বাংলার ঐতিহাসিক পুজো – হরিপালের বোম ফাটানো পুজো

24

আজ আপনাদের ৪০০ বছরেরও বেশি পুরনো হরিপালের ‘বাবুর বাড়ি’-র দুর্গা পুজো নিয়ে বলবো হ্যাঁ ” বাবুর বাড়ির পুজো ” নামেই খ্যাত হুগলীর হরিপালের এই বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক দূর্গা পুজো|ব্যাতিক্রমী একটি প্রথা এখানে আজও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা হয়|বিশেষ মুহুর্তে পরিবারের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ সদস‍্য , বাড়ির সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠা মহিলাদের থেকে গিয়ে অনুমতি নেন আরতি আরম্ভ করার। অনুমতি মেলার সঙ্গে সঙ্গে একটি বোমা ফাটানো হয়। তারপরেই বয়োজ্যেষ্ঠ সদস‍্য “মা” বলে ডেকে ওঠেন, সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও “মা” বলে ডাক দেন। আর অমনি এই সময়ে এক সাথে “মা” দুর্গা এবং রাধা গোবিন্দের আরতি শুরু করেন দুই পুরোহিত। ৪০০ বছরে এই রীতির পরিবর্তন হয়নি|স্থানীয় ইতিহাস ঘাটলে জানা যায় আনুমানিক ৫০০ বছর আগে রাসবিহারী ভট্টাচার্য্য হরিপালেরএই গ্রামে এসে জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন। সেই সময় প্রত্যেক বছর অঘ্রাণ মাস ধরে কাত‍্যায়নি পুজো হতো জমিদার বাড়িতে। রাজবিহারী ভট্টাচার্য্যের পুত্র কৃষ্ণনাথ ভট্টাচার্য্য একানিষ্ঠ গোবিন্দ ভক্ত ছিলেন। তিনি একদা বৃন্দাবনে গোবিন্দ দর্শনে বার হলে পথে স্বপ্নাদেশ পান বৃন্দাবনে নয়, জয়পুরে অধিষ্ঠিত আছেন গোবিন্দ। সেখান থেকে গোবিন্দের মূর্তি নিয়ে এসে গজা গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন কৃষ্ণনাথ ভট্টাচার্য্য। তারপর থেকেই কাত‍্যায়নি পূজো বন্ধ হয়ে মা দুর্গার পূজা চালু হয় ভট্টাচার্য্য বাড়িতে যেটি বর্তমানে “বাবুর বাড়ি” নামে খ‍্যাত।জন্মাষ্টমীর দিন কাঠামো পূজার মাধ্যমে ” বাবুর বাড়ি” র দুর্গাপুজো শুরু হয়। এক চালচিত্রের মধ্যেই একই বংশের পটুয়ারা বাবুর বাড়িতে এসে প্রতিমা নির্মাণের কাজ করেন। পুজোর চারদিন দূর্গা দালানে মা দুর্গার পাশে বিরাজমান থাকেন রাধা গোবিন্দ । এবং রাধা গোবিন্দের সাথে মা দুর্গার একসাথে আরাধনা চলে পুজোর চারদিন। দুটি পুরোহিত একসঙ্গে দুটি পুজোর রীতিনীতির কাজ সম্পন্ন করেন নিষ্ঠাভরে।। সপ্তমী, অষ্ঠমী, নবমীতে রাধা-গোবিন্দকে প্রথমে উৎসর্গ করা ভোগ। সেই ভোগের একটা অংশ চলে যায় মা দুর্গার কাছে। সঙ্গে আরও অন্য ভোগ দিয়ে মা দুর্গাকে ভোগ নিবেদন করা হয়। প্রাচীন এই রীতির পরিবর্তন হয়নি আজ ও। দশমীতে বিসর্জনের আগের মুহুর্তে রাধাগোবিন্দ ফিরে যান তাঁর নিজ স্থানে। হুগলী জেলার প্রাচীনতম পুজো “বাবুর বাড়ি” পুজো এই বাড়ির ঠাকুর বিসর্জনের পরেই গ্ৰামের অন‍্যান‍্য বাড়ি ও এলাকার অন‍্যান‍্য পুজা কমিটির প্রতিমা বিসর্জন হয়।বাকি রইলো আরো অনেক ঐতিহাসিক পুজো নিয়ে বলা|আগামী দিনে দুর্গাপূজা সংক্রান্ত আরো অনেক ইতিহাস, গল্প ও শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|