বাংলার কালী – কাটোয়ার ডাকাত কালী

29

এককালে বর্ধমানের ডাকাতরা ব্রিটিশ পুলিশ এবং পরবর্তীতে এদেশের পুলিশ প্রশাসনের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছিল। তারা একদিকে ছিলো যেমন অত্যাচারি অন্যদিকে ছিলো তেমনই ধার্মিক। কালী সাধনা ছিলো তাদের জীবনের এবং পেশার অংশ।

 

ডাকাতদের শুরু করা সেই পুজো আজও জনপ্রিয় কাটোয়া জুড়ে। এই ডাকাত দের দ্বারা পূজিতা দেবী কালী একটু আলাদা।এখানে না আছে কোন মূর্তি। না আছে কোনও মন্দির। প্রাচীন এক নিমগাছকে এখানে দেবীরূপে পুজো করা হয়।

 

একটি অলৌকিক ঘটনা থেকে এই রীতির সূচনা বলে মনে করা হয়। সে অনেক আগের কথা

এই কাটোয়া শহর লাগোয়া দুর্গম এলাকা দাপিয়ে বেড়াতো ডাকাত দল।জঙ্গলই ছিলো তাদের বাড়ি ঘর অজয় নদ লাগোয়া এই এলাকায় ছিল বন্য জন্তু এবং তন্ত্র সাধক দের আস্থানা তবে সবাই গুটিয়ে থাকতো ডাকাত দের ভয়।

 

একবার এক গভীর রাতে ডাকাতি করতে যাওয়ার সময়ে নাকি ডাকাত দলের সামনেই দেবী কালী প্রকট হন।নিজের পুজো করার আদেশ দেন ডাকাত দলের সর্দার পুজো করার প্রতিশ্রুতি দেন।

শুরু হয় পুজোর ভাবনা। কিন্তু ইংরেজদের কাছে গ্রেফতারির ভয়ে এখানে কখনই মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি তারা তার বদলে জঙ্গলের একটি নিমগাছই কালীর রূপে পুজিত হয়। আর সেই থেকেই ঝোপের গাছ থেকে দেবীর নাম হয়ে যায় ঝুপোমা কালী।আজও সেই পরম্পরা সমান ভাবে চলছে।

 

ফিরে আসবো আগামী পর্বে। বাংলার কালী নিয়ে।

থাকবে অন্য এক কালী মন্দিরের ইতিহাস এবং নানা অলৌকিক ঘটনার বর্ণনা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।