বাংলার ঐতিহাসিক পুজো – রাজা মান সিংহের আরাধ্যা দেবী

22

বাংলায় বারোয়ারী দূর্গা পুজোর সূচনা হয়েছিলো অনেক পরে প্রথমে দূর্গাপুজা শুরু হয় রাজ, জমিদার বা অভিযাত ব্যাবসায়ীদের বাড়িতে|তাই ঐতিহাসিক পুজো গুলির মধ্যে বেশি ভাগই প্রাচীন এই বনেদি বাড়ির পুজো|শুধু কলকাতায় নয় জেলার বহু পুজোর সাথে জড়িয়ে আছে বহু গল্প বহু ইতিহাস|এমনই এক পুজো বীরভূমে কীর্ণাহার এর ৩৫০ বছরের প্রাচীন দুর্গাপুজো|রাজা মান সিংহ এই পরিবারকে বীরভূমে জায়গীর প্রদান করেন। এবং তিনিই এই ‘সরকার’ উপাধিতে ভূষিত করেন।প্রাচীন এই জমিদার বাড়ির পুজোতে শুরুর দিন থেকে আজ পর্যন্ত একই রীতি চলছে|প্রতিপদ, দ্বিতীয়া এবং তৃতীয়ায় ৪০ কেজি চালের ভোগ দেওয়া হয়। এরপর চতুর্থী, পঞ্চমী এবং ষষ্ঠীতে ৬০ কেজি চালের ভোগ রান্না হয়। আর সবশেষে সপ্তমী, অষ্টমী এবং নবমী ৭০ কেজি থেকে ১ কুইন্টাল চালের ভোগ হয়।দেবী প্রতিমাতেও বিশেষত্ব আছে|সরকার বাড়ির দুর্গা দশভুজা হলেও তাঁর দুটি হাত বেশি বড়, বাকি ৮ হাত ছোট। তাছাড়া একমাত্র কার্তিকের ময়ূর ছাড়া আর কোনও বাহনকে দেখা যায় না। এমনকি দেবীর বাহন সিংহ-ও নেই, বদলে থাকে নরসিংহ। পুজোতে বলির প্রথা প্রচলিত। ছাগবলি এবং কুমড়ো বলি, দু’রকম বলি-ই হয়।পাশাপাশি দেবীর উদ্দেশ্যে মাছভোগ-ও নিবেদন করা হয়|রাজা মান সিংহের আরাধ্যা জগদ্ধাত্রী প্রতিষ্ঠিত এই বাড়িতে, আর তিনিই সরকারদের কুলদেবী।দুর্গাপুজো ঠিক বাড়ির ভেতরে হয় না‌। সামনেই একটি চণ্ডীমণ্ডপ, সেখানে হয়।রাজা মান সিংহের আরাধ্যা দেবী এই বাড়ির পুজোকে নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক ভাবে অন্য গুরুত্ব প্রদান করে আসছে|দশমীর বিসর্জনেও রয়েছে এক অদ্ভুত ও মজার রীতি রীতি। শোনা যায় বিসর্জনের আগে দেবীকে বহন করে নিয়ে যান এলাকার তথাকথিত নিন্ম বর্গের একটি বিশেষ জাতীর মানুষজন এবং তারা নাকি এ সময় নানা কুকথা বলতে থাকেন সরকার বাড়ির সদস্যদের উদ্দেশ্যে। কারন তারা এককালে জমিদারের প্রজা ছিলেন এবংঅতীতের জমিদারি প্রথার বিরোধিতা করতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা । মজার বিষয় হল, বিসর্জন হয়ে যেতেই এরা রাতারাতি আমূল বদলে যান। সরকার বাড়ির সদস্যদের কাছে তারা ক্ষমা চান ও সৌজন্য বিনিময় করেন|জমিদার বাড়ির সদস্যরাও তাদের হাসি মুখে ক্ষমা করে দেন|বাংলার প্রাচীন ও ঐতিহাসিক এই পুজোয় মাইকেল মধুসূদন দত্ত, বিদ্যাসাগর, মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো মনীষীরা এসেছেন । শোনা যায় এই বাড়িতে সাধক বামাক্ষ্যাপা-ও এসেছিলেন|বাংলার ঐতিহাসিক পুজো সংক্রান্ত আরো অনেক তথ্য নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|