিরে আসবো পরবর্তী পর্ব নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – গগণ পুরের ক্ষ্যাপা কালীর পুজো

  1. কালী কথা – গগণ পুরের ক্ষ্যাপা কালীর পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বর্ধমানের মঙ্গলকোটে রয়েছে জাগ্রত ক্ষ্যাপা কালীর থান। এই কালী পুজোকে কেন্দ্র করে একটি অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়। আজকের পর্বে জানাবো সেই অলৌকিক ঘটনা এবং এই কালী পুজোর ইতিহাস।

 

প্রচলিত লোক কাহিনী অনুসারে একবার

গণপুরের ভট্টাচার্য বাড়ির প্রবীণ সদস্য নিমাই ভট্টাচার্য নিজেদের পৈত্রিক পুকুর কালীসায়ের থেকে স্নান করে বাড়ি ফিরছিলেন । হঠাৎ দেখতে পেলেন তার পিছনে পিছনে একটা এলোচুলের কালো কিশোরী মেয়ে আসছে। বাড়ির কাছেই সাঁওতাল পাড়া তাই তিনি ভাবলেন কোনো সাঁওতাল মেয়ে হবে।কিন্তু যে মুহূর্তে বাড়ির চৌকাঠ পেরিয়েছেন হঠাৎ শুনতে পেলেন – “আমাকে নিয়ে যাবিনা ?” চমকে ওঠেন নিমাই বাবু পিছনে তাকিয়ে সেই কিশোরী মেয়েটিকে আর দেখতে পাননি।

 

সেই রাতেই ধার্মিক নিমাই ভট্টাচার্য স্বপ্নে মা কালী কে দেখেন এবং মা কালী তাকে তার পুজো শুরু করার নির্দেশ দেন।মা’কালীর নির্দেশে শুরু হয় কালী পুজো।

 

সেই এলোচুলের মেয়েটিকে ক্ষেপির মত দেখতে লাগছিল তাই মায়ের নাম রাখা হয় ক্ষ্যাপাকালী। যেহেতু তার গায়ের রঙ ছিল কালো তাই মায়ের গায়ের রঙ করা হয় কালো ।স্বপ্নে পাওয়া মায়ের নির্দেশ অনুযায়ী কালীসায়েরের একটা নির্দিষ্ট জায়গা থেকে গভীর রাতে পাটকাঠি জ্বালিয়ে মায়ের ঘট আনা হয় । আজও সেই রীতি চলে আসছে।বিশেষ ওই স্থানে নাকি স্বয়ং মহাদেব বিরাজ করেন এমনটাই বিশ্বাস করেন গগণ

পুরের মানুষ।

 

প্রথম দিকে তালপাতার ছাউনি দেওয়া ঘরে মায়ের পুজো হতো। মায়ের স্বপ্নাদেশ পেয়ে গ্রামের এক বাসিন্দা নিদিষ্ট একটি জায়গা দান করেন। পরবর্তীতে সেখানেই গড়ে উঠেছে স্থায়ী মন্দির। এখনো আছে পঞ্চমুণ্ডীর আসন ।

 

প্রতিটি বিশেষ অমাবস্যা তিথিতে বিশেষ পুজোর আয়োজন হয় এবং বহু ভক্ত সমাগম হয়।

ভক্তরা বলেন এখনো মায়ের ভোগের থালায় দেখা যায় হাতের দাগ দাগ। দেখলে মনে হবে কেউ যেন সেখান থেকে খাবার তুলে খেয়েছে। মনে করা হয় সবার অলক্ষ্যে স্বয়ং ‘মা’ এসে ভোগ খেয়ে গেছেন

এই অঞ্চলের যেকোনো শুভ কাজে ক্ষ্যাপা পায়ের আশীর্বাদ নেয়ার রীতি আছে।শুভ কাজে

যাওয়ার অনেকেই ক্ষ্যাপা কালীর পূজায় ব্যাবহিত

ফুল নিজের সঙ্গে রাখেন।

 

বাংলার এমন সব প্রাচীন কালী মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে চলতে থাকবে কালী কথা। যথা সময়ে ফিরে আসবো পরবর্তী পর্ব নিয়ে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

জগন্নাথ দেবের স্নান যাত্রা

জগন্নাথ দেবের স্নান যাত্রা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

প্রতিবছর দেবস্নানা পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হয় মহাপ্রভু জগন্নাথদেবের স্নানের উৎসব বা স্নান যাত্রা আজকের এই পর্বে এই স্নান যাত্রার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবো।

 

জগন্নাথদেবের স্নান যাত্রার উল্লেখ স্কন্দপুরানে আছে। শাস্ত্র মতে পুরীর মন্দির প্রতিষ্ঠার পর পুরি নরেশ ইন্দ্রদ্যুম্নএই অনুষ্ঠান শুরু করেন। যে পূর্ণিমা তিথিতে স্নান যাত্রা অনুষ্ঠিত হয় তাকে বলা হয় দেব স্নান পূর্ণিমা। এই দেবস্নান পূর্ণিমা আবার জগন্নাথদেবের আবির্ভাব তিথি । জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা এবং মদনমোহনের বিগ্রহ শোভাযাত্রা সহকারে মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে পবিত্র স্নানবেদীতে আনা হয় তারপর একশো আট কলস জলে বিগ্রহ স্নান করানো হয়।

 

শুধুমাত্র জগন্নাথ দেবেকে স্নান করানোর জন্য পুরীতে রয়েছে সোনাকুয়া নামের এক বিশেষ ধরনের কুয়া। এই কুয়াতে কখনো সুর্যের আলো প্রবেশ করেনা।

 

স্নানপর্বের পর বিগ্রহ সাজানো হয় গজবেশে।এই গজবেশের ও একটিসুপ্রাচীন ইতিহাস আছে

বহু শতক আগে পুরীর রাজার রাজদরবারে এসেছিলেন বিখ্যাত পণ্ডিত গণেশ ভট্ট।পুরীর রাজা তাঁকে জহগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা দেখবার জন্য আহ্বান জানান। তবে তা দেখতে যাওয়ার ইচ্ছা ছিলনা গনেশ ভট্টর। কারণ তাঁর আরাধ্য দেবতা ছিলেন গণপতি।কিন্তু স্নানযাত্রায় গিয়ে গণেশ ভট্ট জগন্নাথকে গণেশ রূপেই দেখতে পান।প্রভু জগন্নাথের মায়ায় তিনি অভিভূত হয়ে পড়েন। মনে করা হয় ভক্তের মনবাসনা পূর্ণ করতে স্বয়ং জগন্নাথ গজ বেসে তাকে দেখা দিয়েছিলেন।

সেই থেকে স্নানযাত্রার একটি অঙ্গ হয়ে উঠেছে এই গজ বেশ।

 

শাস্ত্র মতে স্নান যাত্রার সময়ে জগন্নাথ দর্শন করলে সব পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় স্নানযাত্রার পরে শুরু হয় অনসর সেই সময়ে অসুস্থতার কারণে ভক্তগণের অন্তরালে গোপন স্থানে চিকিৎসাধীন থাকেন বা বলা যায় স্বেচ্ছায় গৃহবন্দি হন জগন্নাথদেব। এই সময়ে রাজ বৈদ্যরা বিভিন্ন আয়ুর্বেদিক ঔষধদ্বারা তার সেবা সুশ্রশা করেন। এই সময়ে জগতের নাথ প্রবল জ্বরে আক্রান্ত হন এমনকি তাকে উষ্ণতা দেয়ার জন্য কম্বল চাপা দিয়ে রাখা হয়।তারপর সুস্থ হয়ে রথযাত্রার দিন রাজবেশে ভক্ত দের সামনে আসেন জগন্নাথদেব সাথে থাকেন সুভদ্রা এবং বলরাম দুজনেই।

 

আবার রথযাত্রা উপলক্ষে জগন্নাথ দেব

সংক্রান্ত শাস্ত্রীয় আলোচনা নিয়ে ফিরে আসবো।

পরের পর্বে থাকবে কালী কথার নতুন একটি

পর্ব পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

পুরী জগন্নাথ মন্দিরের রহস্য

পুরী জগন্নাথ মন্দিরের রহস্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

জগন্নাথ প্রভু কে নিয়ে এই বিশেষ ধারাবাহিক আলোচনায় আজ পুরীর জগন্নাথ মন্দির সংক্রান্ত বেশ কিছু অদ্ভুত তথ্য আপনাদের জানাবো।

 

শাস্ত্র মতে হিন্দু দের পবিত্র চার ধামের মধ্যে পুরীর জগন্নাথ মন্দির অন্যতম|পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য আছে যার জন্যে ভারতের অন্যান্য প্রাচীন মন্দির গুলির থেকে পুরীর মন্দির অনেকটাই আলাদা।

 

পুরীর মন্দির প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর পুরীর তৎকালীন রাজা ইন্দ্রদুম্ন চেয়েছিলেন ব্রহ্মলোক থেকে স্বয়ং ব্রম্হা এসে পুরীর মন্দিরে জগন্নাথদেবের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করার শাস্ত্রীয় রীতি নীতি সম্পন্ন করুন। কিন্তু ব্রম্হা তাকে বলেন জগতের নাথ তার স্বেচ্ছায় নিজ রূপে বিরাজ করবেন।তার মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করার সাধ্য কারুর নেই। বাস্তবে

তাই হয়।সমুদ্রে ভেসে আসে দারু ব্রহ্ম। তাই দিয়ে প্রভুর নির্দেশে তৈরী হয় মূর্তি। সম্পন্ন হয় প্রতিষ্ঠা পর্ব।

 

শুরুর দিন থেকে সব রীতি নীতি এই মন্দিরে একই রকম আছে। আজও মন্দিরের উপর দিয়ে কোন বিমান বা পাখি উড়ে যেতে পারেনা। অবিশ্বাস্য মনে হলেও বিষয়টি কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীরা অগ্রাহ্য করতে পারেন না|মন্দিরের চূড়ায় যে পতাকাটি লাগানো আছে তা রোজ নিয়ম করে পাল্টানো হয়,এই পতাকা সব সময় হওয়ার বিপরীতে ওড়ে। এর কারণ কিন্তু জানা যায় না|আপনারা যারা পুরীর মন্দির দর্শন করেছেন হয়তো জানেন পুরীর যে কোন জায়গা থেকেই আপনি যদি মন্দিরের চূড়ার দিকে তাকান তাহলে সুদর্শন চক্র আপনার দিকে সম্মুখীন হয়ে থাকবে|এও এক রহস্য|মন্দির চত্বরের কোলাহলের জন্যে হয়তো খেয়াল থাকেনা কিন্তু মন্দিরের ভিতরে সিংহদ্বারে মন্দিরে প্রবেশ করার পর প্রথম সিঁড়িতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্রের আওয়াজ আর শুনতে পাওয়াযায় না কিন্তু সিঁড়ি টপকে গেলেই তারপর আবার সমুদ্রের আওয়াজ শুনতে পাওয়া যায়|

 

মনে করা হয় পুরী হলো ভগবানের ভোজনের স্থান তাই এখানকার সবচেয়ে অবিশ্বাস্য বৈশিষ্ট্যটি হল প্রসাদ। রহস্যময় বিষয় হলো সারাবছর ধরে সমপরিমাণ প্রসাদ রান্না করা হয় কিন্তু একই পরিমাণ প্রসাদ দিয়ে কয়েক হাজার মানুষ হোক বা কয়েক লক্ষ মানুষকে খাওয়ানো হোক তবু প্রসাদ কখনো নষ্ট হয় না বা কখনো কম পড়ে না|এই প্রসাদ রন্ধন পক্রিয়াতেও রয়েছে এক রহস্য মন্দিরের হেঁশেলে একটি পাত্রের উপর আরেকটি পাত্র এমন করে মোট সাতটি পাত্র আগুনের উপর বসে রান্না করা হয়। এই পদ্ধতিতে যেটি সবচেয়ে উপরে বসানো হয় থাকে, তার রান্না সবার আগে হয়। আর তার নিচেরগুলো তারপর।

এভাবেই চলে আসছে যুগ যুগ ধরে|

 

আজও কোনো জাগতিক বিপদ আপদ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগে পুরীর মন্দিরে ঘটে যায় কোনো না কোনো ব্যাতিক্রমী ঘটনা। যেমন মন্দিরে ধ্বজা খুলে পড়েযাওয়া বা ওই জাতীয় অন্য কিছু।

 

আবার প্রভু জগন্নাথ সংক্রান্ত বিশেষ একটি পর্ব নিয়ে যথা সময়ে আপনাদের সামনের আসবো।

থাকবে আরো অনেক তথ্য এবং

শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।