জগন্নাথদেবের নানা বেশ

42

জগন্নাথদেবের নানা বেশ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

চন্দন যাত্রা দিয়ে শুরুকরেছিলাম জগন্নাথ প্রসঙ্গ নিয়ে বিশেষ আলোচনা। আর কয়েকদিন পরেই জগন্নাথের স্নান যাত্রা তাই আবার ফিরে এসেছি জগন্নাথ প্রসঙ্গে অধ্যাত্মিক আলোচনা নিয়ে। প্রভু জগন্নাথ শুধু তার ভোগের জন্য নয় নানারকম বেশ বা সাজ সজ্জার জন্যও বিশেষ ভাবে পরিচিত।

 

নানা সময়ে নানা বেশে সাজেন জগতের নাথ এবং প্রতিটি বেশের আছে আলাদা পরিচয় এবং শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা।আজ সেই বেশগুলির কয়েকটি নিয়ে আলোচনা করবো

 

প্রাচীন গ্রন্থ মাদলা পাঞ্জিতে উল্লেখ আছে ১৪৬০ খ্রিস্টাব্দে উৎকলের গজপতি রাজা কপিলেন্দ্র দেব দাক্ষিণাত্যের এক রাজার বিরুদ্ধে ভীষণ যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। দীর্ঘ সংগ্রামের পর কপিলেন্দ্র যুদ্ধে জয়লাভ করেন।শত্রু দেশ থেকে লুঠে আনেন ষোলটি হাতির পিঠ বোঝাই করে সহস্র মণ সোনা। সমস্ত সোনা রাজা কপিলেন্দ্র জগন্নাথদেবের মন্দিরের ভাণ্ডারে পাঠিয়ে দিলেন এবং জগন্নাথদেবকে তিনি ওড়িশার প্রকৃত রাজা বলে স্বীকার করলেন ও নিজেকে তাঁর অনুগত সেবক বলে ঘোষণা করলেন। একটি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই ক্ষমতা হস্তান্তর সর্বসাধারণের সম্মুখে উদযাপন করা হয়।এই সময় জগন্নাথের ‘রাজবেশ’-এর প্রবর্তন হয় । সাধারণের কাছে এই ‘বেশ’ আর একটি নাম আছে তা হল, ‘বড়া তাধাও বেশ’।

 

জগন্নাথদেবের দৈনন্দিন জীবনে ব্যাবহিত বেশ গুলির ও আলাদা নাম এবং তাৎপর্য আছে।

জগন্নাথদেবকে পুরীতে সাধারণ দিনগুলিতে যে বেশে দেখা যায়, সেই বেশ পরিচিত সাদা বেশ নামে।এরপর রাতে যে বেশে জগন্নাথ, বলরাম, শুভদ্রাকে রাখা হয় তার নাম বড়সিংহের বেশ। চন্দনলাগি বেশ শুরু হয় বৈশাখ জৈষ্ঠের সময়, এই সময় ভগবানকে চন্দনের প্রলেপে রাখা হয় এবং বেয়াল্লিশ দিন ধরে চলে এই উৎসব।

 

জগন্নাথদেবের আরকেটি বিখ্যাত বেশ হলো হাতি বেশ বা গজ বেশ |হাতিবেশ রথযাত্রার আগে স্নান যাত্রার সময় দেখা যায় । এই সময়ে গণপতির বেশে জগন্নাথকে সাজানো হয় বলে নাম ‘হাতি বেশ’। এই গজ বেশের নেপথ্য একটি ঐতিহাসিক ঘটনা আছে|বহু শতক আগে পুরীর রাজার রাজদরবারে এসেছিলেন পণ্ডিত গণেশ ভট্ট। রাজা তাঁকে জহগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা দেখবার জন্য আহ্বান জানান। তবে তা দেখতে যাওয়ার ইচ্ছা ছিলনা গনেশ ভট্টর। কারণ তাঁর আরাধ্য দেবতা গণপতি স্বয়ং তিনি আর কারুর প্রতি আগ্রহী নন । তবে রাজার অনুরোধে স্নানযাত্রায় গিয়ে গণেশ ভট্ট আবিষ্কার করেন জগন্নাথ গণেশ রূপেই তাকে দেখা দিয়েছেন।সেই ঘটনার পর থেকেই স্নান যাত্রায় জগন্নাথের বেশ হয় হাতিবেশ।

 

এছাড়াও পুরীর জগন্নাদেবের থের বিভিন্ন বেশের মধ্যে অন্যতম হল কালিয়াদলন বেশ। ভাদ্র একাদশীর দিন পুরীর জগন্নাথকে সাজানো হয় এই বিশেষ বেশে। যেভাবে শ্রীকৃষ্ণ দুর্দমনীয় রাক্ষস কালিয়াকে হত্যা করেছিলেন সেই বেশেই এদিন সাজানো হয় জগন্নাথকে।আশ্বিন মাসে যে বেশে জগন্নাথকে সাজানো হয় তার নাম ‘রাধা-দামোদর বেশ’।আশ্বিনের শুক্ল পক্ষের একাদশী তিথিতে ‘রাধা-দামোদর বেশ’ হয়।জগন্নাথদেবের আরো একটি বেশ হলো পদ্মবেশ|মাঘ ও বসন্তের শনিবার ও বুধবার জগন্নাথ ধারণ করেন পদ্মবেশ।

 

স্নান যাত্রা উপলক্ষে আগামী দিনেও ফিরে আসবো প্রভু জগন্নাথদেবের মহিমা বর্ণনা করতে| থাকবে স্নান যাত্রা সংক্রান্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

এবং শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।