শিব চতুর্দশী বিশেষ পর্ব – মহাদেবের কুমির রূপ

223

দেবাদিদেবের বহু লীলার মধ্যে আজ একটি অদ্ভুত লীলা প্রসঙ্গে আপনাদের বলবো, কথিত আছে একবার ধ্যানমগ্ন পার্বতীর মধ্যে কতোটা দয়া এবং মায়া বর্তমান আছে তার পরীক্ষা নিয়েছিলেন স্বয়ং মহাদেব এবং তিনি এই এই পরীক্ষা নিতে কুমিরের রূপ ধরে ছিলেন|আজ জানাবো মহাদেবের এই বিশেষ লীলার কথা|একবার দেবী পার্বতী যে পর্বতে বসে নিজের সাধনা করতেন তার পাশেই একটি শিশু জলাশযয়ে নেমে জলের মধ্যে খেলা করছিল। হটাৎ একটি বিশাল আকৃতির কুমির শিশুটির পা কামড়ে ধরে এবং শিশুটি তার ফলে খুব কাঁদতে শুরু করে।দেবী পার্বতী ওই ছোট্ট শিশুটির ক্রন্দনরত অবস্থা দেখে ধ্যান থেকে বিরত হন এবং তিনি এগিয়ে এসে বাচ্চাটিকে ছেড়ে দেয়ার জন্য কুমিরটির কাছে বিশেষভাবে অনুরোধ করতে থাকেন।কাতর হয়ে কাঁদতে কাঁদতে শিশুটিও দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন যে তাকে যেন সে কুমিরের হাত থেকে তিনি রক্ষা করেন।দেবীর কথা শুনে কুমিরটি দেবীকে বলে একটিমাত্র শর্তে সে বাচ্চাটিকে ছাড়তে পারে। দেবী হাজার হাজার বছর ধরে তপস্যা করে যে শক্তি ও ফল সঞ্চয় করেছেন সেটি সম্পূর্ণ কুমিরটিকে দিয়ে দিতে হবে। দেবী সেটা শুনে রাজি হয়ে যান এবং বলেন আমি আমার সমস্ত তপস্যার ফল তোমাকে দিতে রাজি আছি শুধু তুমি এই বাচ্চাটিকে মুক্তি দাও এই কথা বলেই দেবি নিজের সমস্ত তপস্যার ফল কুমিরটিকে দিয়ে দেন। এবং বাচ্চাটি কে কুমিরের কবল থেকে মুক্ত করেন।কুমিরটি দেবীর এই রুপ আচরণের কারন জিগেস করলে দেবী জানান তিনি পুনরায় আবার তপস্যা মগ্ন হয়ে পুণ্যফল অর্জন করতে পারবেন বাচ্চাটির প্রাণ গেলে সে তার প্রাণ কখনই ফেরত পাবে না।দেবী পার্বতীর কথা শেষ হতেই কুমির এবং বাচ্চাটি সেখান থেকে উধাও হয়ে যায়| দেবী কিছুটা অবাক হন এবং সেই স্থান ত্যাগ করে পাহাড়ের উপরে আবার নিজের ধ্যান শুরু করার জন্য এগোতে থাকেন।সেই সময়ে দেবীর সামনে স্বয়ং দেবাদিদেব মহাদেব উপস্থিত হন।দেবী পার্বতী স্বামীকে সামনে পেয়ে কিছুক্ষন আগে ঘটে যাওয়া সমস্ত ঘটনা বিস্তারিত ভাবে বোলেন বললেন এবং সব শুনে মহাদেব হেসে জানানযে হে দেবী কুমির ও ছেলেটি রূপে সবটাই আমি ছিলাম।তার এই অদ্ভুত লীলার কারন জিগেস করলে তিনি বলেন তিনি কুমির রূপে দেবীকে পরীক্ষা করতে এসেছিলেন। দেবীর শরীরে কতটা দয়ামায়া আছে সেটা উপলব্ধি করে তিনি আনন্দিত ও গর্বিত|চলবে এই শিব সংক্রান্ত ধারাবাহিক আলোচনা|ফিরে আসবো আগামী পর্বে এমন আরো অনেক পৌরাণিক ঘটনা নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|