Home Blog Page 153

নবদূর্গার তৃতীয় রূপ – দেবী চন্দ্র ঘন্টা

নবরাত্রিতে তৃতীয় দিনে পূজিতা হন নব দুর্গার তৃতীয় রূপ অর্থাৎ চন্দ্র ঘন্টা|পুরান অনুসারে শিব পার্বতীর বিবাহের সময় হঠাৎ তারোকাসুর প্রেত পিশাচ দৈত দানব সহ আক্রমণ করে তখন দেবী পার্বতী এক দশ ভুজ রুপী মঙ্গলময় দেবী রূপে চন্দ্র সম বিশাল শুভ ঘণ্টা বাজিয়ে সকল অশুভ শক্তি কে নিরস্ত্র করেন|দেবীর মস্তকে অর্ধচন্দ্র থাকে , তাই দেবীকে চন্দ্রঘণ্টা নামে ডাকা হয় । দেবীর শরীরের রং স্বর্ণের মতো উজ্জ্বল । এই দেবী দশভুজা । দেবীর হাতে কমণ্ডলু , তরোয়াল , গদা , ত্রিশূল , ধনুর্বাণ , পদ্ম , জপ মালা থাকে| দেবীর বাহন সিংহ|এই দেবীর আরাধনা সাংসারিক সুখ ও শান্তি এনে দেয় জীবনে|জীবন সবদিক থেকে পরিপূর্ণ হয় দেবীর আশীর্বাদে|প্রতিবছরের ন্যায় এবছর ও নবরাত্রি এবং দূর্গা পুজো অনুষ্ঠিত হবে আপনাদের হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মন্দিরের, হবে গ্রহ দোষ খণ্ডন|আপনারা বাড়িতে থেকেও অনলাইনে এই পক্রিয়ার সাথে সম্পূর্ণ ভাবে যুক্ত হতে পারেন, শুধু যোগাযোগ করতে হবে উল্লেখিত নাম্বারে আর নজর রাখতে হবে মন্দিরের ওয়েবসাইট ও আমার প্রোফাইলে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

নবদূবর্গার দ্বিতীয় রূপ ব্রহ্মচারিণী

এই রূপে ব্রহ্মচারীর বেশে ধরা দেন মা|এখানে ‘ব্রহ্ম’ শব্দের অর্থ হল তপস্যা। ব্রহ্মচারিণী অর্থাৎ তপস্বীনি|ভগবান শঙ্করকে পতিরূপে লাভ করার জন্য দেবী পার্বতী কঠিন তপস্যা করেন। সেই কঠিন তপস্যার জন্য তাকে তপশ্চারিনী বা ব্রহ্মচারিণী বলা হয়|

তপস্যা সার্থক হয় বিবাহ হয় দুজনের । পরে তাঁদের সন্তান কার্তিক বা ষড়ানন বধ করেন তারকাসুরকে।

দেবীর ব্রহ্মচারিণীর রূপ জ্যোতিতে পূর্ণ, অতি মহিমামণ্ডিত। তিনি ডান হাতে জপের মালা এবং বাঁ হাতে কমণ্ডলু ধারণ করে আছেন।

কথিত আছে এই রূপের পূজায় বৃদ্ধি পায় মনোসংযোগ এবং সব ভয় সংশয় ও মানসিক দুর্বলতা দূর হয়|নবরাত্রির দ্বিতীয় দিনে এই রূপের পুজো হয়

আগামী দিনের পর্বে দেবীর অন্যরূপ নিয়ে ফিরে আসবো পড়তে থাকুন|নবরাত্রির গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জ্যোতিষ পরামর্শ ও প্রতিকারের জন্যে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন নমস্কার|

নব দুর্গা – শৈলপুত্র

আজ থেকে শুরু করছি এক নতুন ধারাবাহিক লেখনী|বাংলার দূর্গা পূজার পাশাপাশি একই সময়ে সারা দেশ জুড়ে পালিত হয় নব রাত্রি উৎসব|মূলত দেবী দুর্গার নয় টি ভিন্ন রূপের পূজা হয় নয় দিন ধরে| বাংলার অনেক দূর্গা পূজা তেও নব দুর্গার আরাধনা হয়|এই রূপ গুলির আছে নিজস্ব শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা এবং আধ্যাত্মিক তাৎপর্য|আজ লিখবো প্রথম রূপ শৈল পুত্রী নিয়ে|একবার প্রজাপতি দক্ষ বিরাট যজ্ঞ করেন । এই যজ্ঞে সতী কে নিমন্ত্রণ করা হয় নি । সতী পিতৃ গৃহে যাবার জন্য অস্থির হল কিন্তু ভগবান শঙ্কর সাবধান করলেন যে কোন কারনে তিনি উমার উপর রেগে আছেন । কিন্তু সতীর মন মানল না তখন শঙ্কর জী অনুমতি দিলেন যাবার জন্য । কিন্তু পিতৃ গৃহে গিয়ে পৌঁছে দেখলেন কেউ তাকে সেরকম স্নেহ ভরে কাছে ডাকছে না । একমাত্র মা জড়িয়ে ধরলেন । স্বয়ং দক্ষ তাকে নানা খারাপ কথা বললেন । তখন রাগে দুঃখে যজ্ঞাগ্নি র সাহায্যে নিজে কে ভস্মীভূত করলেন ।এই সংবাদ শুনে শিব ও তার অনুগামীরা দক্ষের যজ্ঞ ধ্বংস করলেন|পর জন্মে তিনিই শৈলরাজ হিমালয়ের কন্যা রুপে জন্ম নিলেন । এই জন্মে তিনি শিবের অর্ধাঙ্গিনী রুপে ছিলেন|নব দূর্গার প্রথম রূপটি হল শৌলপুত্রী।নবরাত্রি উত্সবের প্রথমদিনের পুজো হয় দেবী শৈলপুত্রীর। দেবী শৈলপুত্রী আসলে প্রকৃতির দেবী। শৈলপুত্রীর বাহন বৃষ । এঁনার দক্ষিণ হস্তে ত্রিশূল আর বাম হস্তে কমল আছে তাই দেবীর অপর নাম শুলধারিনি|দেবী পার্বতী রূপে জন্ম নেন ও শিব কে বিবাহ করেন|হিন্দুশাস্ত্র অনুযায়ী ব্রহ্মার শক্তির প্রতীক হলেন দেবী শৈলপুত্রী।শৈলরাজ হিমালয়ের কন্যা হবার জন্য দেবীর এক নাম হয় শৈলপুত্রী|শাস্ত্র মতেএই রূপের আরাধনায় বৃদ্ধি পায় মনোবল|মানসিক অস্থিরতা ও অবসাদ মুক্তি হয় দেবী শৈল পুত্রীর আরাধনায়|আগামী পর্বে দেবীর পরবর্তী নিয়ে আলোচনা করবো |পড়তে থাকুন|

বাংলার জমিদার বাড়ির দুর্গাপূজা – মহিষাদল রাজবাড়ি

কলকাতার বনেদী বাড়ি গুলির পাশাপাশি বাংলার জেলা গুলিতে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য প্রাচীন রাজ পরিবারের দুর্গাপূজা|মহিষাদল রাজবাড়ির পুজো যার মধ্যে অন্যতম|দেবী প্রতিমা এখানে সাজে সজ্জিত। যাঁর আরাধনা হয় সম্পূর্ণ বৈষ্ণব পদ্ধতিতে। রীতি মেনে আজও মহালয়ার পরদিন অর্থাৎ প্রতিপদে কুলদেবতা মদনগোপাল জিউয়ের মন্দির সংলগ্ন পুকুর থেকে ঘট উত্তোলনের মাধ্যমে শুরু হয় পুজো।এই রাজ পরিবারের ইতিহাস বেশ প্রাচীন ও ঘটনা বহুল|উত্তরপ্রদেশ থেকে এসেছিলেন জনার্দন উপাধ্যায়। তিনি রাজা কল্যাণ রায়চৌধুরীর থেকে মহিষাদলের জমিদারি কিনে নেন। অতঃপর ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে রাজা আনন্দলাল উপাধ্যায়ের স্ত্রী জানকীদেবীর হাত ধরে শুরু দুর্গাপুজো|পুজো হয় বৈষ্ণব মতে|তিথি অনুসারে হয় ভোগের পরিমান অর্থাৎ ষষ্টিতে ছয় মন ও সপ্তমীতে সাতমন চালের ভোগ|১০৮টি নীলপদ্ম দিয়ে পুজো করা হত এককালে|দেবীর বিসর্জন হতো ব্যতিক্রমী| দশমীর দিন গার্ড অব অনার দিয়ে দেবীকে নিয়ে যাওয়া হত গেঁওখালির রূপনারায়ণ নদীতে। আজ সেই রাজাও নেই সেই রাজত্বও নেই তবে নিষ্ঠা ও ভক্তি সহকারে প্রথা মেনে অনুষ্ঠিত হয় পুজো|আগামী পর্বে অন্যকোনো রাজবাড়ির কথা নিয়ে ফিরে আসবো|কাল আপনাদের মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে বিশেষ পুজো, হোম যজ্ঞ ও গ্রহ দোষ খণ্ডন অনুষ্ঠিত হয়েছে |আগামী দিনেও প্রতিটি বিশেষ তিথিতে এই ব্যবস্থা থাকবে|অংশ নিতে যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|নমস্কার|

বাংলার জমিদার বাড়ির দূর্গা পুজো : সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবারের পুজো

আজ এই পর্বে যে বাড়ির পুজোর কথা বলবো বাংলা তথা কলকাতার ইতিহাসে তার গুরুত্ব অপরিসীম|আজকের পর্বে সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবারের পুজো|

বাংলার ইতিহাসের বারো ভূঁইয়া দের অন্যতম ছিলেন লক্ষীকান্ত রায় চৌধুরী যিনি আকবরের রাজ প্রতিনিধি মান সিংহের থেকে মোট আটটি পরগনার স্বত্ব ও রায়চৌধুরী উপাধি লাভ করেন|যদিও তার আগেই এই পরিবার যথেষ্ট প্রভাবশালী ও বিত্তবান ছিলো|এই পরিবারের অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়েই লেখা হয়েছিল বিখ্যাত উপন্যাস বৌ ঠাকুরানীর হাট|রায় চৌধুরী উপাধি পাওয়ার পড় লক্ষীকান্ত রায় চৌধুরী বিরাট আকারে দুর্গাপূজা শুরু করেন|
প্রথমে হালি শহরে শুরু হলেও পরবর্তীতে পুজো অনুষ্ঠিত হয় বড়িশায়|বর্তমানে এই পরিবার বেশ কয়েকটি আলাদা পরিবারের বিভক্ত এবং মোট এখন মোট আটটি দূর্গা পুজো হয় সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারে তবে প্রধান পুজো বলতে বরিশার দুর্গাপূজাকেই বোঝায়|

শাক্ত, শৈব এবং বৈষ্ণব— এই তিন মত মিলে যায় পুজোতে|এবাড়ির পুজোতে ছিন্নমস্তা, বগলা, কমলাকামিনী, মাতঙ্গী, অর্থাৎ দশমহাবিদ্যা যেমন পূজিতা হন আবার সেই সঙ্গে রয়েছেন রাধাকৃষ্ণ|
বৈচিত্র পূর্ণ এই পারিবারিক পুজোতে কোথাও বৈষ্ণব মতে পুজো হয় আবার কোথাও তন্ত্র মতে|
ভোগের ক্ষেত্রেও রয়েছে এই বৈচিত্র কোনো বাড়ির পুজোতে যেমন অন্ন ভোগ হয় কোথাও আবার ফল ও মিষ্টি তবে সাবর্ণদের বাকি বাড়িগুলিতে আমিষ ভোগ হলেও নিমতার বাড়িতে সম্পূর্ণ নিরামিষ ভোগ হয়|আগে পশু বলী প্রথা থাকলেও এখন তা বন্ধ তবে কুমড়ো বা শশা বলী হয়|

আগে ঠাকুর টলিনালায় বিসর্জন হত। বর্তমানে অন্য ঠাকুরের মতোই বাবুঘাটে বিসর্জন হয়|দশমীর দিন সকালে ঘট বিসর্জনের পরে ঠাকুরের সামনেই শুরু হয় বিজয়া পর্ব|চণ্ডীমণ্ডপে প্রণামের রীতি এই পরিবারের অন্যতম বৈশিষ্ট|

আজ বিদায় নিচ্ছি|দেখা হবে পরের পর্বে|যারা নবরাত্রি তে গ্রহ দোষ খণ্ডন করাতে পারলেন না এবং আগামী দীপাবলি উপলক্ষে যারা বিশেষ প্রতিকার বা গ্রহ দোষ খণ্ডনের জন্য কথা বলতে চান ফোন করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|যারা হৃদয়েশ্বরী মা সর্ব মঙ্গলার মন্দির বা আমার গৃহ মন্দিরের সাথে যুক্ত হতে চান, অনলাইন পুজো দেখতে চান বা অঞ্জলি দিতে চান তাদের বলবো আমার ফেসবুক প্রোফাইলে সব তথ্য পেয়ে যাবেন|আর ওয়েবসাইটও রয়েছে চাইলে একবার ঘুরে আসতে পারেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

বনেদি বাড়ির দূর্গা পুজো – কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি

কলকাতার পাশাপাশি জেলার ঐতিহ্য সম্পন্ন জমিদার বাড়ির পুজোর অভাব নেই|আজ এই পর্বে লিখবো বাংলার একটি ঐতিহাসিক ও অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজ পরিবারের দূর্গাপূজা নিয়ে|আজ কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির দূর্গা পুজো|

এই বাংলায় দূর্গা পুজোর শুরু কবে হয়েছিল তা নিয়ে ঐতিহাসিক দের মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট|তবে প্রথম দূর্গা পুজো হয়েছিল কোনো রাজ পরিবারে এবং অনেক পরে বারোয়ারি পুজোর সূচনা হয়|সে ক্ষেত্রে একদম প্রথম পারিবারিক পুজোগুলির অন্যতম কৃষ্ণনগর রাজ বাড়ির পুজো|কৃষ্ণচন্দ্র মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গিরকে সাহায্য করেন প্রতাপাদিত্যকে হারাতে। তারপরে কৃষ্ণচন্দ্রকে কৃষ্ণনগরের রাজা করেন জাহাঙ্গীর|রাজত্ব লাভ করে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র জাঁকজমক সহকারে দূর্গা পুজো শুরু করেন যা আজও চলে আসছে বংশ পরম্পরায় আগে এই পরিবারে অন্নপূর্ণার পুজো হতো|

কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির দুর্গা পরিচিত রাজরাজেশ্বরী হিসেবে|দেবীর এখানে যুদ্ধবেশ পরনে টকটকে লাল শাড়ি|গায়ে বর্ম ও হাতে অস্ত্র। যেহেতু বৈষ্ণব মতে পুজো হয় তাই দেবী ঘোটকাকৃতি সিংহের ওপর আসীন|একচালা প্রতিমার পিছনে থাকে অর্ধচন্দ্রাকৃতি ছটা ও তাতে আঁকা থাকে দশমহাবিদ্যা|

রীতি অনুসারে কৃষ্ণনগর রাজবাড়িতে মহালয়ার পর দিন থেকেই শুরু হয় পুজো এবং রাজরাজেশ্বরী পাটে আসীন হন বোধনের সময়ে। প্রাচীন প্রথা অনুসারে তাকে বেহারাদের কাঁধে চড়িয়ে আনা হয়|এই পুজোর অন্যতম আকর্ষণ হল সন্ধিপুজো ও দশমীর দিন সিদুর খেলা|আজও সন্ধিপুজোর সময়ে ধোয়ায় ঢেকে যায় দেবীর মুখ এবং প্রচলিত বিশ্বাস, সেই সময়ে মা আসেন কৃষ্ণনগর রাজবাড়িতে, বিজয়া উপলক্ষেআশেপাশের বহু মহিলা রাজবাড়ির সিদুর খেলাতে অংশগ্রহণ করেন|পুজোতে পশু বলি বা দশমীতে নীল কণ্ঠ পাখি ওড়ানো হয়তো আজ আর নেই তবুও আবেগ ও ভক্তি রয়েছে একই রকম|

আজ বিদায় নিলাম আবার ফিরে আসবো যথা সময়ে|যারা নবরাত্রি তে জ্যোতিষ প্রতিকার করাতে চানা যোগাযোগ করবেন |আগামী দীপাবলিতেও শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডন হবে|যোগাযোগ করবেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

গান্ধী জন্ম জয়ন্তী

মহাত্মা গান্ধী এমন একজন মানুষ জিনি ক্ষমতা থেকে দূরে থাকা সত্ত্বেও তিনি বর্তমান সময়েও কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে রাজত্ব করছেন।ইতিহাসে এরকম ঘটনা কখনও দেখা যায়নি যখন একজন ব্যক্তি, যার সঙ্গে প্রশাসনের দূরদুরান্ত পর্যন্ত কোন সম্পর্ক ছিল না। কিন্তু বিশ্বাস ও অহিংসার ওপর নির্ভর করে তিনি শতাব্দী প্রাচীন সাম্রাজ্যবাদের কেবল ভিতই নাড়িয়ে দেননি, বরং দেশপ্রেমীদের মধ্যে স্বাধীনতাবোধের মানসিকতার বীজ ভরে দিতে পেরেছিলেন।যাঁদের সঙ্গে মহাত্মার কখনও দেখা-সাক্ষাৎ হয়নি, তাঁদেরকেও তিনি প্রভাবিত করতে পেরেছিলেন। যেমন মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রই,নেলসন ম্যান্ডেল এঁদের আদর্শের মূল ভিত্তিই ছিল মহাত্মা গান্ধী। মহাত্মা গান্ধী একথা প্রায়শই বলতেন যে, তাঁর জীবনকর্মই তাঁর বার্তা। গান্ধীজি কখনই তাঁর জীবনকর্মের মধ্য দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেননি। কিন্তু পক্ষান্তরে তাঁর জীবনকর্মই অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। আজ আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি যখন আমাদের উদ্দেশ্যই হল কিভাবে অন্যকে প্রভাবিত করা যায়। কিন্তু গান্ধীজির আদর্শ ছিল কিভাবে অন্যকে অনুপ্রাণিত করা যায়। আজ জন্মদিনে মহাত্মাকে জানাই প্রনাম ও শ্রদ্ধাঞ্জলি|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

বাংলার জমিদার বাড়ির দূর্গা পূজা : শোভা বাজার রাজবাড়ির পুজো

বাংলার দুর্গাপূজার নিজস্ব এক ইতিহাস এবং ঐতিহ্য আছে যা কয়েকশো বছরের পুরোনো|পলাশীর যুদ্ধ থেকে, স্বদেশী আন্দোলন, দেশ ভাগ থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ সবই এই ইতিহাসের অঙ্গ|দূর্গা পুজোকে কেন্দ্র করে শাস্ত্র এবং ধর্মীয় ভাবাবেগের পাশাপাশি এই ইতিহাসের ও এক আলাদা তাৎপর্য আছে|এই বনেদি বাড়ির দূর্গা পুজো নিয়ে লিখতে বসে সেই ইতিহাস সেই ঐতিহ্য কেই কিছুটা নতুন করে আপনাদের সামনে তুলে ধরছি|আপাতত কলকাতার বনেদি বা জমিদার বাড়ির পুজোর কথা লিখলেও আগামী দিনে জেলা গুলির ঐতিহ্য সম্পন্ন পুজোর কথাও লিখবো|জানবো অনেক গল্প অনেক ইতিহাস|আজকের পর্বে শোভাবাজার রাজ বাড়ির পুজো|

বাংলার বনেদি বাড়ির পুজো ঐতিহাসিক পুজোর মধ্যে শোভাবাজার রাজবাড়ীর পুজো থাকবে একদম প্রথম শাড়িতে|সেকালে বলা হতো দেবী মর্তে থাকাকালীন তার মনোরঞ্জনের জন্য এই বাড়িতেই আসতেন|এমন ভাবনার পেছনে অনেক কারন আছে|তবে আগে এই বাড়ি ও তার ইতিহাস সংক্ষেপে জেনে নেয়া দরকার|যদিও এই পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বিজয় হরি দেব তবে এই পরিবারের স্বর্ণযুগ বলা হয় রাজা নবকৃষ্ণ দেবের সময় কে এবং তার আমলেই শুরু হয় এই দূর্গা পূজা|নব কৃষ্ণদেব ছিলেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একজন সাধারণ কর্মচারী যিনি নিজের দক্ষতায় ও পরিশ্রমে কোম্পানির মুন্সী হয়ে ছিলেন|পলাশীর যুদ্ধে তিনি নানা ভাবে ক্লাইভ কে সাহায্য করেন ও পুরুস্কার স্বরূপ প্রচুর অর্থ লাভ করেন|

মূলত পলাশীর যুদ্ধ জয় কে স্মরণীয় করে রাখতেই নবকৃষ্ণ দেবে দূর্গা পুজো শুরু করেছিলেন তাছাড়াও তার উদেশ্য ছিলো ক্লাইভ কে খুশি করে নিজের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা|এই উদ্দেশ্যে তিনি সফল হয়েছিলেন|তার দূর্গা পুজোয় অংশগ্রহণ করেছিলেন স্বয়ং লর্ড ক্লাইভ|আজও অনেক জায়গায় এই পুজো কে গোরা দের পুজো বা কোম্পানির পুজো বলা হয়|

উদেশ্য যাই থাকুক নিষ্ঠা সহকারে পুজো করতেন নবকৃষ্ণ দেব|প্রচুর অর্থ ব্যায় হতো এই পরিবারের দূর্গা পুজোয়|বসতো গান বাজনার আসর, নাচ, কবি গানের ও ব্যবস্থা থাকতো|দূর্গা পুজো উপলক্ষে অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি, ভোলা ময়রার মতো কবিয়ালরা এখানে এসেছেন কবির লড়াই করতে আবার গহরজান, মালকাজান, নুর বক্স প্রমুখ নামী নর্তকী এই বাড়িতে এসেছেন নাচ করতে|
সব মিলিয়ে এলাহী আয়োজন হতো শোভাবাজার রাজ বাড়ির দূর্গা পুজোয় আর এই কারণেই মনে করা হতো যে এটা মর্তে দেবী দুর্গার মনোরঞ্জনের স্থান|

পরবর্তীতে দুই শরিকের মধ্যে ভাগ হয়ে যায় সম্পত্তি তবে প্রথা মেনে নিষ্ঠা সহকারে আজও শোভাবাজর রাজবাড়ি তে দূর্গা পূজা হয়|উল্টো রথের দিন কাঠামো পুজো দিয়ে শুরু হয় দেবীমূর্তি তৈরির কাজ|শোভাবাজার রাজবাড়ির মাতৃমূর্তির বিশেষ এক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এছাড়া, এখানকার পুজোর উপাচারও বেশ চমকপ্রদ। সন্ধিপুজোতে কামানের গোলার শব্দে শুরু হত পুজো এবং শেষও হত একই ভাবে|মা দুর্গা এই বাড়িতে বৈষ্ণবী হিসেবে পূজিতা হন। তাই শোভাবাজার রাজবাড়ির পুজোয় অন্নভোগ থাকে না। গোটা ফল, গোটা আনাজ, শুকনো চাল, কচুরি, খাজা, গজা, মতিচুর-সহ নানা ধরনের মিষ্টি দেবীকে উত্সর্গ করা হয়|বর্তমানে এখানে বলী প্রথা নেই|এবাড়ির পুজোয়|প্রতিমার সামনে একটা বড় হাড়িতে জল রাখা হয়। সেই জলে দেবীর পায়ের প্রতিবম্বের ছবি দেখে সবাই প্রণাম করে। একে দর্পণ বিসর্জন বলা হয়|তারপর প্রথা মেনে দশমীর দিনই হয় বিসর্জন|আগে নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানোর রীতি থাকলেও সরকারি নিয়মে তা এখন বন্ধ|

আজকের পর্বে এইটুকুই|ফিরবো পরের পর্বে|উৎসব পালন করুন তবে স্বাস্থ সংক্রান্ত বিধি নিষেধ মেনে|আর যারা মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মায়ের পুজোর সাথে যুক্ত হতে চান|যারা আসন্ন মহালয়া অমাবস্যায় গ্রহ দোষ খণ্ডন করাতে চান অথবা জ্যোতিষ পরামর্শ ও প্রতিকার চান উল্লেখিত নাম্বারে যোগাযোগ করুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

বাংলার জমিদার বাড়ির দূর্গা পুজো : লাহা বাড়ির পুজো

ঢাকে কাঠি পড়তে আর বেশি দেরি নেই|আইনি জটিলতা থাকবে, থাকবে স্বাস্থ সংক্রান্ত বিধি নিষেধ ও থাকবে এবং সবের মাঝেই অনুষ্ঠিত হবে বাঙালির প্রধান উৎসব|অবশ্যই সব নিয়ম কানুন
মেনে|আপনারা হয়তো জানেন আমার গৃহ মন্দিরে মা হৃদয়েস্বরী সর্ব মঙ্গলার পাশাপাশি প্রতি বছরই দেবী দুর্গাও পূজিতা হন নিষ্ঠা সহকারে|এবছরও হবে|পুজোর ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে|পুজোর তোড়জোড় ও পুজো পক্রিয়া পুরোটাই আপনারা দেখতে পাবেন যথা সময়ে|পাশাপাশি প্রতিদিন জ্যোতিষ পরামর্শ ও চলছে অনলাইনে|এতো কিছুর মাঝেই আমি একটি নতুন বনেদি বাড়ির পুজোর কথা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির|আজ লাহা বাড়ির পুজো|

কলকাতার বড়ো পারিবারিক পুজো গুলির মধ্যে এই পুজো অন্যতম|মনে করা হয় বর্ধমানের বড়শূলে প্রথম পুজো শুরু করেন বনমালী লাহা|পরবর্তীতে কলকাতায় এই পুজো শুরু করেন দুর্গাচরণ লাহা|এ বাড়ির পুজোর এমন কিছু বৈশিষ্ট আছে যা আর বেশ অদ্ভুত এবং আর কথাও চোখে পড়েনা|লাহা বাড়ির কুল দেবতা সিংহ বাহিনী এবং দূর্গা পুজোর সময়ের দেবী দূর্গা সিংহ বাহিনী একই সাথে পূজিতা হন|সিংহ বাহিনী কি করে এবাড়ির কুলদেবী হলো সে নিয়েও একটি অলৌকিক ঘটনা আছে|

শোনা যায় কোনো এক সময় নাকি দেবীর এই মূর্তি কোন এক গভীর জঙ্গলে ডাকাতদের হাতে লাঞ্ছিত হয়ে অনাদরে অযত্নে পড়ে ছিল এই বাড়িরই এক সদস্য দেবীর কাছে স্বপ্নাদেশ মেয়ে মূর্তি উদ্ধার করতে গিয়ে দেখেন, দেবী বড় বিপন্ন। তিনি যত্নে দেবীকে তুলে নিয়ে এসে কুলদেবী রূপে পুজো করতে শুরু করেন|সেই থেকেই অষ্ট ধাতুর সেই মূর্তি কুল দেবী রূপে এবাড়িতে প্রতিষ্ঠিত|

মনে করা হয় ওই ঘটনার পর থেকে লাহাদের ব্যাপক উন্নত হয়|পরবর্তীতে শিবচরণ লাহা ইংরেজদের সঙ্গে পেন খাতাপত্র এবং মূল্যবান রত্নের ব্যবসা করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছিলেন। পুজোর জাঁকজমকও বাড়ে এই সময়|এই বাড়ির পুজো হয়ে ওঠে কলকাতার বনেদি বাড়ির বড়ো পুজোগুলোর একটা|

এ বাড়িতে দেবী দুর্গার রূপ অন্য|তিনি এখানে হরপার্বতী রূপের পূজিতা হন|লাহা বাড়ির পুজো হয় বৈষ্ণব মতে।শিবের কোলে দেবী দুর্গা উপবিষ্টা|মহিষাসুর থাকেনা, দেবীর হাতে কোনো অস্ত্রও থাকেনা|লাহাবাড়ির পুজোর রীতিও একটু আলাদা লাহাবাড়িতে কাঠামো পুজো হয় জন্মাষ্টমীর দুই তিন পড়ে এবং দেবীপক্ষের শুরুতে বোধন হয়|প্রথা মেনে এখানে অন্ন ভোগ হয় না এখানে ভোগের বিশেষত্ব নানা ধরণের মিষ্টি|এখনো বলী প্রথা পুরো পুরি লুপ্ত হয়নি তবে প্রাণী হত্যা হয়না|বলী হয় কুমড়ো বা শসা|বিসর্জন ঘিরেও এবাড়িতে রয়েছে এক অদ্ভুত প্রথা বিসর্জন দিয়ে ফিরে বাড়ির পুরুষরা জিজ্ঞাসা করেন, ‘মা আছেন ঘরে’ ? তখন বাড়ির কোনও মহিলা ভিতর থেকে উত্তর দেন, ‘হ্যাঁ মা আছেন।‘ বাইরে থেকে ফের জিজ্ঞাসা করা হয় ‘মা আছেন ঘরে ?’ একই উত্তর দেওয়া হয় ভিতর থেকে। এভাবে পরপর তিনবার জিজ্ঞাসা করার পর সবাই ভেতরে প্রবেশ করে|

আজ এখানেই শেষ করছি|জ্যোতিষ পরামর্শ বা মন্দির সংক্রান্ত তথ্য পেতে ফোন করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

বাংলার জমিদার বাড়ির দুর্গা পুজো – রানী রাসমণির বাড়ির পুজো

কলকাতার বনেদি বা জমি দার বাড়ির পুজো গুলির কথা লিখতে গেলে সাধারণত দূর্গা পুজোর জাঁকজমক বা জৌলুস এবং আড়ম্বরের কথাই বেশি লিখতে হয়|কারন সেকালের এই পরিবার গুলোর মধ্যে দূর্গা পুজোকে ঘিরে এক ধরণের রেষারেষি বা প্রতিযোগিতা চলতো, যদিও ভক্তি বা নিষ্ঠার অভাব ছিলো না|তবে এই রাজবাড়ি বা জমিদার বাড়ির পূজা গুলির মধ্যে একটি পরিবার ছিলো যারা বাহ্যিক জাঁকজমক থেকে নিষ্ঠা, সারল্য ও শাস্ত্রীয় আচরণকে বেশি গুরুত্ব দিতো|এই পুজো হতো কলকাতার জান বাজারের রানী রাশমনির পরিবারে|এই পুজোর সাথে জড়িত আছে ঠাকুর রামকৃষ্ণ দেবের নাম, রয়েছে অনেক গল্প|আজকের পর্বে রানী রাসমণির পরিবারের পুজো|এই বাড়িতে দূর্গা পুজোর সূচনা করেন এই বংশের প্রাণপুরুষ ও রানী রাসমণির শশুর মশাই শ্রী প্রীতরাম দাস|তার পর পুজোর দায়িত্ব গ্রহণ করেন পুত্র রাজেন্দ্র দাস এবং স্বামীর অবর্তমানে এই পরিবারের জমিদারি, ব্যবসা এবং দুর্গাপূজার দায়িত্বে আসেন রানী রাসমণি ও তার আমলে পুজোর শ্রী আরও বাড়ল|মনে করা হয় সেই সময়েই পুজোয় খরচ হত ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা|একবার বাবুঘাটে কলা বৌ স্নান করাতে যাওয়ার সময় রানী রাসমণির সাথে বিবাদ বাধে এক ইংরেজ সাহেবের|জল অনেক দূর গড়ায় এবং রানীকে পঞ্চাশ টাকা জরিমানাও করা হয়|কিন্তু দমবার পাত্রী ছিলেন না রানী রাসমণি|ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে তাদের উচিৎ শিক্ষা দিয়েছিলে তিনি এবং আরো বড়ো করে দূর্গা পুজোর আয়োজন করেছিলেন|বেগতিক দেখে পিছু হট তে বাধ্য হয়ে ছিলো ইংরেজরা|আরো একটি মজার ঘটনা ঘটেছিলো একবার এই বাড়ির পুজোয়|সেবার দূর্গা পুজো করতে এসেছিলেন স্বয়ং ঠাকুর রামকৃষ্ণ তবে ভিড় এড়াতে তিনি এক নারীর ছদ্মবেশ ধারন করেছিলেন|সখি বেশে চামর দুলিয়ে দূর্গাপুজো করেছিলেন রামকৃষ্ণদেব এবং জগদ্ধাত্রী পুজো অবধি তিনি এই বাড়িতেই ছিলেন|পুজো উপলক্ষে রানী রাসমণির পরিবারে কখনো বাই নাচ বা খানা পিনার আসর বসেনি সেই ভাবে তবে নিষ্ঠা ও ভক্তি সহকারে শাস্ত্রীয় পদ্ধতিতে মাতৃ শক্তির আরাধনার জন্য এই বাড়ির সুনাম ছিলো|পরবর্তীতে রানী রাসমণির জামাতা মথুর বাবু এই পুজোর দায়িত্ব গ্রহণ করেন|বংশ পরম্পরায় সেই ঐতিহ্য আজও চলে আসছে|আজও এখানে সমান ভক্তি ও শ্রদ্ধার সাথে দূর্গা পুজো অনুষ্ঠিত হয়|বাড়ির লোকেরা বিশ্বাস করেন দেবী এখানে সারা বছরই বিরাজ করেন|শোনা যায় এক কালে নাকি মধ্য রাত্রে, বাড়ির ঠাকুর দালানে দেবীর পায়ের নুপুরের শব্দও শোনা যেত|রাসমণি বাড়িতে কাঠামো পুজো হয় রথের দিন|প্রতিপদথেকে ঘরে পুজো শুরু হয়। ষষ্ঠীর দিন হয় বোধন এবং বেলবরণ। ওইদিনই দেবীর হাতে অস্ত্র দিয়ে গয়না পরানো হয়|সপ্তমী, অষ্টমী এবং নবমী এই তিনদিনই কুমারী পুজো হয়|এক কালে বলী প্রথা থাকলেও বলি বন্ধ হয়ে গিয়েছে বেশ কয়েকবছর|প্রথা মেনে এ বাড়িতে ভোগে দেবীকে লুচি ও পাঁচরকম ভাজা অর্পণ করা হয় আর থাকে নানা রকম মিষ্টি|থাকবে বনেদি বাড়ির পুজো, থাকবে থিম পুজো আর তার পাশাপাশি মহালয়া অমাবস্যা তিথিতে আপনাদের মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার মন্দিরে বিশেষ পুজো ও দোষ খণ্ডনের ব্যবস্থা থাকবে|নজর রাখুন মন্দিরের ওয়েবসাইট এ আর আমার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট গুলির দিকে|জ্যোতিষ পরামর্শ ও প্রতিকারের জন্য সরাসরি কথা বলুন আমার সাথে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|