অম্বুবাচি এবং কামাখ্যা

151

অম্বুবাচি এবং কামাখ্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

প্রতিবছর অম্বুবাচি এলেই সারা দেশের নজর থাকে মহাপীঠ কামরুপ কামখ্যার দিকে। কিন্তু এই বিশেষ সময়ে কামাখ্যা মন্দির এতো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে কেনো তার অনেক গুলি কারন আছে। তবে শুরু করতে হবে পুরান দিয়ে।

 

পুরান অনুসারে সতী বা পার্বতীকে দেহত্যাগ করার পর শিব তাকে নিয়ে প্রলয় নৃত্য শুরু করেছিলেন তাতে পৃথিবী অশান্ত হয়ে পড়েছিল। তখন শিবকে শান্ত করার জন্য বিষ্ণু তার সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ ৫১ টি টুকরা করেন এবং সেইগুলি বিভিন্ন জায়গায় পড়েছিল। যার মধ্যে বিষ্ণুর চক্রে ছিন্ন সতীর যোনী পতিত হয় কামাখ্যায় আবার মতান্তরে দেবী সতীর যোনি এবং গর্ভ দুই এখানে পড়েছিল।

 

কামাখ্যা মন্দিরটি আসামের নীলাচল পাহাড়ে অবস্থিত। এখানে মোট ১০টি রূপ বা দশ মহাবিদ্যার মন্দির রয়েছে। এই মন্দিরের দেবতার রুপ গুলো হল – কালী, তারা,ষোড়শী, ভূবনেশ্বরী, ভৈরবী, ছিন্নমস্তা, ধূমাবতী, বগলামুখী, মাতঙ্গী ও কমলা। মধ্যযুগে হুসেন শাহের অনুপ্রবেশের সময় ১৪৯৮ সালে এই মন্দির ধংস করা হয়েছিল বলে কথিত আছে। ১৫৬৫ সালে পুরনায় মন্দিরটি নির্মান করা হয় কোচ সাম্রাজ্যের রাজা নর নারায়নের সময়ে ১৫৬৫ সালে ৷

 

এই স্থানকে যোনিপীঠ বা তীর্থচূড়ামণি বলা হয়। আর সেই কারণেই কামাখ্যা দেবীকে রক্তক্ষরণকারী দেবীও বলা হয়। কামাখ্যা মন্দির ৫১ পীঠের মধ্যে অন্যতম একটি জনপ্রিয় গুরুত্বপূর্ণ পীঠ যার সাথে অম্বুবাচির রয়েছে বিশেষ সম্পর্ক।

 

সেই অদিকাল থেকে সৃষ্টি, উর্বরতা এবং সর্বোপরি নারী শক্তির প্রতীক হয়ে ওঠে কামাখ্যা। ধীরে ধীরে তাই অম্বুবাচি পালনের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয় এই সতী পীঠ।শুধু তাই নয় তন্ত্র মন্ত্রের জন্য ও বিখ্যাত কামাখ্যা কথিত আছে, মন্ত্রতন্ত্র সাধনার এক রহস্যময় স্থান হল কামরূপ কামাখ্যা। পুরাকালে কোন পুরুষ এই সময় কামাখ্যা মন্দিরে প্রবেশ করলে, মন্ত্র বলে তাকে বশ করে রাখা হত। তাই বহু বছর ধরে বহু বিদেশি শাসক কামরুপ রাজ্য কে আক্রমণ করার সাহস দেখায়নি।

আজও অম্বুবাচি উৎসবে যোগ দেনা বহু তন্ত্র সাধক বহু তন্ত্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয় এই সময়ে।

 

দেশ বিদেশ থেকে বহু ভক্ত এই বার্ষিক অম্বুবাচির সময়ে কামাক্ষায় এসে উপস্থিত হন। কামাক্ষার বিভিন্ন উৎসবের মধ্যে অম্বুবাচি হল বৃহতম উৎসব। বিবাহিত নারীরা যেমন সন্তানের জন্য দেবী কামাক্ষার আরাধনা করেন, সেই রকমই কৃষকরা ভূমি মাতার গর্ভে ফসলের আশায় কামাখ্যা দেবীর আরাধনা করেন। প্রতি বছর অম্বুবাচি নিবৃত্তির পর দেবী স্নান হয় তারপরেই পূজার সূচনা হয় যোগ দেন অসংখ্য মানুষ।

 

পরবর্তী পর্ব গুলিতে আরো বিস্তারিত

আলোচনা করবো এই শাস্ত্রীয় বিষয় নিয়ে।

থাকবে আরো অনেক তথ্য এবং

পৌরাণিক ঘটনা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।