দুর্গাপূজার পরই গোটা দেশ ও বাংলা মেতে ওঠে কালী আরাধনায়, আর কিছুদিন পরেই সেই বহু প্রতীক্ষিত তিথি অর্থ্যাৎ দীপান্বিতা অমাবস্যা|আশ্বিন মাসের অমাবস্যা তিথিতে দীপান্বিতা কালীপূজা বিশেষ জাঁকজমক সহকারে পালিত হয়। এছাড়া মাঘ মাসে রটন্তী কালীপূজা ও জ্যৈষ্ঠ মাসে ফলহারিণী কালীপূজাও বিশেষ জনপ্রিয়। অনেক জায়গায় প্রতি অমাবস্যা এবং প্রতি মঙ্গলবার ও শনিবারে কালীপূজা হয়ে থাকে, তবে তন্ত্রে ও জ্যোতিষ জগতে এই দীপান্বিতা অমাবস্যা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ|তাই এখন থেকে দীপাবলী অবধি দেবী কালী কে নিয়ে ধারাবাহিক লেখালেখি চলবে, কালী কথার এক একটি পর্বে আলোচনা করবো দেবী কালীর রূপ নিয়ে, পুরান মতে দেবীর উৎপত্তি নিয়ে এবং কালী সংক্রান্ত যা কিছু তথ্য ও ব্যাখ্যা শাস্ত্রে আছে তা সহজ সরল ভাবে উপস্থাপন করবো আপনাদের সামনে|সহজ ভাবে দেবী কালীর পরিচয় দিতে গেলে বলতে হয়, কালী বা কালিকা তাঁর অন্য নাম শ্যামা বা আদ্যাশক্তি। প্রধানত শাক্ত সম্প্রদায় কালীপূজা করে থাকে। তন্ত্র অনুসারে, কালী দশমহাবিদ্যা নামে পরিচিত।শাস্ত্রে বলা আছে, কালী দুর্গার ললাট থেকে উৎপন্না হয়েছে, এই বাক্যের তাৎপর্য যে, ললাটের সংকোচনেই ক্রোধভাব প্রকাশিত হয় বলে সদা ক্রোধান্বিতা,রণরঙ্গিনী করাল-বদনা কালীকে ললাট-সম্ভবা বলা হয়েছে। বাস্তবিক কালীও দুর্গার রূপান্তর বিশেষ। ক্রোধাবস্থাপন্না শক্তিকেই কালী বলা হয়েছে।কালী নাম ও এক রহস্য, কাল-এর স্ত্রীলিঙ্গ হল কালী। আর শিব-কেও কাল নামে ডাকা হয়। কাল মানে অনন্ত সময়। এই সময়েরই স্ত্রীলিঙ্গ বোধক হচ্ছে কালী। শাস্ত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে যে কাল সর্বজীবকে গ্রাস করে, সেই কালকে আবার যিনি গ্রাস করেন-তাঁকেও কালী বলা হয়।জগতের উৎপত্তি, স্থিতি, মহাপ্রলয়-এর পিছনে রয়েছে কালশক্তি। সবচেয়ে মজার কথা এই সবের জন্য যে মহাকাল পরিস্থিতির উদ্ভূত হয় তাই আবার সব সৃষ্টিকে গ্রাস করে। সনাতন ধর্মে উল্লেখ যে মহাকালেরও পরিণাম আছে। মহাপ্রলয়ের কালশক্তি মহাকালীর ভিতরেই নিঃশেষ লীন হয়ে যায়।তন্ত্র এবং আধ্যাত্মিক জগতে দেবী কালীর মহাত্মা অপরিসীম, আবার আগামী পর্বে ফিরে আসবো নতুন তথ্য ও ব্যাখ্যা নিয়ে,পড়তে থাকুন এবং জানান এই কালী কথা নিয়ে আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত|এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি তন্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডন ও প্রতিকারের জন্যে এই সময় শ্রেষ্ঠ সময়, দীপান্বিতা অমাবস্যায় মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে অসংখ্য মানুষের গ্রহ দোষ খণ্ডন হবে তবে তার আগে প্রয়োজন সঠিক ভাগ্যবিচার|জ্যোতিষ সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা নিয়ে যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
দেবী লক্ষীর আটটি রূপ
দেবী লক্ষীর আটটি ভিন্ন রূপ আছে যা একত্রে অষ্ট লক্ষী নামে পরিচিত|আজকের পর্বে এই আটটি রূপ ও তার আধ্যাত্মিক গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করবো|
১. আদি লক্ষ্মী বা মহালক্ষ্মী — তিনি বিষ্ণুপ্রিয়া। বিষ্ণুর সঙ্গেই তিনি চিত্রিত হন।আদি লক্ষী বা মহা লক্ষী হলো আদিরূপ মা লক্ষীর। এই মা লক্ষী হলেন অফুরন্ত ধনসম্পদের অধিষ্ঠাত্রী|
২. ধনলক্ষ্মী বা ঐশ্বর্য্যলক্ষ্মী — সম্পদ ও সমৃদ্ধির দেবী।এই দেবীর ছটি হাত এবং মূলত লাল শাড়িতেই অধিষ্ঠাত্রী। প্রতিটি হাতে থাকে একে একে চক্র, শঙ্খ, একটি ঘটে বা পবিত্র কলসি, তীর ধনুক এবং একটি পদ্ম। সর্বশেষ হাতটি অভয় মুদ্রার ন্যায় রাখা এবং তা থেকে সোনার মোহর বা মুদ্রা বের হয়।
৩.ধান্যলক্ষ্মী— শস্যর দেবী।শস্য ভালো হয়
আর্থিক কষ্ট লাঘব হয় এই রূপের পুজো করলে|এই দেবী খাদ্যশস্যএর প্রতীক। দেবীর এক হাত চাষের জমির শস্য সম্পদের আশীর্বাদ স্বরূপ রয়েছে এবং আরেক হাতে থাকে মানব জীবনের প্রয়োজনীয় পুষ্টিদায়ক শস্যের সমাহার। এই দেবীর পরনে থাকে শস্যের রঙের সবুজ শাড়ি|
৪. গজলক্ষ্মী— গজ বা হাতির সঙ্গে তাঁকে কল্পনা করা হয়। ব্যক্তির শ্রীবৃদ্ধি ঘটে তাঁর কল্যাণে|। এই দেবী হাতির ওপর সরাসরি অধিষ্ঠাত্রী না হলেও, তার চারিদিক আবর্ত থাকে হাতি দ্বারা। রাজকীয় ধন সম্পদের প্রতীক এই দেবী। কথিত আছে সমুদ্র মন্থন কালে ভগবান ইন্দ্রের হারিয়ে যাওয়া ধন সম্পদ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এই দেবী|
৫. সন্তানলক্ষ্মী— সন্তানভাগ্য নিরূপণ করেন এই দেবীরূপ। ভালো সন্তান লাভ হয় এই দেবী সন্তুষ্ট হলে|
৬. বীরলক্ষ্মী— সাহসদাত্রী দেবী।সাহস ও আত্মবিশ্বাস যোগান|এই দেবীর আরাধনা মনের শক্তি, ধৈর্য্য যোগায়, যা জীবনের কঠিন ও ভালো সময়কে সঠিকভাবে পরিচালনা করার শক্তিও যোগায়|
৭. বিদ্যালক্ষ্মী—বিদ্যা লক্ষী জ্ঞানের দেবী। বিদ্যা লাভ হয় এই দেবীর পূজায়|বিদ্যার প্রতীক এই দেবী। সরস্বতী ঠাকুরের মতোই এই দেবী পদ্মের ওপর সাদা শাড়িতে অধিষ্টাত্রী হন|
৮. বিজয়লক্ষ্মী বা জয়লক্ষ্মী— ইনি বিজয়ের অধিষ্ঠাত্রী|বিজয় লাভ হয় এই দেবীর আশীর্বাদে|
এই দেবী সর্বদা বিজয়এর প্রতীক স্বরূপ। কোনো সমস্যার থেকে মুক্তি পেতে বা বলা সাফল্য পেতে এই দেবীর পূজা হয়ে থাকে|
অর্থাৎ দেবী লক্ষীর এই প্রতিটি রূপের নিজস্ব ব্যাখ্যা ও পুজোর উদ্দেশ্য রয়েছে|আপনাদের সবাইকে কোজাগরী লক্ষী পুজোর অনেক শুভেচ্ছা
লক্ষী পুজোর নিয়ম ও তার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা
সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধির দেবী শ্রীলক্ষ্মী। শ্রীবিষ্ণুর স্ত্রী। তাঁকে ঘরে বেঁধে রাখতে কোজাগরী পূর্ণিমা তিথিতে বন্দনা করে বঙ্গবাসী। মনে করা হয়, কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো যে বাড়িতে করা হয় সেই গৃহে মা লক্ষ্মী স্থির থাকেন। গৃহে সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধি বজায় থাকে। কোজাগরীলক্ষ্মী দেবীর পুজো করলে ধনসম্পত্তি অক্ষয় হয়|আজ জানবো লক্ষী পুজো সংক্রান্ত কিছু বিধি নিষেধ ও তার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা|
পুজোর দিন অন্ন বা যেকোনও খাবার নষ্ট করবেন না। এতে মা অসন্তুষ্ট হন। দেবী লক্ষ্মী অন্নের অপচয় সহ্য করেন না। ফলে বাড়িতে অর্থ ও খাবারের অভাব দেখা দিতে পারে। এই দিনে সম্ভব হলে অন্ন দান করুন|
লক্ষ্মী দেবীকে কোনও ভাবে সাদা রঙের ফুল দিয়ে পুজো করা যাবে না। সাদা রঙ ছাড়া লাল, হলুদ, গোলাপি রঙের ফুল ব্যবহার করা যাবে।লক্ষ্মীপুজো করার সময় কোনওভাবেই কালো পোশাক পরা যাবে না। কারন সাদা ও কালো রঙ দেবী পছন্দ করেননা তার প্ৰিয় রঙ হলুদ ও লাল|
মা লক্ষ্মীর পুজোয় সাদা ফুল যেমন ব্যবহার করা যায় না, তেমনই আসনে সাদা বা কালো কাপড় পাতার নিয়ম নেই। ব্যবহার করা যেতে পারে লাল, গোলাপি প্রভৃতি রঙের কাপড়। বিশ্বাস, মা লক্ষ্মী এতে অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন কারন ওই একই|
মনে করা হয়, শ্রীলক্ষ্মীর পূজনে তুলসী ব্যবহার করলে দেবী অসন্তুষ্ট হন| কথিত আছে, তুলসির সঙ্গে শালগ্রাম শিলার বিবাহ হয়। শালগ্রাম গ্রাম শিলা নারায়ণের প্রতিভূ। যেহেতু শ্রীলক্ষ্মীও বিষ্ণুপত্নী তাই দুজনের সম্পর্ক মধুর নয় তাই এই পুজোয় তুলসির ব্যবহার চলে না।
পুজোর পর মন্দির বা ঠাকুর ঘরের দক্ষিণমুখে প্রসাদ অর্পণ করার কথা বলে থাকেন অনেকে। এর শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা না থাকলেও বাস্তু শাস্ত্র মতে শুভ| লক্ষ্মীপুজোর প্রসাদে না বলতে নেই। অল্প হলেও মুখে তুলতে হয়।এতে দেবী প্রসন্ন হন|
ঢাক – ঢোল- কাঁসর ঘণ্টা লক্ষ্মীপুজোয় বাজানো যাবে না। অত্যধিক শব্দ পছন্দ করেন না শ্রীলক্ষ্মী। সব পুজোতেই বাদ্যি বাজানো হয়। কিন্তু মা লক্ষ্মীর পুজোয় কাঁসর ঘণ্টা বাজালে দেবীর অসন্তুষ্ট হন বলে মনে করা হয়।এবিষয়ে একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যা আছে|
পুরাণ মতে, ঘণ্টাকর্ণ নামে এক দেবতা পূজনীয় লক্ষ্মী দেবীকে দেখে অশালীন আচরণ করেছিলেন। যে দেবীকে গোটা দেবলোক পুজো করেন, সেই দেবীকেই কিনা অপমান করেন ঘণ্টাকর্ণ। এই ঘটনায় দেবী লক্ষ্মী ঘণ্টাকর্ণের উপর বেজায় ক্রুদ্ধ হন।বলা হয় সেই থেকেই অন্যান্য সমস্ত পুজোতে ঘণ্টা বাজালেও, লক্ষ্মী পুজোতে ঘণ্টা বাজানো নিষিদ্ধ। সেই থেকেই মা লক্ষ্মীর পুজোয় কোন ব্যক্তি ঘন্টা বাজালে, তাঁর উপর বেজায় ক্ষিপ্ত হন পদ্মাসনা দেবী লক্ষ্মী|
আপনাদর সবাইকে কোজাগরী লক্ষী পুজোর অনেক শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
দেবী লক্ষী : পর্ব এক
আগামী বুধবার কোজাগরী লক্ষী পুজো|দেবী আসবেন আমাদের গৃহে|তার আশীর্বাদে ও কৃপায় ধন্য হবে আমাদের জীবন|সুখ ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে ঘরে ঘরে|এই আশায় আমরা সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মহা সমারোহে লক্ষী পুজোর আয়োজন করি|এই পবিত্র সময়ে দেবী লক্ষীর স্বরূপ ও তার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য তিনটি পর্বে আপনাদের জন্যে আলোচনা করবো|আজ প্রথম পর্ব|মর্তে লক্ষী পুজোর প্রচলন হওয়া নিয়ে যে লৌকিক কাহিনী বা ব্রত কথা আছে তা হলো একবার দোলপূর্ণিমার রাতে নারদ বৈকুণ্ঠে লক্ষ্মী ও নারায়ণের কাছে গিয়ে মর্ত্যের অধিবাসীদের নানা দুঃখকষ্টের কথা বললেন। লক্ষ্মী মানুষের নিজেদের কুকর্মের ফলকেই এই সব দুঃখের কারণ বলে চিহ্নিত করলেন। কিন্তু নারদের অনুরোধে মানুষের দুঃখকষ্ট ঘোচাতে তিনি মর্ত্যলোকে লক্ষ্মীব্রত প্রচার করতে এলেন।এই সময়ে অবন্তী নগরে ধনেশ্বর নামে এক ধনী বণিক বাস করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ছেলেদের মধ্যে বিষয়সম্পত্তি ও অন্যান্য ব্যাপার নিয়ে ঝগড়া চলছিল। ধনেশ্বরের বিধবা পত্নী সেই ঝগড়ায় অতিষ্ট হয়ে বনে আত্মহত্যা করতে এসেছিলেন। লক্ষ্মী তাঁকে লক্ষ্মীব্রত করার উপদেশ দিয়ে ফেরত পাঠালেন। ধনেশ্বরের স্ত্রী নিজের পুত্রবধূদের দিয়ে লক্ষ্মীব্রত করাতেই তাঁদের সংসারের সব দুঃখ ঘুচে গেল। ফলে লক্ষ্মীব্রতের কথা অবন্তী নগরে প্রচারিত হয়ে গেল। একদিন অবন্তীর সধবারা লক্ষ্মীপূজা করছেন, এমন সময় শ্রীনগরের এক যুবক বণিক এসে তাদের ব্রতকে ব্যঙ্গ করল। ফলে লক্ষ্মী তার উপর কুপিত হলেন। সেও সমস্ত ধনসম্পত্তি হারিয়ে অবন্তী নগরে ভিক্ষা করতে লাগল। তারপর একদিন সধবাদের লক্ষ্মীপূজা করতে দেখে সে অনুতপ্ত হয়ে লক্ষ্মীর কাছে ক্ষমা চাইল। লক্ষ্মী তাকে ক্ষমা করে তার সব ধনসম্পত্তি ফিরিয়ে দিলেন। এই ভাবে সমাজে লক্ষ্মীব্রত প্রচলিত হল|কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো দক্ষিণ ভারত ও পূর্ব ভারতে অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও উত্তর ও পশ্চিম-ভারতে মা লক্ষ্মীর আবাহন মূলত হয় ধনতেরাস-দিওয়ালি তিথিকে কেন্দ্র করে|বাংলায় লক্ষ্মীপুজোর সংস্কৃতি ভারতের অন্যান্য রাজ্যের থেকে একটু অন্যরকম। যেমন ভারতের বেশিরভাগ অঞ্চলে শুক্রবার মহালক্ষ্মীর উপবাস রাখা হয় ও বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। ওদিকে বাংলার ঘরে ঘরে বৃহস্পতিবারই লক্ষ্মীবার|আমি তো বলি প্রতিটা গৃহে প্রতি বৃহস্পতিবারই নিষ্ঠা সহকারে দেবী লক্ষীর পুজো করলে গৃহের কল্যাণ হয়|এবার দেবী লক্ষীর রূপ নিয়ে বলতে গেলে বলা যায় লক্ষ্মীর চারটি হাত যথাক্রমে ধর্ম, কর্ম, অর্থ ও মোক্ষর প্রতীক|দেবীর বাহন প্যাঁচা ও যথেষ্ট তাৎপর্য পূর্ণ|প্যাঁচা কৃষকের বন্ধু তাই অর্থ ও সম্পদের প্রতীক|প্যাঁচা গভীর অন্ধকার মাঝেও পথ দেখতে সক্ষম অর্থাৎ প্রতিকূলতা কে কাটিয়ে ওঠার ইঙ্গিত দেয়|লক্ষী পুজোর এই বিশেষ সময়ে জ্যোতিষ পরামর্শ বা প্রতিকার অনেক বেশি কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করতে পারে তা দীর্ঘ তিন দশকের পেশাদার জ্যোতিষ জীবনে আমি বহুবার বহু ভাবে উপলব্ধি করেছি|তাছাড়াও সামান্য কিছু উপাচার বা বাস্তু সংক্রান্ত পরামর্শও বদলে দিতে পারে জীবনের মোড়|সৌভাগ্যের দেবী কে ডাকুন আর তার পাশাপাশি নিজের জীবনের সৌভাগ্যের চাবি কাঠি খুঁজে নিতে আস্থা রাখুন সঠিক ভাগ্যবিচার, জ্যোতিষ পরামর্শ ও প্রতিকারের উপর|যেকোনো জ্যোতিষ সংক্রান্ত প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নম্বরে|আগামী পর্বগুলিতে দেবী লক্ষীর আটটি বিশেষ রুপ নিয়ে আলোচনা করবো|সবাইকে কোজাগরী লক্ষী পুজোর আগাম শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন| |ধন্যবাদ|
নব দূর্গা – নবম রূপ
আজ বিজয়া দশমী, এই তিথিতে দেবী দূর্গা মহিষাসুরে বধ করে বিজয় লাভ কোরেছিলেন তাই বলা হয় বিজয়া দশমী|আগেই দেবীর আটটি রূপ নিয়ে আলোচনা করেছি আজ নবদুর্গার নবম তথা শেষ রূপ সিদ্ধিদাত্রী নিয়ে আলোচনা করবো| সিংহবাহিনী দেবীর চার হাতে আশীর্বাদী মুদ্রা | তিনি সিদ্ধি দান করেন|দেবী ভগবত্ পুরাণে আছে, স্বয়ং মহাদেব দেবী পার্বতী কে সিদ্ধিদাত্রী রূপে পুজো করেছিলেন|এবং তার ফলে মহাদেব সকল সিদ্ধি লাভ করেন|দেবীর উপাসনায় সংসারে আসে সুখ এবং সমৃদ্ধি এবং সকল সিদ্ধি লাভ হয়| যারা কর্ম ক্ষেত্রে উন্নতি চায় শিক্ষা ক্ষেত্রে সমস্যা থেকে মুক্তি চায় এবং প্রকৃত জ্ঞান লাভ করতে চায় তারা দেবীর এই রূপের আরাধনা করতে পারেন|এসেছেন দেবী|স্বমহিমায় বিরাজ করছেন তিনি মর্ত লোকে| আবার একটি বছর পর আমরা তাকে ঘরের মেয়ে রূপে মর্তে স্বাগত জানাবো|তার আরাধনায় দূর হোক সব বিপদ কেটে জাক সব সংকট|জগতের মঙ্গল হোক|জয় মা দূর্গা| আপনাদের সবাইকে শুভ বিজয়ার প্রীতি শুভেচ্ছা জানাই|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
নব দূর্গা – অষ্টম রূপ
অষ্টম রূপ হল মায়ের মহাগৌরী রূপ|হিমায়লকন্যা ছিলেন গৌরবর্ণা। শিবের জন্য কঠোর তপস্যা করে রৌদ্রে তিনি কৃষ্ণবর্ণা হন| মহাদেব যখন গঙ্গাজল দিয়ে তাকে স্নান করান, তখন তিনি হয়ে ওঠেন পুনরায় গৌর বর্ণা|দেবীর এই রূপের নাম হয় মহাগৌরী|এই রূপে হাতির পিঠে চার হাতে অস্ত্র নিয়ে দেখা যায় মা দূর্গাকে|
মহা গৌরী গায়ের রং শ্বেতবর্ণ, তিনি শান্ত প্রকৃতির দেবী। আট বছরের বালিকার রূপে তিনি পূজিত হন। দেবীর এক হাত শোভিত বরাভয় মুদ্রায়। বাকি তিন হাতে থাকে পদ্ম, ত্রিশূল এবং ডমরু।
শাস্ত্র মতে এই রূপের পুজোয় কেটে যায় বিবাহ সম্পর্কিত বাধা| যাদের বিবাহে বিলম্ব বা বাঁধা আসছে অথবা বিবাহিত জীবন সুখের নয় তারা এই দেবীর আশীর্বাদে সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন|দেখা হবে পরের পর্বে দেখতে থাকুন|যুক্ত থাকুন হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মায়ের মন্দিরের পুজোর সাথে|ভালো থাকুন|ধব্যবাদ
নব দূর্গা – সপ্তম রূপ
নব দুর্গার সপ্তম রূপ হল কালরাত্রি। বিভিন্ন অস্ত্র ও গহনায় সজ্জিত হয়ে দেবী ধরা দেন কালরাত্রি রূপে|দেবী কৃষ্ণবর্ণা ও ত্রিনয়না|দেবীর বাহন গর্ধব|চতুর্ভুজা দেবী ভীষণদর্শনা|দেবীর তিন হাতে অস্ত্র | এক হাতে ভক্তদের প্রতি বরাভয় | এই রূপের আরাধনায় কেটে যায় সব সংকট|কালরাত্রি দুর্গাপূজার সপ্তম দিনে পূজিত হন। শাক্ত শাস্ত্রানুযায়ী, “সেই দিন সাধকের মন সহস্রার চক্রে অবস্থান করে। তাঁর জন্য ব্রহ্মাণ্ডের সকল সিদ্ধির দ্বার অবারিত হয়ে যায়। এই চক্রে অবস্থিত সাধকের মন সম্পূর্ণভাবে মাতা কালরাত্রির স্বরূপে অবস্থান করে। তাঁর সাক্ষাৎ পেলে সাধক মহাপুণ্যের ভাগী হন। তাঁর সমস্ত পাপ ও বাধাবিঘ্ন নাশ হয় এবং তিনি অক্ষয় পুণ্যধাম প্রাপ্ত হন।হিন্দুদের বিশ্বাস করেন, কালরাত্রি দুষ্টের দমন করেন, গ্রহের বাধা দূর করেন এবং ভক্তদের আগুন, জল, জন্তুজানোয়ার, শত্রু ও রাত্রির ভয় থেকে মুক্ত করেন।তারা বিশ্বাস করেন, কালরাত্রির উপাসক তাকে স্মরণ করলেই দৈত্য, দানব, রাক্ষস, ভূত ও প্রেত পালিয়ে যায়।কালরাত্রির রূপ ভয়ংকর হলেও তিনি শুভফলের দেবী।তার অপর নাম শুভঙ্করী|আগামী পর্বে ফিরবো পরবর্তী রূপ নিয়ে|দেখতে থাকুন|আসন্ন দীপাবলিতে গ্রহ দোষ খণ্ডন ও জ্যোতিষ প্রতিকারের জন্যে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে| ভালো থাকুন|
নব দূর্গা – ষষ্ঠ রূপ
নবরাত্রির আজ ষষ্ঠ দিন|ষষ্ট রূপে নানাবিধ অস্ত্র সম্বলিত হয়ে মা কাত্যায়নী রূপে ধরা দেন| ষষ্ঠীতে এই রূপের আরাধনা হয়|বৈদিক যুগে কাত্যায়ন নামে এক ঋষি ছিলেন|কাত্যায়নের ইচ্ছে হয় একটি কন্যসন্তান লাভের | দেবী পার্বতীর তপস্যা করে তিনি অভীষ্ট পূর্ণ করেন |তার স্তবে তুষ্ট হয়ে স্বয়ং দেবী পার্বতী জন্ম নেন মহাঋষি কাত্যায়নের কন্য রূপে | তখন তার নাম হয় কাত্যায়নী|বামন পুরাণ গ্রন্থে দেবী কাত্যায়নীর উদ্ভবের কাহিনি বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে: “দেবগণ চরম দুরবস্থায় বিষ্ণুর নিকট সহায়তা প্রার্থনা করলে, বিষ্ণু ও তাঁর আদেশে শিব, ব্রহ্মা ও অন্যান্য দেবগন দেবী পার্বতীর অংশ নিয়ে তাকে কায়া রূপ দেন সকলের দেহ হতে দিব্য তেজ বিনির্গত হয়ে এক জ্যোতিপর্বতের সৃষ্টি করল। এই জ্যোতিপর্বত ধারণ করল অষ্টাদশভূজা, কৃষ্ণকেশী, ত্রিনয়না ও সহস্র সূর্যের প্রভাযুক্তা দেবী কাত্যায়নীর রূপ।পৌরাণিক ব্যাখ্যা মতে দেবীর এই রূপের পূজায় শত্র নাশ হয়।মহা সপ্তমীর শুভেচ্ছা আপনাদের সকলকে, সুস্থ থাকুন, আনন্দে থাকুন থাকুন, যুক্ত থাকুন মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার মন্দিরের পুজোর সাথে|প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন| ধন্যবাদ|
নব দুর্গা – পঞ্চম রূপ
বাংলায় আজ মহা ষষ্ঠী এবং দেশ জুড়ে পালিত নব রাত্রির পঞ্চম দিন, এই দিনে পূজিতা হন দেবী স্কন্দ মাতা|পঞ্চম রূপে সিংহের উপর উপবিষ্ট হয়ে মা স্কন্দ মাতা রূপে ধরা দেন|কার্তিকের আর এক এ নাম স্কন্দ|ত্রিনয়নী দেবী চার হাতবিশিষ্টা | ডানদিকের উপরের হাতে ধরে আছেন শিশু কার্তিককে |প্রস্ফুটিত পদ্ম থাকে আর এক দক্ষিণ হস্তে|বাঁ দিকের একটি হাত বরাভয় দিচ্ছে | আর এক হাতে ধরে আছেন পদ্ম | এই রূপে দেবী দুর্গা সিংহ বাহনে উপবিষ্ট হন | তিনি বসে থাকেন ফুটে থাকা কমলে |দেবীর কথা আমরা পাই স্কন্দ পুরাণে । দেবী সতীর দেহত্যাগের পর জকহ্ন দেবী আদিশক্তি পার্বতী রূপে পুনরায় জন্মগ্রহন করেন তখন প্রথমে শৈল্যপুত্রী রূপে প্রকাশিত হয় পরবর্তী সময়ে ব্রক্ষচারিনী রূপে প্রকাশিত হয়ে শিবকে তুষ্ট করেন ও পতিরূপে প্রাপ্ত করেন । দেবী পার্বতী ও শিবের অংশ স্কন্দ ষড়ানন কুমার কার্ত্তিক জন্মগ্রহন করেন তারকাসুরের বধের জন্য। পৌরাণিক গল্পে পাওয়া যায় কার্ত্তিকের শৈশব কালে যখন তিনি ক্রীড়া মগ্ন ছিলেন তখন অকস্মাৎ তারকাসুর তার সৈন্যদের নিয়ে কুমারকে বধের জন্য উদ্ধত হয় । ভগবতী পার্বতী কার্ত্তিকে রক্ষার্থে এই বিশাল প্রচণ্ড রূপ ধারন করেন ও সমস্ত অসুর সৈন্য বধ করেন ।দেবীর আশীর্বাদে কার্ত্তিক তারকাসুর বধ করেন।দূর্গা পূজার পঞ্চমীর দিন নব দূর্গার এই রূপ পূজিত হয়|পরিবারের কল্যাণ করেন এই দেবী|সন্তান ও পরিবারের শিশু দের কল্যাণ হয় এই দেবীর আশীর্বাদে|আপনাদের সকলকে মহাষ্টমীর শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
নবদূর্গা চতুর্থ রূপ – কুষ্মাণ্ডা
মায়ের চতুর্থ রূপ অর্থাৎ কুষ্মাণ্ডা রূপ পূজিতা হন নব রাত্রির চতুর্থ রাত্রে|দেবীর এইরকম অদ্ভুত নাম কেন? ‘কু’ শব্দের অর্থ কুৎসিত এবং ‘উষ্মা’ শব্দের অর্থ ‘তাপ’; ‘কুষ্মা’ শব্দের অর্থ তাই ত্রিতাপ বা দুঃখ–দেবী জগতের দুঃখ গ্রাস করে নিজের উদরে ধারণ করেন, তাই তার নাম ‘কুষ্মাণ্ডা’মহাপ্রলয়ের পরে যখন সর্বত্র শুধু নিশ্ছিদ্র অন্ধকার ছেয়ে রয়েছে, তখন এই দেবী কুষ্মাণ্ডা নব রূপে ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করেছিলেন|দেবী অষ্টভুজা” নামেও পরিচিতা আবার দেবীকে “কৃষ্ণমাণ্ড” নামেও ডাকা হয়|দেবী সিংহবাহিনী ও ত্রিনয়নী দেবীর হাতে থাকে সুদর্শনচক্র, ধনুর্বাণ, রক্তপদ্ম, কমণ্ডলু, অমৃত কলস ও জপমালা|মনে করা হয়, দেবী কুষ্মাণ্ডা অল্প পূজাতেই সন্তুষ্ট হন। তার পূজায় কুষ্মাণ্ড (কুমড়ো) বলি দেওয়ার রীতি আছে। কাশীতে দেবী কুষ্মাণ্ডার মন্দির বিখ্যাত। কাশীতে তিনি দুর্গা নামেই সমধিক পরিচিত। তিনি কাশীর দক্ষিণ দিকের রক্ষয়িত্রী। কাশীখণ্ড-এ রয়েছে, অসি নদীর সঙ্গমস্থলে কুষ্মাণ্ডার অধিষ্ঠানশাস্ত্র মতে এই রূপের আরাধনায় বৈভব, সুখ সমৃদ্ধি ও যশ এবং খ্যাতি বাড়ে বলে মনে করা হয়| আপনারাও যদি এই পবিত্র সময়কে শাস্ত্র মতে ব্যবহার করে নিজের জীবনের যাবতীয় সমস্যা দূর করতে চান, ভরসা রাখুন জ্যোতিষ শাস্ত্রে ভরসা রাখুন আমার উপর, যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|