7

শুভ হনুমান জয়ন্তীর শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজ হনুমানজির আবির্ভাব তিথি। এই দিনটিকে ‘হনুমান জয়ন্তী’ হিসেবে পালিত হয় আমাদের দেশে। এই পর্বে আসুন জেনে নিই রূদ্র অবতার হনুমান সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
এবং হনুমান জয়ন্তীর শাস্ত্রীয় এবং পৌরাণিক ব্যাখ্যা।

হনুমানের পিতার নাম ছিল কেশরী, মায়ের নাম ছিল অঞ্জনা। হনুমানের পালক পিতা হলেন পবন দেবতা|রাক্ষস বাহিনীর অত্যাচার থেকে ধরিত্রীকে মুক্ত করতে, তথা ভগবান রামের সেবা ও রাম নাম প্রচারের জন্যই রুদ্র অবতার হনুমানের আবির্ভাব।

শাস্ত্র মতে হনুমান চার যুগে অমর, পুরাণে তাই বলা হয়|এমনকি আজও তিনি স্বশরীরে এই পৃথিবীতে বিরাজমান।তিনি অষ্ট চিরঞ্জিবীদের অন্যতম।

হনুমানজী দ্বাপর যুগেও ছিলেন। মহাভারতেও তার উল্লেখ রয়েছে মনে করা হয় কুরুক্ষে যুদ্ধে
অর্জুন ও শ্রীকৃষ্ণের রথের ধ্বজা হিসেবে ছিলেন তিনি।সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছায় কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেবা করেছেন। হনুমানজীর অনুরোধে শ্রীকৃষ্ণ রামচন্দ্রের রূপ ধারণ করে হনুমানকে একবার দর্শনও দিয়েছিলেন।

হনুমান চালিসা অনুসারে রোগ ভোগ, ভুত পিশাচ এবং যেকোনো সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া যায় হুনুমানের স্মরণ নিলে, তাকে ভক্তি সহকারে ডাকলে|তিনি অসীম বল শালী কিন্তু সম্পূর্ণ নিরহংকার।রামায়ণে একমাত্র তিনিই নিষ্কাম কর্ম করে গেছেন। প্রভু শ্রী রাম কে সেবা করা ছাড়া তার আর কোনো লক্ষ্য নেই।

যেহেতু হনূমান স্বয়ং সশরীরে এই পৃথিবীতে বিরাজ করছেন তাই একজন প্রকৃত ভক্তের ডাকে তিনি অন্যন্যা দেব দেবীদের তুলনায় অনেক দ্রুত সাড়া দেন এবং ভক্তের মনোস্কামনা পূর্ণ করেন।

আজ শাস্ত্র মতে হনুমানজীকে ডাকুন। তার পুজো করুন। তার কৃপায় সংকট দুর হয় মনোস্কামনা
পূর্ণ হয়।সবাইকে হনুমান জয়ন্তীর শুভেচ্ছা জানাই। ফিরে আসবো আগামী পর্বে অন্য পৌরাণিক এবং শাস্ত্রীয় আলোচনা নিয়ে।দেখতে থাকুন।