শিব এবং আদি শঙ্করাচার্য্য
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
আর কিছুদি পরেই নীল ষষ্টি। শিব কথা শ্রবন এবং শিব মাহাত্ম বর্ণনা করার এটাই শ্রেষ্ঠ সময়।আজ শিব অবতার শঙ্করআচার্য্যকে নিয়ে লিখবো।
শাস্ত্রে আছে শংকর স্বয়ং শংকর। অর্থাৎ শঙ্করাচার্য্য শিবের অবতার।শিবের অংশ।
আদিগুরু শঙ্করাচার্য্যর প্রারম্ভিক জীবন এবং বাল্যকাল নিয়ে নানা মুনির নানা মত|তবে এ বিষয়ে সব থেকে গ্রহন যোগ্য প্রামাণ্য হিসেবে ধরা হয় শংকর বিজয়ম নামক প্রাচীন গ্রন্থকে|আনুমানিক 1788 খ্রিস্টাব্দে, কেরল রাজ্যের কালাডি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন শঙ্করাচার্য্য|তার বাবার নাম ছিল শিবগুরু ও মায়ের নাম আর্যাম্বা|কথিত আছে ত্রিশূরের বৃষভচল শিবমন্দিরে পুত্রকামনা করে পূজা দিয়ে আশীর্বাদ স্বরূপ শংকরকে পেয়ে ছিলেন তার বাবা মা|তিনি ছিলেন শিবের বর পুত্র।
গৃহ ত্যাগ করে সন দীর্ঘ সময় পদব্রজে সারা উত্তর ভারত পরিভ্রমণ করার পর অবশেষে গুরুর সাথে সাক্ষাৎ হলো|নর্মদানদীর তীরে ওঙ্কারেশ্বরেতিনি গৌড়পাদের।শিষ্য গোবিন্দ ভগবদপাদের শিষ্যত্ব গ্রহন করলেন শঙ্করাচার্য্য।
কাশীতে বিশ্বনাথ মন্দিরদর্শন করতে যাওয়ার সময় স্বয়ং শিব এক চন্ডাল রূপে তাকে দর্শন দিয়ে ছিলেন। তখন তর্ক শাস্ত্রে তার মতো জ্ঞানী দেশে আর কেউ ছিলোনা। মনে করা হয় নিজের অসীম জ্ঞানের জন্য শঙ্করাচার্য্য যখন সামান্য অহং বোধের শিকার হন তখন একদিন পথে এক চণ্ডাল তার সামনে আসেন।তার সঙ্গে ছিলো কয়েকটি ভীষণ দর্শন কুকুর।আদি গুরু তাকে পথ থেকে সরে দাঁড়াতে বলেন। স্বাভাবিক ভাবেই চণ্ডালের আগমন তাকে বিব্রত এবং বিরক্ত করেছিলো। সেই সময় সেই ভয়ংকর চেহারার চণ্ডাল তখন শঙ্করাচার্য্য কে বলেন যদি অদ্বৈত বাদ সত্য হয়। সব জীবেই পরম ব্রহ্ম বাস করেন। তবে চণ্ডাল আর ব্রাহ্মনে ভেদ থাকা উচিৎ নয়। মুহূর্তে আদি গুরু তার ভুল বুঝতে পারেন। সেই চণ্ডালের সামনে মাথা নত করেন। তখন শিব নিজ রূপে তাঁকে দেখা দেন।শংকরাচার্য্য ধন্য হন বিশ্বনাথের দর্শন পেয়ে।
শঙ্করাচার্য সারাটা জীবন ধরে অদ্বৈতত্ত্বের প্রচার করে বেদ বিমুখী সমাজকে আবার বেদান্তের পথে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন| শঙ্করাচারজ্যর অদ্বৈত ত্বত্ত্বের মূল কথা ছিল- ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা। জীব ও ব্রহ্মে কোনো প্রভেদ নেই|অর্থাৎ, জীব ও ব্রহ্মকে এক ভাবাই অদ্বৈতবাদ।সকল জীবের অভ্যন্তরে যে আত্মা বিরাজমান, তা পরমাত্মারই প্রকাশ। এ তত্ত্বে জীবাত্মা ও পরমাত্মা এক|
শিব স্বয়ং যেমন পরম বৈষ্ণব তার ভক্ত বা
অংশ শংকরা চার্য্যও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না সন্ন্যাস জীবনে যখন তিনি তার মায়ের সঙ্গে শেষ সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন তার মাকে তিনি হরেকৃষ্ণ মহা মন্ত্র জপ করে শুনিয়ে তাকে উদ্ধার করেছিলেন।
চৈত্র মাস উপলক্ষে শিব সংক্রান্ত পরবর্তী পর্ব নিয়ে যথা সময়ে আবার ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
