কলকাতার কালী – বসা কালী মন্দির

182

আবার ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছে মানুষের দৈনন্দিন জীবন|বিশ্ব ব্যাপী মহামারীর আতঙ্ক কে হার মানাচ্ছে মানুষের জেদ আর লড়াই|আর হবেনাই বা কেনো সামনেই দুর্গোৎসব|বাঙালির বহু প্রতীক্ষিত প্রাণের উৎসব|আবার বহু সংখ্যায় মানুষ জ্যোতিষ পরামর্শ ও প্রতিকারের জন্য আসতে শুরু করেছেন চেম্বারে, গৃহ মন্দিরে তাছাড়া অনলাইনে তো দম ফেলার ফুরসৎ নেই|এতো কিছুর মাঝেই আজ আবার কলকাতার কালীর এক নতুন পর্ব নিয়ে আমি আপনাদের সামনে উপস্থিত|আজকের পর্বে লিখবো কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় এক কালী মন্দির নিয়ে জা লোক মুখে বসা কালী মন্দির নামেই বেশি জনপ্রিয়|

উত্তর কলকাতার হেঁদুয়ার কাছে রামদুলাল সরকার স্ট্রিটে, বিখ্যাত বেথুন কলেজ থেকে সামান্য দূরেই অবস্থিত বাংলা তথা কলকাতার এক প্রাচীন কালী মন্দির যা সবার কাছে বসা কালী মন্দির নাম খ্যাত|মন্দিরে উল্লেখিত তারিখ অনুসারে এই মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়ে ছিল বাংলার 1125 এবং ইংরেজির 1718 সালে|সেই সময়ে অঞ্চল ছিল স্থানীয় জমিদার পরিবার অর্থাৎ মিত্র
পরিবারের জমিদারির অংশ|তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত হয়েছিল এই মন্দির|দেবী কালী এখানে আনন্দ ময়ী রূপে পূজিতা হলেও একটি বিশেষ কারণে বসা কালী নামেই মন্দির বিখ্যাত|সে বিষয়ে পরে আসছি|আগে জেনে নেয়া যাক এই মন্দির নির্মাণের সাথে জড়িত এক অলৌকিক কাহিনী|

শোনা যায় মিত্র পরিবারের এক পূর্ব পুরুষ বহুকাল পূর্বে স্বপ্নে দেখেছিলেন যে তাদের জমিদারীর অন্তর্গত এক জঙ্গলময় স্থানে অযত্নে পড়ে আছে এলে কালী মূর্তি|পরবর্তীতে তিনি সেই স্থানে জান ও দেখতে পান এক অদ্ভুত কালী মূর্তি যা রয়েছে সম্পূর্ণ বসা অবস্থায়|সেই মূর্তি তুলে এনে নিষ্ঠা সহকারে তা প্রতিষ্ঠা করা হয়|এবং পড়ে নির্মাণ করা হয় বর্তমান মন্দিরটি|

মুল মন্দিরটি লাল রঙের একটি দালান মন্দির|দরজার মুখেই রয়েছে হাড়িকাঠ|যেখানে বিশেষ বিশেষ তিথি তে বলী দেয়া হতো|মন্দির সংলগ্ন
নাটমন্দির লাগোয়া গর্ভমন্দিরে শায়িত শিবের বুকে দেবী কালিকা বসে আছেন|দেবী এখানে ঘোর কৃষ্ণবর্ণা আর রয়েছে দেবীর পাহারাদার কালভৈরব|দেবীর জিভ সোনার । মাথায় রয়েছে মুকুট|দেবী আনন্দময়ী মাথাভরা চুল বুকের উপর দিয়ে এলিয়ে এসে পড়েছে পায়ের কাছে|দেবীর একহাতে খাড়া, অন্যহাতে অসুরের মুন্ডু। বাকি দুই হাতে অভয় মুদ্রা , বরদ মুদ্রা|দেবীর এই বসা রূপ একেবারেই অনন্যসাধারণ| এমনটা বাংলার আর কোথাও দেখা যায় না|এই বিশেষ রূপে কেবল মাত্র এখানেই দেবী বিরাজমানা|আর সেই থেকেই নাম বসা কালী মন্দির|

দীপান্বিতা অমাবস্যায় এখানে বিশেষ পূজা হয় যা দেখতে আসেন দূর দূরান্তের মানুষ তাছাড়া প্রতি দিন ই নিত্যপুজো উপলক্ষে বহু মানুষ আসেন এখানে|আজও শোল মাছ দিয়ে ভোগ দেওয়ার প্রাচীন প্রথা এখানে বিদ্যমান|সারা কলকাতার প্রাচীন কালী মন্দির গুলির মধ্যে এই মন্দির অন্যতম|

আজকের পর্ব এখানেই শেষ করলাম|পরের পর্বে কলকাতার অন্য কোনো কালী মন্দিরের কথা নিয়ে ফিরে আসবো|জ্যোতিষ পরামর্শ ও প্রতিকারের জন্য সরাসরি কথা বলতে ফোন করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|