বাংলার কালী – নীলু ভুলুর কালী পুজো

19

বাংলার কালী নিয়ে বলতে গিয়ে বার বার উঠে এসেছে ডাকাত কালী নিয়ে আলোচনা। তার মধ্যে জেলার প্রসিদ্ধ ডাকাত কালীর পুজো গুলো নিয়েই আলোচনা হয়েছে বেশি। তবে কলকাতাও পিছিয়ে নেই এক সময়ে এই খাস কলকাতাতেও চলে ফিরে বেড়াত ডাকাতরা। আর সেসব ডাকাতরাও পুজো করতেন কালীর।আজ এমনই এক পুজোর কথা বলবো। এই পুজো বিখ্যাত ছিলো নীলু ভুলুর পুজো নামে।

 

নীলু ভুলু ছিলো দুই ডাকাতের নাম তারা একসাথে দল বেঁধে ডাকাতি করতো জন্মসূত্রে তারকেশ্বরের সাথে যোগ থাকলেও তাদের খ্যাতি এবং কর্মকান্ড ছড়িয়ে পড়েছিল কলকাতা পর্যন্ত চেতলা অঞ্চলে এক কালী মন্দির গড়ে তারা পুজো করতো।এই অঞ্চলের ত্রাস হয়ে উঠেছিলো নীলু ভুলু।

 

চেতলা বাজার অঞ্চলের চেতলা রোডে অবস্থিত এই কালী মন্দির। এখানে কালী মূর্তিটি চব্বিশ ফুট উঁচু।নীচের বেদিটি অসুর মুণ্ডু দিয়ে তৈরি। উগ্রচণ্ডা রূপে দেবী সেই বেদীর উপরে স্বামী সহ বিরাজ করছেন।তবে সব থেকে যে বিষয়টি ব্যতিক্রমী তা হলো এখানে দেবী কালী মূর্তির হাতপা বাঁধা থাকে শেকল দিয়ে।

 

দেবীকে কেনো শেকলে বেঁধে রাখা হয়েছে তা নিয়ে একটি জনশ্রুতি প্রচলিত আছে।শোনা যায় এখানে নাকি এক সময় চলে ফিরে বেড়াতেন মা কালী। পুরোনো দিনের অনেক মানুষই নাকি মাকে শিবের বুক থেকে নেমে মন্দিরে হেঁটে চলে বেড়াতে দেখেছেন । তাই মনে করা হয় হয় মা কালী যাতে মন্দির ছেড়ে চলে যেতে না পারেন তাই সেইসময়ের ডাকাতরা মাকে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখার ব্যবস্থা করেছিল। আজও তাই মায়ের হাত পা শেকল দিয়ে বাঁধা আছে ।

 

এই প্রাচীন কালী মন্দির নিয়ে অনেক কিংবদন্তী আছে।একবার তারকেশ্বর যাওয়ার পথে মা সারদাকে নীলু ও ভুলু নামের দুই ডাকাত ধরে নিয়ে তাদের আখড়ায় বেঁধে রাখে বলে শোনা যায়।

পরে ডাকাতরা দেখে মা সারদার জায়গায় বসে স্বয়ং মা কালী। এরপর নিজেদের ভুল বুঝতে

পেরে তারা মা সারদাকে ছেড়ে দেয়।

 

বাংলার ডাকাত কালী পুজো গুলির মধ্যে এই পুজো নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান

অধিকার করে আছে।

 

ফিরে আসবো বাংলার কালীর পরবর্তী পর্ব নিয়ে যথা সময়ে। থাকবে এক ঐতিহাসিক কালী পুজো নিয়ে আলোচনা।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।