স্নান যাত্রার মাহাত্ম

45

স্নান যাত্রার মাহাত্ম

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

পুরীর মন্দিরে অবস্থিত জগন্নাথ বিগ্রহ সব দিক দিয়ে বৈচিত্র পূর্ণ। তিনি সাক্ষাৎ জগতের নাথ।

প্রতিনিয়ত তিনি নানা লীলার মাধ্যমে নিজের নিজের দিব্য উপস্থিতি প্রমান করে চলেছেন। তার এমনই এক লীলা এই স্নান যাত্রা যা এই দেবস্নান পূর্ণিমায় প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়।

 

স্কন্দপুরাণ অনুসারে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন যখন কাঠের দেবতাদের স্থাপন করেছিলেন তখন তিনি এই স্নান অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। এই দিনটিকে ভগবান জগন্নাথের আবির্ভাব তিথি বলে মনে

করা হয়।যেহেতু এই তিথিতে জগন্নাথ দেব স্নান করেন তাই এই এই পূর্ণিমা তিথি দেবস্নান পূর্ণিমা নামে পরিচিত।

 

জগন্নাথকে তাঁর আদি রূপ অর্থাৎ নীলমাধব রূপে পূজা করছিলেন বিশ্ববাসু নামে একজন সাভার প্রধান। আজও জগন্নাথের অঙ্গ সেবক দের সাথে মিলে সাভার জাতীর লোকেরা স্নান যাত্রার আয়োজন করেন।প্রথা মেনে স্নান যাত্রার আগের দিন জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার মূর্তি আনুষ্ঠানিকভাবে গর্ভগৃহ থেকে স্নান-বেদীতে নিয়ে আসা হয়। পুরীর মন্দির চত্বরে এই বিশেষ প্যান্ডেলটিকে বলা হয় স্নান মন্ডপ।

 

স্নানের আগের দিন যখন দেবতাদের শোভাযাত্রায় নিয়ে যাওয়া হয়, তখন পুরো প্রক্রিয়াটিকে পাহান্দি বা পাহান্ডি বিজয় বলা হয়। স্নানের দিন মঙ্গলা আরতির পরে তামা ও সোনার একশত ত্রিশটি পাত্রে সোনা কুয়া নামক বিশেষ কূপ থেকে জল আনতে একটি আনুষ্ঠানিক শোভাযাত্রায় যায়। তারপর সেই জল চন্দন, আগুরু, ফুল, সুগন্ধি এবং ভেষজ ঔষধি দিয়ে শুদ্ধ করা হয়।

ভরা পাত্রগুলি ভোগ মন্ডপ থেকে স্নান বেদী পর্যন্ত

নিয়ে আসার রীতিকে বলা হয় ‘জলধিবাসা’

তারপর একশো আট কলস জলে স্নান করানো হয় জগন্নাথকে

 

স্নান যাত্রার পরে, দেবতাদের পনের দিনের জন্য জনসাধারণের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দূরে রাখা হয় এবং এই সমস্ত দিনগুলিতে মন্দিরের দৈনন্দিন অনুষ্ঠান স্থগিত থাকে। এই অনুষ্ঠানের পরে তাকে এক পাক্ষিক দেখা যায় না। মন্দিরের ভিতরে রতন বেদী নামে একটি বিশেষ “অসুস্থ ঘরে” দেবতাদের রাখা হয়। এই সময়কে বলা হয় ‘অনাবাসর কাল’ অর্থাৎ উপাসনার অনুপযুক্ত সময়। ভগবান জগন্নাথকে স্নান করানোর পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং চৌদ্দ দিন বিশ্রামে থাকেন। তারপর রথযাত্রা পর্যন্ত তাকে বিশেষ যত্নে রাখা হয় এবং বৈদ্যরা তার সেবা সুশ্রসা করেন।

 

সুস্থ্য হয়ে রাজ বেসে সুসজ্জিত রথে প্রভু পথে নামেন তার ভক্তদের দর্শন দিতে।শাস্ত্র মতে স্নান যাত্রা এবং রথ যাত্রা এই দুই তিথিতে সবাই তাকে দর্শন করতে পারেন এবং এই সময়ে তার দর্শন পেলে জন্ম জন্মান্তরের পাপ খণ্ডন হয় এবং পরম পুন্য লাভ হয়।

 

আবার রথ যাত্রা উপলক্ষে জগন্নাথ প্রসঙ্গে বিশেষ আধ্যাত্মিক আলোচনা নিয়ে ফিরে আসবো। চলতে থাকবে অম্বুবাচি নিয়ে শাস্ত্রীয়

আলোচনা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।