শিবচতুর্দশী – শিব ও কামদেব

386

দেবাদিদেব মহাদেবের ক্রোধের সম্মুখীন হয়ে একাধিক অসুর ও দৈত্য যেমন পরাজিত ও নিহত হয়েছে তেমনই দেবতারাও রক্ষা পাননি মহাদেবের ক্রোধাগ্নি থেকে|আজকের পর্বে বলবো কিকরে প্রেমের দেবতা কামদেব মহাদেবের কাছে স্বাস্তি পেয়েছিলেন সেই গল্প|বিভিন্ন পুরান ও ধর্ম গ্রন্থ থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে দুরকম ভাবে এই ঘটনাকে ব্যাখ্যা করা যায়|কিছু শাস্ত্রে উল্লেখ আছে দেবী পার্বতী শিবকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তপস্যায় মগ্ন শিব তার দিকে মনোযোগ দেননি।পার্বতীর এই প্রচেষ্টা দেখে প্রেমের দেবতা কামদেব এগিয়ে এসে শিবের দিকে ফুলের তীর নিক্ষেপ করেন,যাকে শাস্ত্রে মদন বান বলে উল্লেখ করা হয়েছে এই বানের আঘাতের ফলে শিবের তপস্যা ভেঙে যায়। তপস্যা ভঙ্গের কারণে শিব ক্রুদ্ধ হন এবং তিনি তার তৃতীয় চোখ দিয়ে কামদেবকে ক্রোধের আগুনে ভস্মীভূত করেন।তারপর কামদেবের স্ত্রী রতি ভগবান শিবকে পুজো করে সন্তুষ্ট করে বলেছিলেন, কামদেব নির্দোষ, বরং তিনি কেবল মা পার্বতীকে সাহায্য করেছিলেন। দেবাদিদেব এই প্রার্থনায় কিছুটা অনুতপ্ত হন এবং কামদেবকে পরের জন্মে শ্রী কৃষ্ণের পুত্র প্রদ্যুম্ন রূপে জন্মগ্রহণ করার বর দেন।শাস্ত্র মতে হোলি উৎসবের সাথে এই ঘটনার সম্পর্ক আছে ভগবান শিবের তপস্যা ভঙ্গের আনন্দে সমস্ত দেবতারা রং দিয়ে উদযাপন করেছিলেন যার পর থেকে হোলি শুরু হয়| দ্বিতীয় আরেকটা ব্যাখ্যা আছে যেখানে বলা হয় তারকাসুর নাম এক দৈত্য ব্রহ্মার বরে কেবল শিবপুত্রের হাতে নিহত হবার বরদান পেয়েছিলো। কিন্তু তখন ভগবান শিব ও মাতা পার্বতীর বিবাহ হয় নি। দেবী পার্বতী রোজ আসতেন হিমালয়ের দুর্গম এলাকায় ভগবান শিবের সাধনা স্থলে শিবপূজো করতে। কিন্তু ভগবান শিব মাতা পার্বতীকে চেয়েও দেখেন না। দেবতাদের মধ্যে চিন্তা জাগল এখন কিভাবে শিব পার্বতীর মধ্যে বিবাহ হবে এবং তাদের পুত্রের জন্ম হবে যার হাতে তারকাসুরের বধ হবে। দেবতাদের পরামর্শে ভগবান শিবের হৃদয় পরিবর্তনের ভার পড়লো কামদেবর উপরে|যথা সময়ে মদন দেব সস্ত্রীক ঋতুরাজ বসন্তকে সঙ্গে নিয়ে|ঋতুরাজ বসন্ত হিমালয়ে তুষারাবৃত স্থানে সৃষ্টি করলেন বসন্তের অনুপম প্রকৃতি । মদন ও রতিদেবী ধরলেন মিলনের নৃত্যগীত। একে একে মদনদেব পুষ্পধনু থেকে পঞ্চবাণ নিক্ষেপ করলেন। ধ্যান ভঙ্গ হলো মাহাদেবের এবং রেগে গিয়ে তিনি কামদেব কে তার তৃতীয় নয়ন দিয়ে ভস্ম করে দিলেন|পরবর্তী পর্ব অবশ্য সব জায়গায় একই রতিদেবী ভগবান শিবের কাছে কাতর অনুনয় বিনয় করেন। মহাদেবের আশীর্বাদে দ্বাপর যুগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পুত্র রূপে জন্মে কামদেব নিজ শরীর ফিরে পেয়েছিলেন।ফিরে আসবো পরের পর্বে শিবের মহিমা ব্যাখ্যা করবো নানা পৌরাণিক ঘটনার মধ্যে দিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|