Home Blog Page 11

বাংলার কালী – কাঞ্চন ডাকাতের কালী

বাংলার কালী – কাঞ্চন ডাকাতের কালী

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজ আপনাদের বাংলার আরো এক ডাকাত কালীর কথা জানাবো।এই ডাকাত কালীর
পুজো হয় খানাকুলে চক্রপুরে।অনেকেই এই পুজোকে বলেন কাঞ্চন সর্দারের পুজো।

এক সময়ে ঘন জঙ্গল ও নদীনালায় ভর্তি খানাকুলের চক্রপুর ছিল কাঞ্চন সর্দারের প্রধান ডেরা। এখানেই মায়ের পুজো দিয়ে ডাকাতি করতে বেরতেন কাঞ্চন সর্দার ও তাঁর দলবল। পণ্যবাহী নৌকা ও ধনী লোকেরাই ছিলেন কাঞ্চন সর্দারের প্রধান লক্ষ্য।পেশায় ডাকাত হলেও কাঞ্চন
সর্দার ছিলেন বেজায় কালী ভক্ত তন্ত্র শাস্ত্রে পারদর্শী।

শোনা যায় ডাকাতির আগে পঞ্চমুণ্ডের আসনে বসে তন্ত্র মতে মায়ের পুজো করতেন কাঞ্চন সর্দার।পঞ্চ মুন্ডির আসন সহ সবই স্থাপিত ছিলো এই মন্দির চত্বরে। আজও জনশ্রুতি আছে যে ডাকাত সর্দার কাঞ্চনের ছিলো তন্ত্র শাস্ত্রে অগাধ পান্ডিত্য এবং নানাবিধ সিদ্ধি।

শোনা যায় ডাকাতি করে যা অর্জন হতো তা গরিব মানুষদের বিলিয়ে দিতেন।তাই সাধারণ মানুষের মধ্যে তার ছিলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা।

এককালে এই পুজোয় নরবলী দেয়া হোতো
বলেও অনেকে বিশ্বাস করেন যদিও এই সব বিতর্কিত বিষয় নিয়ে কোনো নিদ্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়না সবটাই জনশ্রুতি। তবে বলী কিভাবে বন্ধ হয় তা নিয়ে এক কিংবদন্তী প্রচলিত আছে।এবার নাকি এক ব্রাহ্মণ যুবককে অপহরণ করে বলী দিতে গিয়েছিলেন।ডাকাত দল তারপর নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে বলী থেকে তারা বিরত হয় এবং সেই থেকে নরবলি বন্ধ হয়ে যায়।

আজও সব প্রথা মেনেই হয় পুজো এবং বলির হাত থেকে রক্ষা পাওয়াসেই ব্রাহ্মণ যুবকের বংশধরদের পরিবার থেকে এখনও এই পুজোয় ভেট আসে যাকে বলা হয় প্রাণরক্ষার ভেট।
প্রথা মেনে সেই ভেট অর্পণ করা হয় মায়ের কাছে।

এই কালীকে মা সিদ্ধেশ্বরী নামে ডাকা হয়
শতাব্দী প্রাচীন এই কালী পুজো নিঃসন্দেহে বাংলার অন্যতম প্রাচীন এবং গুরুত্বপূর্ণ পুজো। কাঞ্চন ডাকাতের কালী পূজো সম্পর্কে গোটা খানাকুল অঞ্চলের মানুষের মনে আছে অগাধ শ্রদ্ধা এবং ভক্তি।

ফিরে আসবো কালী কথার পরবর্তী পর্ব নিয়ে। থাকবে অনেক এমন ইতিহাস এবং
অলৌকিক ঘটনা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – হলদে কালী বাড়ি 

কালী কথা – হলদে কালী বাড়ি

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

পানিহাটি প্রাচীন এবং বিখ্যাত কালী মন্দির হলো হলদে কালী মন্দির বা হলদে কালী বাড়ি।

যদিও দেবীর গাত্রবর্ণ হলুদ নয় তবু এই কালী মন্দিরকে হলদে কালী বাড়ি বলা হয়। কেনো এমন নাম সে প্রসঙ্গে পরে আসবো আগে এই মন্দিরের ইতিহাস জেনে নেয়া যাক।

 

হলদে কালী বাড়ির বয়স প্রায় সাড়ে তিনশো বছর। কেদারনাথ মুখোপাধ্যায় ১৬৯৪ সালে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। কেদারনাথ ছিলেন কালী ভক্ত এবং তন্ত্র সাধক। কেদারনাথ মুখোপাধ্যায় বেনারসে তাঁর গুরুর কাছে তন্ত্র দীক্ষা নেন। মন্দির প্রতিষ্ঠার সময় কাশীধাম থেকে কষ্টিপাথরের কালী বিগ্রহ নিয়ে আসা হয়েছিল। সেই মূর্তিই এখানে প্রতিষ্ঠা করা হয়। মাতৃমূর্তি চতুর্ভুজা।মন্দিরের দেবী কালী হলেন দক্ষিণা কালী।

 

প্রতিষ্ঠাতা চক্রবর্তী পরিবারের বংশধরেরাই আজও মন্দিরের দেখভাল করছেন। মন্দিরে নিত্যপুজো হয়। সন্ধ্যায় আরতি হয়।প্রতি অমাবস্যায় ধুমধাম করে কালী পূজো হয়।

এক কালে বলী প্রথা থাকলেও

মায়ের স্বপ্নাদেশে এখন বলিদান বন্ধ।

 

মন্দিরের প্রবেশদ্বারের বাঁ দিকে রয়েছে পঞ্চমুণ্ডীর ঘর।জনশ্রুতি আছে প্রতি রাতে মন্দিরের দরজা বন্ধ করার পরও ভিতর থেকে ধূপ-ধুনোর সুগন্ধ ভেসে আসে। গভীর রাতে দেবী কালীর বিচরণভূমিতে পরিণত হয় মন্দির চত্ত্বর।

শোনা যায় একবার দেবী নাকি এক অসুস্থ ভক্তের কপালে হাত রেখে তাঁর রোগ সারিয়ে দিয়েছিলেন।

 

কথিত আছে এই মন্দিরে অর্পণ করা হলদু অতি পবিত্র।এক সময়ে এই এলাকায় এই মন্দির থেকে হলুদ না-গেলে গায়ে-হলুদের অনুষ্ঠান বা বিয়ে হত না। সেই থেকেই মন্দিরের নাম হয় হলুদ কালী বাড়ি বা হলদে কালী বাড়ি।

 

ফিরে আসবো পরবর্তী কালী কথা নিয়ে আগামী পর্বে। থাকবে অন্য এক কালী মন্দিরের ইতিহাস। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন ধন্যবাদ।

কালী কথা – সনাতন ডাকাতের কালী

কালী কথা – সনাতন ডাকাতের কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

ফল হারিণী অমাবস্যা উপলক্ষে চলছে কালী কথা।

বাংলার কালী মন্দির গুলি নিয়ে লিখতে বা বলতে গেলে অনিবার্য ভাবে ডাকাত কালী প্রসঙ্গ আসবেই।আজ আপনাদের জানাবো হুগলির

এক কালের কুখ্যাত সনাতন ডাকাতের কালী

পুজোর কথা।

 

স্বাধীনতার বহু আগে হুগলীর পুরুষত্তম পুর ছিলো বেশ দুর্গম এলাকা।এই অঞ্চলে ডাকাতরাই দাপিয়ে বেড়াতো। প্রশাসন থেকে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে যারা একটু অর্থবান তারা সনাতন ডাকাতের ভয়ে সর্বদা ভয়ে ভয়ে থাকতো।দুঃসাহসী ডাকাত সর্দার ছিলেন সনাতন বাগদী। নিবিড় জঙ্গলের মধ্যে দেবী কালীর উপাসনা করতেন তিনি।তার ডাকাত দল নিয়ে বহু কিংবদন্তী প্রচলিত।

 

কথিত আছে একদিন সনাতন বাগদী ডাকাতি করতে বের হবেন। অমাবস্যার রাতে মায়ের পূজা দিয়ে তবেই কাজে বেরোবে তারা। সেইমতো নানা পূজার উপাচারে সেজে উঠেছে মন্দির। এদিকে সেদিকে ছড়িয়ে বসে আছে ডাকাত দল। সবাই অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রস্তুত এবং সুরাপনে মত্ত। হঠাৎ সনাতন উচ্চকণ্ঠে ‘বলি কোথায়?’ বলে চিৎকার করে উঠলো। সবাই দেখলো তাইতো। মায়ের বলীর ব্যবস্থা করা হয়নি।অথচ তন্ত্র মতে তারা পূজো করে এবং বহুকাল থেকে বলী দিয়ে পূজো সম্পন্ন করার রীতি রয়েছে।

 

দলের ডাকাতেরা ভয়ে জানালো চৈত্র মাস! ঝড় বৃষ্টি লেগেই আছে! সব ওলট-পালট করে দিচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ । ঘর থেকে বের হতে পারেনি কেউ।তাই মায়ের বলীর ব্যবস্থাও করা হয়নি।

 

সর্দার সনাতন রাগে গর্জে উঠলো ‘সে কী! চৈত্র মাস বলে মা অনাহারে থাকবেন? বলী হবেনা।না তা হবে না! গভীর রাতেই হুকুম হলো।যে ভাবে পারিস বলি ধরে আন।’ কিন্তু সেদিন ডাকাতরা তার কথা শুনলোনা কারন ডাকাতির ভাগবখরা নিয়ে আগে থেকেই দলে অসন্তোষ ছিল। সর্দারের বিরুদ্ধে তলে তলে বিদ্রোহ হচ্ছিলো আগে থেকেই।

 

নিজের চ্যালাদের এই অবহেলায় ক্ষেপে উঠলেন সনাতন ডাকাত ।রাগে কাঁপতে কাঁপতে তিনি বললেন, “আমার আদেশ অমান্য করা! এত বড় স্পর্ধা! তোদের সবকটাকে আজ মায়ের পায়ে বলি দেব।”এই বলে হুঙ্কার দিয়ে রাগে আক্রোশে উন্মুক্ত তরবারি হাতে নিজের দলের লোকেদের ওপরেই ঝাঁপিয়ে পড়লেন ডাকাত-সর্দার সনাতন।বহু ডাকাত নাকি সেদিন তার হাতে প্রাণ হারায়। তার দল ও ক্ষমতা হারায় এবং ক্রমে ডাকাতি প্রায়

বন্ধ হয়।

 

আজও গোটা হুগলী জুড়ে প্রচলিত আছে সনাতন ডাকাতের নানা কীর্তি এবং খুবই জনপ্রিয় তাঁর ডাকাত কালীর পূজো।আজও ডাকাত কালীর পুজো হয় নিষ্ঠা সহকারে। দেবী খুবই জাগ্রত এবং বহু মানুষ নিজের মনোস্কামনা নিয়ে আসেন

দেবীর কাছে।

 

কালী কথা নিয়ে আবার ফিরে আসবো

পরের পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

পঞ্চ মহাপুরুষ যোগ

পঞ্চ মহাপুরুষ যোগ মূলত হংস যোগ যা বৃহস্পতির অবস্থানের উপর হয়। ভদ্র যোগ যা বু্ধের অবস্থানের উপর হয়। রুচক যোগ যা মঙ্গলের অবস্থানের উপর হয়ে থাকে। শশ যোগ যা শনির অবস্থানের উপর হয়ে থাকে। মালব্য যোগ যা শুক্রের অবস্থানের উপর হয়ে থাকে অর্থাৎ এই পাঁচটি যোগকে একত্রিত পঞ্চ মহাপুরুষ যোগ বলা হয়। এই গ্রহগুলি যদি নিজ ভাবে অথবা তুঙ্গী অবস্থায় রাশি বা লগ্নের কেন্দ্রভাবে অথবা ত্রিকোন ভাবে অবস্থান করে তবে এই যোগের সৃষ্টি হয়। হংস যোগে জন্মগ্রহণকারী জাতক জাতিকারা বিদ্বান বুদ্ধিমান জ্ঞানী বহু বিষয়ের উপর পাণ্ডিত্য লাভ করেন এরা দয়াশীল ও পরোপকারী হয়ে থাকে ন। এদের জীবনে রাজ তুল্য সম্মান প্রাপ্তি ঘটে। বুধের নিজে ভাবে অবস্থান অথবা তুঙ্গী অবস্থায় কেন্দ্রে বা ত্রিকোণ ভাবে রাশি ও লগ্ন থাকলে ভদ্র যোগ হয় এই যোগের জাতক জাতিকা বিদ্বান ও বিভিন্ন বিষয়ের পাণ্ডিত থাকে । এই যোগের জন্ম গ্রহণকারী জাতক-জাতিকারা কবি সাহিত্যিক হয়ে থাকেন। রুচক যোগ মূলত মঙ্গল নিজ ওভাবে অবস্থান বা তুঙ্গে থাকলে এই যোগ হয়। এই যোগের জাতক জাতিকারা মূলত শিল্পকলা অথবা প্রশাসনিক কর্মে সাফল্য পেয়ে থাকেন। শশ যোগ মূলত শনির অবস্থানের উপর নির্ভর করে এই যোগের জন্মগ্রহণকারী জাতক জাতিকার জীবনে কর্ম ও অর্থনৈতিক প্রবল সাফল্য আসে এরা অত্যান্ত খুবই রাগী ও দয়ালু প্রকৃতির হয়ে থাকে এদের প্রভাব প্রতিপত্তি থাকে অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক জীবনেও সাফল্য পান। মালব্য যোগ মূলত শুক্রের অবস্থানের উপর নির্ভর করে এই যোগ সৃষ্টি হয়। মালব্য যোগের জাতক জাতিকারা মূলত শিল্পকলা জগতে প্রবল সাফল্য পেয়ে থাকেন গান বাজনা নৃত্য অভিনয় বাচিক শিল্পী হিসাবে খ্যাতি লাভ করে। রাজযোগ কারী শুক্রের মহা দশায় প্রবল সাফল্য

ফলহারিণী অমাবস্যা এবং গ্রহ দোষ খণ্ডন

ফলহারিণী অমাবস্যা এবং গ্রহ দোষ খণ্ডন

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজকের এই বিশেষ পর্বে আপনাদের ফল হারিণী অমাবস্যা তিথিতে গ্রহ দোষ খন্ডনের গুরুত্ব নিয়ে কিছু জানাবো। জানাবো কেনো গ্রহ দোষ বলতে জ্যোতিষ শাস্ত্রে কি বোঝায়। গ্রহ দোষ খণ্ডন কি এবং কেনো ফল হারিণী অমাবস্যায় গ্রহ দোষ খণ্ডন হয়।

 

জাতক জাতিকার জন্মছক বিশ্লেষণ করলে অথবা হস্তরেখা বিচার করলে দেখা যায় অনেকেরই কিছু না কিছু গ্রহদোষ রয়েছে। অর্থাৎ কিছু শুভ গ্রহ এবং কিছু অশুভ গ্রহের গ্রহগত সংযোগ। সেটা দৃষ্টি বিনিময় বা অশুভ স্থানে অবস্থানে ফলে হতে পারে আবার অশুভ গ্রহ দ্বারা কোনো গ্রহ পীড়িত হলেও হতে পারে। আবার অশুভ নক্ষত্রর প্রভাবেও হতে পারে।গ্রহ দোষের প্রভাব আজীবন বয়ে বেড়াতে হয় যদি না সঠিক সময়ে শাস্ত্র সম্মত ভাবে সেই গ্রহ দোষ খণ্ডন হয় ।

 

জ্যোতিষ শাস্ত্রে যতরকম প্রতিকারের কথায় উল্লেখ আছে তার মধ্যে শাস্ত্র মতে পুজো পাঠ এবং মন্ত্র উচ্চারনের মধ্যে দিয়ে গ্রহদোষ খণ্ডনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে|তবে সাফল্য এবং

তার স্থায়ীত্ত্ব নির্ভর করে সঠিক তিথি

নির্বাচনের উপর।সেক্ষেত্রে যেহেতু গ্রহ দশ অশুভ কর্ম ফলের প্রভাবে তৈরী হয় তাই ফল হারিণী অমাবস্যায় সেই কর্ম ফল এবং তার থেকে সৃষ্ট গ্রহ দোষ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

ফল হারিণী অমাবস্যার অর্থাৎই হলো জন্ম জন্মান্তরের পাপের ফল থেকে মুক্তি লাভ।

 

জন্ম ছকে মাঙ্গলিক দোষ থাকলে যেমন বিবাহিত জীবনে সমস্যা আসে তেমনই রাহু ও চন্দ্রের অশুভ সংযোগে তৈরী হয় গ্রহণ দোষ যা মানসিক অসুস্থতা ডেকে আনে। সাফল্য আসতে দেরি হয়। আবার রবি শুক্র দারিদ্র যোগ জীবনে চলার পথে পদে পদে বাঁধা তৈরি হয়।আবার কুখ্যাত রাহু কেতুর নাগ পাশ তৈরী করে কালসর্প দোষ যা জীবনের উন্নতি শান্তির পথে বাঁধা তৈরী করে।

 

বিগত কয়েক বছর ধরেই প্রায় প্রতিটি বিশেষ তিথিতে তারাপীঠে বিশেষ হোম যজ্ঞ, ও পূজা পাঠের মাধ্যমে শাস্ত্র মতে গ্রহগত দোষ খণ্ডন হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়া এবং মন্দিরের ওয়েবসাইট কে ব্যবহার করে লখ্য লখ্য মানুষ ও মায়ের ভক্তরা দূর থেকেই এই বিশেষ পুজোয় অংশ নিয়েছেন ও মায়ের কৃপায় জীবনের সমস্যাথেকে মুক্তি লাভ করেছেন|

 

এবছরও ফল হারিণী অমাবস্যায় বিশেষ পূজা ও গ্রহ দোষ খণ্ডনের আয়োজন করা হয়েছে, আমি থাকবো নিমিত্ত হিসেবে বাকিটা মায়ের কৃপা ও আপনাদের আস্থা এবং শ্রদ্ধা|সবাইকে ফল হারিণী কালী পুজোয় অনেক শুভেচ্ছা।

 

ফিরে আসবো ধারাবাহিক কালী কথা নিয়ে আগামী পর্ব গুলিতে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শুভ পঁচিশে বৈশাখ

শুভ পঁচিশে বৈশাখ

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজ বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথের জন্ম দিন। আজ আমরা সাধারণত গঙ্গা জলে গঙ্গা পূজো করার মতো তাঁর সৃষ্টি দিয়েই তাঁকে স্মরণ করে থাকি।
তবে আজ একটু আলাদা ভাবে তাঁকে দেখার চেষ্টা করবো।তার মানবিক দিক গুলি যেমন রস বোধ, খাওয়া দাওয়া, প্রকৃতি প্রেম, আধ্যাত্মিকতা, দেশ প্রেম নিয়ে একটু লেখার চেষ্টা করছি।

অসাধারণ রসিক মানুষ ছিলেন কবিগুরু।
একবার চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় গেছেন শিলাইদহে জমিদার রবীন্দ্রনাথের কাছে লেখা আনতে। চারুচন্দ্র তখন ‘প্রবাসী’ পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত। রবীন্দ্রনাথ তখন অবস্থান করছিলেন পদ্মার ওপারে বজরায়। নদীর ঘাট থেকে বজরা পর্যন্ত একটা তক্তার সাঁকো পেতে দেয়া হয়েছে।
চারুচন্দ্র পা টিপে টিপে নৌকায় উঠে আসছেন। বজরার ছাদ থেকে এ দৃশ্য দেখে রবীন্দ্রনাথ সাবধান করলেন চারুকে, ‘সাবধানে পা ফেলো। এ জোড়াসাঁকো নয়!’ তার এই মন্তব্য শুনে আশপাশের সবাই হেসে উঠে ছিলেন|

রবীন্দ্রনাথের রসনা বিলাস নিয়েও বহু মিথ চালু আছে। অনেকে বলেন কবি রাজি কাটলেট এর কবি আসলে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ। এই নিয়ে একটি গল্পও আছে।একবার তিনি বিখ্যাত বসন্ত কেবিনে গিয়েছিলেন কাটলেট খেতে।কাটলেটের উপরে থাকা পাউরুটির প্রলেপ কবির একেবারে পছন্দ হয়নি। বাবুর্চি তা জানতে পেরে ডিমের গোলায় ডুবিয়ে বানিয়ে দিলেন এক নতুন কাটলেট। সেটা খেয়ে কবির বেশ পছন্দ হয়েছিল।কবির মন রাখতে যেহেতু আবিষ্কার তাই সেই থেকে এই কাটলেটের নাম দেওয়া হয় ‘কবিরাজি কাটলেট’|

প্রকৃতি প্রেমিক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ এবং বর্ষা ছিলো কবির প্রিয় ঋতু।বর্ষা ঋতু কবির অজান্তেই যেন তাঁর অন্তর সত্তায় স্থায়ী আসন গেড়ে বসেছিল। তাই রবীন্দ্র সঙ্গীতে ও সাহিত্যে সর্বত্রই তার প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।বর্ষায় কবি শান্তি নিকেতনেই থাকতে পছন্দ করতেন। সেই সময় বর্ষার বোলপুর যেনো এক স্বপ্নের জগৎ। সেই জগৎ ধরা দিতো তার গানে তার কবিতায়।

বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে তিনি রাখি উৎসবকে হাতিয়ার করে ছিলেন।হিংসা নয় শান্তি এবং মৈত্রীর মাধ্যমে প্রতিবাদ ছিলো তাঁর প্রথম পছন্দ।

তাঁর ধর্ম চেতনা বা আধ্যাত্মিকতা ও ছিলো অন্য ধরণের। পরম পিতার প্রতি তাঁর আস্থা ছিলো অগাধ। ধর্মীয় গোঁড়ামির উর্ধে উঠে তিনি মানুষের মধ্যে নিজের ঈশ্বরকে খুঁজতেন। ভূত প্রেত পরলোক নিয়েও তাঁর কৌতূহল ছিলো।আত্মার অস্তিত্ব নিয়ে অনুসন্ধান করতে চাইতেন। তাই এক সময়ে ঠাকুর বাড়িতে প্ল্যানচেট নিয়ে চর্চাও হতো।

জন্ম দিনে তার চরিত্রের কিছু বিশেষ দিক ছুঁয়ে যেতে চেষ্টা করলাম। মানুষ রবীন্দ্রনাথকে খোঁজার চেষ্টা করলাম।আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। গুরুদেব কে জানাই প্রণাম এবং শ্রদ্ধাঞ্জলি। ফিরে আসবো আধ্যাত্মিক বিষয়
নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে।
পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন ধন্যবাদ।

কালী কথা – শিবানী পীঠ

কালী কথা – শিবানী পীঠ

 

পন্ডিতজি ভৃগুর শ্রীজাতক

 

ফল হারিণী অমাবস্যা উপলক্ষে চলছে কালী কথা। আজ কালী কথায় কলকাতার কাছেই বারুইপুরে অবস্থিত একটি সুন্দর এবং প্রসিদ্ধ কালী মন্দিরের কথা জানাবো।আজকের পর্বে শিবানী পিঠ কালী মন্দির।নামে পীঠ থাকলেও এটি কোনো শক্তিপীঠ বা সিদ্ধ পীঠ নয় তবে দক্ষিণ বঙ্গের অত্যন্ত জাগ্রত কালী তীর্থ।

 

দক্ষিণ ২৪ পরগণার বারুইপুরে অবস্থিত শিবানী পীঠ মন্দিরটি সাধারণ মানুষের কাছে অতি পরিচিত। ভারী সুন্দর এই মন্দিরের পরিবেশটা ।ভট্টাচার্য্য পরিবারের এই মন্দিরটি স্থাপিত হয়েছিল ১৯৬৬ সালের কালিপূজার দিন।দেবীর বিগ্রহ দারু নির্মিত অর্থাৎ নিম কাঠের। সালঙ্কারা দেবী এখনে চতুর্ভুজা রূপে বিরাজ করছেন।

 

জনশ্রুতি আছে ভট্টাচার্য পরিবারের, নারায়ণদাস ভট্টাচার্য ও শান্তিলতা দেবীর কন্যা নিরুপমা চক্রবর্তী একদিন স্বপ্নে দেখেন, তাঁর বাপের বাড়িতে পঞ্চাননের পুজো হচ্ছে। পঞ্চানন মন্দিরে পাশে পুকুরের মধ্যে একটি ঘট অবহেলায় পড়ে রয়েছে। স্বপ্নেই তিনি দেখেন, সেই ঘটটিকে তুলতে গেলে ঘটের মধ্য থেকে এক কালীমূর্তি আবির্ভূত হলেন এবং নিরুপমাদেবীকে ঘটটি তুলে প্রতিষ্ঠা করার নির্দেশ দেন । কিছুদিন পর নিরুপমা দেবী বারুইপুর এসে তার স্বপ্নের কথা জানান।পরবর্তীতে এই পরিবারের দুর্গাদাস ভট্টাচার্য ঘটটি খুঁজে পান এবং মন্দির প্রতিষ্ঠা করে ঘট স্থাপন করা হয়।

 

শিবানী পীঠ হল দেবী শিবানীর মন্দির।দেবী শিবানী মা কালিরই একটি অংশ।তবে দেবী এখানে ঘরের মেয়ে এবং ভট্টাচার্য পরিবারেরই শিবানী নামক এক বালিকার নামে মায়ের নামকরণ হয় বলে কথিত আছে।

 

খুবই জাগ্রত মন্দির বলে প্রচুর ভক্ত এখানে আসেন তাদের মনষ্কামনা পূরণের উদ্দেশ্যে।বিশেষ বিশেষ দিনে খুবই ভীড় হয় এখানে।শণি,মঙ্গলবার এবং প্রতি অমাবশ্যার দিনে এখানে প্রচুর

ভক্ত সমাগম ঘটে

 

মন্দিরের ভেতরে প্রতিষ্ঠাতা শ্রী দুর্গাদাস ভট্টাচার্যর বেশ কয়েকটি মূর্তি বর্তমান। এখানে নাট মন্দিরের ভেতরে অনেক মুণি ঋষিদের মূর্তি বর্তমান।নাটমন্দিরে বসে একমনে মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকলে মনে প্রশস্তি পাওয়া যায়।শিবানী পীঠ স্থানীয় মানুষের কাছে এক বিশ্বাস এবং ভরসার স্থান।

 

ফিরে আসবো পরবর্তী কালী কথা

নিয়ে আগামী পর্বে। চলতে

থাকবে কালী কথা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – বাসনা কালী

কালী কথা – বাসনা কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ কালী কথায় আপনাদের গড়িয়ার নারকেল বাগান এলাকায় অবস্থিত জাগ্রত শ্রীশ্রী বাসনা কালীবাড়ি নিয়ে লিখবো।

 

এই মন্দিরে প্রায় দুশো বছর ধরে পূজিতা হচ্ছেন বাসনা কালীমাতা। জনশ্রুতি অনুযায়ী, দেবী নাকি স্বপ্নাদেশে বলেছিলেন এলাকাবাসীদের মনের বাসনা পূর্ণ করার জন্যই তিনি আবির্ভূতা হবেন,তাই মায়ের নাম হয়েছে বাসনা কালী।

বর্তমানে মন্দিরটি নতুন রূপে সম্প্রতি নির্মিত হয়েছে।

 

যে সময়ে কালীঘাট ছুঁয়ে গড়িয়ার কামডহরি দিয়ে আদিগঙ্গা বয়ে যেত সেই সময় থেকে জনশ্রুতি প্রচলিত আছে যে এই অঞ্চলে এক প্রাচীন গঙ্গার ঘাট ছিলো যাকে বলা হতো চাঁদনী ঘাট বাণিজ্যে বেরিয়ে গঙ্গার এই ঘাটেই নাকি নৌকা নোঙর করেছিলেন চাঁদ সওদাগর।বর্তমানে ওই স্থনেই আছে এক বহু পুরোনো জলাশয় সেই জলাশয় এর পাড়েই দাঁড়িয়ে রয়েছে বাসনা কালী বাড়ি।

 

প্রতিষ্ঠাতা রূপে বসন্তকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় এর নাম উঠে আসে যিনি বসন্ত ঠাকুর নামেই বেশি প্রসিদ্ধ।তিনি এই কালী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

তাঁকে স্বপ্নে দেবী বলেছিলেন, তুই এখনই বেনারসে যা। আমি তোর জন্য সেখানে অপেক্ষা করছি। আমাকে এই আদি গঙ্গার তীরে এনে প্রতিষ্ঠা কর। আদেশ শুনে বসন্ত ঠাকুর বেনারস ছুটে যান। কোলে বসিয়ে নিয়ে আসেন কালো কষ্টিপাথরের দেবী কালিকার মূর্তি।কথিত আছে বেনারসে যে শিল্পী এই কষ্টিপাথরের কালী তৈরি করেছিলেন, তিনিও একইসঙ্গে স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। তারপর কালীমূর্তি তৈরি শুরু করেন।

 

এখানে ব্রাহ্মণ ছাড়া অন্য কারও কালীকে স্পর্শ করার নিয়ম নেই। আজও বসন্তকুমারের পরিবারের পরবর্তী প্রজন্ম পুজোর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এখানে কালীর সঙ্গে গণেশ, দুর্গা, মনসা, শিব, হনুমান সহ আরও অনেক দেব-দেবীর মূর্তি রয়েছে। তাঁরাও নিয়মিত পুজো পান।

 

প্রতি অমাবস্যায় বিশেষ পূজো সহ এখানে দেবীর নিত্যপুজো হয়। দেবী কালীকে নিরামিষ ভোগ নিবেদন করার রীতি রয়েছে। মনোবাঞ্ছা পূরণের দেবী রূপে বাসনা কালী অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং জাগ্রতা তাই দেবীর টানে অসংখ্য ভক্ত পুজো দিতে আসেন এখানে।

 

ফিরে আসবো কালী কথার পরবর্তী পর্ব নিয়ে আগামী পর্বে। থাকবে ফল হারিণী অমাবস্যা নিয়ে অনেক তথ্য। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ফলহারিণী অমাবস্যা ও শ্রী রামকৃষ্ণ

ফলহারিণী অমাবস্যা ও শ্রী রামকৃষ্ণ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আর কিছু দিন পরেই ফল হারিণী অমাবস্যা।

এই ফল হারিণী অমাবস্যার সাথে বিশেষ ভাবে স্মরণ করা হয় ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণের নাম। কারন একবার ঠাকুর রামকৃষ্ণ ফল হারিণী অমাবস্যায় এক ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটিয়েছিলেন যার আধ্যাত্মিক গুরুত্ব অপরিসীম।

 

দক্ষিনেশ্বরে থাকা কালীন ১৮৭২ সালে এই বিশেষ অমাবস্যার রাতেই শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব তাঁর লীলা সঙ্গিনী দেবী সারদাকে ষোড়শীরূপে পুজো করেছিলেন। সেই ফলহারিণী কালী পুজোর রাতে স্ত্রী সারদা দেবীকে রামকৃষ্ণ পুজো করেছিলেন জগৎ কল্যাণের জন্য।

 

কথিত আছে এই পুজোতে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দেব তাঁর সর্বস্ব দিয়েছিলেন সারদা মায়ের শ্রীচরণে। এমনকি তাঁর জপের মালাটিও নিবেদন করেছিলেন সারদা মাকে। সারদা মায়ের মধ্যে সেই রাতে ঠাকুর আদ্যা শক্তি মহামায়ার দর্শন করেছিলেন বলে মনে করা হয়।

 

ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ মনে করতেন এই তিথিতে

যদি শুদ্ধ ভক্তি দিয়ে মাকে আত্মনিবেদন করা যায় তবে ভক্তের মনে অধ্যাত্ম চেতনার দ্রুত বিকাশ ঘটে এবং মায়ের কৃপা লাভ করা যায়।

সেই কারণেই ফল হারিণী অমাবস্যাকেই ঠাকুর বেছে নিয়েছিলেন সারদা মাকে মাতৃ রূপে আরাধনার জন্য।এই ঘটনা ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণর আধ্যাত্মিক জীবন এবং সাধনার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় রূপে দেখা হয়।

 

আজও রামকৃষ্ণমঠ ও আশ্রমে ফল হারিণী অমাবস্যা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পালিত হয় এবং এই পুজো ‘ষোড়শী’ পুজো নামে পরিচিত|

 

আগামী পর্বে ফিরে আসবো আবার আগামী পর্বে ধারাবাহিক কালী কথা নিয়ে থাকবে ফল হারিণী অমাবস্যা সংক্রান্ত আরো অনেক শাস্ত্রীয় তথ্য এবং ব্যাখ্যা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

 

বিশেষ পর্ব – ফলহারিণী অমাবস্যা

বিশেষ পর্ব – ফলহারিণী অমাবস্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

গ্রহের প্রতিকারের সাফল্য এবং

তার স্থায়ীত্ত্ব নির্ভর করে সঠিক তিথি

নির্বাচনের উপর।সঠিক তিথিতে করা শাস্ত্রীয় মতে দোষ খণ্ডন সবথেকে বেশি প্রভাব শালী হয়, এবং এই তিথি গুলির মধ্যে দীপান্বিতা অমাবস্যা, কৌশিকী অমাবস্যা, মৌনী অমাবস্যা এবং ফলহারিনী অমাবস্যা কে অন্যতম শ্রেষ্ঠ তিথি হিসেবে দেখা হয়। সামনেই ফল হারিণী অমাবস্যা। আজ লিখবো ফল হারিণী

অমাবস্যার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য নিয়ে।

 

জ্যোতিষ এবং তন্ত্র জগতে ফলহারিণী অমাবস্যা একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ তিথি ।জ্যৈষ্ঠমাসের অমাবস্যা তিথিকে ফল হারিণী অমাবস্যা বলা হয়। এই তিথিতে ফলহারিণী মাতারূপে দেবী কালী পূজিতা হন।যদিও ধরিত্রীজাত ফলের সঙ্গে এই মাতৃপুজোর কোনও সম্পর্ক নেই। এই ফল মানবজাতির কর্মফলের কথা স্মরণ করায়।

তবে কিছু শাস্ত্রীয় উপাচারে মরসুমি ফল ব্যবহার করার রীতি রয়েছে যেমন এই তিথিতে মাকালীকে

ফল অর্পণ করলে মায়ের বিশেষ কৃপা লাভ হয় বলে অনেকে মনে করেন।তার অবশ্য কিছু নিদ্দিষ্ট রীতি নীতি আছে। সেসব নিয়ে পরে কোনো সময়ে আলোচনা করবো।

 

মনে করা হয় এই দিনটিতে মা স্বয়ং ভক্তদের সুকর্মের জন্য আশীর্বাদ প্রদান করেন। অপরদিকে সন্তানের কুকর্মের জন্য উদ্ভূত অশুভ ফলের প্রভাব থেকে তিনিই আবার সন্তানদের মুক্ত করেন। অর্থাৎ ওই দিনে মা স্বয়ং যেমন সন্তানদের শুভ ফল প্রদান করেন, তেমনি তিনি সন্তানদের অশুভ ফলও হরণ করে থাকেন। তাই এই তিথিতে দেবী কালী হয়ে ওঠেন ফল হারিণী।

 

জাতক জাতিকার জন্মছক বিশ্লেষণ করলে অথবা হস্তরেখা বিচার করলে দেখা যায় অনেকেরই কিছু না কিছু গ্রহদোষ রয়েছে যা মূলত তার জন্ম জন্মান্তরের কর্ম ফল থেকে উদ্ভুত। এই ফল হারিণী অমাবস্যায় সঠিক শাস্ত্রীয় পদ্ধতিতে গ্রহের প্রতিকার গ্রহ গত অশুভ ফল থেকে মুক্তি দেয়।

কারণ এই দিন দেবী আদ্যা শক্তি স্বয়ং ফল হারিণী রূপে বিরাজ করেন।

 

তাই জ্যোতিষ এবং তন্ত্রের জগতে এই দিনের অন্য মাহাত্ম রয়েছে। অশুভ গ্রহদোষ খণ্ডন বা কোনো বিশেষ প্রতিকার গ্রহণের ক্ষেত্রে এই অমাবস্যাকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ তিথি হিসেবে দেখা হয়।

 

ফিরে আসবো ধারাবাহিক কালী কথা এবং ফল হারিণী অমাবস্যা সংক্রান্ত আরো অনেক শাস্ত্রীয় তথ্য নিয়ে আগামী পর্ব গুলিতে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।