ভারতের সাধিকা – ভৈরবী ব্রাহ্মনী

900

ভারতের সাধকদের নিয়ে বেশ অনেক গুলি পর্ব ইতিমধ্যে লিখেছি, তবে সাধকদের পাশাপাশি আমাদের দেশে অসংখ্য সাধিকাও রয়েছেন যারা আধ্যাত্মিক সাধনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন আজ এমনই এক সাধিকার কথা লিখবো|আজকের পর্বে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের তন্ত্র তন্ত্র সাধনার গুরু ভৈরবী ব্রাহ্মনীর কথা বলতে চলেছি|তার ব্যক্তিগত জীবনে, সন্যাস পূর্ব জীবন নিয়ে খুব একটা তথ্য পাওয়া যায়না তবে তার দক্ষিনেশ্বর আগমন ও ঠাকুর রামকৃষ্ণকে তন্ত্র সাধনায় দীক্ষিত করার মধ্যে দিয়ে তার অলৌকিক ব্যাক্তিত্ব ও শাস্ত্রজ্ঞান পরিলক্ষিত হয়|

গুরু স্থানীয় হলেও শ্রীরামকৃষ্ণ ভৈরবীকে মাতৃরূপে দেখতেন। অন্যদিকে ভৈরবী তাঁকে মনে করতেন ঈশ্বরের অবতার। মাতাজী প্রথম ব্যক্তি যিনি প্রথম সর্বসমক্ষে শ্রীরামকৃষ্ণকে অবতার বলে ঘোষণা করেন। কিন্তু নানা লোকের কথা শুনেই শ্রীরামকৃষ্ণ নিজে তাঁর অবতারত্ব সম্পর্কে উদাসীন ছিলেন। পরবর্তীতে ভৈরবীর নিকট তন্ত্রসাধনা তাঁর আধ্যাত্ম-সাধনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্ব বিবেচিত হয়।

ভৈরবী ব্রাহ্মণী ১৮৬১ সালে দক্ষিনেশ্বর আসেন যতদূর জানা যায় তাঁর প্রকৃত নাম ছিল যোগেশ্বরী এবং বয়স ছিল চল্লিশের কাছাঁকাছি। দক্ষিণেশ্বরে আগমনের পূর্বে তাঁর জীবন সম্পর্কে বেশি কিছু জানা যায় না। তবে তিনি ছিলেন তন্ত্র ও বৈষ্ণব সাধনে সিদ্ধা|

সাধনার একটি পর্যায়ে শ্রীরামকৃষ্ণ ভৈরবীর কাছে তাঁর ভাবতন্ময়তা ও দৈহিক পীড়ার বর্ণনা দিলেন। ভৈরবী তাঁকে এই বলে আশ্বস্ত করলেন যে তিনি পাগল হয়ে যাননি এক আধ্যাত্মিক ‘মহাভাব’ তাঁকে আশ্রয় করেছে। এই মহাভাবের বশেই তিনি দিব্যপ্রেমে মাতোয়ারা হয়ে উঠেছেন। বিভিন্ন ভক্তিশাস্ত্রের উদাহরণ দিয়ে তিনি দেখালেন রাধা ও চৈতন্য মহাপ্রভুরও একই ভাব উপস্থিত হয়েছিল। ভৈরবী তাঁর দৈহিক পীড়া অবসানের পথ ও নির্দেশ করলেন|

যোগেশ্বরী ভৈরবীর পথনির্দেশনায় শ্রীরামকৃষ্ণ তন্ত্রমতে সাধনা শুরু করলেন ও তন্ত্রোল্লেখিত ৬৪ প্রকার প্রধান সাধন অভ্যাস করলেন। জপ ও পুরশ্চরণের মতো মন্ত্রসাধনায় চিত্ত শুদ্ধ করে পূর্ণ আত্মনিয়ন্ত্রণ স্থাপন করলেন। সমস্যা দেখা দেয় যখন ঠাকুর জানলেন তন্ত্রসাধনায় বামাচারের মতো ধর্মবিরোধী পন্থাও অভ্যাস করতে হয়, যার মধ্যে মাংস ও মৎস্য ভক্ষণ, মদ্যপান ও যৌনাচারও অন্তর্ভুক্ত। শ্রীরামকৃষ্ণ ও তাঁর জীবনীকারগণের কথা থেকে জানা যায়, শেষোক্ত দুটি তিনি অভ্যাস করেননি, শুধুমাত্র সেগুলির চিন্তন করেই কাঙ্খিত সাধনফল লাভ করেছিলেন।

ভৈরবী শ্রীরামকৃষ্ণকে কুমারী পূজা শিক্ষা দেন। এই পূজায় কোনও কুমারী বালিকাকে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। এছাড়াও ভৈরবীর নির্দেশনায় শ্রীরামকৃষ্ণ কুণ্ডলিনী যোগেও সিদ্ধ হন। ১৮৬৩ সাল নাগাদ তাঁর তন্ত্রসাধনা সম্পূর্ণ হয়।শ্রীরামকৃষ্ণ বামাচারকে একটি জ্ঞানমার্গ বলে উল্লেখ করলেও, অন্যদের এই পথে সাধন করতে নিষেধ করতেন|স্বামী বিবেকানন্দকেও তিনি এই বামাচারের পথে চলতে নিষেধ করেন|

একটি কথা একবাক্যে স্বীকার করতে হয় ঠাকুরের আধ্যাত্বিক জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এই তন্ত্র সাধন পর্ব এবং এই পর্বে প্রধান চালিকা শক্তি ভারতের এই মহান তন্ত্র সাধিকা ভৈরবী মাতা|রামকৃষ্ণ পরবর্তী কালে এই সাধিকার জীবন ও আধ্যাত্মিক কর্মকান্ড সম্পর্কে খুব একটা জানা যায়না তবে দক্ষিনেশ্বরে তার অলৌকিক উপস্থিতি ও আধ্যাত্মিক শক্তির কথা আজও লোকের মুখে মুখে ফেরে|

আজ এই মহান সাধিকাকে প্রনাম জানিয়ে এই পর্ব শেষ করছি, আগামী দিনে এমন আরো অনেক সাধিকার জীবন ও সাধন আপনাদের সামনে তুলে ধরবো|যাওয়ার আগে জানিয়ে রাখি বাড়তে থাকা মহামারীর কারনে আপাতত জ্যোতিষ পরামর্শ বা ভাগ্যবিচারের ক্ষেত্রে অনলাইন মাধ্যমকেই ওধিক গুরুত্ব দিচ্ছি|যারা শারীরিক ভাবে আসতে পারছেন না চিন্তা করবেননা|উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করে সরাসরি আমার সাথে কথা বলতে পারেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|