Home Blog Page 16

শিব অবতার – কৃষ্ণদর্শন রূপ

শিব অবতার – কৃষ্ণদর্শন রূপ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সনাতন ধর্মে অবতার তত্ত্ব নিয়ে বলতে গেলে শ্রী বিষ্ণুর অবতার গুলি নিয়েই বেশি আলোচনা হয়। কারন তিনি সৃষ্টির পালন কর্তা এবং প্রতি যুগেই তিনি ভিন্ন ভিন্ন অবতারে ফিরে আসেন অধর্ম নাশ করে ধর্ম স্থাপন করতে। তবে সংহার কর্তা শিব ও একাধিক অবতারে অবতীর্ণ হয়েছেন। তার মধ্যে একটি বিশেষ অবতার কৃষ্ণ দর্শন অবতার।

আজকের পর্ব এই অবতার নিয়ে।

 

কৃষ্ণ দর্শন অবতার বিশেষ কারন শিব স্বয়ং পরম বৈষ্ণব এবং বৈষ্ণব ধর্মের একজন সংস্থাপক আচার্য্য।পুরান অনুসারে একবার কৈলাসে শিবকে পার্বতী প্রশ্ন করেছিলেন যে তিনি সদা কার ধ্যানে মগ্ন। শিব বলে ছিলেন তিনি তার আরাধ্যা শ্রী কৃষ্ণর ধ্যানে মগ্ন থাকেন।তাই কৃষ্ণ দর্শন অবতার ভক্তের ভগবান রূপে আত্ম প্রকাশ।

 

শাস্ত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে ঋষি অঙ্গিরা যখন যজ্ঞের অবশিষ্ট সম্পদ নভাগকে দান করতে চান তখন শিব এই রূপে সেখানে উপস্থিত হয়ে যজ্ঞের গভীর রহস্য এবং ত্যাগের মহিমা বোঝান।

তিনি বলেন সমস্ত যজ্ঞের ফল নিষ্কাম ভাবে রুদ্র বা শিবের চরণে অর্পণ করা উচিত।সেই আজ্ঞা পালন করে নভাগ ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করেন।অর্থাৎ রাজা শ্রদ্ধাদেবের পুত্র নভাগকে মোক্ষলাভের পথ দেখাতে শিব এই রূপ ধারণ করেছিলেন।

 

প্রতিকী অর্থে এই অবতারটি সততা, বৈরাগ্য এবং ঈশ্বরের প্রতি সমর্পণের গুরুত্ব তুলে ধরে।শিব এই রূপে ভক্তকে সম্পূর্ণ রূপে ভগবানের চরণে স্মরণাগত হওয়ায় আদর্শে উদ্বুদ্ধ করেন।

যা মানুষকে জাগতিক মায়া

থেকে মুক্ত হতে উৎসাহিত করে।

 

ফিরে আসবো পরবর্তী শিব অবতার এবং সেই সংক্রান্ত পৌরাণিক এবং শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নিয়ে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব অবতার – সুরেশ্বর

শিব অবতার – সুরেশ্বর

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শাস্ত্রে উল্লেখিত শিবের অবতার গুলির মধ্যে সুরেশ্বর অবতার অন্যতম।সুরেশ্বর শব্দের অর্থ দেবতাদের প্রভু।সুরেশ্বর অবতারের আবির্ভাব হয় একটি বিশেষ কারণে। কেনো শিব ওই অবতার রূপে আবির্ভূত হলেন তা জানতে হলে একটি পৌরাণিক ঘটনা জানতে হবে।

 

ব্যাঘ্রপাদ ঋষির পুত্র উপমন্যু ছিলেন শিব ভক্ত । তাঁর কঠোর তপস্যা ও শিবের প্রতি একাগ্রতা পরীক্ষার জন্য শিব সুরেশ্বর রূপ ধারণ করেন এবং পার্বতী শচী মাতার রূপ ধারণ করেন । সুরেশ্বর রূপে শিব ইন্দ্রের ছদ্মবেশে শিব ভক্ত উপমন্যুকে শিবের নিন্দা করতে বলেন কিন্তু উপমন্যু তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং শিবের প্রতি ভক্তিতে অবিচল থাকেন।

 

শিব পার্বতী উপমন্যুর অটল ভক্তিতে সন্তুষ্ট হন।তারপর শিব নিজের আসল রূপ প্রকাশ করেন এবং সুরেশ্বরকে বর দান করেন।

 

অর্থাৎ  এই অবতারে শিব ও পার্বতী

সম্মিলিত ভাবে ভক্তের ভক্তি এবং বিশ্বাস

পরীক্ষা করেন এবং ভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে দেবাদিদেব তার ভক্তকে সর্বদা রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেন।

 

শিব পুরাণে সুরেশ্বর অবতারের কথা বর্ণিত হয়েছে। শিব এই রূপে দেবতাদের রক্ষা কর্তা। যখনই অসুর বা অশুভ শক্তি দেবতাদের বিপদগ্রস্ত করে তখনই শিবসুরেশ্বর রূপে তাদের রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেন।তাই সুরেস্বর দেবতাদের প্রভু তাদের আশ্রয়দাতা।

 

ফিরে আসবো শিবের পরবর্তী অবতার নিয়ে শাস্ত্রীয় এবং পৌরাণিক আলোচনা আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব অবতার – বৃষভ অবতার

শিব অবতার – বৃষভ অবতার

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শাস্ত্র মতে শিবের উনিশটি অবতারের মধ্যে একটি বৃষভ অবতার।স্বভাবে এবং আকৃতিতে তেজি এবং শক্তিশালী হলেও এটি শিবের উগ্র রূপের থেকে ভিন্ন, শান্ত ও জ্ঞানী রূপ।আজকের পর্বে শিবের এই বিশেষ অবতার নিয়ে লিখবো।

 

বিভিন্ন শাস্ত্রে বৃষভ অবতার সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়।কিছু শাস্ত্র মতে বৃষভ নামে বিষ্ণুর এক অবতার আছে যাকে বৃষভদেব বলা হয় আবার এই পরিচয়ে এক জৈন তীর্থঙ্কর রয়েছেন তবে শিব পুরাণে মতে শিবের বৃষভ অবতার দেবাদিদেব মহাদেবের উনিশটি অবতারের অন্যতম।

 

একটি পুরান কাহিনী মতে একবার পাতাল লোকে বিষ্ণুর এক পুত্র জন্মায় ।পরবর্তীতে শ্রীবিষ্ণুর এই সন্তান যখন গোটা সৃষ্টি ধ্বংস করতে উদ্যত হয়। ব্রহ্মার অনুরোধে বৃষভ নামে ষাঁড়ের রূপ নিয়ে বিষ্ণুর এই সন্তানকে হত্যা করেন মহাদেব।অহংকার এবং অত্যাচারের অবসান ঘটাতে এই অবতারের আবির্ভাব হয়।

 

বিরাট আকার এবং নীল বর্ণের এই রূপ কুর্ম পুরান, লিঙ্গ পুরান এবং শিব পুরানে স্থান পায়। কোথাও উনিশটি আবার কোথাও আঠাশটি শিব পুরানের অন্যতম তিনি।

 

শিবপুরাণ অনুসারে শিবের এই অবতার হলো মহাদেবের একটি শান্ত ও দয়ালু রূপ। বৃষভ রূপে নিবৃত্তি বা ত্যাগের পথ প্রচারের জন্য অবতীর্ণ হন মহাদেব । বৃষভ অবতার শিবের অন্যতম কোমল ও সৎ রূপ হিসেবে পরিচিত। তবে এই রূপেও তিনি তার সংহার কার্য সম্পন্ন করে জগৎ রক্ষা করেছেন।অধর্ম নাশ করে ধর্ম স্থাপন করেছেন।

 

শাস্ত্রে আরো আছে যে দ্বাপর যুগের শেষে শিব বৃষভ রূপে অবতীর্ণ হন।এই অবতারের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ত্যাগের পথ প্রচার করা।পরাশর, গর্গ, ভার্গব এবং গিরিশ এই চার জন ঋষিকে শিবের বৃষভ অবতারের প্রধান শিষ্য রূপে ধরা হয়।

 

ফিরে আসবো শিবের পরবর্তী অবতারে কথা নিয়ে। থাকবে অনেক পৌরাণিক এবং শাস্ত্রীয় তথ্য। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব অবতার – দুর্বাশা

শিব অবতার – দুর্বাশা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শাস্ত্রে যে উনিশজন শিব অবতারের উল্লেখ পাওয়া যায় তাদের মধ্যে একজন দুর্বাশা ঋষি।দুর্বাশা ছিলেন অত্রি ঋষি এবং অনসূয়ার পুত্র।

তার পিতামাতা নিষ্ঠার সাথে

শিবের তপস্যার পর শিবের অংশ হিসেবে দুর্বাশাকে অর্জন করেছিলেন।

 

শৈশব থেকেই তিনি অত্যন্ত রোগা এবং লম্বা ছিলেন।তিনি স্বভাবে শিবের রূদ্র রূপের প্রকাশ ঘটাতেন অর্থাৎ অত্যন্ত ক্রোধি ছিলেন দুর্বাশা।

 

অধর্ম নাশ করে ধর্ম স্থাপন করতেই শিবের দুর্বাশা রূপে আগমন তাই ধর্মের পথ থেকে বিচ্যুতদের প্রতি রুদ্র অগ্নিময় এবং ক্রোধী ছিলেন দুর্বাশা।

যারা ধর্মের পথ অনুসরণ করেন না বলে বিশ্বাস করতেন তাদের দ্রুত অভিশাপ দিতেন।

 

শিবের অবতার হিসেবে তিনি তাঁর দশ হাজার শিষ্যকে নিয়ন্ত্রণ ও শাসন করতে এবং তাদের প্রকৃত ধর্ম এবং সত্য শেখাতেন।

 

যখন শকুন্তলা দুর্বাশাকে অবহেলা করেন তখন তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে তাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন যে, তিনি যার কথা ভাবছেন এবং যার জন্য তিনি দুর্বাসাকে অবহেলা করেছেন, তিনি তাকে ভুলে যাবেন।এই অভিশাপের কারণেই রাজা দুষ্যন্ত শকুন্তলাকে ভুলে গিয়েছিলেন।

 

রাগী হলেও দুর্বাশা ছিলেন কোমল হৃদয় এবং সরল স্বভাবের একবার দুর্বাসা একবার ইন্দ্রকে তিনি একটি ফুলের মালা অর্পণ করেছিলেন।

ইন্দ্র তার ঐরাবতকে মালাটি পড়িয়ে দেন এবং ঐরাবত মালাটি তার পায়ের তলায় পিষে ফেলেন ভগবান ইন্দ্রের অহংকারে ক্রুদ্ধ হয়ে, ঋষি দুর্বাসা তাকে অভিশাপ দিলেন, যার ফলে তাকে সমস্ত ধন, গুণ এবং শক্তি চলে যায়। স্বর্গ রাজ্যও হাতছাড়া হয়।

 

আবার যারা ধর্মের এবং সত্যের পথে থাকতো তাদের তিনি পুরুস্কার এবং আশীর্বাদ দিতেন।

শিবের এই অবতার নানা দিক দিয়েই অভিনব এবং বৈচিত্র পূর্ণ।

 

ফিরে আসবো শিবের আরো একটি অবতারের কথা নিয়ে। আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব অবতার – সদাশিব

শিব অবতার – সদাশিব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শিবের একাধিক রূদ্র বা তেজময় রূপ নিয়ে ইতিপূর্বে আলোচনা করেছি এই ধারাবাহিক শিব অবতার পর্বে। আজ শিবের একটি শান্ত এবং যোগী রূপ নিয়ে লিখবো। আজকের পর্বে শিবের সদাশিব রূপ।

 

ভারতের একাধিক প্রাচীন মন্দির বিশেষ করে এলিফ্যান্টা বা মাদুরাইয়ের মতো প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপত্য গুলিতে শিবের এই শদাশিব মূর্তি দেখা যায়।এই রূপে সাধারণত শিবের পাঁচটি মাথা মাথা থাকে।পাঁচটি মাথা যথাক্রমে সৃষ্টি, পালন, সংহার, মায়া এবং মুক্তিকে নির্দেশ করে।

 

সদাশিব রূপটি হলো পুরাণে বর্ণিত শিবের সর্বোচ্চ, অতীন্দ্রিয় ও শাশ্বত রূপ, যিনি “অনন্ত শুভ” বা পরম সত্তার প্রতীক।এই রূপটি আধ্যাত্মিক জ্ঞান এবং আনন্দের সর্বোচ্চ অবস্থা বলে ধরা হয়।

এই অবতারে শিব সৃষ্টির সংহার কর্তা নন এখানে তিনি শান্ত এবং সৌম।সদাশিব রূপটি শিবের অসীম ও রূপাতীত দিককে উপস্থাপন করে।

 

আবার কোনো কোনো শাস্ত্রে বিশেষ করে যোগ এবং তন্ত্রে সদাশিবকে পরম চেতনা বলা হয়।

 

আসলে সদাশিব সাকার এবং নিরাকার এই দুই রূপের সমন্বয়। শিব যখন শান্ত এবং ধ্যানমগ্ন। সৃষ্টি এবং প্রলয়ের উর্ধে তখনই তিনি সদাশিব।

 

শাস্ত্র মতে শিবের সদাশিব রূপের পূজো করলে মন শান্ত হয়। আধ্যাত্মিক শক্তি বৃদ্ধি হয়। ভয় এবং নেতিবাচক শক্তি পরাস্ত হয়ে।

 

চৈত্র মাস জুড়ে চলতে থাকবে শিব সংক্রান্ত আলোচনা।ফিরে আসবো শিবের পরবর্তী

অবতার নিয়ে আলোচনায়। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব অবতার – হনুমান

শিব অবতার – হনুমান

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শিবের মাস চৈত্র মাস উপলক্ষে শুরু করেছি শিব অবতার সংক্রান্ত ধারাবাহিক আলোচনা। আজ শিবের রূদ্র অবতার বজরংবলীকে নিয়ে লিখবো।

 

শাস্ত্রে যে উনিশ জন মুখ্য শিব অবতারের উল্লেখ আছে তার মধ্যে বজরংবলী নেই। তবে তিনি যে শিবের অবতার বা শিবের অংশ তা একাধিক শাস্ত্রে উল্লেখিত। তুলসীদাস রচিত হনূমান চালিসাতেও হনুমানকে শিবের অবতার রূপেই দেখা হয়।

 

শাস্ত্রে যে সাতজন চিরঞ্জিবীর উল্লেখ আছে তাদের মধ্যে অন্যতম হনুমান।ভগবান হনুমান ভগবান ইন্দ্রের বরপ্রদত্ত। বিশ্বাস করা হয়, হনুমান একমাত্র নিজের ইচ্ছেয় মৃত্যুবরণ করতে পারবেন।

 

পরম বৈষ্ণব শিব শ্রী রামের সেবা করার জন্যই হনূমান রূপে অবতীর্ণ হন। আবার নন্দীদেব রাবনকে একবার হনুমান দ্বারা ধসং হওয়ার অভিশাপ দিয়ে ছিলেন সেই অভিশাপ সত্যি হয়েছিলো শিবের এই অবতারের মাধ্যমে এমন ব্যাখ্যাও আছে।

 

শৈশব থেকেই শিবের তেজ এবং রূদ্র রূপ হনুমানের মধ্যে উপস্থিত ছিলো।

হনুমান যখন শিশু ছিলেন, তিনি সূর্যকে দেখেছিলেন এবং ভেবেছিলেন এটি একটি লাল ফল, তাই তিনি এটি খাওয়ার চেষ্টায় এর দিকে উড়ে গেলেন। ইন্দ্র যখন হনুমানকে আসতে দেখেন, তখন তিনি তাকে আঘাত করার জন্য তার বজ্র নিক্ষেপ করেন। আহত হন পবন পুত্র হনুমান। সেই ক্রোধে পবন দেব পৃথিবীতে বায়ু সঞ্চালন করতে অস্বীকার করেছিলেন। বায়ুর অভাবে জীবকুল যখন শেষ হয়ে যেতে বসে তখন সমস্ত দেবতারা হনুমানকে বর দেন।সমস্ত দেবতাদের বরে তিনি হয়ে ওঠেন অজেয়। অমর এবং অপ্রতিরোদ্ধ।

 

ভগবান শ্রী রামও বর দিয়েছেন হনুমানকে। সেই বর অনুযায়ী কলি যুগের শেষ হলে তবেই মুক্তি মিলবে হনুমানের।কলিতে যখন কল্কি অবতার রূপে ভগবান আসবেন তখন আবার দুষ্টের দমন এবং ধর্ম পুনরস্থাপন করতে হনুমানের সাহায্য প্রয়োজন হবে বলেও মনে করা হয়।

 

আবার সীতাদেবীর বর অনুযায়ী হনুমান চিরঞ্জীবী। তিনি অজর-অমর হওয়ার বর প্রাপ্ত। অর্থাত্‍‌ তিনি কখনও বৃদ্ধ হবেন না।তাঁর কখনও মৃত্যু হবে না। কথিত আছে, রামায়ণের সমস্ত চরিত্র মোক্ষ লাভ করে, কিন্তু হনুমান সব সময়ের জন্য পৃথিবীতে থাকার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, যত দিন মানুষের হৃদয়ে রাম জীবিত আছেন, তত দিন তিনি পৃথিবীতে থাকবেন।

 

হনূমান অষ্ট সিদ্ধি এবং নব নিধির দাতা। তার চরণে আশ্রয় নিলে সকল অনিষ্ট নাশ হয়। জ্যোতিষ শাস্ত্রে মনের করা হয়ে হনূমান যার সহায় শনিদেব তার ক্ষতি করেন না কারণ হনূমানের বীরত্বে সন্তুষ্ট হয়ে শনিদেব তাকে প্রতিশ্রুতি দেন যে তার ভক্তদের তিনি রেহাই দেবেন।

 

ফিরে আসবো পরের পর্বে। শিবের আরো একটি অবতারের কথা নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব অবতার – অশ্বথামা

শিব অবতার – অশ্বথামা

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

শিবের পঞ্চম অবতারের নাম অশ্বত্থামা।
ভোলেনাথের এই অবতারের জন্ম গুরু দ্রোণাচার্যের গৃহে পুত্ররূপে ঘটেছিল। নিজ আরাধ্য ভোলেনাথকে পুত্ররূপে পাওয়ার জন্য দ্রোণাচার্য কঠোর তপস্যা করেছিলেন ও শিব প্রসন্ন হয়ে তাঁকে পুত্ররূপে জন্মগ্রহণ করার বর দেন। এর সঙ্গে সঙ্গে অশ্বত্থামা অমরত্বের বরও পেয়েছিলেন।

জন্মের সময় তিনি অশ্বের ন্যায় গর্জন করেছিলেন তাই তার নাম হয় অশ্বথামা। শিবের অংশ রূপে তিনি জগৎ বিখ্যাত মহা জ্ঞানী এবং ধার্মিক হওয়া সত্ত্বেও শাস্ত্রে তিনি কিছুটা উপেক্ষিত এবং নানা কারণে সমালোচিত হন।

নানা দিক দিয়ে বিতর্কিত এবং রহস্যময় এক চরিত্র এই অস্বথামা।একদিকে অশ্বথামা ছিলেন মহাভারতেরর অন্যতম বীর যোদ্ধা।তিনি ছিলেন কৌরবদের মিত্র। আবার কুরুক্ষেত্রর যুদ্ধের পর পাণ্ডবদের সন্তানদের হত্যা করার অপরাধে এবং উত্তরার গর্ভে থাকা সন্তানকে পরীক্ষিতকে অন্যায় ভাবে মারার জন্য শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে অভিশাপ দিয়েছিলেন যে, তিনি চিরকাল ধরে পাপের ভার বহন করে ঘুরবেন না তিনি মানুষ হওয়ার স্বীকৃতি পাবেন না পাবেন দেবতার মর্যাদা।

অশ্বত্থামা অষ্ট চিরঞ্জীবীর অন্যতম|তিনি দ্রোণাচার্যের এতই প্রিয় ছিলেন যে, তাঁর মৃত্যুর গুজব কানে আসার পরই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

একটি জনশ্রুতি অনুসারে হিমালয়ের গভীর অরণ্যে থাকেন অস্বথামা তার উচ্চতা প্রায় সাত ফুট এবং তার কপালে রয়েছে একটি গভীর ক্ষত|বহু যোগী পুরুষ অশ্বত্থামা কে দেখার দাবী করেছেন।

সমগ্র চৈত্র মাস জুড়ে থাকবে শিব মাহাত্ম বর্ণনা এবং শিব সংক্রান্ত শাস্ত্রীয় আলোচনা। ফিরে আসবো পরের শিব অবতার নিয়ে। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

শিব অবতার – নন্দীদেব

শিব অবতার – নন্দীদেব

 

পন্ডিতজি ভৃগুর শ্রী জাতক

 

দেবাদিদেব মহাদেবের দুই ছায়া সঙ্গী নন্দী ও ভৃঙ্গী সর্বদা তার অনুচর রূপে তার পাশে থাকেন এবং তার সর্বাধিক বিশ্বস্ত অনুচর নন্দী হলেন তারই অংশ এবং নন্দীদেব শিবের একটি অবতার রূপেই গণ্য হন।

 

ভারতের বহু শিবমন্দিরের সামনে নন্দীর মূর্তিও থাকে, বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতে। তবে সে।মূর্তি সচরাচর বৃষ বা ষাঁড়ের। তবে এটা নন্দীর আসল রূপ নয়।নন্দীদেব একজন বলশালী দেবতা যার হাতে থাকে একাধিক অস্ত্র এবং সর্বদা তিনি শিবের সেবায় এবং আরাধনায় নিয়োজিত থাকেন।শাস্ত্র মতে নন্দীদেব কড়াল দর্শন। বিকটআকার। বামন আকৃতি। মুন্ডিত মস্তক এবং ক্ষুদ্র বাহু বিশিষ্ট।কুর্ম পুরান অনুসারে সুজশা নামে এক কন্যার সহিত নন্দীর বিবাহ দেন স্বয়ং মহাদেব।

 

আবার অনেক পুরান বিশেষজ্ঞ মনে করেন পূর্বে নন্দী মহারাজ পৃথক দেবতা হিসেবেও পূজিত হতেন পরবর্তীতে তিনি শিবের বাহন হিসেবে স্থান পান এবং শিবের অবতার হলেও তাকে শিবের বাহন রূপেই পূজো করা হয়।

 

শিব মহাপুরাণ মতে, নন্দী শিলাদ মুনির পুত্র। শিলাদ ছিলেন ভগবান শিবের পরম ভক্ত এবং শিবের আশীর্বাদেই নন্দীর জন্ম হয়েছিলো এবং শিব স্বয়ং তাকে চিরঞ্জীবী হওয়ার বর দেন। রামায়ণেও নন্দীর উল্লেখ পাওয়া যায় যেখানে অহংকারী রাবন কৈলাশ এসে নন্দীকে তার চেহারার জন্যে অপমান করেন ও বানর বলেন, নন্দী তাকে অভিশাপ দিয়েছিলো যে এক বানর তার পতন ডেকে আনবেন। পরে তাই হয়েছিলো। শিবের আরেক অবতার হনুমান শ্রী রামের সাথে মিলে রাবনের পতন সুনিশ্চিত করেন।

 

নিজের দীর্ঘ তপস্যার বলে নন্দীদেব

শিবের বাহন রূপে স্থান লাভ করেন।

 

ফিরে আসবো শিবের পরবর্তী অবতারের কথা নিয়ে আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব অবতার – কালভৈরব

শিব অবতার – কালভৈরব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শিবের উনিশটি অবতারের মধ্যে

অন্যতম কাল ভৈরব। এটিও শিবের একটি ক্রোধি এবং উগ্র রূপ এবং এই অবতারের আবির্ভাব হয় বিশেষ একটি কারণে।

 

সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মাকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য কালভৈরবকে সৃষ্টি করেছিলেন করেছিলেন শিব। শিবের ক্রোধ থেকে জন্ম কাল ভৈরবের এবং কালভৈরবই ব্রহ্মার একটি মাথা কেটে নিয়েছিল।

 

ব্রহ্মার ছিন্ন মস্তক ছুঁড়ে ফেলতে চাইলেও কালভৈরবের হাতেই আটকে ছিল সেটি।সেই অবস্থায় কিছু কাল ভ্রাম্যমান অবস্থায় কাটান তিনি। এই কপাল হাতে থাকার কারনেই শিবের আরেক নাম হয় কাপালিক।অর্থাৎ কাপালিক এবং কাল ভৈরব একই।

 

এদিকে ব্রহ্ম হত্যার পাপ অন্য দিকে এই অসহায় অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে কপাল ব্রত পালন করতে হয় তাঁকে।তাতেও তেমন ফল হয়না, অবশেষে কাশীতে আসার পর গঙ্গা স্নান করে পাপ মুক্ত হন তিনি এবং সেই কপাল থেকে মুক্ত হন

তার পর শিব তার কাল ভৈরব রূপকে কে নিষ্ঠা সহকারে কাশী তেই স্থাপন করেন এবং কাশীকে রক্ষা করার দায়িত্ব দেন কালভৈরবকে। তাই শিব হলেন কাশীর রাজা আর কালভৈরব তাঁর কোতোয়াল। তিনিই আশীর্বাদ করেন, তিনিই অভিশাপ দেন। এমনকি স্বয়ং যমরাজেরও নাকি কাশীবাসীকে শাস্তি দেওয়ার কোনও অধিকার নেই।কাশী তে কাল ভৈরবই শেষ কথা |

 

কাশীর কালভৈরব মন্দির ঘিরে রয়েছে অসংখ্য রহস্যময় আচার ও প্রথা,কথিত আছে কাল ভৈরব এর অনুমতি ছাড়া কাশী প্রবেশ বা এখানে থাকা সম্ভব নয়|

 

অনেকের কাছেই কালভৈরব শান্তি, সমৃদ্ধি ও সাফল্যের দেবতা, তার বাহন কুকুর, অনেকে বিশ্বাস করেন গভীর রাতে কোথাও যাত্রা করার সময় কালভৈরবের নাম নিলে নাকি তিনি সব বিপদ কাটিয়ে দেন।পুরাণ মতে কালভৈরব কাল বা সময়ের শাসক। প্রতিটি হিন্দু মন্দিরে কালভৈরবের মূর্তি রয়েছে। এবং তিনি সেই মন্দিরের রক্ষক হিসেবে বিবেচিত হন।তবে সেই ভৈরব মূর্তিও অনেক প্রকার ভেদ আছে।প্রতি শিব মন্দিরে কালভৈরব এক বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ওই মন্দিরের চাবির রক্ষক বলে বলে মনে করা হয়।

 

চৈত্র মাস উপলক্ষে চলতে থাকবে শিব অবতার সংক্রান্ত ধারাবাহিক শাস্ত্রীয় আলোচনা।

ফিরে আসবো পরবর্তী অবতার নিয়ে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব অবতার – বীরভদ্র

শিব অবতার – বীরভদ্র

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সাধারণত অবতার নিয়ে কথা উঠলে শাস্ত্রে বিষ্ণুর দশ অবতার নিয়ে বেশি আলোচনা হয়। তবে শিবের ও একাধিক অবতার রয়েছে। শিবের মোট উনিশটি অবতারকে তার প্রধান এবং সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ অবতার হিসেবে দেখা হয় যাদের উল্লেখ আছে শিব পুরান সহ একাধিক শাস্ত্রে। আসন্ন চৈত্র মাস উপলক্ষে ধারাবাহিক ভাবে শিব অবতার নিয়ে লিখবো ।আজ বীর ভদ্র অবতার।

 

শিবের সকল অবতারের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর এবং উগ্র অবতার বীর ভদ্র। সতীর দেহ ত্যাগের পর তিনি শিবের জটা থেকে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। দেবাদিদেবের অপমানের প্রতিশোধ নেয়াই ছিলো বীর ভদ্রর প্রধান উদ্দেশ্যে এবং বলা বাহুল্য সেই কাজে তিনি সফল হন।

 

বীরভদ্র অবতার সতীর মৃত্যুর জন্য দায়ী দক্ষকে হত্যা করেছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি নৈবেদ্য দূষিত করে, যজ্ঞের পাত্র ভেঙে এবং পুরোহিতদের অপমান করে যজ্ঞ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তিনি আনুষ্ঠানিক প্রাসাদে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিলেন। তাকে যখন নিরস্ত্র করতে আসেন অন্য দেবতারা তখন তিনি ভগবান ইন্দ্রকে পদদলিত করেছিলেন এবং যমের লাঠি ভেঙে দিয়েছিলেন। মহাকালীও বীরভদ্রের সাথে যোগ দেন।বীরভদ্র তাঁর রোমকূপ থেকে রৌম্য নামক রুদ্রতুল্য অসংখ্য গণদেবতা সৃষ্টি করেন। তাদের ক্রোধে মহা প্রলয়ের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

 

যখন সব দেবতারা বীরভদ্র কে নিরস্ত্র ও শান্ত করতে চেয়ে ব্যার্থ হন তখন ব্রহ্মা এসে বীরভদ্রের স্তুতি করে তাঁকে শান্ত করেন। এরপর বীরভদ্র দেবতাদের সাথে করে মহাদেবের কাছে উপস্থিত হন। বীরভদ্রের এইরূপ বীরত্ব ও প্রভুপরায়ণতায় সন্তুষ্ট হয়ে মহাদেব তার অংশ ও অনুগত বীর ভদ্রকে নানাবিধ বর দান করেন।

 

শিবের অবতার এবং অংশ রূপে বীর ভদ্র সকল শিব ভক্তের রক্ষাকর্তা এবং পূজনীয়।

 

ফিরে আসবো পরবর্তী শিব অবতার নিয়ে।

আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।