বীর হনূমান এবং শনি দেব

5

বীর হনূমান এবং শনি দেব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আমাদের জ্যোতিষ শাস্ত্রের সঙ্গে বজরংবলীর রয়েছে গভীর সম্পর্ক।শাস্ত্রে আছে হনুমান পুজো করলে শনির খারাপ প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়া যায় কিন্তু কেনো|তার উত্তর লুকিয়ে আছে আমাদের শাস্ত্রে।হনূমান জয়ন্তী উপলক্ষে আজকের এই বিশেষ পর্বে সেই

প্রশ্নের উত্তর খুঁজবো।

 

আগের পর্বে আপনাদের বলেছি হনুমানজী যখন প্রথম লঙ্কায় যান রামের দূত হিসেবে তখন তিনি লঙ্কায় রাবনের হাতে বন্দি শনিদেবকে মুক্ত করে দেন।সন্তুষ্ট হয়ে হনূমানকে আশীর্বাদ দেন শনিদেব।

তবে এখানেই শেষ নয়। একাধিক বার সাক্ষাৎ হয় এই দুই মহারথীর।

 

হনুমান একদিন রামের পুজোয় বসেছেন। এমন সময় শনিদেব এলেন তাঁর কাছে। নিজ পরিচয় সদম্ভে ঘোষণা করে কে বেশী শক্তিশালী তা দেখার জন্য হনুমানকে যুদ্ধে আহ্বান করলেন।শান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করলেন হনুমান। বললেন, ‘আমি এখন রামের ধ্যানে বসেছি। দয়া করে আমাকে একা ছেড়ে দিন। পুজোর সময় আমাকে বিরক্ত করবেন না’।

 

শনি তো নাছোড়বান্দা! যুদ্ধে শক্তি পরীক্ষা না করে কিছুতেই যাবেন না তিনি। অগত্যা হনুমান আর কি করেন! নিজের লেজটাকেই বড় করে শনিদেবকে পেঁচিয়ে ফেললেন এবং শক্ত করতে লাগলেন লেজের বাঁধুনি। যতই বাঁধন শক্ত করেন, শনিদেব তো ততই হাঁসফাঁস করতে থাকেন ব্যথায়! শেষে হনুমান যখন লেজ ওপর-নীচ করতে লাগলেন, শনিদেবের তখন রীতিমতো কষ্ট পাচ্ছেন, এরপর পাথরের উপর দিয়ে ঘষে তাকে কিছুটা দূর নিয়ে গেলেন হনুমান, সারা গায়ে যখন তাঁর রক্তে ভেসে যাচ্ছে, তিনি মুক্তি চাইলেন, তখন শনির মিনতিতে দয়া হল হনুমানের।শনিদেবকে ছেড়ে দিলেন তিনি।

 

রামায়নের যুগের অবসান হওয়ায় পরেও একবার দুজনের সংঘাত হয়। একবার শনিদেব এসে হনুমানকে হুমকির সুরে সাবধান করে বলেন যে এই মুহূর্ত আমার সাড়ে সাতির দশা আপনার ওপরেও পড়তে চলেছে। এর উওরে হনুমানজী বলেছিলেন শ্রীরামের যারা ভক্ত তাদের উপরে গ্রহের কু প্রভাব পড়েনা।তাছাড়া আমার গোটা শরীরেতো শ্রীরামের বাস আপনার স্থান নেই।

জেদ করে শনিদেব হনুমানজীর মাথায় গিয়ে অবস্থান করলেন।আর হনুমানজীর মাথায় তখন হঠাৎ একটু অসস্ত্বি হতে শুরু হল। হনুমানজী এক পাহাড় তুলে নিজের মাথায় রাখলেন। প্রচন্ড ভারে কাবু হয়ে বললেন আমাকে নিচে নামতে দিন আমি আপনার সঙ্গে সন্ধি করতে রাজি আছি।

 

সন্ধি অনুসারে মুক্তি পান শনি দেব তবে শর্ত শ্রী রামের নাম যারা জপেন এবং যারা বজরংবলীর স্মরণ নেবেন তাদের ক্ষতি করা যাবেনা। আজও জ্যোতিষ শাস্ত্র এই কথা মেনে চলে।

 

আজকে বজরংবলী কে নিয়ে আলোচনা এখানেই শেষ করছি।ফিরে আসবো আগামী পর্বে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।