Home Blog Page 11

কালী কথা – কল্যাণময়ী কালী

কালী কথা – কল্যাণময়ী কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ আপনাদের উত্তর চব্বিশ পরগনার বাদুর কল্যাণময়ী কালীর কথা জানাবো যে কালীকে নিয়ে আছে অজস্র লোক কথা এবং অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ।

 

যে সময়ের কথা বলছি বাদু তখন গ্রামাঞ্চল।

বাদুর কাছেই কাঞ্চনতলায় বসবাস করতেন মাতৃসাধক দিলীপ চট্টোপাধ্যায়।একটি বড় নিম গাছের নীচে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঈশ্বরচিন্তা করতেন তিনি। তাকিয়ে থাকতেন সামনের এক শান্ত এবং বিরাট জলাশয়ের দিকে।একদিন

মা কালী স্বপ্নে দেখা দিলেন তার ভক্তকে।

 

স্বপ্নে দেখা দিয়ে দেবী বললেন, “নিমগাছের পাশের পুষ্করিণীতে আমার কষ্টি পাথরের মূর্তি আছে। ওই মূর্তি উদ্ধার করে তুই প্রতিষ্ঠা কর। নিত্যপুজো করবি। বৈষ্ণব মতে পুজো হবে। বলিদান বা আমিষ ভোগ নয়। এটি আমার কল্যাণময়ী রূপ।”

 

পরদিন ঠিক কথা মতো পুকুর থেকে পাওয়া গেল ছোট্ট একটি কষ্টি পাথরের মাতৃমূর্তি।

দিলীপ চট্টোপাধ্যায় পরম যত্নে মায়ের মূর্তি এনে বসালেন নিম গাছের নীচে। এখানেই তৈরি হল কল্যাণময়ী মায়ের মন্দির। মন্দির চত্বরে আছেন দেবদিদেব মহাদেবও। সেই শিবলিঙ্গও খুব জাগ্রত। তিনিও ভক্তকে সবরকম বিপদ থেকে রক্ষা করেন। আছেন শালগ্রাম শিলাও।বর্তমানে সেই নিম গাছটিকে ভক্তরা কল্যাণময়ী মায়ের কল্পতরু বৃক্ষ মনে করেন।  মায়ের কাছে মনোস্কামনা জানিয়ে গাছে ডোর বাঁধেন এবং দেবী প্রতি তাদের অগাধ আস্থা।

 

দেবীর দেয়া স্বপ্ন অনুযায়ী এবং তার শান্ত স্নিদ্ধ কল্যানময়ী রূপের জন্য দেবী কল্যাণময়ী কালী রূপেই সর্বত্র জনপ্রিয়।

 

সামনেই কালী পুজো।এখানে কালীপুজোর রাতে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কল্যাণময়ী মায়ের আরাধনা করেন প্রয়াত মাতৃসাধক দিলীপ চট্টোপাধ্যায়ের বংশধরেরা।মায়ের স্বপ্নে দেয়া আদেশ অনুসারে পুজো হয় বৈষ্ণব মতে। আমিষ ভোগ থাকেনা। তার বদলে ঘিয়ের পরমান্ন আর খিচুড়ি। তার সঙ্গে থকে পাঁচ রকম ভাজা, তরকারি, চাটনি। এছাড়া মায়ের পছন্দের খাদ্যতালিকায় আছে চিঁড়ে, গুড় , নারকেল এই সব প্রসাদ যা পরম আনন্দে গ্রহন করেন দুর দুর থেকে আসা ভক্তবৃন্দ।

 

কথিত আছে দেবী কল্যাণময়ী অত্যান্ত জাগ্রত তার কাছের সব মনোস্কামনা পূরণ হয়। তাই ভিড় হয় চোখে পড়ার মতো।

 

আবার কালী কথা নিয়ে আগামী পর্বে ফিরে আসবো। থাকবে অন্য এক কালী মন্দিরের ইতিহাস। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – চাঁদুনি কালী 

কালী কথা – চাঁদুনি কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

নদিয়ার শান্তিপুর স্টেশন থেকেব প্রায় দু কিলোমিটার দুরে অবস্থিত এক প্রাচীন কালী মন্দির যেখানে মা কালীকে চাঁদুনি কালী বলা হয়।এবং এই মন্দিরে পুজোর ক্ষেত্রে মহিলারাই প্রধান ভূমিকায় থাকেন|কেনো এই নাম এবং কেনো মহিলা দের এতো বেশি গুরুত্ব তার সাথেও জড়িত আছে এক কিংবদন্তী|সেই সব নিয়ে লিখবো আজকের পর্বে।

 

বহুকাল আগে নদিয়ার শান্তিপুর ছিল বর্ধিষ্ণু জনপদ৷ তখন শান্তিপুর দিয়ে প্রবাহিত হত মা গঙ্গা৷ আর সেই গঙ্গার পাড়ে একটি কুটিরে বাস করতেন সাত্ত্বিক গোপীনাথ সার্বভৌম যিনি ছিলেন

মহা প্রভু শ্রী চৈতন্যদেবের শিক্ষা গুরু।চৈতন্য মহাপ্রভুর গৃহশিক্ষক ছিলেন তিনি।

 

কথিত আছে এক রাতে গোপীনাথ মায়ের স্বপ্নাদেশ পান৷ স্বপ্নাদেশে তিনি জানতে পারেন মা সিদ্ধেশ্বরীরা প্রতিমা নির্মাণ করতে হবে তাঁরই পত্নীকে৷ মায়ের নির্দেশে বাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে গোপীনাথ প্রতিষ্ঠা করেন মা চাঁদুনিকে৷

 

মায়ের এহেন নাম নিয়ে নানা মুনির নানা মত রয়েছে৷ কারও মতে চাঁদুনি নামটি এসেছে চাঁদনি থেকে৷ চাঁদনি মানে জ্যোৎস্না৷মনে করা হয় পূর্ণিমার রাতে মায়ের মূর্তি তৈরি করা হয়েছিল সেই তিথি অনুসারে অর্থাৎ চন্দ্রালোকিত রাত্রির নামানুসারে দেবীর নাম ‘চাঁদুনি’ রাখা হয়।

 

সার্বভৌমর পরিবারের লোকেরাই বংশ পরম্পরায় পুজো করে আসছেন মা সিদ্বেশ্বরীরা| এখানে দুর্গাপুজোর শেষে দুর্গা দেউলেই শুরু হয় মায়ের কাঠামো গড়া৷ পারিবারিক রীতি অনুযায়ী আজও বংশের বড় বউ কাঠামোতে প্রথম মাটি দিয়ে এর শুভারম্ভ করেন এবং মায়ের কেশসজ্জা বাড়ির ছেলেরা জবাকুসুম তেল দিয়ে করে থাকেন। এই রীতি এখানে সেই শুরুর দিন থেকে চলে আসছে।

 

প্রতি অমাবস্যায় মায়ের কাঠামো শক্তিরূপে পুজো করা হয়৷ কালীপুজোর দিন মা চাঁদুনিকে দুর্গাদেউল থেকে বাতাস করতে করতে কালীমন্দিরে আনা হয়৷ দেবীর পুজো হয় নিষ্ঠা ও জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে যদিও একসময় এখানে মোষবলি হত৷ এখন তা না হলেও পাঁঠাবলি হয়|

 

আসন্ন দীপান্বিতা অমাবস্যা উপলক্ষে চলতে থাকবে কালী কথা। ফিরে আসবো কালী কথার পরবর্তী পর্ব নিয়ে। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – জীবন্ত কালী 

কালী কথা – জীবন্ত কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

এক অর্থে প্রতিটি দেবী মন্দিরেই যেখানে দেবী পূজা গ্রহন করেন শাস্ত্র মতে মূর্তি প্রতিষ্ঠিত সখানেই দেবী জাগ্রতা এবং জীবন্ত তবে

কলকাতার  উত্তরে শুকিয়ে স্ট্রিটে রয়েছে

‘জীবন্ত কালী’র এক বিশাল মন্দির।আজ কালী কথায় জানাবো এই মন্দিরের বর্ণময় ইতিহাস।

 

জীবন্ত কালী মন্দির ঘিরে প্রচলিক আছে এক অলৌকিক কাহিনী। সে বহুকাল আগের কথা। দিনটি ছিল অমাবস্যা তিথি। কালী মন্দিরের তৎকালীন পুজারী বাজারে গিয়েছিলেন অমাবস্যার পুজোর বাজার করতে। সেই সময়ে বছর পাঁচেকের একটি ছোট্ট মেয়ে তাঁর কাছে চালকলা খেতে চায় এবং সে জানায়, দু’দিন ধরে সে কিছু খায়নি সে। পুরোহিতের এসব মোটেই পছন্দ হয়নি। তিনি ওই বালিকাকে অবজ্ঞা করে নিজের কাজে চলে যান।

 

সন্ধ্যায় যখন মন্দিরে দেবীর ভোগের ব্যবস্থা হয়েছিল অমাবস্যার সে রাতে। নিয়ম মেনে অন্ধকারেই চলছিল দেবীর আরাধনা। পুজো চলাকালীন পুরোহিত হঠাৎ লক্ষ্য করেন যে শুধু মহাদেবই শায়িত রয়েছেন। দেবী কালী অদৃশ্য।প্রথমে ভ্রম মনে হলেও পরে ঘি-এর প্রদীপ জ্বালিয়ে মূর্তি দেখার চেষ্টা করেন এবং একই জিনিস দেখেন। তৎক্ষণাৎ নুপুরের শব্দ কানে ভেসে আসে। পুরোহিত বুঝতে পারেন স্বয়ং দেবী কালী সকালে ছোট্ট মেয়ে রূপে খাবার চাইতে এসেছিলেন না বুঝে তিনি অবজ্ঞা করেছেন।

সেই থেকেই চলছে চালকলা দিয়ে দেবীর পুজোর রীতি।

 

এখানে দেবী বালিকা রূপে বিরাজ করছেন।

তাই অম্ববাচি পালিত হয় না এই মন্দিরে। বলির কোনও রীতি নেই। পুরোপুরি নিষিদ্ধ মাছ, মাংস।মন্দিরের বেদীতে উপবেষ্টিতা দেবী।

তাঁর গা ঘেঁসেই বসে রয়েছেন জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা। পাশের ঘরেই রয়েছেন ভৈরব।দেবী কিশোরীদের মতো সাজতে ভালো বাসেন তাই তাকে প্রতিটি বিশেষ পুজোয়

সুন্দর করে সাজানো হয়।

 

ভক্তদের বিশ্বাস, কাউকে কক্ষণও খালি হাতে ফিরিয়ে দেন না দেবী।ভক্তের কাতর প্রার্থনায় ঠিক সাড়া দেন দেবী পূরণ করেন প্রত্যেকের মনবাঞ্ছা।

জীবন্ত কালী শ্যামসুন্দরী রূপেও খ্যাত।

 

দীপান্বিতা অমাবস্যা উপলক্ষে বাংলার এমন সব প্রাচীন কালী মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে চলতে থাকবে কালী কথা। যথা সময়ে ফিরে আসবো পরবর্তী পর্ব নিয়ে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – আদি কালী মন্দির 

কালী কথা – আদি কালী মন্দির

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আসন্ন দীপান্বিতা অমাবস্যা উপলক্ষে আজ থেকে আবার শুরু করছি কালী কথা। ধারাবাহিক লিখবো বাংলার প্রসিদ্ধ কিছু কালী মন্দির নিয়ে। থাকবে। নানা অলৌকিক ঘটনা এবং ইতিহাস।

 

আজ শুরুতে বঙ্গোপ সাগরের মোহনায় অবস্থিত গঙ্গা সাগর দ্বীপ সংলগ্ন এক প্রাচীন কালী মন্দির।আলোচনা করবো।

 

একবার সাগরদ্বীপের এক বাসিন্দা মাকালীর স্বপ্নাদেশ পান। সেইমতো তিনি ঘন জঙ্গল পরিষ্কার করে একটি বট গাছের নিচে মন্দির তৈরি করে কালী মূর্তির প্রতিষ্ঠা করেন। এই মন্দির ছিলো সম্ভবত এই অঞ্চলের প্রাচীনতম কালী মন্দির তাই এই মন্দির আদি কালীমন্দির নামে পরিচিত।সেই থেকে ওই মন্দিরে কালী পুজাে হয়ে আসছে।

 

তবে সেই বট গাছের কিছু বিশ্বসত্ত্ব আছে।

সুন্দরবন সংলগ্ন সাগরদ্বীপ তখন ছিল ঘন জঙ্গলে ঢাকা। রুটি-রুজির টানে সুন্দরবনের উপকূলবর্তী এলাকার মানুষ এই দ্বীপে এসে কাঠ ও মধু সংগ্রহ করতেন। তখন জঙ্গলের হিংস্র জীবজন্তু এবং জল দস্যু দের হাত থেকে নিজেদের বাঁচাতে বন বিবির পুজোর পাশাপাশি এই বটবৃক্ষের তলায় কালী পূজা করে জঙ্গলে । তখন সেই স্থানে কোনো স্থায়ী মন্দির ছিলো না।স্বপ্নাদেশের পর তৈরী হয় মন্দির।

 

জাগ্রত এই কালীমন্দিরে মনস্কামনা জানাতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু মানুষ ছুটে আসেন পুজো দিতে। প্রতিবছর কালীপুজোর দিন জাঁকজমকের সঙ্গে গঙ্গাসাগরে আদি কালীমন্দিরে পূজিতা হন মা কালী।শোনা যায় আদি কালী মন্দিরে করা মনোস্কামনা দ্রুত পূরণ হয়।

 

এই আদি কালী মন্দিরে নিত্য পুজোর ব্যবস্থা রয়েছে এছাড়াও প্রতি অমাবস্যা এবং

সপ্তাহে মঙ্গলবার ও শনিবার বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। বংশ পরম্পরায় সেই শুরুর দিন থেকে মায়ের সেবা করে আসছেন এখানকার পুরোহিতরা।

 

এমন আরো প্রাচীন এবং প্রসিদ্ধ কালী মন্দিরের কথা হবে কালী কথায়।আবার ফিরে আসবো আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দেবী লক্ষীর পৌরাণিক এবং শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা 

দেবী লক্ষীর পৌরাণিক এবং শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ দেবী লক্ষীর পুজোর দিন।লক্ষী পুজো উপলক্ষে আজ জানাবো দেবী লক্ষীর পৌরাণিক এবং শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা। জানাবো দেবী লক্ষীর আবির্ভাবএবং তার বিবাহ সম্পর্কে কিছু

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

 

দুর্বাসা মুনির শাপে স্বর্গ একদা শ্রীহীন বা লক্ষ্মী-ছাড়া হয়ে যায়। তখন বিষ্ণুর পরামর্শে স্বর্গের ঐশ্বর্য ফিরে পাবার জন্য দেবগণ অসুরদের সাথে নিয়ে সমুদ্র-মন্থন শুরু করেন। সেই ক্ষীর-সমুদ্র মন্থনের ফলে উঠে আসল নানা রত্ন, মণি-মাণিক্য, অমৃতসুধা আরও কত কি। এসব ছাড়াও সমুদ্র-মন্থনের ফলে উঠে আসলেন লক্ষ্মী দেবী এবং ঠাই পেলেন বিষ্ণুর বক্ষে।

 

শাস্ত্র মতে লক্ষী বিষ্ণুর স্ত্রী।স্কন্দ পুরানে নারায়ণ এবং লক্ষীর বিবাহের উল্লেখ আছে।লক্ষ্মী দেবী নারায়ণ বা বিষ্ণুকে পতি রূপে পাওয়ার জন্য সমুদ্রের মধ্যে প্রবেশ করে বহুকাল কঠোর তপস্যা করেন।তখন ইন্দ্রা বিষ্ণুর ছদ্মবেশে লক্ষ্মীর নিকট উপস্থিত হলে লক্ষ্মী দেবী তাকে বিশ্বরূপ দেখাতে বলেন। কারণ লক্ষ্মী দেবী জানতেন যে, একমাত্র বিষ্ণুই বিশ্বরূপ দেখাতে সক্ষম। অবশেষে বিষ্ণু দেবীকে তাঁর বিশ্বরূপ দেখালেন। তারপর তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়।

 

আবার লৌকিক মতে দেবী লক্ষী শিব দুর্গার সন্তান তাই দেবী দুর্গার সাথে মর্তে আসেন দূর্গা পুজোর সময়ে এবং বিজয়ার পর কোজাগরী পূর্ণিমায় দেবীর পুজো হয়। দেবী লক্ষী প্রসন্ন হলে অর্থ সম্পদ এবং সমৃদ্ধি লাভ হয়।

 

পুরান মতে কুবের ধন সম্পদের রক্ষাকর্তা তবে ধন সম্পদ বা ঐশর্য দেয়ার অধিকারিণী লক্ষী স্বয়ং। শাস্ত্র মতে লক্ষীর আশীর্বাদ এবং কৃপায় ধন সম্পদ লাভ হয়।

 

সবাই শাস্ত্র মতে দেবী লক্ষীর আরাধনা করুন।দেবী লক্ষীর কৃপায় সব অমঙ্গল এবং দারিদ্রতা দুর হবে। সবাইকে জানাই লক্ষী পুজোর শুভেচ্ছা।

 

ফিরে আসবো পরের পর্বে।আসন্ন কালী পুজো উপলক্ষে শুরু করবো কালী কথা। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

অষ্ট লক্ষীর শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা 

অষ্ট লক্ষীর শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

লক্ষীপুজো উপলক্ষে আজ আপনাদের দেবী লক্ষীর আটটি ভিন্ন রূপে ব্যাখ্যা করবো।একত্রে এই রুপ গুলিকে অষ্ট লক্ষী বলা হয়।

 

১- আদি লক্ষ্মী বা মহালক্ষ্মী — তিনি বিষ্ণুপ্রিয়া। বিষ্ণুর সঙ্গেই তিনি চিত্রিত হন।আদি লক্ষী বা মহা লক্ষী হলো মা লক্ষীর আদি রূপ । এই মা লক্ষী হলেন অফুরন্ত ধনসম্পদের অধিষ্ঠাত্রী|

 

২. ধনলক্ষ্মী বা ঐশ্বর্য্যলক্ষ্মী — সম্পদ ও সমৃদ্ধির দেবী।এই দেবীর ছটি হাত এবং মূলত লাল শাড়িতেই অধিষ্ঠাত্রী। প্রতিটি হাতে থাকে একে একে চক্র, শঙ্খ, একটি ঘট বা পবিত্র কলসি, তীর ধনুক এবং একটি পদ্ম। সর্বশেষ হাতটি অভয় মুদ্রার ন্যায় রাখা এবং তা থেকে সোনার মোহর বা মুদ্রা উৎপন্ন হয়।

 

৩.ধান্যলক্ষ্মী—ইনি শস্যর দেবী।শস্য ভালো হয়

আর্থিক কষ্ট লাঘব হয় এই রূপের পুজো করলে|এই দেবী খাদ্যশস্যর প্রতীক।ধান্য লক্ষী দেবীর দুই হাতে থাকে শস্য এবং এই দেবীর পরনে থাকে শস্যের রঙের সবুজ শাড়ি|

 

৪. গজলক্ষ্মী— গজ বা হাতির সঙ্গে তাঁকে কল্পনা করা হয়। ব্যক্তির শ্রীবৃদ্ধি ঘটে তাঁর কল্যাণে|। এই দেবী হাতির ওপর সরাসরি অধিষ্ঠাত্রী না হলেও, তার চারিদিক বেষ্টিত থাকে হাতি দ্বারা। রাজকীয় ধন সম্পদের প্রতীক এই দেবী। কথিত আছে সমুদ্র মন্থন কালে ভগবান ইন্দ্রের হারিয়ে যাওয়া ধন সম্পদ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এই দেবী|

 

৫. সন্তানলক্ষ্মী— সন্তানভাগ্য নিরূপণ করেন এই দেবীরূপ। ভালো সন্তান লাভ হয় এই দেবী সন্তুষ্ট হলে।

 

৬. বীরলক্ষ্মী— সাহসদাত্রী দেবী।সাহস ও আত্মবিশ্বাস যোগান|এই দেবীর আরাধনা মনের শক্তি এবং ধৈর্য্য যোগায় যা জীবনের কঠিন এবং ভালো সময়কে সঠিকভাবে পরিচালনা করার শক্তি যোগায়|

 

৭. বিদ্যালক্ষ্মী—বিদ্যা লক্ষী জ্ঞানের দেবী। বিদ্যা লাভ হয় এই দেবীর পূজায়|বিদ্যার প্রতীক এই দেবী। সরস্বতী ঠাকুরের মতোই এই দেবী পদ্মের ওপর সাদা শাড়িতে অধিষ্টাত্রী হন|

 

৮. বিজয়লক্ষ্মী বা জয়লক্ষ্মী— ইনি বিজয়ের অধিষ্ঠাত্রী|বিজয় লাভ হয় এই দেবীর আশীর্বাদে|

এই দেবী সর্বদা বিজয়এর প্রতীক স্বরূপ। কোনো সমস্যার থেকে মুক্তি পেতে বা বড়ো সাফল্য পেতে এই দেবীর পূজা হয়ে থাকে|

 

অর্থাৎ দেবী লক্ষীর এই প্রতিটি রূপের নিজস্ব ব্যাখ্যা ও পুজোর উদ্দেশ্য রয়েছে।

 

আগামী পর্বে দেবী লক্ষী সংক্রান্ত আরো অনেক পৌরাণিক এবং শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নিয়ে ফিরে আসবো।

 

সবাইকে জানাই লক্ষী পুজোর শুভেচ্ছা।পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দেবী লক্ষীর বাহন এবং তার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা 

দেবী লক্ষীর বাহন এবং তার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

দেবী দুর্গা কইলাশে ফিরে যাওয়ার পরেই আবার ফিরে আসেন তার কন্যা লক্ষী। অনেকে মজা করে বলেন ব্যয়বহুল দুর্গাপুজোর পর বাঙালির অর্থ ভাণ্ডারে যখন টান পরে তখন ধন সম্পদের দেবী লক্ষী আসেন অর্থ এবং সম্পদ দান করতে। তবে তিনি একা আসেন না। সঙ্গে আসেন তার বাহন প্যাঁচা।কিন্তু এতো প্রাণী থাকতে কেনো দেবী লক্ষীর বাহন প্যাঁচা? তার অনেক গুলি কারন ও শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা আছে।আজ সেই নিয়ে লিখবো।

 

একটি সাধারণ ব্যাখ্যা মতে বলা হয় ধান বাঙালির কাছে লক্ষী কিন্তু এই ধান ইঁদুরে খেয়ে ফেলে ধানের গোলায় ইঁদুর ঢুকে নষ্ট করে খাদ্যশস্য তাই ধানের শত্রু ইঁদুর। আর ইঁদুরকে খায় পেঁচা অর্থাৎ ধানকে রক্ষা করে ইঁদুরের হাত থেকে। তাই লক্ষ্মী দেবীর বাহন এই রাত জাগা পাখি।

 

তবে লক্ষ্মীদেবীর বাহন হিসেবে পন্ডিতদের যে মতটি সর্বাধিক গ্রহনযোগ্য তা হলো যিনি লক্ষ্মী গুন অর্থাৎ সত্য প্রেম পবিত্রতা তপস্যা তিতিক্ষা পেতে চান তাকে পেচক ধর্ম পালন করতে হবে অর্থাৎ জাগতিক বস্তু থেকে একটু দূরে থেকে নির্জনে যোগৈশ্বর্য ও সাধন সম্পদ রক্ষা করতে হয়। পেঁচা যদি দিনের বেলায় বের হয় অন্যান্য পাখিরা তাকে তাড়া করে তাই অতি গোপনে পেচা বাস করে। সেরকমই পূর্ণতা লাভ না করা পর্যন্ত জাগতিক বিষয় ব্যক্তির দৈব সম্পদ নষ্ট করে।এসব কারনে পেচাকে লক্ষীর বাহন হিসেবে রেখে দিয়েছেন কারন পেঁচা নিঃশব্দে, অন্ধকারে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থেকে এগিয়ে যায় এবং প্রচারের আড়ালে থাকে।

 

শাস্ত্রে আরো বিস্তারিত ব্যাখ্যা আছে।ঋগ্বেদে বলা হয়েছে, পেঁচা আসলে যমের দূত। যম মানে সংযম, যম মানে ধর্ম। ধনোপার্জনের ক্ষেত্রেও সংযম,বুদ্ধি এবং ধর্মীয় চেতনা অপরিহার্য এই গুনগুলির প্রতীক পেঁচা। যমদূত পেচক তাঁর নিজের বৃত্তি ও প্রভুর ধর্মের কথা স্মরণ করিয়ে মৃত্যুচিন্তা ও আত্মচিন্তা জাগ্রত করে মানুষের মনে তাই সে লক্ষীর বাহন হিসেবেও স্থান পেয়েছে।

 

আবার লৌকিক মতে কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে মা লক্ষ্মী খোঁজ নেন কে জাগ্রত রয়েছে। জেগে থাকা ব্যক্তিকেই তিনি ধন সম্পদ দেন।পেঁচা নিশাচর, প্রতি রাতেই জেগে থাকে। দিনে ঘুমায় তাই প্যাঁচাকে দেবী নির্বাচন করেছেন তার বাহন রূপে|

 

আগামী পর্ব গুলিতে লক্ষী পুজো সম্পর্কে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

বিজয়া দশমীর শাস্ত্রীয় এবং আধ্যাত্মিক তাৎপর্য 

বিজয়া দশমীর শাস্ত্রীয় এবং আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

পন্ডিত ভৃগুশ্রী জাতক

আজ বিজয়া দশমী। আজ সব বাঙালির মন খারাপ করা একটা দিন কারন মা দুর্গা ফিরে যাবেন কৈলাশে। তবে শাস্ত্র মতে দিনটি গৌরবের। আজ আসুন জেনে নিই এই বিজয়া দশমীর শাস্ত্রীয় এবং আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের দশমী তিথিতে পিতৃ গৃহ ছেড়ে কৈলাসে স্বামীগৃহে পাড়ি দেন দেবী|তাই দশমী শব্দটি ব্যবহিত হয়। আবার পুরান অনুসারে নয় দিন ও নয় রাত্রি যুদ্ধ করার পর দশম দিনে দেবী মহিষাসুরকে বধ করে বিজয় লাভ করেন|অর্থাৎ বিজয়া রূপে আত্মপ্রকাশ করেন|তাই এই দিন টি বিজয়া দশমী রূপে চিহ্নিত হয়|

আগে রাজা জমিদার রা তাদের বাড়ির পুজোতে দশমীর দিন নীল কণ্ঠ পাখি ওড়াতো কারন

রামায়ণ অনুসারে রাবণকে বধ করার সময়

রাম নীলকন্ঠ পাখি দেখতে পেয়েছিলেন। তাই এই পাখিকে শুভ শক্তির প্রতীক বলে মনে করা হয়ে থাকে। দশমীর দিন যদি নীলকন্ঠ পাখি দেখতে পাওয়া যায় তাহলে পাপ মুক্তি ঘটে এবং মনের সমস্ত সাধ পূরণ হয় বলে বিশ্বাস।

আবার পুরান অনুসারে সমুদ্র মন্থন করা হয়, তখন দেবাদিদেব সেই বিষ পান করেন এবং তাঁর কণ্ঠ নীল বর্ণের হয়ে যান। তাই তাঁকে নীলকন্ঠ বলা হয়ে থাকে। আর এই নীলকন্ঠ পাখিকে তাঁরই প্রতিরূপ মনে করা হয়। গ্রাম বাংলার লৌকিক রীতি অনুযায়ী বিজয়ার দিন দেবীর নিরঞ্জনের আগে যদি নীলকন্ঠ পাখি ওড়ানো হয় তাহলে সেই পাখি কৈলাশে গিয়ে মহাদেবকে খবর দেবে যে তাঁর ঘরণী ফিরছে।

আবার উত্তর ও মধ্য ভারতে এই দিনে দশেরা উদযাপিত হয়|’দশেরা’ শব্দটির উৎপত্তি সংস্কৃত শব্দ ‘দশহর’ থেকে এবং এখানে মূলত রাম কতৃক দশানন রাবন বোধের দিনটিকে উদযাপন করা হয়|বাল্মীকি রামায়ণ অনুসারে আশ্বিন মাসের শুক্লা দশমী তিথিতেই লঙ্কেশ্বর রাবণকে বধ করেছিলেন।

অর্থাৎ এই দিনর শাস্ত্রীয় এবং আধ্যাত্মিক মাহাত্ম অপরিসীম। এটি শুভ শক্তির বিজয়ের দিন

তাই হয় তো স্নেহের আলিঙ্গন এবং মিষ্টি বিতরণের প্রচলন|তবু মন খারাপ থাকতেই পারে কারন নয় দিন ব্যাপী উৎসবের আজ সমাপ্তি|

সবাইকে জানাই শুভ বিজয়া।আধ্যাত্মিক, পৌরাণিক এবং শাস্ত্রীয় নানা বিষয় নিয়ে ধারাবাহিক লেখা চলতে থাকবে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

নব রাত্রি – দেবী সিদ্ধিদাত্রী

নব রাত্রি – দেবী সিদ্ধিদাত্রী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

নব রাত্রি উপলক্ষে শুরু করা বিশেষ ধারাবাহিক অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে আপনাদের স্বাগত।নবদুর্গার নবম তথা শেষ রূপ হল সিদ্ধিদাত্রী।

আজকের পর্বে দেবীর এই বিশেষ রূপটি

নিয়ে লিখবো।

 

দেবী সিদ্ধিদাত্রী সিংহবাহিনী দেবীর চার হাতে আশীর্বাদ মুদ্রা। তিনি সিদ্ধি দান করেন। তিনি সবাইকে বরাভয় দেন।সিদ্ধি দাত্রী রূপে দেবী

স্নিগ্ধ এবং শান্ত।

 

দেবী সিদ্ধি দান করেন তাই তিনি সিদ্ধিদাত্রী |

দেবী ভগবত্‍ পুরাণে আছে, স্বয়ং মহাদেব দেবী পার্বতী কে সিদ্ধিদাত্রী রূপে পুজো করেছিলেন|এবং তার ফলে মহাদেব সকল সিদ্ধি লাভ করেন|

 

যদিও বিভিন্ন পুরাণে দেবীর ভিন্ন রূপ বর্ণিত, কোথাও তিনি অষ্টভুজা, তো কোথাও তিনি অষ্টাদশভুজা আবার কোথাও দেবী ‘সিদ্ধিদাত্রী’ চতুর্ভুজা রূপেও পূজিত।দেবীর চতুর্ভুজা রূপটি শাস্ত্র সম্মত ভাবে সর্বাধিক জনপ্রিয় এবং সর্বত্র পূজিতা।

 

দেবীর উপাসনায় সংসারে আসে সুখ এবং সমৃদ্ধি এবং সকল সিদ্ধি লাভ হয়| যারা কর্ম ক্ষেত্রে উন্নতি চায় শিক্ষা ক্ষেত্রে সমস্যা থেকে মুক্তি চায় এবং প্রকৃত জ্ঞান লাভ করতে চায় তারা দেবীর এই রূপের আরাধনা করতে পারেন|

 

দেবী সিদ্ধিদাত্রীর আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য,নব রাত্রিতে দেবীর উদ্দেশ্যে গন্ধম, পুষ্পম, দীপম, সুগন্ধম এবং ভোগ নিবেদন করে পঞ্চোপচার পূজা করতে পারেন।তাছাড়া সিঁদুর, মেহেন্দি, কাজল নিবেদন করতে পারেনা তাতে আপনাদের বিবাহিত জীবনে সুখের হবে দেবীর আশীর্বাদে|

 

পদ্মাসনে বসা দেবীকে তিলের তৈরি নাড়ু বা খাবার ভোগ হিসেবে দেওয়ার চল রয়েছে। মনে করা হয়, তাতে ভক্তের শারীরিক ও মানসিক পীড়া দুর হয়|পরিবারের ও কল্যান হয়|

 

আসন্ন লক্ষী পুজো এবং কালী পুজো উপলক্ষে নানা শাস্ত্রীয় এবং পৌরাণিক বিষয় নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা চলতে থাকবে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

নব রাত্রি – দেবী মহাগৌরী

নব রাত্রি – দেবী মহাগৌরী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

দেবীর অষ্টম রূপ হল মহাগৌরী রূপ।দেবী কালরাত্রির উগ্রতা এবং ক্রোধ ত্যাগ করে দেবী মহা গৌরী রূপে শান্তি এবং মৈত্রীর বার্তা দেন।

 

মহাগৌরী শব্দের আভিধানিক অর্থ ধরলে মহা মানে মহান। আর গৌরী মানে ফর্সা।এই দেবীর রূপ এতই ফর্সা যে তাঁকে শঙ্খ, চাঁদ আর জুঁই ফুলের সঙ্গে তুলনা করা হয়।

 

শাস্ত্র মতে হিমায়লকন্যা ছিলেন গৌরবর্ণা। শিবের জন্য কঠোর তপস্যা করে রৌদ্রে তিনি কৃষ্ণবর্ণা হন| মহাদেব যখন গঙ্গাজল দিয়ে তাকে স্নান করান, তখন তিনি হয়ে ওঠেন পুনরায় গৌর বর্ণা|দেবীর এই রূপের নাম হয় মহাগৌরী|

 

দেবী এই রূপে হাতির পিঠে চার হাতে অস্ত্র নিয়ে বিরাজ করেন |আগেই বলেছি মহা গৌরী গায়ের রং শ্বেতবর্ণ, তিনি শান্ত প্রকৃতির দেবী। আট বছরের বালিকা রূপে তিনি পূজিতা হন। দেবীর এক হাত শোভিত বরাভয় মুদ্রায়। বাকি তিন হাতে থাকে পদ্ম, ত্রিশূল এবং ডমরু।

 

শাস্ত্র মতে এই রূপের পুজোয় কেটে যায় বিবাহ সম্পর্কিত বাধা।যাদের বিবাহে বিলম্ব বা বাঁধা আসছে অথবা বিবাহিত জীবন সুখের নয় তারা এই দেবীর আশীর্বাদে সমস্যার সমাধান পেতে পারেন।দেবী পরম পবিত্রতার প্রতীক এবং

অত্যন্ত করুণাময়ী।সাধকরা মনে করেন দেবী পার্বতীর এই স্বরূপ পরমসাত্ত্বিকের আধার।

তার দর্শন মাত্র মনের ভয় এবং অশান্তি দুর হয়।

 

কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের কাছে অন্নপূর্ণা মন্দিরে দেবী মহা গৌরী বিরাজ করছেন।অনেকেই কাশীতে আসেন দেবীর আশীর্বাদ পেতে।

 

নব রাত্রি উপলক্ষে বিশেষ পর্বে দেবীর পরবর্তী রূপ নিয়ে।ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।