বাংলার কালী – চরণ পাহাড়ি কালী

31

আজ পুরুলিয়ার এক কালী মন্দিরের কথা আপনাদের জানাবো। এই মন্দির চরণ পাহাড়ি কালী মন্দির নামে খ্যাত এবং একটি বিশেষ কারণে হিন্দু মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের খুব শ্রদ্ধার স্থান এই কালী ক্ষেত্র।

 

স্বাধীনতার আগে পুরুলিয়ার পুঞ্চা নামক এই ছোট্ট স্থান তখন একটা গঞ্জ। ব্রিটিশ আমলে এখানেই ইংরেজ পুলিশ একটি পুলিশ ফাঁড়ি তৈরি করেন। ওসি নিযুক্ত হন এক সৎ এবং কর্মনিষ্ঠ মুসলিম ব্যক্তি তার পুলিশ ফাঁড়ি থেকে কিছুটা দূরেই ছিলো এক দুর্গম পাহাড়ি এলাকা।

 

শোনা যায় জঙ্গলে ঘেরা সেই পাহাড়ি এলাকায় ওই ওসি এক পাথরে দেবীর পায়ের ছাপ দেখেন। এরপরই তিনি দেবীর স্বপ্নাদেশ পানযে ওখানে দেবী পুজো পেতে চান। তাই হয় মন্দির তৈরী করে শুরু হয় পুজো।এই ভাবে শুরু হয় চরণপাহাড়ি কালীপুজোর। যেহেতু মায়ের পদচিহ্ন পড়েছিল এই পাহাড়ে তাই পাহাড়ের নাম হয় চরণপাহাড়ি। আর সেখানকার কালী হয়ে ওঠে চরণপাহাড়ি কালী।

 

পাহাড়ি দুর্গমতার কারণে এখানে খুব কম মানুষই যাতায়াত করতেন। কখনও কখনও তান্ত্রিকরা আসতেন পুজো করতে।বর্তমানে যাতায়াতের সুবিধা হওয়ায় বহু মানুষ আসেন পুজো দিতে তবে আজও সেই সম্প্রীতি বজায় রেখেই পুজো হয়ে চলেছে।পুজোয় যোগ দেন সব ধর্মের মানুষ।

 

প্রাকৃতিক পরিবেশ খুব মনোরম। এখানে পাহাড়ে এক উঁচু টিলার উপর চরণপাহাড়ির মন্দির।

অবস্থিত। পুজো হয় তন্ত্র মতে। কথিত আছে যেকোনো ব্যাক্তি পবিত্র মনে কোনো আশা নিয়ে এসে দেবীর পুজো দিলে দেবী মনের আশা

পূরণ করেন।সব থেকে বেশি ভিড় হয় কার্তিক মাসের অমাবস্যায়।অসংখ্য দর্শণার্থী আসেন সেই

সময়ে।

 

বাংলার কালীর পরবর্তী পর্ব নিয়ে ফিরে আসবো আগামী দিনে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।