কলকাতার কালী – ঠন ঠনিয়া কালী বাড়ি

206

নিয়মিত জোতিষ সংক্রান্ত অনুষ্ঠান ও লাইভ অনুষ্ঠানে পাশাপাশি আমি বরাবরই চেষ্টা করি একটু ভিন্ন ধর্মের আধ্যাত্মিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে করা অনুষ্ঠান বা লেখা লেখি নিয়ে আপনাদের সামনে আসতে|এবার আমার মনের নামক অনুষ্ঠান তেমনই এক প্রচেষ্টা যা আশা করি আপনাদের পছন্দ হবেই|অনেক নতুন ও অভিনব বিষয় নিয়ে আসবো আপনাদের সামনে|অভিনব রূপে হবে উপস্থাপনা|যখন কলকাতার কালী নিয়ে এই ধারাবাহিক লেখার সূচনা করি ভাবিনি তা এতো দ্রুত আপনাদের মধ্যে এতটা জনপ্রিয় হয়ে উঠবে এবং এতো মানুষের প্রশংসা পাবে|আপনাদের প্রতিক্রিয়ায় আমি সত্যি আপ্লুত|আজকের পর্বে লিখবো কলকাতার আরেক প্রাচীন ও প্রসিদ্ধ কালী মন্দির ঠন ঠনিয়া কালী বাড়ি নিয়ে|

কলকাতার বই পাড়া নামে খ্যাত কলেজ স্ট্রিটের কাছেই বিধান সরনী তে অবস্থিত এই প্রাচীন কালী মন্দির যার প্রকৃত নাম সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির হলেও ঠন ঠনিয়া কালী মন্দির নামেই বেশি পরিচিত|কেন এই রূপ অদ্ভুত নাম তা নিয়েও আছে একে মজার এবং অভিনব গল্প|তবে সে বিষয়ে পড়ে আসছি আগে এই মন্দিরের ইতিহাস একটু জেনে নিয়ে প্রয়োজন|

প্রচলিত জনশ্রুতি অনুসারে আনুমানিক ১৭০৩ খ্রিষ্টাব্দে উদয়নারায়ণ ব্রহ্মচারী নামে জনৈক তান্ত্রিক মাটি দিয়ে একটি সিদ্ধেশ্বরী কালীমূর্তি গড়েন এবং এই স্থানে তাকে প্রতিষ্ঠিত করে পূজা শুরু করেন|পরবর্তীতে ১৮০৬ খ্রিষ্টাব্দে শঙ্কর ঘোষ নামে জনৈক এক ধনী ব্যক্তি বর্তমান কালীমন্দিরটি নির্মাণ করেন ও দেবী সিদ্ধেশ্বরীকে সেখানে প্রতিষ্ঠা করেন|বর্তমানে এখানে সিদ্বেশ্বরী কালী মূর্তির পাশাপাশি রয়েছে পুষ্পেশ্বর শিবের আটচালা মন্দির|

লোক মুখে প্রচলিত একটি কিংবদন্তী অনুসারে এক কালে এই অঞ্চল ছিল দুর্গম|বন জঙ্গলে ঢাকা|ছিল ডাকাতের উপদ্রব|সেই সময়ে ডাকাতরা এখানে দেবী কে প্রতিষ্ঠা করে পূজা শুরু করেছিলো|পরবর্তীতে দেবী মূর্তি কে আর সেখান থেকে সরানো যায়নি|সেই স্থানেই তৈরী হয় মন্দির|বহুকাল আগে এই মন্দিরের বিশাল আকার ঘন্টা বাজিয়ে মানুষকে সতর্ক করা হতো ডাকাতের আক্রমনের আগে|সেই ঠন ঠন ঘন্টাধ্বনি শুনে সজাগ ও সতর্ক হতো আশপাশের মানুষ|সেই থেকেই ক্রমে মন্দিরের নাম হয় ঠন ঠনিয়া কালী বাড়ি|

এই মন্দিরে আসতেন সাধক রাম প্রসাদ|এই কালী মন্দিরের সাথে শ্রী রামকৃষ্ণদেবের মধুর স্মৃতিও জড়িত|একাধিক বার শ্রী রামকৃষ্ণ এসেছেন এখানে|কথামৃতর বহুস্থানে এই মন্দিরের উল্লেখ রয়েছে|

দীপাবলি সহ একাধিক বিশেষ তিথিতে এই মন্দিরে বিশেষ পূজার আয়োজন হয় ও সেই উপলক্ষে বহু ভক্ত আসেন এখানে|প্রথা মেনে প্রতি বছর এই মন্দিরে মূর্তির সংস্কার করা হয় নবরূপে|মন্দিরের গর্ভগৃহে সিদ্বেশ্বরী মায়ের মূর্তির পাশে রয়েছে ঠাকুর শ্রী রাম কৃষ্ণের মূর্তি|বিশেষ বিশেষ তিথিতে আজও এই মন্দিরে হয় পশু বলী|

এই পর্ব এখানেই শেষ করছি|দেখা হবে আগামী পর্বে|লিখবো অন্য কোনো কালী মন্দির নিয়ে|যারা জ্যোতিষ পরামর্শ বা প্রতিকারের জন্য যোগাযোগ করতে চান ফোন করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|সরাসরি কথা হবে আমার সাথে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|