Home Blog Page 14

শিবের নীল কণ্ঠ রূপ

শিবের নীল কণ্ঠ রূপ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শিবের নানা রূপ। নানা অবতার। একাধিক রূপ নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা করেছি শিব সংক্রান্ত ধারাবাহিক পর্ব গুলিতে। আজ শিবের নীল কণ্ঠ রূপ নিয়ে লিখবো।

 

পুরান মতে দেবাদিদেব শিবের অপর নাম নীলকণ্ঠ বা নীল কারন সমুদ্র মন্থণের সময় উঠে আসা বিষ পান করে তার কণ্ঠ নীল বর্ণের হয়ে যায়।যখন অমৃতের সন্ধানে ভয়ঙ্কর হলাহল বিষ উঠে আসে সমুদ্র গর্ভ থেকে তখন সেই বিষের প্রভাবে সমস্ত প্রাণী জগৎ বিপদগ্রস্ত হয়। শিব হলেন সংহার কর্তা। বিপদ এবং অনিষ্ট নাশ করেন তিনি।এবারেও তাঁরই ডাক পরে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করতে। শিব সমস্ত বিষ পান করেন। বিষের প্রভাবে কণ্ঠ নীল হয়ে যায়।রক্ষা পায় সৃষ্টি। কণ্ঠ নীল হওয়ায় শিবের নাম হয় নীল কণ্ঠ।

 

আবার এই নীল কণ্ঠ রূপের অন্য একটি

ব্যাখ্যাও হয়। বৈষ্ণবদের একাংশ মনে করে যে নীল হলেন নীল মাধব শ্রী কৃষ্ণ স্বয়ং। শিব পরম বৈষ্ণব। পরম হরি ভক্ত। সর্বদা তাঁর কণ্ঠে হরি নাম থাকে। তিনি সর্বদা হরির ধ্যানে মগ্ন থাকেন। তাই নীল বর্ণের কৃষ্ণকে সর্বদা কণ্ঠে ধারণ করার জন্য তিনি নীল কণ্ঠ। অর্থাৎ এই নীল বিষ নয় নীল বর্ণের অর্থ শ্রী কৃষ্ণ স্বয়ং।

 

নীল ষষ্টিতে নীল কণ্ঠ রূপের পূজো হয়।

শাস্ত্র মতে এই তিথিতে শিবের সঙ্গে নীলচণ্ডিকা বা নীলাবতী পরমেশ্বরীর বিয়ে উপলক্ষ্যে লৌকিক আচার-অনুষ্ঠান সংঘটিত হয় । দক্ষযজ্ঞে দেহত্যাগের পর সতী পুনরায় নীলধ্বজ রাজার বিল্ববনে আবির্ভূতা হয়ে ছিলেন ৷ এরপর রাজা তাঁকে নিজের মেয়ের মতো করে বড় করে শিবের সঙ্গে ফের বিয়ে দেন ৷ সেই বিবাহের তিথি উদযাপন করা হয় নীল পূজায়।

 

সবাইকে নীল পুজোর আগাম শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। ফিরে আসবো আরো অনেক শাস্ত্রীয় এবং পৌরাণিক বিষয় নিয়ে

আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব – পার্বতীর বিবাহ পর্ব

শিব – পার্বতীর বিবাহ পর্ব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

চৈত্র মাস শিব পার্বতীর মাস।আজকর পর্বে শিব এবং পার্বতীর বিবাহ প্রসঙ্গ নিয়ে লিখবো।

জানাবো দুজনের বিবাহ সংক্রান্ত কিছু

পৌরাণিক তথ্য।

 

একবার তারকাসুর নামক এক শক্তিশালী অসুর জগতের, বিশেষ করে দেবরাজ ইন্দ্রের জন্য এক বড় বিপদ হয়ে দাঁড়ায়।সমগ্র সৃষ্টি তার অত্যাচার ভোগ করতে থাকে।তারকাসুর ব্রহ্মার কাছ থেকে এই বর পেয়েছিল যে, শিবপুত্র ছাড়া সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডে আর কেউ তাকে হত্যা করতে পারবে না! তাকাসুরের অপরাজেয়তার কথা জেনে, শিবের পুত্রের শীঘ্রই আগমন প্রয়োজন হয়ে পরে।

কিন্তু শিব তখন সর্ব ত্যাগী সন্ন্যাসী রূপে সর্বদা ধ্যানে মগ্ন।

 

ব্রহ্মার পরামর্শ অনুসারে, দেবদের একটি বিশাল প্রতিনিধিদল শিবের কাছে যায় এবং পার্বতীর সঙ্গে তার বিবাহের প্রসঙ্গ তোলে। শিব অন্তর্যামী। তিনি জানতেন এই বিবাহ না হলে সৃষ্টি রক্ষা পাবেনা। তাই তিনি বিবাহে সম্মতি দেন।

 

অন্যদিকে পার্বতী মনে প্রাণে শিবকে স্বামী মেনে সর্বদা তাঁর ধ্যানেই মগ্ন থাকতেন। দুজনের বিবাহ ছিলো সময়ের অপেক্ষা।

 

যথা সময়ে বিবাহ স্থির হয় এবং বিবাহের শুভ দিন এসে উপস্থিত হয়।বিয়ের দিন শিব চঞ্চল নর্তকের পোশাক পরে ‘নটরাজ’ ছদ্মবেশে ছিলেন এবং কন্যা পক্ষ তাকে চিনতে না পেরে অবহেলা করে বসে।তখন তিনি ঘোষণা করলেন যে তিনিই শিব।

 

তখন পার্বতীর বাবা-মা দুজনেই শুধু অসন্তুষ্টই হননি, বরং শিবের সাথে তাদের কন্যার বিবাহ দিতেও অস্বীকার করলেন। সপ্ত ঋষিদের আবির্ভূত হয়ে শিবের বিষয়ে তাদের বোঝাতে হয়েছিল।তারপর তারা বিয়েতে মত দেন।

 

যখন বরযাত্রী এসে পৌঁছাল, তখন বাবা-মায়েরা অনুষ্ঠানে আগত প্রত্যেক দেবতাকেই বর বলে ভ্রান্ত ধারণায় ছিলেন। আর যখন ভগবান সত্যিই এলেন, তখন তিনি শিবগণ, ভূত এবং পিশাচদের দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে, নন্দী নামক বৃষ বাহন-এর উপর ভূতনাথের এক ভয়ঙ্কর রূপে আবির্ভূত হলেন।

এতে উপস্থিত সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

 

ভগবান বিষ্ণুকে হস্তক্ষেপ করে বলতে হয়েছিল যে, তারা যা দেখছে তা শিবের একটি মায়া, যা তাদের মৌলিক বিশ্বাস পরীক্ষা করার জন্য করা হয়েছে।

অবশেষে বিবাহ অনুষ্ঠান আরম্ভ হয়।এতো কিছুর পরেও পার্বতী কিন্তু শিবের প্রতি নিজের বিশ্বাসে অবিচল ছিলেন।

 

শিব পার্বতীর বিবাহ শোভাযাত্রায় ব্রহ্মাণ্ডের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন, ‘সপ্তমাতা’ অর্থাৎ সাতজন মাতা যথা ব্রহ্মী, মহেশ্বরী, কৌমারী, বৈষ্ণবী, বরাহী, ইন্দ্রী এবং চামুণ্ডা। সাথে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, ইন্দ্র, গ্রহপ্রধান ও দেবগণ, সপ্ত ঋষি, ব্রহ্মমানস পুত্র, ঋষিগণ, শিবগণ, পিশাচ, দেবী ভগবতীর বিভিন্ন অবতার, গন্ধর্ব, অপ্সরা,সবাই এসেছিলেন এই দিব্য মুহূর্তের সাক্ষী হতে।

 

আনন্দ ও উল্লাসের মধ্যে দিয়ে বিবাহ সম্পন্ন হয়।যথা সময়ে শিব পার্বতীর পুত্র কার্তিকেয়ের জন্ম এবং তারকাসুরের বিনাশও হয়।

 

ফিরে আসবো আগামী পর্বে। শিব সংক্রান্ত ধারাবাহিক আলোচনা চলতে থাকবে নীল ষষ্ঠী পর্যন্ত। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব এবং কুবের

শিব এবং কুবের

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

ধন সম্পদের দেবতা কুবের দেব হলেন মহান শিব

ভক্ত শিবের দয়াতেই তিনি ধনরাজ হন।

আজ এই মহান শিব ভক্ত নিয়ে লিখবো।

জানাবো তার জীবনে শিবের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

 

কুবের ছিলেন যক্ষের রাজা এবং সম্পর্কে রাবনের ভাই।একবার লঙ্কার রাজা রাবণ ভাই কুবেরকে লঙ্কা থেকে বিতাড়িত করেন এবং পুষ্পক রথ সমেত তার সমস্ত ধন সম্পদ অধিকার করে নেন।তখন কুবেরকে সেখান থেকে মূল ভূখণ্ডে চলে যেতে হয়। নিজের রাজ্য এবং সম্পদ হারানোর হতাশায় কুবের হিমালয়ে গিয়ে ভগবান শিবের তপস্যা শুরু করেন এবং পরম শিব

ভক্ত হয়ে ওঠেন।

 

তার তপস্যায় তুষ্ট হয়ে শিব দয়া করে কুবেরকে তার রাজ্য এবং সমগ্র বিশ্বের ধনসম্পদের অধিকারী করে দেন এইভাবেই কুবের সৃষ্টির সবচেয়ে ধনী দেবতা হয়ে ওঠেন।

 

তবে এতে ধনরাজ হয়ে কুবেরের মধ্যে অহংকার জন্ম নেয় তিনি ভাবতে শুরু করেন তিনিই শিবের সর্বশ্রেষ্ঠ ভক্ত কারণ তিনি শিবের বিশেষ কৃপা লাভ করেন আবার তিনি শিবকে নৈবেদ্য রূপে বিপুল ধন সম্পত্তি দিতে চাইলে ভগবান শিব শুধুমাত্র বিভূতি ছাড়া আর কিছুই স্পর্শ করেননি।

 

ভক্ত রূপে কুবের যখন নিজেকে শ্রেষ্ঠ এবং অসীম ক্ষমতার অধিকারী ভাবতে শুরু করেন তখন শিব তাকে শিক্ষা দিতে কুবেরের প্রাসাদে আমন্ত্রণ রক্ষা করতে গণেশকে পাঠান।সব খাদ্য দ্রব্য শেষ করে গণেশ কুবেরের সমস্ত সঞ্চিত ধনসম্পদ গ্রাস করতে শুরু করেন।যখন প্রায় নিঃস্ব হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে তখন কুবের মহাদেবের লীলা বুঝতে পারেন এবং নিজের অহংকারের জন্য মহাদেবের কাছে ক্ষমা চেয়ে সে যাত্রায় রক্ষা পান।

 

শিব অল্পেই তুষ্ট হন এবং ভক্তের তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে তার সব মনোস্কামনা পূর্ণ করতে পারেন আবার ভুল করলে তাকে শাস্তি দিয়ে সঠিক পথে ফিরিয়েও আনতে পারেন।

 

যারা আর্থিক সমস্যায় রয়েছেন। তারা কুবেরের কাছে প্রার্থনা করার পাশাপাশি যদি এই নীল ষষ্ঠীর সময়ে শিব পূজো করেন তাতেও ফল পাবেন।কুবের স্বয়ং শিব ভক্ত। শিবের উপাসকদের তিনি বিশেষ কৃপা করেন।

 

ফিরে আসবো চৈত্র মাস উপলক্ষে আরো

এক পর্ব নিয়ে নিয়ে আগামী দিনে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

প্রাচীন চক্রেশ্বর শিব মন্দির 

প্রাচীন চক্রেশ্বর শিব মন্দির

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

চৈত্র। মাস এবং আসন্ন নীল সংক্রান্তি কেন্দ্র করে চলছে শিব সংক্রান্ত আলোচনা।সারা সপ্তাহ ধরে

শিবকে নিয়ে নানা পৌরাণিক, শাস্ত্রীয় এবং লৌকিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি। আজ জানাবো বাংলার এক প্রাচীন শিব মন্দিরের কথা।

 

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক শহর রাজ্য তথা দেশের অন্যতম প্রাচীন শহর। যার প্রাচীন নাম ছিল তাম্রলিপ্ত নগরী। এই শহরেই আছে বহু প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক চক্রেশ্বর শিব মন্দির।এই চক্রেশ্বর শিব লিঙ্গের উল্লেখ আছে মহাভারত সহ একাধিক প্রাচীন গ্রন্থে।কথিত আছে পান্ডবদের অজ্ঞাতবাসের সময় পঞ্চপান্ডবসহ কুন্তী ও দৌপ্রদী পুজো দিয়েছিলেন এই শিব মন্দিরে।চক্রেশ্বর মন্দির মোট চারটি শিবের লিঙ্গ দেখতে পাওয়া যায়। জানা যায় তার মধ্যে একটি স্বয়ং প্রকটিত হয়েছে। অর্থাৎ স্বয়ম্ভু।কথিত আছে বাকি তিনটি প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন যুধিষ্ঠির ভীম ও অর্জুন।তারাই পুজো শুরু করেন এই মন্দিরে। আজও সেই পরম্পরা বয়ে নিয়ে চলেছেন তমলুকের মানুষ।

 

চক্রেশ্বর নামের সাথেও যোগ রয়েছে মহাভারতের শোনা যায় মহাদেবের চক্রান্তের কারণেই গান্ধারী পূজা দিতে পারেনি এই মন্দিরে তাই গান্ধারী নাম রাখেন চক্রেশ্বর। তিনি এই মন্দির সংক্রান্ত একটি পুকুরকেও অভিশাপ দিয়ে বলেন যে তার জলও পুজোয় কাজে লাগবেনা। সেই পুকুরের জল আজও দূষিত এবং শুভ কাজে ব্যবহার হয়না।

 

বর্তমানে চক্রেশ্বর শিব মন্দিরে প্রতিদিন নিত্য পুজো হয় এর পাশাপাশি প্রতি সোমবার বিশেষ পুজো পাঠ চলে। শিবরাত্রি ও চৈত্র মাসের নীল সংক্রান্তির পূজো হয় এই মন্দিরে। সেই সময়ে অসংখ্য শিব ভক্তর আগমন ঘটে এখানে।

 

ফিরে আসবো শিব সংক্রান্ত আগামী পর্বে।

থাকবে শিবকে নিয়ে আরো অনেক তথ্য।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিবের লৌকিক রূপ পঞ্চানন

শিবের লৌকিক রূপ পঞ্চানন

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

নীল ষষ্ঠীর প্রাক্কালে আরো একবার শিব সংক্রান্ত একটি বিশেষ পর্ব নিয়ে এসেছি আপনাদের জন্য।

আজ লিখবো শিবের একটি লৌকিক বা আঞ্চলিক রূপ পঞ্চানন ঠাকুরকে নিয়ে।

 

পঞ্চানন বা পাঁচু ঠাকুর বাংলার এক বিখ্যাত লৌকিক দেবতা। লোকবিশ্বাসে ইনি মহাদেব শিবের এক লৌকিক রূপ আবার অন্যমতে,ইনি শিবের মানস পুত্র। মূলত গ্রামরক্ষক রূপে পঞ্চানন পূজিত শস্যদেবতা হিসাবেও তার পূজার প্রচলন আছে। মহাদেব শিবের সঙ্গে পঞ্চানন ঠাকুরের দেহাকৃতি।।ও বেশভূষার সাদৃশ্য আছে।পঞ্চাননের গাত্রবর্ণ লাল এবং চোখমুখের ভঙ্গি রুদ্ররূপী; বেশ বড় গোলাকার ও রক্তাভ তিনটি চোখ ক্রোধোদ্দীপ্ত। প্রশস্ত ও কালো টিকালো নাক, দাড়ি নেই, গোঁফ কান অবধি বিস্তৃত। মাথায় পিঙ্গলবর্ণের জটা চূড়া করে বাঁধা এবং তার মধ্যে জটা কিছু বুকে পিঠে ছড়ানো। কানে ধুতুরা ফুল বিরাজমান।গলায় ও হাতে বেশ বড় পঞ্চমুখী রুদ্রাক্ষমালা থাকে। হাতে ত্রিশূল ও ডমরু; পায়ে খড়ম এবং মাথায় বা দেহের উপর সাপ বিদ্যমান। পাশে থাকে পঞ্চরংয়ের বা পাঁচমুখো গাঁজার কলকে।উর্ধাঙ্গ অনাবৃত নিম্নাঙ্গ বাঘছাল পরিহিত।

 

গ্রাম বাংলার বিভিন্ন স্থানে পঞ্চানন ঠাকুরের পূজো হয়।তাছাড়া দক্ষিণ কলকাতার টালিগঞ্জ এ প্রাচীন এক মন্দিরে পঞ্চানন ঠাকুরের মূর্তি সাড়ে তিনশ বছরেরও বেশি সময় ধরে পূজিত হয়ে আসছে।

 

বহুকাল আগে যখন টালিগঞ্জের আদিগঙ্গার পাড়ে জন বসতি সেই ভাবে গড়ে ওঠেনি সেখানে বাস করতে বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্য্য নামে এক পূজারী ব্রাহ্মণ। এক রাতে বৈদ্যনাথ স্বপ্ন দেখলেন, পঞ্চানন ঠাকুর এসেছেন।ঠাকুর বলছেন, এই গঙ্গার ঘাটে আমি তোর অপেক্ষায় আছি। জলের মধ্য থেকে উদ্ধার করে আমাকে নিয়ে চল দ্রুত।পুজো করার আদেশ ও পেলেন।পরের রাতে আবার একই স্বপ্ন ভোর হতে তখনো খানিকটা সময় বাকি, কিন্তু অপেক্ষা করলেন না তিনি। সেই রাতেই গ্রামের কয়েকজন ভক্তকে ডেকে নিয়ে, সস্ত্রীক চললেন গঙ্গার ঘাটে।ঘাটে এসে তিনি দেখলেন, তিনটে প্রায় চারকোণা আকৃতির পাথর রাখা আছে জলের ধারে, আর তিনটিই রক্তাভ। তিনটে পাথরকে এক বিরাট সাপ জড়িয়ে আছে। সেই পাথর তুলে এনে তিনি স্থাপন করলেন নিজের মন্দিরে। পরবর্তীতে স্বপ্নে দেখা রুপ মিলিয়ে তৈরি হলো মূর্তি শুরু হলো পুজো।এই রকম জনশ্রুতি আর ভক্তির সাথে মিলেমিশে রয়েছে এই পঞ্চানন ঠাকুরের মন্দির ও তার অস্তিত্ব।

 

তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস হাঁসুলী বাকের উপকথা তেও এক আঞ্চলিক

দেবতার উল্লেখ পাওয়া যায় যাকে কাহার সম্প্রদায় বাবাঠাকুর নামে ডাকে এবং তাঁর বাহন সাপ। এই বাবা ঠাকুর এবং পঞ্চানন ঠাকুর একই বলে মনে হয়। অর্থাৎ দুইই শিবের আঞ্চলিক রূপ।

 

গ্রাম বাংলায় লৌকিক দেবতা রূপে পূজিত পঞ্চানন ঠাকুরের সঙ্গে থাকেন তাঁর দুই অনুচর। ধনুষ্টংকার এবং জরাসুর নামক দুই অপদেবতা। এছাড়া থাকে ভূত-প্রেত, ঘোড়া ইত্যাদি।

গ্রাম বাংলায় পূজিত ধর্ম ঠাকুর এবং পঞ্চানন ঠাকুর অনেকের কাছেই একই লৌকিক দেবতা।

 

চৈত্র মাস উপলক্ষে চলতে থাকবে শিব সংক্রান্ত বিশেষ ধারাবাহিক আলোচনা ফিরে আসবো পরের পর্বে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব এবং আদি শঙ্করাচার্য্য

শিব এবং আদি শঙ্করাচার্য্য

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আর কিছুদি পরেই নীল ষষ্টি। শিব কথা শ্রবন এবং শিব মাহাত্ম বর্ণনা করার এটাই শ্রেষ্ঠ সময়।আজ শিব অবতার শঙ্করআচার্য্যকে নিয়ে লিখবো।

শাস্ত্রে আছে শংকর স্বয়ং শংকর। অর্থাৎ শঙ্করাচার্য্য শিবের অবতার।শিবের অংশ।

আদিগুরু শঙ্করাচার্য্যর প্রারম্ভিক জীবন এবং বাল্যকাল নিয়ে নানা মুনির নানা মত|তবে এ বিষয়ে সব থেকে গ্রহন যোগ্য প্রামাণ্য হিসেবে ধরা হয় শংকর বিজয়ম নামক প্রাচীন গ্রন্থকে|আনুমানিক 1788 খ্রিস্টাব্দে, কেরল রাজ্যের কালাডি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন শঙ্করাচার্য্য|তার বাবার নাম ছিল শিবগুরু ও মায়ের নাম আর্যাম্বা|কথিত আছে ত্রিশূরের বৃষভচল শিবমন্দিরে পুত্রকামনা করে পূজা দিয়ে আশীর্বাদ স্বরূপ শংকরকে পেয়ে ছিলেন তার বাবা মা|তিনি ছিলেন শিবের বর পুত্র।

গৃহ ত্যাগ করে সন দীর্ঘ সময় পদব্রজে সারা উত্তর ভারত পরিভ্রমণ করার পর অবশেষে গুরুর সাথে সাক্ষাৎ হলো|নর্মদানদীর তীরে ওঙ্কারেশ্বরেতিনি গৌড়পাদের।শিষ্য গোবিন্দ ভগবদপাদের শিষ্যত্ব গ্রহন করলেন শঙ্করাচার্য্য।

কাশীতে বিশ্বনাথ মন্দিরদর্শন করতে যাওয়ার সময় স্বয়ং শিব এক চন্ডাল রূপে তাকে দর্শন দিয়ে ছিলেন। তখন তর্ক শাস্ত্রে তার মতো জ্ঞানী দেশে আর কেউ ছিলোনা। মনে করা হয় নিজের অসীম জ্ঞানের জন্য শঙ্করাচার্য্য যখন সামান্য অহং বোধের শিকার হন তখন একদিন পথে এক চণ্ডাল তার সামনে আসেন।তার সঙ্গে ছিলো কয়েকটি ভীষণ দর্শন কুকুর।আদি গুরু তাকে পথ থেকে সরে দাঁড়াতে বলেন। স্বাভাবিক ভাবেই চণ্ডালের আগমন তাকে বিব্রত এবং বিরক্ত করেছিলো। সেই সময় সেই ভয়ংকর চেহারার চণ্ডাল তখন শঙ্করাচার্য্য কে বলেন যদি অদ্বৈত বাদ সত্য হয়। সব জীবেই পরম ব্রহ্ম বাস করেন। তবে চণ্ডাল আর ব্রাহ্মনে ভেদ থাকা উচিৎ নয়। মুহূর্তে আদি গুরু তার ভুল বুঝতে পারেন। সেই চণ্ডালের সামনে মাথা নত করেন। তখন শিব নিজ রূপে তাঁকে দেখা দেন।শংকরাচার্য্য ধন্য হন বিশ্বনাথের দর্শন পেয়ে।

শঙ্করাচার্য সারাটা জীবন ধরে অদ্বৈতত্ত্বের প্রচার করে বেদ বিমুখী সমাজকে আবার বেদান্তের পথে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন| শঙ্করাচারজ্যর অদ্বৈত ত্বত্ত্বের মূল কথা ছিল- ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা। জীব ও ব্রহ্মে কোনো প্রভেদ নেই|অর্থাৎ, জীব ও ব্রহ্মকে এক ভাবাই অদ্বৈতবাদ।সকল জীবের অভ্যন্তরে যে আত্মা বিরাজমান, তা পরমাত্মারই প্রকাশ। এ তত্ত্বে জীবাত্মা ও পরমাত্মা এক|

শিব স্বয়ং যেমন পরম বৈষ্ণব তার ভক্ত বা
অংশ শংকরা চার্য্যও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না সন্ন্যাস জীবনে যখন তিনি তার মায়ের সঙ্গে শেষ সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন তার মাকে তিনি হরেকৃষ্ণ মহা মন্ত্র জপ করে শুনিয়ে তাকে উদ্ধার করেছিলেন।

চৈত্র মাস উপলক্ষে শিব সংক্রান্ত পরবর্তী পর্ব নিয়ে যথা সময়ে আবার ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিবের আদি অঘোরী রূপ

শিবের আদি অঘোরী রূপ

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

শিবের অনেক রূপ।তার মধ্যে সব থেকে রহস্যময় রূপ হলো তার অঘোরী রূপ।চৈত্র মাস উপলক্ষে আজকের পর্বে লিখবো এই বিশেষ সাধন পথ এবং তার অন্তর্নিহিত অর্থ নিয়ে।

যদিও অঘোরীdeর সাধন পক্রিয়া গোপন একটি বিষয় তবু এটুকু জানা যায় যে অঘোরীরা নিজেদের সম্পূর্ণরূপে শিবের মধ্যে মিশিয়ে দিতে চান।অঘোর পন্থায় শিবের উপাসনা করার উপচার হিসেবে অঘোরীরা শব-সাধনার পথ বেছে নেন।অন্ত্যন্ত কঠিক এই সাধন পক্রিয়ায় একজন অঘোরী মৃতদেহের উপর বসে সাধনা করেন। ‘শব থেকেই শিব প্রাপ্তি’ এই হল তাঁদের দর্শন।এছাড়াও আরো অনেক সাধন পদ্ধতি আছে যেগুলো অত্যন্ত জটিল এবং গোপন।

যুগ যুগ ধরে অঘোরীদের জীবনধারা এবং আধ্যাত্মিক অনুশীলন সব সময়ই ব্যাপক কৌতূহলের বিষয় কারন তাঁদের জীবন অনেকটাই রহস্যে মোড়া। সাধারণত এঁরা শ্মশানে থাকেন, ধ্যান করেন। মৃতদেহ এবং শ্মশানকেই তাঁদের আধ্যাত্মিক সাধনার মূল ভিত্তি করে তোলেন। শুধু মৃতদেহ নয় সাধারন মানুষের কাছে যা তথাকথিত ঘৃণ্য এবং পরিত্যায্য তাই তাদের সাধনার উপাদান। কাশী সহ দেশের অনেক জায়গায় তাঁদের মঠ রয়েছে কুম্ভ মেলা গঙ্গা সাগর মেলায় তাদের দেখা গেলেও তাঁদের আবির্ভাব এবং হঠাৎ অন্তর্ধান সব সময়ই এক রহস্যময় বিষয়।

অঘোরীরা মূলত তিনটি ধাপে সাধনা করেন।প্রথম শব সাধনা এখনে শবকে মাধ্যম করে সাধনা করা হয়।দ্বিতীয় শিব সাধনা এখানে শিবকে আদি অঘোরী রূপে মেনে তার ধ্যান করা হয়।
তৃতীয় শ্মশান সাধনা যেখানে শ্মশান ভূমিতে তান্ত্রিক পদ্ধতিতে হোম যজ্ঞাদি সম্পন্ন করা হয়।
অঘোর পন্থায় শিবকে সর্বত্যাগি শ্মশানচারী এবং রূদ্র মূর্তি রূপে পূজো করা হয়।

আসলে অঘোরীরা বিশ্বাস করেন প্রতিটি মানুষই অঘোরী হিসেবে জন্মগ্রহণ করে। তাঁদের দার্শনিক ব্যাখ্যা বলে, একটি ছোট অবোধ শিশু যেমন তার বর্জ্য ও খাদ্যের মধ্যে কোনও পার্থক্য করতে পারে না তেমনই করেন না অঘোরীরাও ভেদাভেদ করেননা। তাদের অহং বোধ নেই শরীরের কোনো অস্তিত্ব নেই তাই পোশাকের কোনো প্রয়োজন নেই।তাদের চোখে ভাল বা খারাপের কোনও প্রভেদ নেই আছেন শুধু পরম পিতা যার কাছে সবাই সমান।

বিশ্বাস করা হয় অঘোরীরা শিবের অত্যান্ত প্রিয় এবং শিব তাঁদের সর্বত্র রক্ষা করে থাকেন।

চৈত্র মাসে মাসে ধারাবাহিক ভাবে চলবে এই
শিব সংক্রান্ত আধ্যাত্মিক আলোচনা।
পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

শুভ হনুমান জয়ন্তীর শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজ হনুমানজির আবির্ভাব তিথি। এই দিনটিকে ‘হনুমান জয়ন্তী’ হিসেবে পালিত হয় আমাদের দেশে। এই পর্বে আসুন জেনে নিই রূদ্র অবতার হনুমান সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
এবং হনুমান জয়ন্তীর শাস্ত্রীয় এবং পৌরাণিক ব্যাখ্যা।

হনুমানের পিতার নাম ছিল কেশরী, মায়ের নাম ছিল অঞ্জনা। হনুমানের পালক পিতা হলেন পবন দেবতা|রাক্ষস বাহিনীর অত্যাচার থেকে ধরিত্রীকে মুক্ত করতে, তথা ভগবান রামের সেবা ও রাম নাম প্রচারের জন্যই রুদ্র অবতার হনুমানের আবির্ভাব।

শাস্ত্র মতে হনুমান চার যুগে অমর, পুরাণে তাই বলা হয়|এমনকি আজও তিনি স্বশরীরে এই পৃথিবীতে বিরাজমান।তিনি অষ্ট চিরঞ্জিবীদের অন্যতম।

হনুমানজী দ্বাপর যুগেও ছিলেন। মহাভারতেও তার উল্লেখ রয়েছে মনে করা হয় কুরুক্ষে যুদ্ধে
অর্জুন ও শ্রীকৃষ্ণের রথের ধ্বজা হিসেবে ছিলেন তিনি।সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছায় কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেবা করেছেন। হনুমানজীর অনুরোধে শ্রীকৃষ্ণ রামচন্দ্রের রূপ ধারণ করে হনুমানকে একবার দর্শনও দিয়েছিলেন।

হনুমান চালিসা অনুসারে রোগ ভোগ, ভুত পিশাচ এবং যেকোনো সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া যায় হুনুমানের স্মরণ নিলে, তাকে ভক্তি সহকারে ডাকলে|তিনি অসীম বল শালী কিন্তু সম্পূর্ণ নিরহংকার।রামায়ণে একমাত্র তিনিই নিষ্কাম কর্ম করে গেছেন। প্রভু শ্রী রাম কে সেবা করা ছাড়া তার আর কোনো লক্ষ্য নেই।

যেহেতু হনূমান স্বয়ং সশরীরে এই পৃথিবীতে বিরাজ করছেন তাই একজন প্রকৃত ভক্তের ডাকে তিনি অন্যন্যা দেব দেবীদের তুলনায় অনেক দ্রুত সাড়া দেন এবং ভক্তের মনোস্কামনা পূর্ণ করেন।

আজ শাস্ত্র মতে হনুমানজীকে ডাকুন। তার পুজো করুন। তার কৃপায় সংকট দুর হয় মনোস্কামনা
পূর্ণ হয়।সবাইকে হনুমান জয়ন্তীর শুভেচ্ছা জানাই। ফিরে আসবো আগামী পর্বে অন্য পৌরাণিক এবং শাস্ত্রীয় আলোচনা নিয়ে।দেখতে থাকুন।

অষ্টসিদ্ধি এবং নব নিধীর ব্যাখ্যা

অষ্টসিদ্ধি এবং নব নিধীর ব্যাখ্য

পন্ডিতজী ভৃগুশ্রী জাতক

তুলসীদাস রচিত হনুমান চালিশায় হনুমানজীকে
“অষ্ট সিদ্ধি নবনিধী কে দাতা ” নামে অভিহিত করা হয়েছে।এই অষ্ট সিদ্ধি আটটি ঐশ্বরিক ক্ষমতা যা বজরংবলীর অসীম শক্তির উৎস এবং নব নিধী হলো নয়টি অমূল্য সম্পদ।আজকের পর্বে আপনাদের জানাবো এই অষ্টসিদ্ধি এবং নব
নিধীর শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা।

অষ্ট সিদ্ধির প্রথম সিদ্ধি হলো অনিমা। এই সিদ্ধি শরীরকে ক্ষুদ্র আকার ধারণ করার ক্ষমতা দেয়।

মহিমা হলো দ্বিতীয় সিদ্ধি। এই সিদ্ধির প্রয়োগে শরীর কে ইচ্ছে মতো বিরাট আকার দেয়া যায়।

গরিমা হলো তৃতীয় সিদ্ধি। এই সিদ্ধির বলে দেহের ওজন বাড়িয়ে বিপক্ষকে পরাস্ত করা যায়।

চতুর্থ সিদ্ধি লঘিমা গরিমার ঠিক বিপরীত। এই সিদ্ধি বলে শরীরকে অতিরিক্ত হাল্কা করে তোলা যায়।

পঞ্চম সিদ্ধি হলো প্রাপ্তি এমন এক অলৌকিক ক্ষমতা যা এই সিদ্ধির অধিকারী ব্যাক্তির সব মনোস্কামনা পূর্ণ করে।

প্রকম্য হলো ষষ্ঠ সিদ্ধি এই সিদ্ধি প্রাণ শক্তিকে বাড়িয়ে দেয়। প্রতিকূলতাকে জয় করতে সাহায্য করে।

ঈশিত্ব হলো সপ্তম সিদ্ধি যা প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা প্রদন করে।

বশিত্ব হলো অষ্টম এবং শেষ সিদ্ধি যা অন্যর মনের উপরে প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতা দেয়।

এবার আসি নবনিধির দিকে। এই নব নিধী বলতে বলতে নয়টি বিশেষ অলৌকিক রত্ন বা ঐশ্বর্যকে বোঝায়। নবনিধির অন্তর্ভুক্ত নয়টি রত্ন বা সম্পদ হলো যথাক্রমে পদ্ম,মহাপদ্ম,শঙ্খ, মকর,কচ্ছপ, মুকুন্দ,কুন্দ,নীল এবং খর্ব।এই নয়টি সম্পদ যে শুধু মূল্যবান পার্থিব বস্তু তা নয়। এগুলি অসীম জ্ঞান এবং আধ্যাত্মিক চেতনা যা বজরংবলীর অধিকারে ছিলো এবং প্রভু রামের সেবায় থাকা কালীন তিনি অষ্ট সিদ্ধি এবং নব নিধী প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে
ব্যবহার ও করেছেন।

ফিরে আসবো আগামী পর্বে বজরংবলী সংক্রান্ত আধ্যাত্মিক এবং শাস্ত্রীয় বিষয় নিয়ে আলোচনায়। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বীর হনূমান এবং শনি দেব

বীর হনূমান এবং শনি দেব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আমাদের জ্যোতিষ শাস্ত্রের সঙ্গে বজরংবলীর রয়েছে গভীর সম্পর্ক।শাস্ত্রে আছে হনুমান পুজো করলে শনির খারাপ প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়া যায় কিন্তু কেনো|তার উত্তর লুকিয়ে আছে আমাদের শাস্ত্রে।হনূমান জয়ন্তী উপলক্ষে আজকের এই বিশেষ পর্বে সেই

প্রশ্নের উত্তর খুঁজবো।

 

আগের পর্বে আপনাদের বলেছি হনুমানজী যখন প্রথম লঙ্কায় যান রামের দূত হিসেবে তখন তিনি লঙ্কায় রাবনের হাতে বন্দি শনিদেবকে মুক্ত করে দেন।সন্তুষ্ট হয়ে হনূমানকে আশীর্বাদ দেন শনিদেব।

তবে এখানেই শেষ নয়। একাধিক বার সাক্ষাৎ হয় এই দুই মহারথীর।

 

হনুমান একদিন রামের পুজোয় বসেছেন। এমন সময় শনিদেব এলেন তাঁর কাছে। নিজ পরিচয় সদম্ভে ঘোষণা করে কে বেশী শক্তিশালী তা দেখার জন্য হনুমানকে যুদ্ধে আহ্বান করলেন।শান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করলেন হনুমান। বললেন, ‘আমি এখন রামের ধ্যানে বসেছি। দয়া করে আমাকে একা ছেড়ে দিন। পুজোর সময় আমাকে বিরক্ত করবেন না’।

 

শনি তো নাছোড়বান্দা! যুদ্ধে শক্তি পরীক্ষা না করে কিছুতেই যাবেন না তিনি। অগত্যা হনুমান আর কি করেন! নিজের লেজটাকেই বড় করে শনিদেবকে পেঁচিয়ে ফেললেন এবং শক্ত করতে লাগলেন লেজের বাঁধুনি। যতই বাঁধন শক্ত করেন, শনিদেব তো ততই হাঁসফাঁস করতে থাকেন ব্যথায়! শেষে হনুমান যখন লেজ ওপর-নীচ করতে লাগলেন, শনিদেবের তখন রীতিমতো কষ্ট পাচ্ছেন, এরপর পাথরের উপর দিয়ে ঘষে তাকে কিছুটা দূর নিয়ে গেলেন হনুমান, সারা গায়ে যখন তাঁর রক্তে ভেসে যাচ্ছে, তিনি মুক্তি চাইলেন, তখন শনির মিনতিতে দয়া হল হনুমানের।শনিদেবকে ছেড়ে দিলেন তিনি।

 

রামায়নের যুগের অবসান হওয়ায় পরেও একবার দুজনের সংঘাত হয়। একবার শনিদেব এসে হনুমানকে হুমকির সুরে সাবধান করে বলেন যে এই মুহূর্ত আমার সাড়ে সাতির দশা আপনার ওপরেও পড়তে চলেছে। এর উওরে হনুমানজী বলেছিলেন শ্রীরামের যারা ভক্ত তাদের উপরে গ্রহের কু প্রভাব পড়েনা।তাছাড়া আমার গোটা শরীরেতো শ্রীরামের বাস আপনার স্থান নেই।

জেদ করে শনিদেব হনুমানজীর মাথায় গিয়ে অবস্থান করলেন।আর হনুমানজীর মাথায় তখন হঠাৎ একটু অসস্ত্বি হতে শুরু হল। হনুমানজী এক পাহাড় তুলে নিজের মাথায় রাখলেন। প্রচন্ড ভারে কাবু হয়ে বললেন আমাকে নিচে নামতে দিন আমি আপনার সঙ্গে সন্ধি করতে রাজি আছি।

 

সন্ধি অনুসারে মুক্তি পান শনি দেব তবে শর্ত শ্রী রামের নাম যারা জপেন এবং যারা বজরংবলীর স্মরণ নেবেন তাদের ক্ষতি করা যাবেনা। আজও জ্যোতিষ শাস্ত্র এই কথা মেনে চলে।

 

আজকে বজরংবলী কে নিয়ে আলোচনা এখানেই শেষ করছি।ফিরে আসবো আগামী পর্বে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।