দেবী অন্নপূর্ণা

666

দীর্ঘ দিন ধরে দেবী আদ্যা শক্তির বিভিন্ন রূপ এবং শক্তি পীঠ নিয়ে আমি বহু আধ্যাত্মিক লেখা লিখছি ধারাবাহিক ভাবে যা ইতিমধ্যে পাঠক মহলে বেশ সমাদৃত হয়েছে|সামনেই নব রাত্রি দূর্গা,পূজা এবং দীপাবলি|এই বিশেষ সময়ে আজ আমি আপনাদের জন্য একটি বিশেষ পর্ব নিয়ে উপস্থিত আজ দেবীর একটি বিশেষ রূপ অন্নপূর্ণাকে নিয়ে লিখবো|জানবো তার স্বরূপ, তার উৎপত্তির রহস্য ও পৌরাণিক ব্যাখ্যা এবং বাংলার অন্নপূর্ণা পূজার প্রচলনের প্রাচীন ইতিহাস|

অন্নপূর্ণা দেবী দুর্গারই একটি রূপ|দেবী মূলত দ্বিভূজা তার বামহাতে সোনার অন্নপাত্র এবং ডান হাতে চামচ তিনি ক্ষুধার্ত মহাদেবকে অন্নদান করছেন|দেবীর মাথায় বিরাজিত অর্ধচন্দ্র|মনে করা হয় চৈত্র শুক্লাষ্টমীতিথি হলো দেবীর আবির্ভাব তিথি এই তিথি তেই মূলত তন্ত্র মতে দেবীর পুজো অনুষ্ঠিত হয় সর্বত্র| 

মার্কেণ্ডেয় পুরাণের কাশীখণ্ড দেবীভাগবত পুরান অনুসারে দেবী অন্নপূর্ণার উৎপত্তি জড়িত কাশী প্রতিষ্ঠার সূচনাকালের সাথে|কথিত আছে একবার যোগিরাজ শিব ভিক্ষুক বেশে ভিক্ষা করতে করতে কাশী তে এলেন এবং ক্ষুদার্থ অবস্থায় অন্নপুর্ণার হাত থেকে অন্ন খেয়ে পরিতৃপ্ত হলেন|তারপর পরিতৃপ্ত শিব স্বয়ং নিজের উদ্যোগে কাশীতে অন্নপূর্ণা মন্দির প্রতিষ্ঠা করলেন|চৈত্র শুক্লাষ্টমীতিথিতে কাশীতে শুরু হয় দেবী অন্নপূর্ণার পূজা|ক্রমেই অন্নপূর্ণার মাহাত্ম ও তার পূজা ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র|আজ কাশীর অন্নপূর্ণা মন্দির জগৎ বিখ্যাত|

কাশীতে সৃষ্টি হলেও দেবী অন্নপূর্ণার সাথে বাংলার সম্পর্ক অতি প্রাচীন ও গভীর বিখ্যাত তন্ত্রসার গ্রন্থে অন্নপূর্ণা পুজোর বিশদ বিবরণ রয়েছে দেবীর মাহাত্ম্যগাথা নিয়ে পরবর্তীতে রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র রায় রচনা করেছিলেন তার বিখ্যাত অন্নদামঙ্গল গ্রন্থ|বাংলায় অন্নপুর্ণা শস্যদেবী|বহু প্রাচীন কাল থেকেই বাংলায় নবান্ন উৎসবের সময় এই অন্নপূর্ণার পুজো হয়ে আসছে|আজও গ্রাম বাংলায় প্রথা মেনে ফসল তোলার পরই দেবীর হাতে ধানের পাকা শিষের গুচ্ছো দিয়ে পুজো হয়|এই প্রথা কাশীতেও আছে|

কিছু পুরান বিশেষজ্ঞ ও শাস্ত্রজ্ঞর মতে দেবীর অন্নপূর্ণা আসলে বাংলার লৌকিক দেবী তবে ঐতিহাসিক ভাবে অন্নপূর্ণার পুজো বঙ্গদেশে প্রচলন করেছিলেন মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের পূর্বসুরী ভবানন্দ মজুমদার এবং পরবর্তীতে মহারাজ কৃষ্ণ চন্দ্রের চেষ্টায় দেবী অন্নপূর্ণার পূজা অনেক বেশি জনপ্রিয়তা ও প্রসার লাভ করে|
এই দেবীর পূজা বাংলা তথা কোলকাতার বহু বনেদি ও জমিদার পরিবারেও শুরু হয় যার মধ্যে রানী রাসমণির পরিবার ও শেওড়াফুলি রাজবাড়ী অন্যতম|

সারা বিশ্বের সনাতন ধর্মের মানুষ অন্তর থেকে বিশ্বাস করে নিষ্ঠা ও ভক্তি সহকারে দেবী অন্নপূর্ণার পূজা করলে কোনোদিনও অন্নাভাব হয় না|

আজকের বিশেষ পর্ব এখানেই শেষ করছি| অনেকেই ইতিমধ্যে যোগাযোগ করছেন আসন্ন এই গুরুত্বপূর্ণ তিথিতে জ্যোতিষ পরামর্শ ও প্রতিকারের জন্যে|সবাইকে জানিয়ে রাখি তিথি নক্ষত্র মেনে এবারও হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মায়ের মন্দিরে শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খন্ডন হবে|এই গুরুত্বপূর্ণ সময় কে যারা কাজে লাগাতে চান অবশ্যই উল্লেখিত নাম্বারে যোগাযোগ করে আমার সাথে সরাসরি কথা বলুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|