শিব – পার্বতীর বিবাহ পর্ব

11

শিব – পার্বতীর বিবাহ পর্ব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

চৈত্র মাস শিব পার্বতীর মাস।আজকর পর্বে শিব এবং পার্বতীর বিবাহ প্রসঙ্গ নিয়ে লিখবো।

জানাবো দুজনের বিবাহ সংক্রান্ত কিছু

পৌরাণিক তথ্য।

 

একবার তারকাসুর নামক এক শক্তিশালী অসুর জগতের, বিশেষ করে দেবরাজ ইন্দ্রের জন্য এক বড় বিপদ হয়ে দাঁড়ায়।সমগ্র সৃষ্টি তার অত্যাচার ভোগ করতে থাকে।তারকাসুর ব্রহ্মার কাছ থেকে এই বর পেয়েছিল যে, শিবপুত্র ছাড়া সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডে আর কেউ তাকে হত্যা করতে পারবে না! তাকাসুরের অপরাজেয়তার কথা জেনে, শিবের পুত্রের শীঘ্রই আগমন প্রয়োজন হয়ে পরে।

কিন্তু শিব তখন সর্ব ত্যাগী সন্ন্যাসী রূপে সর্বদা ধ্যানে মগ্ন।

 

ব্রহ্মার পরামর্শ অনুসারে, দেবদের একটি বিশাল প্রতিনিধিদল শিবের কাছে যায় এবং পার্বতীর সঙ্গে তার বিবাহের প্রসঙ্গ তোলে। শিব অন্তর্যামী। তিনি জানতেন এই বিবাহ না হলে সৃষ্টি রক্ষা পাবেনা। তাই তিনি বিবাহে সম্মতি দেন।

 

অন্যদিকে পার্বতী মনে প্রাণে শিবকে স্বামী মেনে সর্বদা তাঁর ধ্যানেই মগ্ন থাকতেন। দুজনের বিবাহ ছিলো সময়ের অপেক্ষা।

 

যথা সময়ে বিবাহ স্থির হয় এবং বিবাহের শুভ দিন এসে উপস্থিত হয়।বিয়ের দিন শিব চঞ্চল নর্তকের পোশাক পরে ‘নটরাজ’ ছদ্মবেশে ছিলেন এবং কন্যা পক্ষ তাকে চিনতে না পেরে অবহেলা করে বসে।তখন তিনি ঘোষণা করলেন যে তিনিই শিব।

 

তখন পার্বতীর বাবা-মা দুজনেই শুধু অসন্তুষ্টই হননি, বরং শিবের সাথে তাদের কন্যার বিবাহ দিতেও অস্বীকার করলেন। সপ্ত ঋষিদের আবির্ভূত হয়ে শিবের বিষয়ে তাদের বোঝাতে হয়েছিল।তারপর তারা বিয়েতে মত দেন।

 

যখন বরযাত্রী এসে পৌঁছাল, তখন বাবা-মায়েরা অনুষ্ঠানে আগত প্রত্যেক দেবতাকেই বর বলে ভ্রান্ত ধারণায় ছিলেন। আর যখন ভগবান সত্যিই এলেন, তখন তিনি শিবগণ, ভূত এবং পিশাচদের দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে, নন্দী নামক বৃষ বাহন-এর উপর ভূতনাথের এক ভয়ঙ্কর রূপে আবির্ভূত হলেন।

এতে উপস্থিত সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

 

ভগবান বিষ্ণুকে হস্তক্ষেপ করে বলতে হয়েছিল যে, তারা যা দেখছে তা শিবের একটি মায়া, যা তাদের মৌলিক বিশ্বাস পরীক্ষা করার জন্য করা হয়েছে।

অবশেষে বিবাহ অনুষ্ঠান আরম্ভ হয়।এতো কিছুর পরেও পার্বতী কিন্তু শিবের প্রতি নিজের বিশ্বাসে অবিচল ছিলেন।

 

শিব পার্বতীর বিবাহ শোভাযাত্রায় ব্রহ্মাণ্ডের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন, ‘সপ্তমাতা’ অর্থাৎ সাতজন মাতা যথা ব্রহ্মী, মহেশ্বরী, কৌমারী, বৈষ্ণবী, বরাহী, ইন্দ্রী এবং চামুণ্ডা। সাথে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, ইন্দ্র, গ্রহপ্রধান ও দেবগণ, সপ্ত ঋষি, ব্রহ্মমানস পুত্র, ঋষিগণ, শিবগণ, পিশাচ, দেবী ভগবতীর বিভিন্ন অবতার, গন্ধর্ব, অপ্সরা,সবাই এসেছিলেন এই দিব্য মুহূর্তের সাক্ষী হতে।

 

আনন্দ ও উল্লাসের মধ্যে দিয়ে বিবাহ সম্পন্ন হয়।যথা সময়ে শিব পার্বতীর পুত্র কার্তিকেয়ের জন্ম এবং তারকাসুরের বিনাশও হয়।

 

ফিরে আসবো আগামী পর্বে। শিব সংক্রান্ত ধারাবাহিক আলোচনা চলতে থাকবে নীল ষষ্ঠী পর্যন্ত। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।