জ্যোতিষ শাস্ত্র ও অমাবস্যা

5

জ্যোতিষ শাস্ত্র ও অমাবস্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

জ্যোতিষ শাস্ত্রে প্রতিটি তিথি, নক্ষত্র এবং গ্রহের সঞ্চারের আলাদা আলাদা তাৎপর্য আছে। তবে অমাবস্যা এবং পূর্ণিমা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণ কৌশিকী, মৌনী, ফল হারিণী এবং দীপান্বিতা অমাবস্যা নিয়ে বেশি আলোচনা হলেও প্রায় সব অমাবস্যাই তাৎপর্য পূর্ণ যেমন এই বৈশাখী অমাবস্যা।

 

অমাবস্যা এবং পূর্ণিমা চন্দ্রকে কেন্দ্র করে নির্ধারিত হয়। চন্দ্র জ্যোতিষ শাস্ত্রে মনের কারক গ্রহ। মাতৃ কারক গ্রহ। মানসিক শান্তি। উৎসাহ এবং সাফল্য নির্ভর করে চন্দ্রর উপর। এই যে জন্মকালীন নক্ষত্র জ্যোতিষ শাস্ত্রে এতো গুরুত্বপূর্ণ তাও ওই চন্দ্র দ্বারা নির্ধারিত হয়। চন্দ্র যে নক্ষত্রতে অবস্থান করে সেই নক্ষত্রর ফল প্রাপ্ত হয়।

 

শুক্লপক্ষ এবং কৃষ্ণপক্ষ এক মাসের দুটি অংশ রয়েছে। শুক্লপক্ষে চন্দ্রের শিল্পকলা বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ চন্দ্র বৃদ্ধি পায়। কৃষ্ণপক্ষের চন্দ্র বক্ররেখা এবং অমাবস্যায় সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায়। চাঁদের ষোলটি কলার মধ্যে ষোড়শ শিল্পকে অমা বলা হয়। তাই এই তিথি অমাবস্যা নামে পরিচিত।

 

স্কন্দ পুরানে চন্দ্রর ষোলো কলা এবং অমাবস্যা পূর্ণিমার বিস্তারিত ব্যাখ্যা আছে। আবার কিছু শাস্ত্রে রাহু কেতু দ্বারা চন্দ্রকে গ্রাস করার পৌরাণিক আখ্যান আছে।

 

অমাবস্যা তিথির কর্তা পিতৃদেব তাই অমাবস্যায় পরলোক গত পিতৃগণের শান্তির জন্য তর্পনের নিয়ম আছে।অমাবস্যায় পবিত্র নদীতে স্নান করলে পুণ্যলাভের সম্ভাবনা। এছাড়া যেকোনো তন্ত্রের কাজ এবং শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডন এই সময়ে করলে তা অনেক বেশি সফল এবং কার্যকর হয়|শাস্ত্র মতে যেকোনো রকম প্রতিকার ধারণের জন্যে বা তন্ত্র মতে দীক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে অমাবস্যাকেই আদৰ্শ তিথি ধরা হয়।

 

ফিরে আসবো আগামী পর্বে আরো অনেক এমন শাস্ত্রীয় এবং পৌরাণিক বিষয় নিয়ে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।