মন্দির রহস্য – কনক দুর্গার মন্দির

17

বহু মন্দিরের ইতিহাস ও অলৌকিক বৃত্তান্ত আপনাদের আগেই বলেছি ধরবাহিক লেখনী গুলির মাধ্যমে| তবে বাংলায় ঐতিহাসিক তথা প্রাচীন মন্দিরের সংখ্যা এতোই বেশি যে সহজে শেষ হওয়ার নয়|আজ বলবো ঝাড় গ্রামের কনক দূর্গা মন্দিরের কথা|চিল্কিগড়ের কনক দুর্গা মন্দির বাংলার প্রাচীন দূর্গা মন্দির গুলির মধ্যে অন্যতম। শোনা যায় এই মন্দিরটি প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো। আজও জশ্রুতি আছে যে একসময় নরবলি হত।যদিও তার ঐতিহাসিক তথ্য প্রমান জোগাড় করা মুশকিল তাই এক্ষেত্রে বিশ্বাস টাই সব|এখনও মোষ বা পাঁঠা বলি হয় বিশেষ রীতি মেনে।বলা হয় এই মন্দিরে নিজেই নিজের ভোগ রান্না করেন দেবী।ভোগের ক্ষেত্রে এখানে বেশ বৈচিত্র এবং অদ্ভুত কিছু রীতি আছে|পুজোর চারদিন দুর্গাদেবীকে হাঁসের ডিম, মাছ পোড়া, শাক ভাজা, পান্তা ভাত দিয়ে ভোগ দেওয়া হয়। অষ্টমীর রাতে মন্দিরে পাতকুয়োর সামনে পাঠা বলি দিয়ে দেবীকে নিবেদন করা হয়। শোনা যায় নিশি রাতে সেই বলি হয়৷ নবমীর অন্নভোগের আগে সেই বলির মাংস নতুন মাটির হাড়িতে সেদ্ধ করে রাখা হয়।নবমীর যজ্ঞের পরে হাড়িতে রাখা বলির মাংস রান্না করে কনক দূর্গার ভোগ নিবেদন করা হয়। একেই পুরোহিতরা বিরাম ভোগ বলেন। অষ্টমী পুজোর পরই রাতের বেলায় জঙ্গলের গভীরে বলির আয়োজন হয়। তিথি-নক্ষত্র মেনেই বলি দেওয়া হয় আর সেটি নিয়ে আসা হয় রাজবাড়ির বিশেষ কক্ষে। এই পুজোতে বাইরের কোনও মানুষের প্রবেশ অধিকার থাকে না। শুধুমাত্র পুরোহিত এবং কয়েকজন সহায়ক থাকেন যাঁরা বংশ পরম্পরা ধরে এই কাজ করে আসছেন।শোনা যায় চিল্কিগড়ে মত্তগজ রাজবংশের গোপীনাথ সিং এই পুজোর প্রতিষ্ঠা করেন। মত্তগজ বংশের পর চিল্কিগড়ের আসেন ধবলদেও সিংহ। তাঁরও আগে ছিলেন ত্রিপাঠি বংশের রাজারা। এঁরা সকলেই ছিলেন শক্তির উপাসক। চিল্কিগড় এলাকা ঘন জঙ্গলে পরিপূর্ণ। আজও কান পাতলে শোনা যায় অদ্ভুত সব গা ছম ছম করা কিংবদন্তী শোনা যায়, চিল্কিগড়ের প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রাচীন যে মন্দিরটি রয়েছে তার পশ্চিমপ্রান্তের এক পরিত্যাক্ত দালানে নাকি নরবলি হত। সেই রক্তেই নাকি পূজিতা হতেন কনকদূর্গা।প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা এই মন্দির। ঝাড়গ্রাম থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার ডুলুং নদীর তীরে গভীর জঙ্গলে অবস্থিত । এখানকার দেবী অশ্বারোহিনী চতুর্ভূজা। ১৯৬০ সালে আসল মূর্তিটি চুরি হয়ে যায়৷ ১৯৯৬ সালে গোপীনাথের বংশধররা অষ্টধাতুর কনকদুর্গার একটি রেপ্লিকা মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত করেন৷ মন্দির লাগোয়া এলাকায় বিশাল জঙ্গল। পর্যটনের জন্য বেশ ভালো।বহু দুর দুরন্ত থেকে মানুষ আসেন দেবীর দর্শন করতে|ফিরে আসবো অন্য কোনো মন্দিরের রহস্য নিয়ে|আগামী পর্বে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|