Home Blog Page 163

ভারতের সাধক – নিম কারোলি বাবা

ভারতের অসংখ্য সাধক তাদের জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনা দিয়ে এমন সব দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে যা বহিঃবিশ্বের কাছে আজও এক রহস্য|এমনই এক রহস্যময় সাধক ছিলেন নিম কারোলি বাবা যার ভক্ত তালিকায় রয়েছে ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ, অ্যাপেল প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস আবার ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি শঙ্কর দয়াল শর্মা থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সবাই তার গুনমুগ্ধ , তালিকায় আরো রয়েছে দেশ বিদেশের একাধিক বিখ্যাত ফিল্ম ষ্টার|কে ছিলেন এই নিম কারোলি বাবা? কেমন ছিলো তার অলৌকিক জীবন? জানাবো আজকের পর্বে|

উত্তর প্রদেশের ফিরোজাবাদে জন্মেছিলেন এই মহা পুরুষ, প্রথম জীবনে বিবাহ করে সংসার ও শুরু করেছিলেন কিন্তু হটাৎ একদিন সব ছেড়ে ঈশ্বর অনুসন্ধানে বেরিয়ে পড়লেন তিনি, বহু স্থান ঘুরলেন শেষে উত্তরা খন্ডের কাঁচি ধামে নিজের ছোট্ট একটি হনুমান মন্দির স্থাপন করে আধ্যাত্মিক সাধনায় নিজেকে নিয়োজিত করলেন|

বহু অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ আছে তার সারা জীবন জুড়ে, একবার আশ্রম ভ্রমণে আশা নেতা এক সধারণ রাজনীতিবিদকে তিনি দেশের রাষ্ট্রপতি হওয়ার আশির্বাদ দিয়ে বসেছিলেন|পরবর্তীতে আশ্চর্যজনক ভাবে সেই নেতা ভারতের রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন, তিনি আর কেউ নন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি শংকর দয়াল শর্মা|তিনি আজীবন মানতেন বাবার আশীর্বাদেই তার এই সাফল্য|

একটি প্রচলিত জনশ্রুতি অনুসারে একবার বাবাকে ট্রেনে তুলতে অস্বীকার করে কোনো ব্রিটিশ কর্মচারী তারপর বহু চেষ্টা করেও এক চুল ও গড়ায়নি ট্রেনের চাকা|বাবার ইচ্ছায় তা আবার চলতে শুরু করেছিলো|এমন অসংখ্য ঘটনা আছে|

বাবা জন সমক্ষে খুব কমই আসতেন , খুব একটা পছন্দ করতেন না মানুষের ভিড়|সর্বক্ষণ তার শরীর ঢাকা থাকতো একটি বড়ো চাদরে|কেনো তা কেউ জানেনা|বাবার আচরণ ও দৈহিক কিছু বিষয় দেখে অনেকেই বাবা নিম কারোলিকে বজরংবলীর অংশ বা তার অবতার জ্ঞানে পূজা করতো|

মহান এই সাধক 1973 সালে পরলোক গমন করেন|বর্তমানে দেশে এবং বিদেশের মাটিতে 108 টি মন্দির রয়েছে নিম কারোলি বাবার|রয়েছে অগণিত ভক্ত|এই মহান সাধককে প্রনাম জানিয়ে শেষ করছি আজকের পর্বে|কেমন লাগলো জানবেন এবং জ্যোতিষ সংক্রান্ত প্রয়োজনে যোগাযোগ করবেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

মন্দির রহস্য – সংকট মোচন মন্দির

বহু রহস্যময় শিব মন্দির ও কালী মন্দিরের কথা আপনাদের ইতিমধ্যে বলেছি যা আপনাদের প্রশংসা লাভ করায় আমার পরিশ্রম ও গবেষণা সার্থক বলে মনে করি, সামনেই হুনুমান জয়ন্তী, আমাদের সনাতন ধর্মে তিনি রূদ্র অবতার অর্থাৎ শিবের অংশ, বৈদিক জ্যোতিষ শাস্ত্রেও তার গুরুত্ব অপরিসীম|আজ এমন একটি মন্দিরের কথা বলবো যেখানে তার তার সংকট মোচন রূপকে জীবন্ত হিসেবে দেখা হয়|

কাশীর সংকট মোচন হনুমান মন্দিরকে বলা হয় জীবন্ত বিগ্রহের মন্দির|বহু মানুষ প্রতিদিন আসেন এই মন্দিরে নিজেদের গ্রহ দোষ খণ্ডন করাতে ও বজরংবলীর আশীর্বাদ নিতে|কথিত আছে এই স্থানেই হনুমানজির দর্শন পেয়েছিলেন রাম চরিত মানস ও হনুমান চালিসার স্রষ্টা সাধক তুলসী দাস|

সংকট মোচন মন্দিরের কিছু দূরেই রয়েছে শ্রীরামের মন্দির, মনে করা হয় হনুমানের অনুমতি ছাড়া তার প্রভু রামের মন্দিরে প্রবেশ করা যায়না|
অগণিত ভক্তদের বিশ্বাস বজরংবলী এখানে জীবন্ত ও অত্যন্ত জাগ্রত|প্রতিটি ভক্তের অভাব অভিযোগ তিনি নিজে শোনেন ও তাদের মনোস্কামনা পূরণ করেন|

এককালে এই স্থানে নিয়মিত আসতেন ও বিশ্রাম করতেন স্বয়ং তুলসীদাস, এখানেই তাকে প্রভু শ্রী রামের দর্শন করার পন্থা বলে দিয়েছিলেন হনুমান সাধক তুলসীদাসের একটি একটি মূর্তিও রয়েছে এখানে|

আগামী দিনে রূদ্র অবতার হনুমানকে নিয়ে আরো অনেক তথ্য আপনাদের সামনে আনবো লেখা ও ভিডিওর মাধ্যমে|দেখতে থাকুন , পড়তে থাকুন এবং এই পবিত্র সময়ে যারা জ্যোতিষ পরামর্শ বা প্রতিকার নেয়ার কথা ভাবছেন সরাসরি যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

শুভ নববর্ষ

আজ আমাদের মানে বাঙালিদের বড়ো আনন্দের দিন, আজ নতুন বাংলা বছরের সূচনা,আমরা ঢুকে পড়ছি একটি নতুন বছর 1428 এ , মহামারী আবার নতুন রূপে ফিরে আসছে, তাই কিছুটা ভয় কিছুটা অনিশ্চয়তা এই মুহূর্তে আমাদের সবার মনেই রয়েছে|তবু আজকের দিনটি বিশেষ, আজ পয়লা বৈশাখ|আমরা আশা করবো, প্রার্থনা করবো ঈশ্বরের কাছে যেনো নতুন বছরে এই প্রাণঘাতি ভাইরাস আমাদের ছেড়ে চীর তরে বিদায় নেয়|

এককালে এই দিনটায় হতো খাজনা আদায়ের শুরু, নতুন ফসল বেচে কৃষকদের হাতে অর্থ আসতো এবং তারা উৎসবে মেতে উঠতেন
আবার ভূমির মালিকরা নিজ নিজ অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে মিষ্টান্ন দ্বারা আপ্যায়ন করতেন। এ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করা হত। এই উৎসবটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয় যার রুপ পরিবর্তন হয়ে বর্তমানে এই পর্যায়ে এসেছে|

ব্যবসা বাণিজ্যর ক্ষেত্রেও পয়লা বৈশাখের ভূমিকা রয়েছে|তখনকার সময় এই দিনের প্রধান ঘটনা ছিল একটি হালখাতা তৈরি করা। হালখাতা বলতে একটি নতুন হিসাব বই বোঝানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে হালখাতা হল বাংলা সনের প্রথম দিনে দোকানপাঠের হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া। গ্রাম, শহর বা বাণিজ্যিক এলাকা, সকল স্থানেই পুরনো বছরের হিসাব বই বন্ধ করে নতুন হিসাব বই খোলা হয়। হালখাতার দিনে দোকনদাররা তাদের ক্রেতাদের মিষ্টান্ন আপ্যায়ন করে থাকে। এই প্রথাটি এখনও অনেকাংশে প্রচলিত আছে|

পয়লা বৈশাখ থেকে বাংলা বছর গণনা শুরু হয় আকবরের আমল থেকে, সেদিক দিয়ে আলাদা করে বাংলা নব বর্ষ বা পয়লা বৈশাখ পালনের কারন কিছুটা অর্থনৈতিক|জমিদাররা এই দিন থেকে রাজস্ব দানের নতুন খাতা শুরু করতেন|
মুঘল আমলের প্রথম দিকে ইসলামিক রীতি অনুসারে হিজরি সন অনুযায়ী চলত শাসন। কিন্তু সমস্যা হত খাজনা আদায়ে। কারণ চাঁদের ওপর এই সন নির্ভরশীল হওয়ায় তা কৃষি ফলনের সঙ্গে মিলত না। খাজনা আদায়ের বিষয়টিকে আরও মসৃণ করার ব্যাপারে উদ্যোগী হন সম্রাট আকবর। তাঁর নির্দেশেই জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফতেউল্লাহ সিরাজি বাংলা সন গণনা শুরু করেন। প্রথমে একে বলা হত ফসলি সন। পরে বঙ্গাব্দ শব্দটি প্রবর্তিত হয়। সেই সময়ে চৈত্র মাসের শেষের দিন খাজনা আদায়ের শেষ দিন বলে ধরা হত।আর তারপর দিন উৎসব হিসেবে নব বর্ষের সূচনা বা পয়লা বৈশাখ পালন করা হতো|এই রীতি অনুসরণ করেছিলেন মুর্শিদকুলি খা যা বাঙালির ব্যবসা বাণিজ্যর ক্ষেত্রে এখনো চলছে, আজও এই দিনে নতুন হাল খাতা চালু হয়|

এখানে বলে রাখি বাংলায় আধুনিক নববর্ষ উদযাপনের খবর প্রথম পাওয়া যায় ১৯১৭ সালে। প্রথম মহাযুদ্ধে ব্রিটিশদের বিজয় কামনা করে সে বছর পহেলা বৈশাখে হোম কীর্ত্তণ ও পূজার ব্যবস্থা করা হয়|

আমাদের বৈদিক জ্যোতিষ শাস্ত্রেও পয়লা বৈশাখের গুরুত্ব রয়েছে সাধারণত চৈত্র মাসের শেষ দিন অর্থাৎ চৈত্র সংক্রান্তি বা মহাবিষুবসংক্রান্তির দিন পালিত হয় চড়কপূজা অর্থাৎ শিবের উপাসনা। এইদিনেই সূর্য মীন রাশি ত্যাগ করে মেষ রাশিতে প্রবেশ করে, গ্রহের এই সঞ্চার মানুষের জীবনকে নানা ভাবে প্রভাবিত করে|সে নিয়ে পরে কখনো বিস্তারিত আলোচনা করবো|

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গর গ্রামাঞ্চলে এবং কলকাতা শহরের উপকণ্ঠে পয়লা বৈশাখ থেকে আরম্ভ হয় বৈশাখী মেলা। এই মেলা সমগ্র বৈশাখ মাস জুড়ে অনুষ্ঠিত হয়।ঢাকার বৈশাখী উৎসবের একটি আবশ্যিক অঙ্গ মঙ্গল শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রার জন্য বানানো নয় রং-বেরঙের মুখোশ ও বিভিন্ন প্রাণীর প্রতিলিপি। ১৯৮৯ সাল থেকে এই মঙ্গল শোভাযাত্রা পহেলা বৈশাখের উৎসবের একটি অন্যতম আকর্ষণ।

এখন বাঙ্গালীর প্রধান উৎসব গুলোর অন্যতম এই পয়লা বৈশাখ তবে এখন আর শুধু পশ্চিমবঙ্গ বা বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই পয়লা বৈশাখ পালন, এই বিশ্বায়নের যুগে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে বাঙালি আর পয়লাবৈশাখ ও পালিত হচ্ছে গোটা বিশ্ব জুড়ে, আজ বাঙালির শ্রেষ্ট উৎসব গুলোর মধ্যে অন্যতম এই বর্ষবরণ উৎসব|

নতুন বছর নতুন করে শুরু করুন, পরিস্থিতি যাই হোক সঠিক চিন্তা এবং সঠিক জ্যোতিষ পরামর্শ ও শাস্ত্র সম্মত প্রতিকার জীবনের যেকোনো খারাপ সময়কে কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে,একজন জ্যোতিষী হিসেবে আমাকে পাবেন সারাটা বছর, চেম্বারে ও অনলাইনে, প্রয়োজন মনে করলে যোগাযোগ করবেন উল্লেখিত নাম্বারে|আপনাদের সবাইকে জানাই শুভ নববর্ষ|ভালো থাকুন|দেখতে থাকুন মনের কথা|নমস্কার|

চরক উৎসব

আমাদের বাংলায় চৈত্র সংক্রান্তি মানেই চরক উৎসব, এখন চরক উৎসবের সেই জৌলুস আর নেই শহর ও মফস্সল থেকে ক্রমশঃ লুপ্ত হচ্ছে এই ধার্মিক উৎসব তবে এখনো জেলায় বিশেষত গ্রাম অঞ্চলে চোখে পরে চরকের নানা রীতি নীতি|আজ এই চরক উৎসবের সময়ে চরক নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপনাদের সামনে আনছি এই বিশেষ পর্বে|

চরক মূলত বাংলার লৌকিক উৎসব হলেও পুরানে এর উল্লেখ আছে , লিঙ্গ পুরানে স্পষ্ট বলা আছে চৈত্র মাসে শিবকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্য নিয়ে করা নাচ গানের প্রথাকে বলে চরক|আবার অন্য একটি তথ্য অনুসারে বানরাজ দ্বারকাধীশ কৃষ্ণর কাছে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে তার আরাধ্য মহাদেবকে নিজ রক্ত নিবেদন করে তুষ্ট করেন অমরত্ব লাভের আশায় সেই সাধনাকে স্মরণ করা হয় চরক উৎসবের মাধ্যমে

লোকমুখে শোনা যায় যে ১৪৮৫ খ্রিস্টাব্দে সুন্দরানন্দ ঠাকুর নামের এক রাজা প্রথম করেছিলেন এই পুজো এবং ক্রমে তা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে সারা বাংলা জুড়ে|

এককালে সাধু সন্ন্যাসীরা বিরাট শোভাযাত্রা বের করতো চরক উপলক্ষে, শরীরে তীক্ষ্ণ অস্ত্র বিঁধিয়ে দেয়া থেকে আগুন ঝাঁপ, কাঁটা ঝাঁপ, বঁটি ঝাঁপ অনেক রীতিই পালন হতো|গ্রামবাংলায় আজও চৈত্রের শুরু থেকেই ধ্বনিত হয় ‘বাবা তারকনাথের চরণে সেবা লাগে’। সমাজের প্রান্তিক স্তরের নারী-পুরুষের একাংশ সন্ন্যাস পালন করেন। কেউ কেউ আবার শিব-পার্বতী সেজে হাতে ‘ভিক্ষাপাত্র’ নিয়ে বের হন।কিছু অঞ্চলে চরকের মেলাও বসে যা চলে পয়লা বৈশাখ অবধি|

এই চরক স্থান বিশেষে কোথাও নীল পুজো কোথাও গম্ভীরা কোথাও গাজন উৎসব , তবে উদ্দেশ্য একই শিবকে তুষ্ট করা ও তার আশীর্বাদ নিয়ে নতুন বছর শুরু করা|আপনাদের সবাইকে জানাই চরক উৎসবের অনেক শুভেচ্ছা ও আগাম শুভনববর্ষ|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

মন্দির রহস্য – ঘুমন্ত শিব

আজ চৈত্র মাসের শেষ সোমবার , গঙ্গার পবিত্র ঘাট গুলিতে চলছে পবিত্র স্নান , দেবাদিদেব মহাদেবকে ডাকার তার কৃপা লাভ করার এটাইতো শ্রেষ্ঠ সময়|আজ পুন্য তিথীতে, মন্দির রহস্য পর্বে আলোচনা করবো একটি অদ্ভুত শিব মন্দির নিয়ে যেখানে কয়েকশো বছর ধরে ঘুমিয়ে রয়েছেন মহাদেব|

বর্ধমানের ইটাচুনা রাজবাড়িতে অধিষ্ঠিত শিব ঠাকুরকে নিয়ে আছে এক রহস্য, শিব মূর্তি আছে, অর্থবল, লোকবল সবই আছে, তবু গত দেশড় বড়র ধরে ঘুমিয়ে শিব ঠাকুর, মন্দিরে তাঁর পুজি হয় না। কিন্তু কেনো?

প্রচলিত জনশ্রুতি অনুসারে , ১৮৭১ সালে তদানিন্তন ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে গিরিডি অঞ্চলে রেল লাইন বসাবার কন্ট্রাক্ট পান পরিবারের কর্তা বিজয় নারায়ণ কুণ্ডু। সেখানে কাজ করতে গিয়ে গিরিডির জঙ্গলে এক অদ্ভূত শিব মূর্তির খোঁজ পান তিনি। মূর্তিটির প্রচলিত শিব মূর্তির মত নয়, অভিনব, ঠিক যেন দাওয়ায় বসে আছেন দেবাদিদেব মহাদেব।মূর্তিটি এনে তিনি স্থাপন করেন নিজ গৃহে|

পুজো শুরু হয়, এরপরই ঘটে কিছু অলৌকিক ঘটনা, শিব মূর্তি স্থাপনের পরই মারা যান পরিবারের এক সদস্য।তারপর ক্রমাগত বাধা আসতে থাকে বিভিন্ন কাজে। এইভাবে বন্ধ হয়ে যায় শিবপুজো।

কেনো এমনটা হয়েছিলো তা নিয়ে পন্ডিতদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে|অনেকেই মনে করেন শাস্ত্র মতে মা দূর্গা বা মা কালি ছাড়া শিব মূর্তির পুজো হয় না। আবার অনেকে বিশ্বাস করেন, যদিও বা হয় তবে শুধু শিব লিঙ্গের পুজো হতে পারে, একা শিব মূর্তির পুজো হয় না, তাতে মঙ্গলের পরিবর্ধে নেমে আসে ঘোর অমঙ্গল এবং টাই হয়েছিলো এই পরিবারে|

আজ সবাই ভক্তি ভরে মহাদেব কে ডাকুন , তিনি তুষ্ট হলে আপনারা মনোস্কামনা নিশ্চই পূরণ হবে|যারা এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জ্যোতিষ পরামর্শ বা প্রতিকার নেয়ার কথা ভাবছেন যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

মন্দির রহস্য – শনি শিঙ্গাপুর

আজ মন্দির রহস্যর এই পর্বে লিখবো একটি রহস্যময় গ্রাম নিয়ে যে গ্রামের নামকরনি হয়েছে গ্রহরাজ শনি ও তার একটি মন্দির কে কেন্দ্র করে|শিঙ্গাপুর গ্রামের অবস্থান ভারতের মহারাষ্ট্র প্রদেশে। জেলার নাম নাভাসা। মহারাষ্ট্রের সুপরিচিত শহর আহমেদ নগর থেকে গ্রামটির দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটার। শনি শিঙ্গাপুর গ্রামটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে এখানে হিন্দু ধর্মের অন্যতম দেবতা শনির একটি মন্দির রয়েছে আর মন্দির নিয়ে রয়েছে অনেক রহস্য অনেক কিংবদন্তি|

এই গ্রামে দিন-রাত ২৪ ঘন্টা সবার ঘরের দরজা খোলা থাকে। ‘খোলা থাকে’ বললেও কিঞ্চিত ভুল হবে, কেননা সেই গ্রামের ঘর-বাড়ির দরজাতে কপাটই নেই; মানে চাইলেও দরজা বন্ধ করার সুযোগ নেই। কিন্তু কেনো?

কথিত আছে, প্রায় ৩০০ বছর আগে গ্রামটিতে একবার প্রচন্ড বৃষ্টি ও বন্যা হয়। বন্যা শেষ হলে গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পানাশালা নদীর তীরে বিশালাকৃতির কালো রঙের একটি পাথর পাওয়া যায়, এই সময়ে একদিন সবাই যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন একই সময় গ্রামের সবার সাথে স্বপ্নে যোগ দিলেন শনি দেবতা। সবাইকে তিনি জানালেন,এটি কোনো সাধারণ মূর্তি নয়, এটি আমার প্রতিমূর্তি। যদি তোমরা আমার উপাসনা করো তাহলে আমি তোমাদের সবার মুক্তি ও নিরাপত্তা দান করবো|শনি দেবতা তার উপাসনার পদ্ধতি হিসেবে দুটি শর্ত জুড়ে দেন। প্রথমত, এই গ্রামের কোনো এক জায়গায় আমার এ পবিত্র প্রতিমূর্তিটিকে সংরক্ষণ রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, গ্রামের কেউ তাদের ঘরের দরজার কপাট বন্ধ করতে পারবে না। যদি কেউ ঘরের দরজার কপাট বন্ধ করে তাহলে তিনি তাদের নিরাপত্তার দায়দায়িত্ব নিবেন না। কেননা সবার নিরাপত্তা প্রদানের জন্য দেবতাকে যখন তখন সবার ঘরে প্রবেশের সুযোগ থাকতে হবে। তাছাড়া দরজার কপাট বন্ধ থাকলে দেবতার সুনজর থেকেও গৃহবাসী বঞ্চিত হবে|

এরপর তৈরি হলো এক শনি মন্দির প্রতিষ্টিত হলেন শনিদেব|এখানে শনি মন্দিরের উপরে কোনো ছাদ নেই। খোলা আকাশের নিচেই বেদি নির্মাণ করে শনি দেবতার পবিত্র পাথরটি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।গ্রহ রাজ শনিদেবের এই আদেশ আজও অক্ষরে অক্ষরে পালন করে আসছেন এই গ্রামের মানুষ তাই এই রীতি যা ভাবতেও অবাক লাগে|

আবার ফিরবো আগামী পর্বে|ধারাবাহিক লেখাগুলি পড়া ও অনুষ্ঠান দেখার পাশাপাশি যদি কেউ জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে আসতে চান যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

পুরান রহস্য – শনিদেব, রাবন ও হনুমান

আমাদের বৈদিক জ্যোতিষ শাস্ত্রে সবথেকে বেশি ভীতি এবং কৌতূহল দেখা যায় যে গ্রহটিকে নিয়ে তা হলো গ্রহরাজ শনি গ্রহ|গ্রহ রাজ শনিদেব যেমন একটি গ্রহ তেমনই আবার একটি পৌরাণিক চরিত্র|আসলে শনিদেব কে নিয়ে এতো ভয় বা সংশয়ের কোনো কারন নেই কারন জ্যোতিষ শাস্ত্রমতে তিনি কর্মফল প্রদান করেন মাত্র, এমনি এমনি কারুর অনিষ্ট করেননা|জ্যোতিষ নিয়ে আজ অবশ্য আলোচনা করছিনা আজ শনিদেবকে কেন্দ্র করে ঘটা এক পৌরাণিক ঘটনার কথা বলবো যেখানে রয়েছেন লংকাঅধিপতি রাবন এবং রুদ্রঅবতার হুনুমান|

রাবন পুত্র মেঘনাথ যখন জন্ম গ্রন্থন করেন তখন আকাশে শনিদেবের খুব প্রভাব চলছিল|রাবন চেয়েছিলেন মেঘনাথের জন্মের সময় সব গ্রহরা তার অনুকূলে থাকবেন|এমন ভাবে তারা অবস্থান করবেন যাতে মেঘনাথ হবেন অমর ওঅপরাজেয়|
নিজের ক্ষমতার অপব্যাবহার করে রাবন সব গ্রহদের বন্দী করলেন এবং একটি নিদ্দিষ্ট ভাবে অবস্থান করতে বাধ্য করলেন কিন্তু চতুর শনিদেব চক্রান্ত করলেন এবং নিজের পা ব্যবহার করে তার নিদ্দিষ্ট ভাবের সীমানা অতিক্রম করে অন্য রাশিতে নিজের সঞ্চার ঘটালেন|ফলে মেঘনাথের জন্ম কালে হিসেব উল্টো পাল্টা হয়ে গেলো এবং শনিগ্রহের এই প্রভাবে মেঘনাথর আর অমরত্ব পাওয়া হয়নি|

এই ঘটনায় রাবন খুব রেগে যান এবং শনিদেব কে আঘাত করে বসলেন| রাবন ছিলেন অনেক বড় যোগী। যোগ বলে তিনি শনিদেবকে আটক করে রেখেছিলেন লঙ্কাতে|পরবর্তীতে হনুমানজী যখন রামজীর দেওয়া আংটি সীতা মাতাকে পৌঁছে দিতে লঙ্কা পৌছন তখন দেখেন শনিদেব আটক রয়েছেন। উনি সব কথা শোনেন এবং শনিদেবকে সেখানে থেকে মুক্ত করেন। কৃতজ্ঞতা বসত শনিদেব কথা দেন তিনি রামচন্দ্র ও হনুমানজীর ভক্তদের বিশেষ আশীর্বাদ অর্পন করবেন|

তবে এর পরেও একাধিক বার শনিদেব ও হনুমান মুখোমুখি হয়েছেন|সে নিয়েও আছে রোমাঞ্চকর পৌরাণিক কাহিনী|সেই সব ঘটনা বলবো যথা সময়ে, যথা স্থানে|আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি|টিভির অনুষ্ঠানের পাশাপাশি আমার আধ্যাত্মিক লেখা গুলি পড়ুন ও জানান কেমন লাগছে|যারা আমার কাছে জ্যোতিষ সংক্রান্ত প্রশ্ন বা সমস্যা নিয়ে আসতে চান তারা উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করে জেনে নেবেন আমাকে কবে কখন ও কোথায় পাবেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

বাংলার শিব – জলেস্বর শিব মন্দির

আজ বাংলার আরেকটি প্রাচীন ও প্রসিদ্ধ শিবমন্দিরের কথা আপনাদের বলবো, আজকে পর্বে নদিয়ার জলেস্বর শিব মন্দির,নদিয়ার শান্তিপুরে ‘জলেশ্বর শিব মন্দির’ বাংলার অন্যতম প্রাচীন শৈবতীর্থ। এখানে রয়েছে কষ্টিপাথরের বিশাল আকারের শিবলিঙ্গ। মন্দিরকে কেন্দ্র করে রয়েছে অসংখ্য অলৌকিক কাহিনী|

শোনা যায় এক বছর খরায় চাষের কাজ বন্ধ হয়ে যায়, প্রায় দুর্ভিক্ষ হওয়ার উপক্রম,প্রচণ্ড সমস্যায় পড়ে শান্তিপুরের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ|গ্রামের চাষিরা এক শিবলিঙ্গের মাথায় প্রচুর জল ঢালেন বৃষ্টির প্রার্থনায়। অলৌকিক ভাবে তার পরেই বৃষ্টি নামে। শস্য-শ্যামলা হয়ে ওঠে ধরিত্রী। সেই থেকেই মন্দিরের নাম হয় ‘জলেশ্বর’|

এই মন্দিরের ইতিহাস খুব প্রাচীন কিন্তু জলেশ্বর মন্দিরে কোনও প্রতিষ্ঠালিপি নেই। তবে ‘নদিয়া গেজেটিয়ার’ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রায় চারশো বছরের প্রাচীন এই মন্দির, নির্মাণ করেছিলেন তৎকালীন নদিয়া রাজ রাঘব রায়। তাঁর রাজত্বকাল ছিল আনুমানিক ১৬৩২ থেকে ১৬৮৩ খ্রিস্টাব্দ। সেই সূত্রেই মনে করা হয় ওই সময়ের মধ্যেই মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়|

সারা বছরই শিব ভক্তদের আনাগোনা লেগে থাকে এই মন্দিরে তবে চৈত্র মাসে এবং শ্রাবণ মাস জুড়ে এই মন্দিরে প্রচুর মানুষ পুজো দেন। পাশাপাশি শিবের মাথায় জল ঢালতেও প্রতি দিন ভক্ত সমাগম হয়। আর শ্রাবণের শেষ সোমবারে ভক্তদের ভিড় কার্যত উপচে পড়ে|

আপনারাও পারলে অবশ্যই দর্শন করবেন জলেস্বর শিব মন্দির|আজ এখানেই শেষ করলাম, দেখতে থাকুন আমার বিভিন্ন অনুষ্ঠান আর পড়তে থাকুন আধ্যাত্মিক লেখা লেখি, আর প্রয়োজনে উল্লেখিত নাম্বারে যোগাযোগ করুন আপনারা জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে, সমাধান আমি বলে দেবো|ভালো থাকুন ধন্যবাদ| 

ভারতের সাধক – তোতাপুরী

আজ ভারতের সাধক দের নিয়ে এই ধারাবাহিক লেখনীতে আজ লিখবো ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেবের দীক্ষা গুরু তোতাপুরী মহারাজকে নিয়ে, জানাবো তার অলৌকিক জীবন কাহিনী|তোতাপুরীর সন্ন্যাস
পূর্ব জীবন,তার জন্ম কাল জন্মস্থান ও পরিবার সম্পর্কে সঠিক তথ্য কমই পাওয়া যায় তায় সেই দিকে না গিয়ে তার অলৌকিক ব্যাক্তিত্ব ও রহস্যময় সন্ন্যাস জীবনর কথাই বলবো|

তোতাপুরী লম্বা-চওড়া সুদীর্ঘ পুরুষ ছিলেন।দীর্ঘ সময় ধ্যান ও যোগ সাধনার মাধ্যমে তিনি সাধনার অত্যন্ত উচ্ছ পর্যায়ে আরোহন করেছিলেন, পুরী সম্প্রদায় ভুক্ত এই নাগা সন্ন্যাসী ছিলেন ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণর দীক্ষা গুরু|তোতাপুরী তিন দিনের বেশি কোথাও থাকতেননা কিন্তু ব্যতিক্রম হয়েছিলো দক্ষিনেশ্বর এসে|এখানে বেশ দীর্ঘ সময় তিনি কাটিয়েছিলেন রামকৃষ্ণর সান্নিধ্যে|গুরুর নাম গ্রহণ করা শাস্ত্রমতে বারণ তাই শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁকে ‘ল্যাংটা’ বা ‘ন্যাংটা’ বলে উল্লেখ করতেন|
গঙ্গার ধারে পঞ্চবটি উদ্যানে ধুনী জ্বালিয়ে তিনি সাধনা করতেন এখানেই তার কাছে দীক্ষা নিয়ে নিয়ে ছিলেন স্বয়ং রামকৃষ্ণ আবার আশ্চর্য জনক ভাবে ঠাকুরের অলৌকিক ক্ষমতা ও তার অগাধ জ্ঞানের পরিচয় পেয়ে গুরু তোতাপুরী বিদায় নেয়ার আগে শিষ্য রামকৃষ্ণর কাছে দীক্ষা নিয়ে যান|

তোতাপুরীর মতে সকলই ছিল মায়া। দেব-দেবীর মূর্তিপূজাকেও তিনি উপহাস করতেন। বিশ্বাস করতেন এক ও অদ্বিতীয় ব্রহ্মে কিন্তু রামকৃষ্ণ তার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দেন, এক্ষেত্রে এক অলৌকিক ঘটনার ও উল্লেখ পাওয়া যায়, একবার দক্ষিনেশ্বরে থাকা কালীন পেটের যন্ত্রনায় কাবু তোতাপুরী গভীর রাতে গঙ্গায় প্রান বিসর্জন দিতে গিয়ে দেখলেন কোথাও ডুবজল নেই, হেঁটেই পার হওয়া যায় গঙ্গা, তিনি উপলব্ধি করলেন ভবতারিনীর লীলা, সাক্ষাৎ করলেন স্বয়ং মা জগদম্বাকে, শরীরের সব যন্ত্রনা মুহূর্তে গায়েব হয়ে গেলো|
শিষ্য কে বললেন সব কথা মেনে নিলেন মায়ের উপস্থিতি|মেনে নিলেন ঠাকুর রামকৃষ্ণের শ্রেষ্ঠত্ব পাল্টা দীক্ষাও নিলেন তার কাছে,গুরুকে পাল্টা দীক্ষা দানের এই ঘটনা ভারতের আধ্যাত্মিক জগতে বিরলতম|

আজকের পর্ব এই মহান সাধককে প্রনাম জানিয়ে শেষ করলাম, পড়তে থাকুন আবার আগামী পর্বে দেখা হবে আর যারা ফোন করতে চান অনলাইন কন্সালটেন্সির জন্যে বা অন্য কোনো জ্যোতিষ সংক্রান্ত কাজে তাদের জন্যে পোস্টে নাম্বার উল্লেখ করাই আছে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শক্তিপীঠ – যশোরেশ্বরী কালী মন্দির

সারা চৈত্রমাস জুড়ে আপনাদের বেশ কিছু শিব মন্দির ও শিব সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দিয়েছি, তবে শিব তো অর্ধ নারীস্বর, দেবী পার্বতী তার অর্ধেকটা জুড়ে আছে তাই শিব বন্দনা করার পাশাপাশি আজ একটি শক্তিপীঠের কথা লিখবো, আজকের পর্বে বাংলা দেশে অবস্থিত শক্তিপীঠ যশোরেশ্বরী|

সনাতন ধর্মের ৫১ পীঠের একটি যশোরেশ্বরী মন্দির|দেহত্যাগের পর দেবী সতীর শরীর যে ৫১ খণ্ড হয়ে যায় তার পাঁচটি খন্ড বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে এর মধ্যে এর মধ্যে সাতক্ষীরার ঈশ্বরীপুর গ্রামে সতীর করকমল বা পাণিপদ্ম পতিত হয়|

তন্ত্রচূড়ামণিতে বলা হয়েছে—

‘যশোরে পানিপদ্ম দেবতা যশোরেশ্বরী,/চণ্ডশ্চ ভৈরব যত্র তত্র সিদ্ধ ন সংশয়।’

অর্থাৎ যশোরে সতীর পাণিপদ্ম বা করকমল পড়েছে। দেবীর নাম যশোরেশ্বরী, ভৈরব হলেন চণ্ড। এই সতীপীঠে কায়মনোবাক্যে পুজো করলে ভক্তের মনোবাসনা পূর্ণ হয় বলে সর্বসাধারণের বিশ্বাস।

মনেকরা হয় বহু প্রাচীনকাল থেকেই এখানে এক অজ্ঞাত ব্রাহ্মণ কতৃক নির্মিত যশোরেশ্বরী মন্দির অবস্থিত ছিলো পরবর্তীকালে লক্ষ্মণ সেন ও প্রতাপাদিত্য কর্তৃক তাদের রাজত্বকালে এটির সংস্কার করা হয়েছিল|

মন্দির নিয়ে একটি অলৌকিক ও ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখও পাওয়াযায়, কথিত আছে,মহারাজা প্রতাপাদিত্যর আমলে তার সেনাপতি এখানকার জঙ্গল থেকে একটি আলৌকিক আলোর রেখা বের হয়ে মানুষের হাতেরর তালুর আকারের একটি পাথরখণ্ডের উপর পড়তে দেখেন।পরবর্তীতে তিনি ওই স্থানে কালীর পূজা করতে আরম্ভ করেন এবং এই কালী মন্দিরটি নির্মাণ করেন যা আজ যশোরেশ্বরী কালী মন্দির নামে প্রসিদ্ধ|এই মন্দির দর্শন করতে এসেছিলেন মোঘল সেনাপতি মানসিংহ|

বর্তমানে মন্দির-বেদির ওপর প্রতিষ্ঠিত মাতৃমূর্তির শুধু মুখমণ্ডলই দৃষ্টিগোচর হয়|মায়ের মাথার ওপর টকটকে লাল রঙের চাঁদোয়া। কণ্ঠে রক্তজবার মালা ও নানা অলংকার। মাথায় সোনার মুকুট। লোলজিহ্বা দেবীর ভীষণা মূর্তি তবে মুখ মন্ডলে এক অদ্ভুত প্রশান্তি ও স্নিগ্ধতা|

শ্রীযশোরেশ্বরীর পুজো তন্ত্রমতে হয় এবং প্রতিবছর মন্দিরে খুব ধুমধাম করে শ্যামাপুজো হয় যা দর্শন করতে আসেন অসংখ্য মানুষ ও নিজেরদের মনোস্কামনা জানান দেবীর কাছে|

আজ এখানেই শেষ করছি, দেখা হবে পরের পর্বে, জানিয়ে রাখি প্রতিদিনের টিভির প্রোগ্রাম ছাড়াও আবার ইউটিউব এর অনুষ্ঠান নিয়ে ফিরবো কিছুদিনের মধ্যে আর লেখা লেখি তো চলছেই, যুক্ত হন হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মায়ের মন্দিরের সাথে, নজর রাখুন আমার ওয়েবসাইট এ আর যেকোনো জ্যোতিষ সংক্রান্ত কাজে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে আমাকে পাবেন প্রত্যেক দিন অনলাইনে এবং চেম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|