কলকাতার কালী – চীনে কালী মন্দির

153

শুরুতেই এই কলকাতার কালী শীর্ষক ধারাবাহিক লেখনী যে আপনাদের এতো প্রশংসা ও সমাদর পাবে ভাবিনি|আপনাদের ভালো লাগা বরাবরই আমাকে উৎসাহিত করে আরো বেশি আধ্যাত্মিক চর্চা করতে এবং নতুন নতুন বিষয় আপনাদের সামনে তুলে ধরতে|আজ এই ধারাবাহিক লেখার নতুন পর্বে কলকাতার এক প্রাচীন ও অভিনব একটি কালী মন্দিরের কথা লিখবো|আজ চীনে কালী মন্দির|

কলকাতার ট্যাংরা অঞ্চলে রয়েছে চায়না টাউন যেখানে বহু বছর থেকে চীন দেশীয় মানুষেরা বসবাস করছেন|যদিও মনে প্রানে এবং দৈনন্দিন জীবন শৈলীর দিক দিয়ে তারা হয়ে উঠেছেন ভারতীয় এবং অবশ্যই বাঙালি|বঙ্গ সংস্কৃতির সঙ্গে চৈনিক সংস্কৃতির একে অদ্ভুত মেল বন্ধন চোখে পড়ে কোলকাতার এই বিশেষ অঞ্চলে|আর এই অঞ্চলেই রয়েছে এক অদ্ভুত কালী মন্দির যা চীনারাই মূলত প্রতিষ্ঠা করেন এবং মন্দিরের দেখা শোনার দায়িত্ব তারাই নিয়েছেন|এই মন্দির চীনে কালী মন্দির বা চাইনিস কালী মন্দির নামে প্রসিদ্ধ|

এই মন্দির গড়ে ওঠার মুলেও রয়েছে এক অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ|শোনা যায় প্রায় ষাট বছর আগে এখানে একটি সিঁদুর মাখা কালো পাথরকে পুজো করতো স্থানীয়রা|প্রচলিত কিংবদন্তি অনুসারে, একবার একটি বছর দশে‌কের কিশোরকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই পাথরটির কাছে নিয়ে আসেন তার বাবা-মা। ডাক্তারেরাও নাকি বলেছিলেন তার মৃত্যু আসন্ন উপায়ান্তর না দেখে শিশুটির বাবা-মা পাথরটির সামনে শিশুটিকে রেখে বিরামহীন পূজার্চনা শুরু করেন। তারপরেই ঘটে এক অলৌকিক ঘটনা ছেলেটি আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে ওঠে এবং তার বাবা মার কোলে ফিরে যায়|এই ঘটনা লোক মুখে জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং পরবর্তীতে ওই স্থানে নির্মিত হয় আজকের কালী মন্দিরটি ও স্থাপিত হন দেবী কালী|সেই পাথর ও স্থান পায় মন্দিরে| রয়েছে একটি মহাদেবের মূর্তিও|

মন্দিরের প্রধান সেবকের দায়িত্বে রয়েছেন একজন চৈনিক ব্যক্তি|এখন মন্দিরে প্রতিদিন সন্ধ্যা আরতি হয়|পূজা হয়|এছাড়া দীপাবলির দিনে বা কালী পূজা উপলক্ষে বহু মানুষ সমবেত হন এই মন্দিরে যার মধ্যে চীনা মানুষ দের সংখ্যা চোখে পড়ার মতো|এখানে বৌদ্ধ তন্ত্র ও হিন্দু তন্ত্র মতে দেবীর পূজা হয়|শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এই মন্দিরে দেবীর ভোগ হিসেবে নুডলস সহ বহু চাইনিস খাবার ব্যবহিত হয়ে আসছে বহু কাল ধরে|কলকাতার বুকে এ এক অদ্ভুত ও বিরল সংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় মিলন ক্ষেত্র|

আজকের পর্ব এখানেই শেষ করছি আগামী পর্বে ফিরবো এক নতুন কালী মন্দির ও তার অজানা গল্প নিয়ে|আপাতত বারাসাতে আমার গৃহ মন্দিরে এবং গড়িয়ায় আমার চেম্বারে নিয়মিত বসছি|আর অনলাইনে আছি যেমন টা ছিলাম আগে|জ্যোতিষ পরামর্শ বা প্রতিকারের জন্য উল্লেখিত নম্বরে ফোন করে সরাসরি আমার সাথে কথা বলতে পারেন|ভালো থাকুন| ধন্যবাদ|