Home Blog Page 13

পুরী ধামের রহস্য

পুরী ধামের রহস্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

চন্দন যাত্রার মধ্যে দিয়ে এবছরের রথ

যাত্রা উৎসবের তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে পুরী ধামে।আজকের পর্বে পুরী ধামের কিছু রহস্য

নিয়ে লিখবো।

 

পুরী মন্দিরের উপর দিয়ে কোন বিমান বা পাখি উড়ে যেতে পারেনা। অবিশ্বাস্য মনে হলেও বিষয়টি কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীরা অগ্রাহ্য করতে পারেন না। তবে একাধিক বার এক বিরাট পক্ষীকে মন্দিরের চূড়া প্রদক্ষিণ করতে দেখা গেছে। অনেকে বলেন নিশ্চই কোনো পৌরাণিক পক্ষী জগন্নাথ দর্শনে এসেছিলেন।

 

মন্দিরের চূড়ায় যে পতাকাটি লাগানো আছে তা রোজ নিয়ম করে পাল্টানো হয়,এই পতাকা সব সময় হওয়ার বিপরীতে ওড়ে। এর কারণ কিন্তু জানা যায় না কিন্তু এই অদ্ভূত ঘটনাটি ঘটে থাকে|

বিশেষ বিশেষ জাগতিক ঘটনার আগে কখনো এই ধজাতে আগুন লাগা বা ধজা অর্ধনমিত হওয়ার মতো ব্যাতিক্রমী ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকেও অনেকে অলৌকিক বার্তা বলে মনে করেন।

 

মন্দিরের যেকোনো স্থান থেকে মন্দিরের চূড়ার দিকে তাকালে সুদর্শন চক্র আপনার দিকে সম্মুখীন হয়ে থাকবে।

 

মন্দিরে প্রবেশ করার পর প্রথম সিঁড়িতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্রের আওয়াজ আর শুনতে পাওয়াযায় না কিন্তু সিঁড়ি টপকে গেলেই তারপর আবার সমুদ্রের আওয়াজ শুনতে পাওয়া যায়|

 

এতো রহস্য এতো অলৌকিক বিষয় থেকে এটাই প্রমান হয় যে জগন্নাথদেবের লীলা বোঝা দায়|তার ইচ্ছায় সবই সম্ভব|সাধারণ বুদ্ধি বা যুক্তি দিয়ে ভগবানের লীলার বিচার সম্ভব নয়|

 

মনে করা হয় পুরী হলো ভগবানের ভোজনের স্থান তাই এখানকার সবচেয়ে বড়ো রহস্য হল প্রসাদ। সারাবছর ধরে সমপরিমাণ প্রসাদ রান্না করা হয়। কিন্তু একই পরিমাণ প্রসাদ দিয়ে কয়েক হাজার মানুষ হোক বা কয়েক লক্ষ মানুষকে খাওয়ানো হোক তবু প্রসাদ কখনো নষ্ট হয় না বা কখনো কম পড়ে না|এই প্রসাদ রন্ধন পক্রিয়াতেও রয়েছে এক রহস্য রান্নার পদ্ধতিতেও বেশ রহস্য আছে, মন্দিরের হেঁশেলে একটি পাত্রের উপর আরেকটি পাত্র এমন করে মোট সাতটি পাত্র আগুনের উপর বসে রান্না করা হয়। এই পদ্ধতিতে যেটি সবচেয়ে উপরে বসানো হয় থাকে, তার রান্না সবার আগে হয়। আর তার নিচেরগুলো তারপর। এই রহস্যর আজও কোনো সমাধান হয়নি।

 

আজ এই বিশেষ পর্ব এখানেই শেষ করছি।

ফিরবো আগামী পর্বে। পৌরাণিক এবং শাস্ত্রীয় বিষয় নিয়ে লেখা লেখি চলতে থাকবে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

জগন্নাথ দেবের চন্দন যাত্রা

জগন্নাথ দেবের চন্দন যাত্রা

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

পুরীতে অক্ষয় তৃতীয়ায় অনুষ্ঠিত হয় জগন্নাথের চন্দন যাত্রা। চন্দন যাত্রার এই পবিত্র সময়ে আজকের পর্ব এই চন্দন যাত্রা নিয়ে।

এই চন্দন যাত্রা নিয়ে নানা পৌরাণিক কাহিনী প্রচলিত আছে। কথিত আছে শ্রীজগন্নাথদেব মহারাজ ইন্দ্রদ্যুম্নকে স্বপ্নে দর্শন দিয়ে বৈশাখী শুক্লা অক্ষয় তৃতীয়াতে সুগন্ধি চন্দন দ্বারা তার শ্রী অঙ্গে লেপন করার নির্দ্দেশ দিয়েছিলেন। সেদিন থেকে শুরু হয় চন্দন যাত্রা। উৎসব।প্রভু জগন্নাথের রথ যাত্রার তোড়জোড় শুরু হয়ে যায় পবিত্র চন্দন যাত্রার দিন থেকেই।

গ্রীষ্ম ঋতুতে প্রভু জগন্নাথ কর্পূর এবং চন্দন লেপনের মাধ্যমে গরমের কষ্ট থেকে রেহাই পান তাই এই রীতি তিনি নিজে শুরু করেছিলেন বলে মনে করা হয়।

আয়ুর্বেদ মতে চন্দন হল সর্বশ্রেষ্ঠ প্রলেপন। যেহেতু ভারতে বৈশাখ মাস অত্যন্ত উষ্ণ থাকে তাই চন্দনের শীতল গুণ ভগবানের আনন্দ প্রদান করে। জগন্নাথের দুই চক্ষু ব্যতীত সর্বাঙ্গে চন্দন লেপন করা হয়ে থাকে। এই সময়ে বিগ্রহগকে নিয়ে শোভাযাত্রা করা হয় এবং জগতের নাথকে মন্দির পুষ্করিণীতে নৌকাবিহার করানো হয়ে থাকে।

শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে আছে বৃন্দাবনে পরম বৈষ্ণব শ্রীমাধবেন্দ্র পুরীকে স্বপ্নে তাঁর আরাধ্য শ্রীগোপাল বলছেন, “আমার শরীরের তাপ জুড়োচ্ছে না। শ্রী ক্ষেত্র থেকে চন্দন নিয়ে এসো এবং তা ঘষে আমার অঙ্গে লেপন কর, তা হলে তাপ জুড়োবে।” বৃদ্ধ মাধবেন্দ্র পুরী পূর্বভারতে নীলাচলে জগন্নাথধাম পুরীতে এসে রাজার কাছে পূর্ব স্বপ্নগত সমস্ত কথা বললেন। রাজা তার আরাধ্য গোপালের জন্য এক মণ সুগন্ধি চন্দন দেন। চন্দন নিয়ে ফেরার মাধবেন্দ্র পুরী রেমুনা নামক স্থানে অবস্থিত শ্রীগোপীনাথ মন্দিরে আসেন। সেই রাত্রে তার আরাধ্য গোপাল তার স্বপ্নে এসে বলেন “হে মাধবেন্দ্র পুরী, আমি ইতিমধ্যেই সমস্ত চন্দন ও কর্পূর গ্রহণ করেছি। এখন কর্পূর সহ এই চন্দন ঘষে ঘষে শ্রীগোপীনাথের অঙ্গে লেপন কর। গোপীনাথ এবং আমি অভিন্ন।

পরের দিন মাধবেন্দ্র পুরী পুরীরর রাজা কে সব বলেন এবং ঠিক হয় দীর্ঘ ২১ দিন ধরে প্রত্যহ একজন পূজারী প্রভু গোপীনাথের শ্রীঅঙ্গে চন্দন লেপন করবেন । তাই হয়। সেইদিন থেকেই চন্দন যাত্রা শুরু হয়। সেই রীতি নীতি আজও সমান ভাবে চলছে।তবে বর্তমানে পুরীর জগন্নাথ দেবের চন্দন যাত্রা সর্বাধিক জনপ্রিয় এবং প্রসিদ্ধ।চন্দন যাত্রার পর দেবস্নান পূর্ণিমায় হবে স্নান যাত্রা এবিং সব শেষে রথ যাত্রা

জগতের সকল জগন্নাথ ভক্তকে জানাই চন্দন যাত্রা এবং আসন্ন রথ যাত্রার অগ্রিম শুভেচ্ছা।

আধ্যাত্মিক, শাস্ত্রীয় এবং পৌরাণিক বিষয় নিয়ে চলতে থাকবে ধারাবাহিক লেখা নিয়ে ।
ফিরে আসবো আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

অক্ষয় তৃতীয়ার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

অক্ষয় তৃতীয়ার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সনাতন ধর্মের পবিত্র তিথি গুলির মধ্যে অক্ষয় তৃতীয়া অন্যতম। অক্ষয় তৃতীয়ায় মূলত লক্ষী

এবং কুবেরের পুজোর মাধ্যমে সৌভাগ্য লাভ

করা হয়।তবে অক্ষয় তৃতীয়ার সাথে জড়িত আছে পুরান এবং শাস্ত্রীয় একাধিক বিষয়।অক্ষয় তৃতীয়া উপলক্ষে আসুন আজ জেনে নিই সেই সব পৌরাণিক এবং শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা।

 

সনাতন ধর্মে ধন ও সম্পদের দেবতা হলেন রাবনের ভ্রাতা এবং মহাদেবের অন্যতম ভক্ত কুবেরদেব|আসলে কুবের হলেন দেবতাদের কোষাধক্ষ্য তাকে প্রতারিত করে লঙ্কা থেকে বিতাড়িত করেন রাবন এবং ছিনিয়ে নেন তার পুস্পক রথ, যে রথ ব্যবহিত হয়েছিলো পরবর্তীতে রামায়নের সময়ে|তবে কুবের হাল ছাড়েননি কঠোর তপস্যায় মহাদেবকে সন্তুষ্ট করে তিনি জগতের সমস্ত বৈভব ও ঐশ্বর্যর দেবতা হন|পুরাণ মতে আজকের এই অক্ষয় তৃতীয়ার তিথিতেই কুবেরকে তাঁর অনন্ত বৈভব দান করেছিলেন স্বয়ং মহাদেব।তাই বিশ্বাস করা হয় আজ তার পুজো করলে এবং তার কাছে নিজের অভাব অভিযোগ জানালে তিনি কাউকে শুন্য হাতে ফেরান না।

 

আবার এই দিনই মহাভারত রচনা শুরু করেছিলেন ব্যসদেব। তিনি এই চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতেই মহাভারতের শ্লোক উচ্চারণ শুরু করেন আর সিদ্ধিদাতা গণেশ তা লিখতে শুরু করেন।মূলত এই কারনেই যে কোনও কাজ আরম্ভের জন্য এই দিনটিই প্রশস্ত বলে মনে করা হয়|আজ যেকোনো শুভ কাজ শুরু হলে তা

সফল এবং স্বার্থক হয়।

 

অক্ষয় তৃতীয়ায় শ্রী কৃষ্ণ দ্রৌপদীকে অক্ষয় পাত্র দান করেন যাতে তাদের কোনো অভাব না থাকে। আবার এই তিথিতেই গঙ্গার মর্তে আগমন হয়। অক্ষয় তৃতীয়াতেই সত্য যুগের অবসান হয়ে ত্রেতা যুগ শুরু হয়।

 

বিষ্ণুর দশাবতারের ষষ্ঠ অবতার পরশুরামের জন্ম চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লা তৃতীয়া তিথিতে অর্থাৎ এই অক্ষয়তৃতীয়ার দিনে হয়েছিলো।

তাই দেশের বহু স্থানে অক্ষয় তৃতীয়ার দিনটি

‘পরশুরাম জয়ন্তী’ হিসেবেও পালিত হয়|

 

সবাইকে জানাই শুভ অক্ষয় তৃতীয়া।

ফিরে আসবো পরের পর্ব নিয়ে।

ধারাবাহিক আধ্যাত্মিক আলোচনা

চলতে থাকবে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কুবের কথা 

কুবের কথা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ পৌরাণিক আলোচনায় কুবের দেবকে

নিয়ে লিখবো।

 

কুবেরদেব সম্পর্কে রাবনের ভাই,রাবন তাকে চক্রান্ত করে পরাজিত করে তার সোনার লঙ্কা এবং পুস্পক রথ ছিনিয়ে নেন|পরবর্তীতে মহাদেবকে তপস্যায় সন্তুষ্ট করে কুবের দেবতার স্থান পান এবং জগতের সমগ্র ধন সম্পদ তার অধীনে আসে|কুবেরদেব হচ্ছেন দেবতাদের কোষাধক্ষ্য অর্থাৎ বিশ্ব ব্রহ্মান্ডর সমস্ত ধন সম্পদ কুবেরের দখলে থাকে।কুবের দেবের বাসস্থান অলোকাপুরী যা বিশ্বকর্মা নির্মাণ করেন|

 

পুরান অনুসারে কুবের হচ্ছেন ধনরাজ তিনি যক্ষদের রাজা, বামনাকৃতি এবং স্থূল শরীরের অধিকারী।আবার তিনি দিক পাল অর্থাৎ দশটি দিকের অধিপতি এবং নিজে তিনি উত্তর দিকে বিরাজমান তাই বাস্তু শাস্ত্রে উত্তরদিককে ধনস্থান বলে ধরা হয়|আবার কিছু গ্রন্থে কুবেরকে লোকপাল ও বলা হয় কারন তিনি ন্যায় নীতি এবং লোকহিতকর কাজ কর্মের দায়িত্বে আছেন।

 

ভগবান বিষ্ণু যখন শ্রীনিবাস হিসাবে পৃথিবীতে আসেন তখন রাজ কুমারী পদ্মাবতীর সাথে বিবাহের ব্যয় নির্বাহ করার জন্য কুবেরের থেকে অর্থ ধার করেন বিশ্বাস করা হয় যে ভগবান

শ্রীনিবাস যিনি তিরুপতীর বালাজি হিসাবে পরিচিত তিনি ভক্তদের দেওয়া সকল প্রণামী কুবের কে দেন ঋণ পরিশোধ করার জন্য।

তাই ভক্তরাও বালাজি দর্শনে এসে অর্থ দান করে ভগবানের ঋণ মেটাতে সাহায্য করেন|

 

পুরান মতে কুবের অর্থ ও সম্পদের রক্ষা কর্তা তার আশীর্বাদ ছাড়া ধনবান হওয়া বা সম্পদ টিকিয়ে রাখা অসম্ভব|তাই যারা প্রচুর অর্থ এবং সম্পদের মালিক হতে চান তারা কুবেরের আরাধনা করেন।

 

জ্যোতিষ শাস্ত্র এবং বাস্তু শাস্ত্রেও কুবের গুরুত্বপূর্ণ কারন কুবের যন্ত্র, কুবের রত্ন এবং কুবের কবচ বহু প্রাচীন কাল থেকে প্রচলিত প্রতিকার।

 

আবার পরের পর্বে অন্য এক পৌরাণিক বিষয় নিয়ে আলোচনায় ফিরবো। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

সমুদ্র মন্থন রহস্য 

সমুদ্র মন্থন রহস্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

পুরানে বর্ণিত নানা অলৌকিক এবং রোমাঞ্চকর ঘটনাগুলির মধ্যে সমুদ্র মন্থন সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। তার অনেক কারন আছে। আজকের এই পর্ব সমুদ্র মন্থন এবং সমুদ্র মন্থনে

দেবাদিদেব মহাদেবের ভূমিকা নিয়ে।

 

দেবতাদের শ্রেষ্ঠত্ত্ব প্রদান করতে এবং অসুর দের শক্তি সীমিত করে সৃষ্টি রক্ষা করতে অমৃতের সন্ধানে সমুদ্র মন্থন হয়। তবে শুধু অমৃত নয়

অমৃতের সাথে হলাহল বিষ, লক্ষ্মী, ঐরাবত হাতি, উচ্চৈঃশ্রবা ঘোড়া, পারিজাত বৃক্ষ সহ ১৪টি রত্ন উঠে এসেছিল এই মন্থনে। যেহেতু কুবের ধনসম্পদের দেবতা তাই এই ধন ভান্ডার রক্ষা করার দায়িত্ব তাকে দেয়া হয়।

 

অশুরদের অত্যাচারে যখন দেবলোকের জীবন দুর্বিসহ হয়ে পড়েছিল ঠিক সেই সময়েই অমরত্ব লাভের জন্য যাবতীয় সমুদ্রমন্থন করা হয়েছিল সমুদ্র মন্থনের ফলেই মিলবে অমৃত সেই অমৃত পান করেই লাভ করা যাবে অমরত্ব ৷ সেই মতই শুরু হয়েছিল সমুদ্রমন্থন| সমুদ্র মন্থনের সময়ে একধিক জিনিসপত্র সমুদ্রগর্ভ তেকে বেরতে শুরু করেছিল ৷ হঠাৎ একটি বড় মাটির পাত্রে উঠে এসেছিল কিছু একটা|

 

তাই নিয়েই বেধেছিল গোলযোগ ৷ অবশেষে জানতে পারা গিয়েছিল মাটির পাত্রে উঠে আসা তরল আসলে অমৃত নয় সেটি গরল অর্থাৎ বিষ ৷ সেই বিষ নির্গত না করলে বা রাখলে পাওয়া যাবেনা অমৃত ৷ তবে সেই অমৃত স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতাল কোথায় রাখা হবে ? সেই বিষ যেখানেই রাখা হবে থাকবে না প্রাণের স্পন্দন ৷

 

ত্রিলোকজুড়ে যখন এসেছিল এমন সমস্যা স্বয়ং এগিয়ে এসেছিলেন ভগবান শিব ৷ তাঁর কণ্ঠে ধারণ করেছিলেন জগতের বিষ ৷ বেঁচেছিল ত্রিলোক ৷ মহাদেব কণ্ঠে বিষ ধারণ করাতেই তাঁর কণ্ঠের রং হয়েছিল নীল ৷ শিবের গলার রঙ নীল বলেও তাঁকে নীলকণ্ঠ বলা হয়ে থাকে ৷সেই সময় দেবী পার্বতী তাঁর স্তন দুগ্ধ পান করিয়ে দেবাদিদেবের সমস্ত জ্বালা নিবারণ করেছিলেন। এই ভাবেই সৃষ্টির রক্ষা করেছিলেন মহাদেব, তাই তাঁকে ‘সৃষ্টির রক্ষাকর্তা’ বলা হয়।

 

আর কিছুদিন পরেই অক্ষয় তৃতীয়া।

বিশ্বাস করা হয় যে অক্ষয় তৃতীয়ার দিনই সমুদ্র মন্থন থেকে দেবী লক্ষ্মী আবির্ভূত হয়েছিলেন। তাই অক্ষয় তৃতীয়া যেকোনো শুভ কাজের জন্য আদর্শ তিথি।

 

আজকের পৌরাণিক আলোচনা এখানেই

শেষ করছি|দেখা হবে আগামী পর্বে। থাকবে অন্য পৌরাণিক বিষয়।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

জ্যোতিষ শাস্ত্র ও অমাবস্যা

জ্যোতিষ শাস্ত্র ও অমাবস্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

জ্যোতিষ শাস্ত্রে প্রতিটি তিথি, নক্ষত্র এবং গ্রহের সঞ্চারের আলাদা আলাদা তাৎপর্য আছে। তবে অমাবস্যা এবং পূর্ণিমা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণ কৌশিকী, মৌনী, ফল হারিণী এবং দীপান্বিতা অমাবস্যা নিয়ে বেশি আলোচনা হলেও প্রায় সব অমাবস্যাই তাৎপর্য পূর্ণ যেমন এই বৈশাখী অমাবস্যা।

 

অমাবস্যা এবং পূর্ণিমা চন্দ্রকে কেন্দ্র করে নির্ধারিত হয়। চন্দ্র জ্যোতিষ শাস্ত্রে মনের কারক গ্রহ। মাতৃ কারক গ্রহ। মানসিক শান্তি। উৎসাহ এবং সাফল্য নির্ভর করে চন্দ্রর উপর। এই যে জন্মকালীন নক্ষত্র জ্যোতিষ শাস্ত্রে এতো গুরুত্বপূর্ণ তাও ওই চন্দ্র দ্বারা নির্ধারিত হয়। চন্দ্র যে নক্ষত্রতে অবস্থান করে সেই নক্ষত্রর ফল প্রাপ্ত হয়।

 

শুক্লপক্ষ এবং কৃষ্ণপক্ষ এক মাসের দুটি অংশ রয়েছে। শুক্লপক্ষে চন্দ্রের শিল্পকলা বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ চন্দ্র বৃদ্ধি পায়। কৃষ্ণপক্ষের চন্দ্র বক্ররেখা এবং অমাবস্যায় সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায়। চাঁদের ষোলটি কলার মধ্যে ষোড়শ শিল্পকে অমা বলা হয়। তাই এই তিথি অমাবস্যা নামে পরিচিত।

 

স্কন্দ পুরানে চন্দ্রর ষোলো কলা এবং অমাবস্যা পূর্ণিমার বিস্তারিত ব্যাখ্যা আছে। আবার কিছু শাস্ত্রে রাহু কেতু দ্বারা চন্দ্রকে গ্রাস করার পৌরাণিক আখ্যান আছে।

 

অমাবস্যা তিথির কর্তা পিতৃদেব তাই অমাবস্যায় পরলোক গত পিতৃগণের শান্তির জন্য তর্পনের নিয়ম আছে।অমাবস্যায় পবিত্র নদীতে স্নান করলে পুণ্যলাভের সম্ভাবনা। এছাড়া যেকোনো তন্ত্রের কাজ এবং শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডন এই সময়ে করলে তা অনেক বেশি সফল এবং কার্যকর হয়|শাস্ত্র মতে যেকোনো রকম প্রতিকার ধারণের জন্যে বা তন্ত্র মতে দীক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে অমাবস্যাকেই আদৰ্শ তিথি ধরা হয়।

 

ফিরে আসবো আগামী পর্বে আরো অনেক এমন শাস্ত্রীয় এবং পৌরাণিক বিষয় নিয়ে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা

পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজ পয়লা বৈশাখ। সনাতন ধর্মে এই বৈশাখ মাসের বিশেষ আধ্যাত্মিক তাৎপর্য আছে এবং জ্যোতিষ শাস্ত্রেও বৈশাখ মাস নানা ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সেই সব নিয়েই আজকের পর্ব।

সনাতন ধর্মে বৈশাখ মাসকে মাধব মাস বা
মধুসূদন মাস বলা হয়।যার অর্থ ভগবান কৃষ্ণের মাস। এই মাসে ভগবান বিষ্ণুর আরাধনা করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।অনেকে বৈশাখ মাসে গঙ্গায় অর্ঘ্য দান করলেন এবং গঙ্গা স্নান করলে নানাবিধ সমস্যা থেকে মুক্তি লাভ হয়।

জ্যোতিষ শাস্ত্রের সাথেও বৈশাখ মাসের সম্পর্ক আছে।“বৈশাখ” শব্দটি এসেছে বিশাখা নামক নক্ষত্রের নাম থেকে। এই মাসে বিশাখা নক্ষত্রটিকে সূর্যের খুব কাছে দেখা যায়।

জমিদারির যুগে পয়লা বৈশাখ মানে ছিলো খাজনা আদায়ের শুরু, নতুন ফসল বেচে কৃষকদের হাতে অর্থ আসতো এবং তারা উৎসবে মেতে উঠতেন
আবার ভূমির মালিকরা নিজ নিজ অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে মিষ্টান্ন দ্বারা আপ্যায়ন করতেন।

ব্যবসা বাণিজ্যর ক্ষেত্রেও পয়লা বৈশাখের ভূমিকা রয়েছে|তখনকার সময় এই দিনের প্রধান ঘটনা ছিল হালখাতা তৈরি করা। হালখাতা বলতে একটি নতুন হিসাব বই বোঝানো হয় । প্রকৃতপক্ষে হালখাতা হল বাংলা সনের প্রথম দিনে
ব্যবসার হিসাব আনুষ্ঠানিক ভাবে লিপিবদ্ধ করার পক্রিয়া। এ থেকে বাঙালির ব্যবসার গৌরবময় অতীত উপলব্ধি করা যায়।

আবার ফিরে আসি শাস্ত্রের কথায়। যেহেতু আজ থেকে মধুসূদন মাস শুরু হচ্ছে তাই পয়লা বৈশাখ থেকে সমগ্র বৈশাখ মাস জুড়ে বিষ্ণুর পুজো করা উচিত। এই সময় সকালে সূর্য প্রণাম করে ” ওম মাধবায় নমঃ “মন্ত্র জপ করুন। শাস্ত্র মতে এই মন্ত্রটি জপ করলে মানুষের জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি আসে। ভগবানের বিশেষ আশীর্বাদ লাভ হয়।

শাস্ত্র মতে সূচনা হোক নতুন বছরের। আজ
সবাইকে জানাই শুভ নববর্ষ।ফিরে আসবো আগামী পর্বে। অন্য আধ্যাত্মিক বিষয়
নিয়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

চড়ক পুজোর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

চড়ক পুজোর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

যে প্রাচীন শাস্ত্র গুলিতে শিব মহিমা বর্ণনা করা হয়েছে যেমন লিঙ্গপুরাণ, শিব পুরাণ এবং ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণে চৈত্র মাসে শিবের আরাধনার কথা বলা থাকলেও চড়ক পুজোর উল্লেখ নেই। তবে পাশুপত সম্প্রদায় প্রাচীন কালে এই উৎসব পালন করত।নববর্ষের প্রথম দু-তিন দিন ধরে চড়ক উৎসব চলে এবং শৈব সম্প্রদায়ের এটি একটি প্রধান উৎসবে পরিণত হয়েছে।

 

ঠিক কবে থেকে এবং কী ভাবে চড়ক পুজো শুরু হয় তার সুনির্দিষ্ট ইতিহাস পাওয়া যায় না।

বলা হয়ে থাকে ১৪৮৫ খ্রিস্টাব্দে সুন্দরানন্দ ঠাকুর নামের এক রাজা চড়ক পুজো চালু করেন এবং সেই রীতি মেনে আজও চড়ক পূজো চলছে।

 

আবার কিছু শাস্ত্র বলে দ্বারকাধীশ কৃষ্ণের সঙ্গে একবার মহাদেবের একনিষ্ঠ উপাসক বাণরাজার যুদ্ধ হয়। সেই যুদ্ধে জয়লাভ ও অমরত্ব লাভের প্রার্থনায় বাণরাজা নিজের শরীরের রক্ত দিয়ে শিব পূজো করেন। শিব কৃপা লাভের পর সেদিন ভক্তিমূলক নাচগানও হয় । সেই দিন ছিল চৈত্র সংক্রান্তি। তখন থেকেই এই পুজোর শুরু হয়।

 

একটি অস্থায়ী গাছ কে কেন্দ্র করে চড়ক পূজো অনুষ্ঠিত হয়।চড়কগাছে ভক্ত বা সন্ন্যাসীকে লোহার হুড়কা দিয়ে চাকার সঙ্গে বেঁধে দ্রুতবেগে ঘোরানো হয়। মনে রাখতে হবে চড়ক পুজোর মূলে রয়েছে ভূতপ্রেত ও পুনর্জন্মবাদের প্রতি বিশ্বাস। চড়ক পুজোর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হল দৈহিক যন্ত্রণা। এখানে অনেকটা কঠিন হট যোগের ন্যায় দৈহিক যন্ত্রনা লাভের মধ্যে দিয়ে নিজের আরাধ্য দেবতার কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন তার ভক্তরা।

 

অত্যন্ত নিষ্ঠা এবং ভক্তি সহকারে শিব ভক্তরা এই

চড়ক পুজোর আয়োজন করেন।

পুজোর আগের দিন চড়ক গাছটিকে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা হয়। এতে জলভরা একটি পাত্রে শিবের প্রতীক শিবলিঙ্গ রাখা হয়, পূজারীরা একে ‘বুড়োশিব’ বলে থাকেন। এছাড়া এই সময় মাটির তৈরী কুমির পুজোর রীতি আছে অনেক স্থানে।

 

এই ছিলো সংক্ষেপে চরক পুজোর ইতিহাস এবং আধ্যাত্মিক তাৎপর্য। সবাইকে জানাই চড়ক পুজোর শুভেচ্ছা। ফিরে আসবো আগামী

পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

নীল ষষ্ঠীর শুভেচ্ছা

নীল ষষ্ঠীর শুভেচ্ছা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। এই তেরো পার্বণেরই অন্যতম হল নীল ষষ্ঠীর ব্রত।

দুরকম ভাবে এই দিনটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করা যায় একটি লৌকিক মতে দ্বিতীয়টি পৌরাণিক মতে।

আগের একটি পর্বে শিবের নীল কণ্ঠ রূপের পৌরাণিক ব্যাখ্যা দিয়েছিলাম আজ নীল ষষ্ঠী ব্রত নিয়ে লিখবো।

 

নীল ষষ্ঠীর ব্রত যারা করেন তারা সারাদিন নির্জলা উপোস রেখে সন্ধের পর শিবলিঙ্গে জল ঢেলে, মহাদেবের পুজো করেন এবং প্রসাদ খেয়ে তবে উপবাস ভঙ্গ করেন। সাধারণত গ্রাম বাংলায় আমাদের মায়েরা এই ব্রত করেন সংসারের ও বিশেষ করে সন্তানের কল্যাণের জন্য।

 

পৌরাণিক ব্যাখ্যার বাইরে যে লৌকিক ব্যাখ্যা আছে নীল ষষ্ঠী নিয়ে সেখানে একটি

ব্রত কথার উল্লেখ পাওয়ার যায়।

এক গ্রামে এক ব্রাহ্মণ ও ব্রাহ্মণী ছিলেন।

তাঁরা ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ। মন দিয়ে ঈশ্বরের আরাধনা করলেও তাঁদের সব ছেলে-মেয়েগুলি একে একে মারা যায়। এই ঘটনায় ঈশ্বরের উপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন ব্রাহ্মণী। তাঁরা দু-জনে ঘরবাড়ি ছেড়ে মনের দুঃখে কাশীবাসী হন। কাশীতে গিয়ে একদিন গঙ্গায় স্নান সেরে মণিকর্ণিকা ঘাটে বসে আছেন, হঠাত্‍ই এক বৃদ্ধা ব্রাহ্মণীকে দেখা দিয়ে একটি উপদেশ দেন। তিনি বলেন – চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন নির্জলা উপবাস রেখে মহাদেবের পুজো করবে। সন্ধেবেলা শিবের ঘরে বাতি দিয়ে তবেই জল খাবে।’ ষষ্ঠীবুড়ির কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে ফের সন্তান লাভ করেন ওই ব্রাহ্মণী।

আসলে ওই বৃদ্ধা ছিলেন মা ষষ্ঠী। এবং সেই

থেকে মর্তে নীল ষষ্ঠীর ব্রত প্রচলিত হয়।

 

আবার নীল কণ্ঠ শিবের আরাধনা হয় এই তিথিতে। নীল পুজোয় শিব লিঙ্গে জলাভিষেক করলে এবং শিব লিঙ্গ প্রদক্ষিণ করলে শিব কৃপা লাভ হয়। সব মনোস্কামনা পূর্ণ হয় বলেও বিশ্বাস।

 

ফিরে আসবো পরের পর্বে। অন্য শাস্ত্রীয় আলোচনা নিয়ে। সবাইকে জানাই নীল পূজোর শুভেচ্ছা।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

চড়ক উৎসবের শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

চড়ক উৎসবের শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

চৈত্র মাস হল শিব পার্বতীর মাস।এই মাসের অন্যতম বিখ্যাত উৎসব চড়ক উৎসব এবং শিবের গাজন।এই চড়ক এবং গাজনের মাধ্যমে শিব ভক্তরা তাদের আরাধ্য মহাদেব কে এবং দেবী পার্বতীকে স্মরণ করেন।গাজনের শেষ দিনের অনুষ্ঠান চড়ক যা এই উৎসবেরই একটি অঙ্গ।আজকের পর্ব চড়ক এবং গাজন নিয়ে।

 

কেউ বলেন গর্জন থেকে গাজন, কেউ বলেন ‘গাঁয়ের জন’-এর উৎসব থেকে গাজন।প্রকৃত অর্থ যাই হোক দুটি অর্থই বেশ মানানসই।কারন এককালে ঢাকের বাদ্যি, ভোলা মহেশ্বরের নামে সন্ন্যাসীদের গর্জন ও গাজনগীতিতে আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে উঠতো বাঙালি মেতে ওঠে গাজন উৎসবে। বর্তমান সময়ে গ্রামেই গাজন গানের উৎসব পালন হয়।বহু গ্রামাঞ্চলে আজও বৈশাখী আমেজ মানেই গাজন এবং চড়ক উৎসব।

 

বাঙালির নব বর্ষের সূচনা হয় গাজন এবং চড়ক উৎসবের মধ্যে দিয়ে। এই গাজন এবং চড়ক দুটি বেশ প্রাচিন কাল থেকেই বঙ্গদেশে প্রচলিত। শিব পার্বতী ছাড়াও বহু লৌকিক দেব দেবী এই উৎসবে মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে।

 

গ্রাম বাংলার পাশাপাশি এক সময় কলকাতার

বাবু সমাজেও চড়ক বেশ জনপ্রিয় ছিলো।

এককালে কলকাতার বাবুরা ঘটা করে চড়ক উৎসব পালন করতো।বাগবাজারের এই চড়ক ছিল কলকাতার বিখ্যাত ও সর্বপ্রধান চড়ক। চড়ক গাছের সঙ্গে উপর উপর চারটি মাচান বেঁধে তার মাঝখানে এক জন করে মহাদেব সাজিয়ে চার কোণে চার জন করে মোট ষোলো জনকে পিঠ ফুঁড়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হত।

 

এই উৎসবে মুখোশ নাচও হতো কোথাও কোথাও।সন্ন্যাসীদের কঠিন সাধনার মাধ্যমে এই উৎসব পালিত হতো।বিশেষ করে উত্তর বঙ্গে গম্ভীরা রূপে পালন হতো এই উৎসব।

 

পরবর্তীতে শারীরিক নৃশংসতার কারণে কোথাও কোথাও গাজনের কিছু উপাচার নিষিদ্ধ হয়। তবে এই চৈত্র উৎসবে সন্ন্যাসীদের নিষ্ঠা এবং

ভক্তি আজও অটুট আছে । বাংলার প্রায় প্রতিটি শিব মন্দিরে এই সব রীতি নীতি দেখা যায়।

আজও বাংলা জুড়ে গাজন এবং চড়কের মেলা বসে।আনন্দ এবং উৎসাহ আগের মতোই আছে।

 

আসলে শিব এবং পার্বতী বাংলার ঘরের মেয়ে এবং জামাতা রূপে দেখা হয় তাই শাস্ত্র বা পুরানের উর্ধে গিয়ে বাংলায় লৌকিক রূপে শিব পার্বতীর আরাধনার একটি পন্থা এই চড়ক উৎসব।

 

আপনাদের সবাইকে জানাই গাজন এবং

চড়ক উৎসবের আগাম শুভেচ্ছা অন্য রকম

শাস্ত্রীয় বিষয় নিয়ে আবার ফিরে আসবো

আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।