নবদুর্গার তৃতীয় রূপ – দেবী চন্দ্রঘন্টা

51

নবরাত্রিতে তৃতীয় দিনে পূজিতা হন নব দুর্গার তৃতীয় রূপ অর্থাৎ চন্দ্র ঘন্টা|পুরান অনুসারে শিব পার্বতীর বিবাহের সময় হঠাৎ তারোকাসুর প্রেত পিশাচ দৈত দানব সহ আক্রমণ করে বসে তখন দেবী পার্বতী এক দশ ভুজা রুপী মঙ্গলময়ী দেবী রূপে চন্দ্র সম বিশাল শুভ ঘণ্টা বাজিয়ে সকল অশুভ শক্তি কে নিরস্ত্র করেন|দেবীর এই রূপ চন্দ্র ঘন্টা নামে পরিচিত|দেবীর আবির্ভাব সম্পর্কে আরো একটি ব্যাখ্যা প্রচলিত আছে|দ্বিতীয় তত্ব অনুসারে শিব বিবাহ কালে চন্ড রূপ ধারণ করলে তাকে দেখে মেনকা সহ উপস্থিত অথিতিরা ভীত হয়ে পড়েন তখন দেবী পার্বতী শিবের এই রূপের প্রত্যুত্তরে চন্দ্রঘণ্টা রূপ ধারণ করেন। দেবীর এই রনমূর্তি দেখে শিব তার নিজের চন্ড রূপ ত্যাগ করে বিবাহের জন্যে নিজের সৌম ও শান্ত রূপে ফিরে আসেন|দেবী চন্দ্রঘন্টা তৃতীয় নয়ন দ্বারা সমৃদ্ধ যা শুধুমাত্র যুদ্ধের সময় খোলে।দেবীর মস্তকে অর্ধচন্দ্র থাকে , তাই দেবীকে চন্দ্রঘণ্টা নামে ডাকা হয় । দেবীর শরীরের রং স্বর্ণের মতো উজ্জ্বল । এই দেবী দশভুজা । দেবীর হাতে কমণ্ডলু , তরোয়াল , গদা , ত্রিশূল , ধনুর্বাণ , পদ্ম , জপ মালা থাকে| দেবীর বাহন সিংহ|দেবীর চন্দ্র ঘন্টার পুজো করতে চাইলে একটি প্রদীপ ঘি বা তিলের তেল দিয়ে জ্বালান এবং দেবীর মূর্তি মূর্তির কাছে বেদীতে রাখুন।গন্ধম, পুষ্পম, দীপম, সুগন্ধম এবং নৈবেদ্যম অর্থাৎ পঞ্চোপচার দেবীর পুজো করতে পারেন দেবীর আহ্বানে নিম্নলিখিত মন্ত্রটি উচ্চারন করতে পারেন- ওম দেবী চন্দ্রঘণ্টায় নমঃ ॥পিন্ডজা প্রভাররুধা চন্দকোপাস্ত্রকৈর্যুতা।প্রসাদম্ তনুতে মহ্যম চন্দ্রঘণ্টেতি বিশ্রুতা ॥ইয়া দেবী সর্বভূতেষু মা চন্দ্রঘণ্টা রূপেন সংস্থিতা। নমস্তস্যায় নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥দেবী দুর্গার এই রূপ তার ভক্তদের মন্দ থেকে রক্ষা করেন। এই দেবীর আরাধনা সাংসারিক সুখ ও শান্তি এনে দেয় জীবনে|জীবন সবদিক থেকে পরিপূর্ণ হয় দেবীর আশীর্বাদে|প্রতিবছরের ন্যায় এবছর ও নবরাত্রি এবং দূর্গা পুজো অনুষ্ঠিত হবে আপনাদের হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে আপনারা বাড়িতে থেকেও অনলাইনে এই পক্রিয়ার সাথে সম্পূর্ণ ভাবে যুক্ত হতে পারেন|আগামী দিনের পর্বে দেবীর অন্যরূপ নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|