ঘাট শিলায় পন্ডিতজি

114

পেশাগত কারনে এই মুহূর্তে ঘটশিলার পথে, যেতে যেতে এই আদিম অপার্থিব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনাদের সাথে ভাগ করে নেয়ার ইচ্ছে হলো তাই কলম ধরলাম,

চারিদিকে উঁচু নীচু পাহাড়ের টিলা,নদী, জঙ্গলে ঘেরা এই শান্ত পরিবেশ ঘিরেই ঘাটশিলার প্রকৃতি।
ঘাটশিলার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে সুবর্ণরেখা নদী। কথিত আছে এই নদীর বালুতটে নাকি সোনা পাওয়া যায় এখনও তাই এই নদীকে সুবর্ণরেখা নদী বলা হয়।

ঘাটশিলা মহান বাঙালি ঔপন্যাসিক বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের জন্যও বিখ্যাত, তাঁর অন্যতম প্রধান উপন্যাস “পথের পাঁচালী” অনুপ্রাণিত হয়েছিলো এই মনোরম প্রকৃতির দ্বারা যে গল্প নিয়ে পরবর্তীতে সিনেমা বানিয়েছেন সত্যজিৎ রায়।প্রকৃতিপ্রেমী লেখক এখানে একটি বাড়িও করেছিলেন, নাম দিয়েছিয়েন “গৌরী কুঞ্জ”, তাঁর স্ত্রী’র নাম অনুসারে এই বাড়ির নামকরণ করা হয়।

ঘাটশিলার একটি পৌরাণিক সংযোগ ও রয়েছে, এখানে রয়েছে পঞ্চপান্ডব পাহাড় যা মহাভারতের পাণ্ডবের পাঁচ ভাইয়ের প্রাকৃতিক সৃষ্টি বলে ধরা হয়|পাহাড়ের কথা উঠলে এখানকার ফুলডুংরী পাহাড়ের কথা এসেই পরে, এই পাহাড়ের চূড়া থেকে ঘাটশিলা শহরের একটি দুর্দান্ত দৃশ্য দেখতে পারবেন|

ঘাটশিলায় একটি অতি প্রাচীন ও জনপ্রিয় মন্দির ও রয়েছে, ধলভূম রাজা জগন্নাথ গালুদিহে “রঙ্কিনী মন্দির” নির্মাণ করেছিলেন যা ঘটশিলার দর্শনীয় স্থান গুলির মধ্যে অন্যতম|

আপনার মধ্যে যদি প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা থাকে, তাহলে একবার অবশ্যই আসতে হবে ঝাড়খন্ডের এই পাহাড়ি এলাকায়|পাহাড়, নদী, অরণ্যে, টিলা, মন্দির, প্রাকৃতিক ঝর্না সব মিলিয়ে এই ঘাটশিলা আপনাকে নিয়ে যাবে এক আদিম নৈসর্গিক প্রকৃতির মাঝে যেখান থেকে হয়তো আর কৃত্তিম ও যান্ত্রিক শহরে ফিরে আসতে মন চাইবেনা|

আপাতত এই প্রকৃতিকে উপভোগ করতে করতে এগিয়ে যাওয়ার পালা নিদ্দিষ্ট গন্তব্যে|আবার লিখবো যথা সময়ে, অন্য কোনো পর্যায়ে অন্য কোনো স্থান নিয়ে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|