Home Blog Page 20

শিবের আদি অঘোরী রূপ

শিবের আদি অঘোরী রূপ

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

শিবের অনেক রূপ।তার মধ্যে সব থেকে রহস্যময় রূপ হলো তার অঘোরী রূপ।চৈত্র মাস উপলক্ষে আজকের পর্বে লিখবো এই বিশেষ সাধন পথ এবং তার অন্তর্নিহিত অর্থ নিয়ে।

যদিও অঘোরীdeর সাধন পক্রিয়া গোপন একটি বিষয় তবু এটুকু জানা যায় যে অঘোরীরা নিজেদের সম্পূর্ণরূপে শিবের মধ্যে মিশিয়ে দিতে চান।অঘোর পন্থায় শিবের উপাসনা করার উপচার হিসেবে অঘোরীরা শব-সাধনার পথ বেছে নেন।অন্ত্যন্ত কঠিক এই সাধন পক্রিয়ায় একজন অঘোরী মৃতদেহের উপর বসে সাধনা করেন। ‘শব থেকেই শিব প্রাপ্তি’ এই হল তাঁদের দর্শন।এছাড়াও আরো অনেক সাধন পদ্ধতি আছে যেগুলো অত্যন্ত জটিল এবং গোপন।

যুগ যুগ ধরে অঘোরীদের জীবনধারা এবং আধ্যাত্মিক অনুশীলন সব সময়ই ব্যাপক কৌতূহলের বিষয় কারন তাঁদের জীবন অনেকটাই রহস্যে মোড়া। সাধারণত এঁরা শ্মশানে থাকেন, ধ্যান করেন। মৃতদেহ এবং শ্মশানকেই তাঁদের আধ্যাত্মিক সাধনার মূল ভিত্তি করে তোলেন। শুধু মৃতদেহ নয় সাধারন মানুষের কাছে যা তথাকথিত ঘৃণ্য এবং পরিত্যায্য তাই তাদের সাধনার উপাদান। কাশী সহ দেশের অনেক জায়গায় তাঁদের মঠ রয়েছে কুম্ভ মেলা গঙ্গা সাগর মেলায় তাদের দেখা গেলেও তাঁদের আবির্ভাব এবং হঠাৎ অন্তর্ধান সব সময়ই এক রহস্যময় বিষয়।

অঘোরীরা মূলত তিনটি ধাপে সাধনা করেন।প্রথম শব সাধনা এখনে শবকে মাধ্যম করে সাধনা করা হয়।দ্বিতীয় শিব সাধনা এখানে শিবকে আদি অঘোরী রূপে মেনে তার ধ্যান করা হয়।
তৃতীয় শ্মশান সাধনা যেখানে শ্মশান ভূমিতে তান্ত্রিক পদ্ধতিতে হোম যজ্ঞাদি সম্পন্ন করা হয়।
অঘোর পন্থায় শিবকে সর্বত্যাগি শ্মশানচারী এবং রূদ্র মূর্তি রূপে পূজো করা হয়।

আসলে অঘোরীরা বিশ্বাস করেন প্রতিটি মানুষই অঘোরী হিসেবে জন্মগ্রহণ করে। তাঁদের দার্শনিক ব্যাখ্যা বলে, একটি ছোট অবোধ শিশু যেমন তার বর্জ্য ও খাদ্যের মধ্যে কোনও পার্থক্য করতে পারে না তেমনই করেন না অঘোরীরাও ভেদাভেদ করেননা। তাদের অহং বোধ নেই শরীরের কোনো অস্তিত্ব নেই তাই পোশাকের কোনো প্রয়োজন নেই।তাদের চোখে ভাল বা খারাপের কোনও প্রভেদ নেই আছেন শুধু পরম পিতা যার কাছে সবাই সমান।

বিশ্বাস করা হয় অঘোরীরা শিবের অত্যান্ত প্রিয় এবং শিব তাঁদের সর্বত্র রক্ষা করে থাকেন।

চৈত্র মাসে মাসে ধারাবাহিক ভাবে চলবে এই
শিব সংক্রান্ত আধ্যাত্মিক আলোচনা।
পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

শুভ হনুমান জয়ন্তীর শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজ হনুমানজির আবির্ভাব তিথি। এই দিনটিকে ‘হনুমান জয়ন্তী’ হিসেবে পালিত হয় আমাদের দেশে। এই পর্বে আসুন জেনে নিই রূদ্র অবতার হনুমান সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
এবং হনুমান জয়ন্তীর শাস্ত্রীয় এবং পৌরাণিক ব্যাখ্যা।

হনুমানের পিতার নাম ছিল কেশরী, মায়ের নাম ছিল অঞ্জনা। হনুমানের পালক পিতা হলেন পবন দেবতা|রাক্ষস বাহিনীর অত্যাচার থেকে ধরিত্রীকে মুক্ত করতে, তথা ভগবান রামের সেবা ও রাম নাম প্রচারের জন্যই রুদ্র অবতার হনুমানের আবির্ভাব।

শাস্ত্র মতে হনুমান চার যুগে অমর, পুরাণে তাই বলা হয়|এমনকি আজও তিনি স্বশরীরে এই পৃথিবীতে বিরাজমান।তিনি অষ্ট চিরঞ্জিবীদের অন্যতম।

হনুমানজী দ্বাপর যুগেও ছিলেন। মহাভারতেও তার উল্লেখ রয়েছে মনে করা হয় কুরুক্ষে যুদ্ধে
অর্জুন ও শ্রীকৃষ্ণের রথের ধ্বজা হিসেবে ছিলেন তিনি।সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছায় কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেবা করেছেন। হনুমানজীর অনুরোধে শ্রীকৃষ্ণ রামচন্দ্রের রূপ ধারণ করে হনুমানকে একবার দর্শনও দিয়েছিলেন।

হনুমান চালিসা অনুসারে রোগ ভোগ, ভুত পিশাচ এবং যেকোনো সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া যায় হুনুমানের স্মরণ নিলে, তাকে ভক্তি সহকারে ডাকলে|তিনি অসীম বল শালী কিন্তু সম্পূর্ণ নিরহংকার।রামায়ণে একমাত্র তিনিই নিষ্কাম কর্ম করে গেছেন। প্রভু শ্রী রাম কে সেবা করা ছাড়া তার আর কোনো লক্ষ্য নেই।

যেহেতু হনূমান স্বয়ং সশরীরে এই পৃথিবীতে বিরাজ করছেন তাই একজন প্রকৃত ভক্তের ডাকে তিনি অন্যন্যা দেব দেবীদের তুলনায় অনেক দ্রুত সাড়া দেন এবং ভক্তের মনোস্কামনা পূর্ণ করেন।

আজ শাস্ত্র মতে হনুমানজীকে ডাকুন। তার পুজো করুন। তার কৃপায় সংকট দুর হয় মনোস্কামনা
পূর্ণ হয়।সবাইকে হনুমান জয়ন্তীর শুভেচ্ছা জানাই। ফিরে আসবো আগামী পর্বে অন্য পৌরাণিক এবং শাস্ত্রীয় আলোচনা নিয়ে।দেখতে থাকুন।

অষ্টসিদ্ধি এবং নব নিধীর ব্যাখ্যা

অষ্টসিদ্ধি এবং নব নিধীর ব্যাখ্য

পন্ডিতজী ভৃগুশ্রী জাতক

তুলসীদাস রচিত হনুমান চালিশায় হনুমানজীকে
“অষ্ট সিদ্ধি নবনিধী কে দাতা ” নামে অভিহিত করা হয়েছে।এই অষ্ট সিদ্ধি আটটি ঐশ্বরিক ক্ষমতা যা বজরংবলীর অসীম শক্তির উৎস এবং নব নিধী হলো নয়টি অমূল্য সম্পদ।আজকের পর্বে আপনাদের জানাবো এই অষ্টসিদ্ধি এবং নব
নিধীর শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা।

অষ্ট সিদ্ধির প্রথম সিদ্ধি হলো অনিমা। এই সিদ্ধি শরীরকে ক্ষুদ্র আকার ধারণ করার ক্ষমতা দেয়।

মহিমা হলো দ্বিতীয় সিদ্ধি। এই সিদ্ধির প্রয়োগে শরীর কে ইচ্ছে মতো বিরাট আকার দেয়া যায়।

গরিমা হলো তৃতীয় সিদ্ধি। এই সিদ্ধির বলে দেহের ওজন বাড়িয়ে বিপক্ষকে পরাস্ত করা যায়।

চতুর্থ সিদ্ধি লঘিমা গরিমার ঠিক বিপরীত। এই সিদ্ধি বলে শরীরকে অতিরিক্ত হাল্কা করে তোলা যায়।

পঞ্চম সিদ্ধি হলো প্রাপ্তি এমন এক অলৌকিক ক্ষমতা যা এই সিদ্ধির অধিকারী ব্যাক্তির সব মনোস্কামনা পূর্ণ করে।

প্রকম্য হলো ষষ্ঠ সিদ্ধি এই সিদ্ধি প্রাণ শক্তিকে বাড়িয়ে দেয়। প্রতিকূলতাকে জয় করতে সাহায্য করে।

ঈশিত্ব হলো সপ্তম সিদ্ধি যা প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা প্রদন করে।

বশিত্ব হলো অষ্টম এবং শেষ সিদ্ধি যা অন্যর মনের উপরে প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতা দেয়।

এবার আসি নবনিধির দিকে। এই নব নিধী বলতে বলতে নয়টি বিশেষ অলৌকিক রত্ন বা ঐশ্বর্যকে বোঝায়। নবনিধির অন্তর্ভুক্ত নয়টি রত্ন বা সম্পদ হলো যথাক্রমে পদ্ম,মহাপদ্ম,শঙ্খ, মকর,কচ্ছপ, মুকুন্দ,কুন্দ,নীল এবং খর্ব।এই নয়টি সম্পদ যে শুধু মূল্যবান পার্থিব বস্তু তা নয়। এগুলি অসীম জ্ঞান এবং আধ্যাত্মিক চেতনা যা বজরংবলীর অধিকারে ছিলো এবং প্রভু রামের সেবায় থাকা কালীন তিনি অষ্ট সিদ্ধি এবং নব নিধী প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে
ব্যবহার ও করেছেন।

ফিরে আসবো আগামী পর্বে বজরংবলী সংক্রান্ত আধ্যাত্মিক এবং শাস্ত্রীয় বিষয় নিয়ে আলোচনায়। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বীর হনূমান এবং শনি দেব

বীর হনূমান এবং শনি দেব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আমাদের জ্যোতিষ শাস্ত্রের সঙ্গে বজরংবলীর রয়েছে গভীর সম্পর্ক।শাস্ত্রে আছে হনুমান পুজো করলে শনির খারাপ প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়া যায় কিন্তু কেনো|তার উত্তর লুকিয়ে আছে আমাদের শাস্ত্রে।হনূমান জয়ন্তী উপলক্ষে আজকের এই বিশেষ পর্বে সেই

প্রশ্নের উত্তর খুঁজবো।

 

আগের পর্বে আপনাদের বলেছি হনুমানজী যখন প্রথম লঙ্কায় যান রামের দূত হিসেবে তখন তিনি লঙ্কায় রাবনের হাতে বন্দি শনিদেবকে মুক্ত করে দেন।সন্তুষ্ট হয়ে হনূমানকে আশীর্বাদ দেন শনিদেব।

তবে এখানেই শেষ নয়। একাধিক বার সাক্ষাৎ হয় এই দুই মহারথীর।

 

হনুমান একদিন রামের পুজোয় বসেছেন। এমন সময় শনিদেব এলেন তাঁর কাছে। নিজ পরিচয় সদম্ভে ঘোষণা করে কে বেশী শক্তিশালী তা দেখার জন্য হনুমানকে যুদ্ধে আহ্বান করলেন।শান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করলেন হনুমান। বললেন, ‘আমি এখন রামের ধ্যানে বসেছি। দয়া করে আমাকে একা ছেড়ে দিন। পুজোর সময় আমাকে বিরক্ত করবেন না’।

 

শনি তো নাছোড়বান্দা! যুদ্ধে শক্তি পরীক্ষা না করে কিছুতেই যাবেন না তিনি। অগত্যা হনুমান আর কি করেন! নিজের লেজটাকেই বড় করে শনিদেবকে পেঁচিয়ে ফেললেন এবং শক্ত করতে লাগলেন লেজের বাঁধুনি। যতই বাঁধন শক্ত করেন, শনিদেব তো ততই হাঁসফাঁস করতে থাকেন ব্যথায়! শেষে হনুমান যখন লেজ ওপর-নীচ করতে লাগলেন, শনিদেবের তখন রীতিমতো কষ্ট পাচ্ছেন, এরপর পাথরের উপর দিয়ে ঘষে তাকে কিছুটা দূর নিয়ে গেলেন হনুমান, সারা গায়ে যখন তাঁর রক্তে ভেসে যাচ্ছে, তিনি মুক্তি চাইলেন, তখন শনির মিনতিতে দয়া হল হনুমানের।শনিদেবকে ছেড়ে দিলেন তিনি।

 

রামায়নের যুগের অবসান হওয়ায় পরেও একবার দুজনের সংঘাত হয়। একবার শনিদেব এসে হনুমানকে হুমকির সুরে সাবধান করে বলেন যে এই মুহূর্ত আমার সাড়ে সাতির দশা আপনার ওপরেও পড়তে চলেছে। এর উওরে হনুমানজী বলেছিলেন শ্রীরামের যারা ভক্ত তাদের উপরে গ্রহের কু প্রভাব পড়েনা।তাছাড়া আমার গোটা শরীরেতো শ্রীরামের বাস আপনার স্থান নেই।

জেদ করে শনিদেব হনুমানজীর মাথায় গিয়ে অবস্থান করলেন।আর হনুমানজীর মাথায় তখন হঠাৎ একটু অসস্ত্বি হতে শুরু হল। হনুমানজী এক পাহাড় তুলে নিজের মাথায় রাখলেন। প্রচন্ড ভারে কাবু হয়ে বললেন আমাকে নিচে নামতে দিন আমি আপনার সঙ্গে সন্ধি করতে রাজি আছি।

 

সন্ধি অনুসারে মুক্তি পান শনি দেব তবে শর্ত শ্রী রামের নাম যারা জপেন এবং যারা বজরংবলীর স্মরণ নেবেন তাদের ক্ষতি করা যাবেনা। আজও জ্যোতিষ শাস্ত্র এই কথা মেনে চলে।

 

আজকে বজরংবলী কে নিয়ে আলোচনা এখানেই শেষ করছি।ফিরে আসবো আগামী পর্বে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বীর হনুমান এবং দশানন রাবন

বীর হনুমান এবং দশানন রাবন

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

হনূমান জয়ন্তী উপলক্ষে আজ থেকে শুরু করছি রূদ্রঅবতার বজরংবলীকে নিয়ে কয়েকটি পর্বে ধারাবাহিক আলোচনা।আজ লিখবো হনুমান এবং দশানন রাবনের সম্পর্ক এবং এই দুই
চরিত্রকে ঘিরে কিছু পৌরাণিক ঘটনা নিয়ে।

একবার কৈলাসে নিজের আরাধ্য দেবাদিদেব মহাদেবের দর্শন করতে গিয়ে অহংকারী রাবন
শিবের অনুচর নন্দীকে বানররুপী বলে ব্যঙ্গ করেন এবং অপমান করেন।সেই অপমানে রেগে গিয়ে নন্দী রাবনকে এক বানর দ্বারা পরাস্ত হওয়ার অভিশাপ দেন। পরবর্তীতে হনুমান রাবনের পতনের অন্যতম কারন হন। অর্থাৎ এই পৌরাণিক ব্যাখ্যা অনুসারে রাবনকে দেয়া নন্দীর অভিশাপ সত্যি করতে হনূমানের আবির্ভাব বলাই যায়।

রাবন এবং হনুমান দুই চরিত্রই শিবের সাথে গভির সম্পর্কযুক্ত। রাবন যেমন শিবের শিষ্য এবং শিবের ধ্যান করে তার আশীর্বাদ পেয়ে বলবান হন তেমনই হনুমান স্বয়ং শিবের অংশ। রূদ্র অবতার।
রামায়নের কালে দুই শিব ভক্ত হয়ে ওঠেন একে অন্যের শত্রু। হনূমান থাকেন ন্যায়ের পক্ষে। সত্যর পক্ষে অন্য দিকে রাবন ছিলেন অন্যায় এবং অধর্মর পক্ষে।

শক্তিতে রাবন অতীব বলশালী হলেও হনূমানের ন্যায় ক্ষমতাবান সে যুগে কেউ ছিলোনা। তিনি একাই রাবনকে পরাস্ত করে মা সীতা কে উদ্ধার করতে পারতেন। কিন্তু এই কাজ প্রভু শ্রী রামের কর্তব্য তাই তিনি রামের সেবায় তার দাস হয়ে রয়ে যান।

রাবন পুত্র মেঘনাথ যখন জন্ম গ্রহণ করেন তখন|রাবন চেয়েছিলেন সব গ্রহরা তার অনুকূলে থাকবেন|এমন ভাবে তারা অবস্থান করবেন যাতে মেঘনাথ হবেন অমর ওঅপরাজেয়|
নিজের ক্ষমতার অপব্যাবহার করে রাবন সব গ্রহদের বন্দী করলেন।এমনকি নিজ অহংকার প্রকাশ করতে তিনি গ্রহদের নিজের সিংহাসনে পৌঁছানোর সিঁড়ির ধাপ রূপে ব্যবহার করতেন।
তাদের মাথায় পা রেখে এগিয়ে যেতেন।
স্বর্ণ লঙ্কা জ্বালিয়ে দেয়ার সময় হনূমান গ্রহদের বন্দী দশা থেকে মুক্তি দেন। রাবনের অহংকারের পতন ঘটান।

আগামী পর্বে হনুমান এবং শনি দেবের সম্পর্ক নিয়ে আলাদা করে লিখবো । জানাবো জ্যোতিষ শাস্ত্রে বজরংবলী কেনো এতো গুরুত্বপূর্ণ। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব মাহাত্ম্য – পঞ্চকেদার রহস্য

শিব মাহাত্ম্য – পঞ্চকেদার রহস্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম কেদারনাথ মন্দিরের চারপাশে রয়েছে আরো চারটি প্রাচীন শিব মন্দির এবং এই পাঁচটি শিব মন্দিরকে একত্রে বলা হয় পঞ্চকেদার।আজকের পর্বে জানাবো কি এই

পঞ্চ কেদার এবং কিভাবেই বা সৃষ্টি হয় এই

পঞ্চ কেদারের।

 

পঞ্চ কেদারের রহস্য জানতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে সেই মহাভারতের যুগে।পাণ্ডবরা কৌরবদের পরাজিত করার পর যুদ্ধের সময় তাদের দ্বারা করা ব্রাহ্মন হত্যার পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে দেবাদিদেবের স্মরণ নিতে তারা প্রথমে কাশীতে যান।শিব কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের মৃত্যু এবং অসততার জন্য গভীরভাবে বিরক্ত ছিলেন তাই পাণ্ডবদের দেখা না দিয়ে নন্দীর রূপ ধারণ করেন এবং গাড়ওয়াল অঞ্চলে লুকিয়ে থাকেন। কাশীতে শিবকে না পেয়ে পাণ্ডবরা গাড়ওয়াল হিমালয়ে চলে যান। ভীম গুপ্তকাশীর কাছে একটি ষাঁড়কে ঘুরে বেড়াতে দেখে তার স্বরূপ উপলব্ধি করেন তৎক্ষণাৎ তিনি ষাঁড় রুপী মহাদেবকে বল পূর্বক ধরতে চেষ্টা করেন তবে লেজ আঁকড়ে ধরার সাথে সাথে বীর বিক্রমে হিমালয়ের দুর্গম অঞ্চলে অদৃশ্য হয়ে গেলো সেই বিশালাকৃতি ষাঁড় রুপী মহাদেব।

পরে কিছু অংশে আবার আবির্ভূত হলো। পাঁচটি স্থানে প্রকাশ পেলো এই রূপ। এই পাঁচটি স্থানকেই একত্রে পঞ্চ কেদার বলা হয়।

 

কেদারনাথে কুঁজ,বাহুগুলি তুঙ্গনাথে, মুখ রুদ্রনাথে, নাভি এবং পেট মধ্যমহেশ্বর এবং লোমগুলি কল্পেশ্বরে প্রকাশিত হয়েছিল।

পাণ্ডবরা এই স্থানে পাঁচটি মন্দির নির্মাণ করেছিলেন।সেই মন্দিরই পঞ্চ কেদার ধাম রূপে আজও বিরাজমান।

 

প্রতিটি শিব ভক্তের মনের সুপ্ত বাসনা থাকে দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের পাশাপাশি এই পঞ্চকেদার দর্শন করে মহাদেবের আশীর্বাদ লাভ করার।শাস্ত্র মতে পঞ্চ কেদার দর্শন করলে মনোস্কামনা পূর্ণ হয় এবং জন্ম মৃত্যুর বন্ধন থেকে মুক্তি লাভ হয়।

 

পাঁচটি মন্দিরে পাঁচজন প্রধান পুরোহিত রয়েছেন এবং তারা এক বছরের জন্য পালাক্রমে প্রধান সেবক হিসেবে কাজ করেন।বছরের একটি দীর্ঘ সময়ে বরফে ঢাকা থাকে এই স্থান। তাপ মাত্রা হিমাংকের নিচে নেমে যায়।তবে এই দুর্গম স্থান হওয়া সত্ত্বেও বহু ভক্ত আসেন প্রতি বছর শিব পুজো করতে।

 

আসন্ন হনুমান জয়ন্তী উপলক্ষে ফিরে আসবো বজরংবলী সংক্রান্ত শাস্ত্রীয় আলোচনা নিয়ে আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব মাহাত্ম্য

শিব মাহাত্ম্য

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

চৈত্র মাস কে বলা হয় শিবের মাস।আর কিছুদিন পরেই নীল কণ্ঠ রূপে পূজিত হবেন মহাদেব।
আজ আপনাদের শিবের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কিছু বিষয়ের শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা এবং অন্তর্নিহিত গুরুত্ব সম্পর্কে লিখবো।

শিবের নীলাভ শরীরের ও অন্তর্নিহিত অর্থ আছে।আকাশ অন্তহীন শিবও তেমনি অন্তহীন। নীলাভ শরীর অন্তহীন আকাশের মতই শিবের অন্তহীনতাতথা অসীমতার প্রতীক।শিবের আরেক নাম নীলকণ্ঠ।

শিব গঙ্গাধর নামেও পরিচিত কারন শিব তার জটায় গঙ্গা কে স্থান দিয়েছেন এবং তার ভয়ংকর গতি থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করেছেন।
গঙ্গা নিষ্কলুষ জ্ঞানের প্রতিনিধিত্ব করে।
যখন শিবের মতই আমাদের হৃদয় স্থির হয়
তখনই পরম জ্ঞান লাভ হয়।

সাপ হচ্ছে কুলকুণ্ডলীনি শক্তির প্রতীক।আবার সর্প মানে ভয় বা আতঙ্ক। যিনি ভয় কে গলায় জড়িয়ে রাখেন তিনি ভয় যার অঙ্গের ভূষণ তিনি দেবাদিদেব মহাদেব।

শিবের অঙ্গে ভষ্ম থাকে এটা জীবনের অনিত্যতাকে স্মরন করিয়ে দেয়। এটা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমাদেরও একদিন ভষ্মে পরিণত হতে হবে। এই ভস্ম শিবের খুবই প্ৰিয়।

শিবকে চন্দ্রমৌলি ও বলা হয় কারন শিবের জটায় থাকে চন্দ্র চন্দ্র সর্বদাই মনের সাথে সম্পর্কিত। এটি জীবনের সকল পরিস্থিতিতে সুখী থাকা এবং মনের উপর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার প্রতীক।
স্বয়ং শিব এই চন্দ্র কে ধারণ করেন অর্থাৎ তিনি মন এবং মানসিক শক্তির নিয়ন্ত্রক।

ডমরু শিবের অসীম তথা উন্মুক্ত চিন্তাচেতনার প্রতীক।আবার তন্ত্র শাস্ত্র মতে এই ডমরু থেকেই তন্ত্রের জন্ম হয়েছে।

শিব প্রকৃতির তিনগুন নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন সত্ত রজ এবং তম গুন।ত্রিশূল তারই প্রতীক। তিনি এটির মাধ্যমে সকলকে নিজ নিজ ধর্ম পালনে উৎসাহিত করে থাকেন। আবার সৃষ্টি এবং ধ্বংশ এই ত্রিশূলের মাধ্যমেই হয়।এই ত্রিশূলই তিনি দিয়েছিলেন মা দুর্গাকে অসুর নিধন করার জন্য।

শিবকে নিয়ে রহস্যর শেষ নেই।চৈত্র মাস জুড়ে থাকছে শিব নিয়ে নানা তথ্য। পৌরাণিক ঘটনা এবং শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা।ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

রামনবমীর শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন

রামনবমীর শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ রাম নবমী। আজকের এই বিশেষ পর্ব শ্রী রামকে উৎসর্গ করবো এবং আপনাদের রাম নবমীর শাস্ত্রীয় ও আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা জানাবো।

 

বিভিন্ন যুগে ভগবান বিষ্ণু বিশ্ব সংসারের সকল মানুষকে ন্যায়পরায়ণতার ও সত্যের পথ প্রদর্শন করতে মিথ্যার উপর সত্যের জয় প্রতিষ্ঠা করতে

নানা অবতার রূপে আমাদের ধরিত্রী তে অবতরণ করেছেন।ত্রেতা যুগে রাম ভগবান বিষ্ণুর সপ্তম অবতার রূপে জণ্মেছিলেন।

 

শ্রী রাম ছিলেন সূর্য্য বংশীয় রাজা দশরথের অস্বমেধ যোগ্য লব্ধ যেষ্ঠ পুত্র। শৈশব থেকেই তিনি রাজধর্ম পালন করছেন কারন রামের যখন চোদ্দ বছর বয়স তাকে ঋশি বিস্বামিত্র রাক্ষস দের হাত থেকে যজ্ঞ রক্ষা করার জন্য দশরথের কাছ থেকে চেয়ে নিয়ে যান। সেই থেকে শুরু হয় তার দুষ্টের দমন এবং শিষ্টের পালন যা শেষ হয় রাবন বধের মধ্যে দিয়ে।

 

শ্রী রামের জীবন এবং দর্শন ভারতের আদর্শ। আজ তার তার জন্ম তিথিকেই আমরা রাম নবমী রূপে পালন করি।রাম নবমী পালন করার মূল উদ্দেশ্য হল অধর্মকে পরাস্ত করে ধর্মকে স্থাপন করা।মন্দ শক্তির বিনাশ করে শুভ শক্তির সূচনা করা।শ্রী রাম নিজেই শুভ শক্তির প্রতীক। ন্যায়ের প্রতীক।সনাতন ধর্মে যতজন ভগবানের অবতার আছেন তাদের মধ্যে রামকে এক কথায় সর্বশ্রেষ্ঠ বলা যায়।রাম নামকে বলা হয় কলিযুগের সব অন্ধকারকে দূর করে এগিয়ে যাওয়ার প্রধান অস্ত্র|

 

ভগবান রামের উল্লেখ যে শুধুমাত্র প্রাচীন হিন্দু গ্রন্থে পাওয়া যায় তা নয়, জৈন এবং বৌদ্ধ ধর্ম গ্রন্থেও ভগবান রামের উল্লেখ আছে। বিশ্বের বহু দেশেই রামের মন্দির আছে,ইন্দোনেশিয়ায় রয়েছে পৃথিবীর বৃহত্তম রাম মূর্তি|

 

শাস্ত্রমতে এই রাম নবমী উপলক্ষ্যে ধার্মিক ব্যক্তিরা সমগ্র দিন জুড়ে বৈদিক মন্ত্র পাঠ করেন। সমগ্র দিনজুড়ে শাস্ত্র পাঠ পাঠ করা হয় বহু ধার্মিক স্থানে।এই দিনটিতে রাম কথার বর্ণনা করে, রাম কাহিনী পড়ে সহজেই বিষ্ণুর কৃপা লাভ করা যায় বলে বিশ্বাস।আপনারাও আজ শাস্ত্র মতে রাম নবমী পালন করুন। প্রভু শ্রী রামকে প্রনাম করুন। নিজের মনোস্কামনা জানান। শ্রী রামের কৃপায় জীবনের সব অন্ধকার দুর হবে।

সবাইকে জানাই রাম নবমীর শুভেচ্ছা।

 

ফিরে আসবো আগামী দিনে। শিব সংক্রান্ত পৌরাণিক বিষয় নিয়ে আলোচনায়। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

অন্নপূর্ণা পূজার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

অন্নপূর্ণা পূজার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আগামী কাল অন্নপূর্ণা পূজা। আজ অন্নপূর্ণার পূজার ঠিক আগের দিনে দেবী অন্নপূর্ণা সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রী তথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরবো। যার মধ্যে দিয়ে দেবী অন্নপূর্ণার পুজোর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব আপনারা উপলব্ধি করতে পারবেন।

 

চৈত্র মাসের শুক্লাষ্টমী তিথিতে দেবী অন্ন পূর্ণার আবির্ভাব হয় কাশিতে। এই তিথিতেই প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়। শাস্ত্র মতে দেবী অন্নপূর্ণার আশীর্বাদে সংসার থেকে সব অভাব দূর হয়|নিষ্ঠাভরে দেবীর আরাধনায় সংসার হয়ে ওঠে পরিপূর্ণ|

 

সনাতন ধর্মে দেবী অন্নপূর্ণা অন্নের দেবী, সুখ ও সমৃদ্ধির দেবী|দেবী অন্নপূর্ণা দুর্গার আরেক রূপভেদ।মূলত দ্বিভূজা বা চতুর্ভূজা । গায়ের রঙ লালচে। দ্বিভূজা দেবীর বামহাতে সোনার অন্নপাত্র। ডানহাতে চামচ বা হাতা।মাথায় বিরাজিত অর্ধচন্দ্র। তিনি ক্ষুধার্ত মহাদেবকে অন্নদান করছেন স্মিতহাস্যে তার এক পাশে শ্রী ও অন্য পাশে ভূমি|

 

বাংলায় পৌরাণিক দেবী হওয়ার পাশাপাশি লৌকিক দেবী হিসেবে অন্নপূর্ণা পুজো জনপ্রিয়তা লাভ করে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের মাধ্যমে। তিনি মহা সমারোহে তাঁর রাজত্ব কালে অন্নপূর্ণা পুজোর প্রচলন করেন।

 

বর্তমানে বাংলার বিভিন্ন স্থানে অন্নপূর্ণা পূজো হয়ে থাকে এবং তন্ত্র ও শাক্ত উভয় মতেই হয়ে থাকে দেবীর পূজা।প্রাচীন তন্ত্রসার গ্রন্থে দেবীর পূজা পদ্ধতি রয়েছে, আবার অন্নদামঙ্গল কাব্য রচিত হয়েছে দেবীর মহিমা কীর্তন করে|সব মিলিয়ে সনাতন ধর্মে দেবী অন্নপূর্ণার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য অপরিসীম।

 

সবাইকে জানাই অন্নপূর্ণা পুজোর শুভেচ্ছা।

ফিরে আসবো আগামী দিনে রাম নবমী উপলক্ষে একটি বিশেষ পর্ব নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

রানী রাসমণির পরিবারের অন্নপূর্ণা পূজো

রানী রাসমণির পরিবারের অন্নপূর্ণা পূজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সাধারণত বাংলার বনেদি বাড়ির পূজো বা জমিদার বাড়ির পূজো কথা উঠলেই দুর্গা পূজো বা কালী পূজো নিয়ে আলোচনা হয়। তবে এক কালে বাংলার কিছু বনেদি বাড়িতে জাঁকজমক পূর্ণ ভাবে দেবী অন্নপূর্ণার পূজো হতো এবং রানী রাসমণির পরিবারের অন্নপূর্ণা পূজো ছিলো তাদের মধ্যে অন্যতম।আজ অন্নপূর্ণা পুজোর প্রাক্কালে রানী রাসমণির অন্নপূর্ণা মন্দির এবং অন্নপূর্ণা পূজো নিয়ে লিখবো।

 

ব্যারাকপুরের অবস্থিত রানী রাসমণির অন্নপূর্ণা অন্নপূর্ণা মন্দির। এই মন্দির নির্মিত হয়েছিল দক্ষিণেশ্বরের মন্দির নির্মাণের বেশ কয়েক বছর পরে।

 

এই মন্দির নির্মাণের সাথে জড়িত অলৌকিক কাহিনীটি হলো এইরকম – ১৮৪৭ সালে রানি রাসমণি তাঁর জামাই মথুরমোহন বিশ্বাস সহ অন্যান্য আত্মীয় স্বজন নিয়ে জল পথে কাশীযাত্রা করেছিলেন। যাত্রা শুরুর দিন রাতেই রানীমা দেবীর স্বপ্নাদেশ পান যে কাশী না গিয়ে গঙ্গার পাড়েই মন্দির প্রতিষ্ঠা করে তাঁর নিত্যপুজোর ব্যবস্থা করা হোক। রানি কাশীযাত্রা স্থগিত করে ফিরে আসেন। নানা কারণে সেবার মন্দির তৈরী হয়নি ।তারমধ্যে তৈরী হয়ে যায় দক্ষিনেশ্বর মন্দির।এদিকে অন্নপূর্ণা-দর্শন না হওয়ায় মথুরমোহনের মনে মনে ইচ্ছে ছিল দেবী অন্নপূর্ণার মন্দির প্রতিষ্ঠা করার। কিন্তু তাঁর জীবদ্দশায় তা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণ করেন তাঁর স্ত্রী রানি রাসমণির ছোটো মেয়ে জগদম্বাদেবী। তৈরী হয় তার মায়ের স্বপ্নদেশ পাওয়া অন্নপূর্ণা মন্দির।

 

মন্দির টি ন’টি চূড়াবিশিষ্ট নবরত্ন মাতৃমন্দির, ছ’টি আটচালার শিবমন্দির, দু’টি নহবতখানা, নাটমন্দির, ভোগের ঘর, গঙ্গায় স্নানঘাট ইত্যাদি তৈরি হয়েছিল।অন্নপূর্ণা মন্দিরটি দেখতে অবিকল দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী মন্দিরের মতো।

মন্দিরের গর্ভগৃহে অধিষ্ঠিত শিব ও অন্নপূর্ণার বিগ্রহ অষ্টধাতুর। মাতৃমূর্তি দক্ষিণমুখী।পাশে ভিক্ষা পাত্র হাতে শিব।

 

অন্নপূর্ণা মন্দিরের তোরণদ্বারের ওপর স্থাপিত রয়েছে এক সিংহমূর্তি। যা নিয়ে সেকালে ব্রিটিশরা আপত্তি করে ছিলো কারণ ব্রিটিশদের দাবি ছিল, সিংহ তাদের রাজশক্তির প্রতীক। বিবাদ গড়ায় আদালত পর্যন্ত। তবে আইনি লড়াইয়ে জয় হয়েছিল রাসমণির পরিবারের।

 

ব্যারাকপুরে অন্নপূর্ণা মন্দির প্রাঙ্গণে রয়েছে ছ’টি শিবমন্দির।মন্দিরের পাশেই চাঁদনি রীতির গঙ্গার ঘাট আছে যা রানি রাসমণি ঘাট নামে পরিচিত। শোনা যায় এই ঘাটে ঠাকুর স্বয়ং শ্রীরামকৃষ্ণ স্নান করেছিলেন।

 

মথুরমোহন বিশ্বাসের ইচ্ছাকে বাস্তবায়িত করতে জগদম্বা দ্বারা এই মন্দির রানী রাসমণি এবং তাঁর পরিবারের দেবী অন্নপূর্ণার প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভক্তিকে আজও বহন করে চলেছে।

 

ফিরে আসবো পরের পর্বে। দেবী অন্নপূর্ণা সংক্রান্ত আরো কিছু শাস্ত্রীয় বিষয় নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।