বাংলার কালী – বসিরহাটের দক্ষিনা কালীর পুজো

19

বসিরহাটের পাশ দিয়ে বয়ে চলা ইছমতী নদীর পাড়ে সংগ্রামপুর নামক ছোট্ট জনপদটি বেশ প্রাচীন শোনা যায় ইছামতীর তীরে মানসিংহের সঙ্গে বাংলার এক রাজা প্রতাপাদিত্যের যুদ্ধ হয়। সেই যুদ্ধ বা সংগ্রাম থেকে এই জায়গার নাম হয় সংগ্রামপুর।আমাদের আজকের আলোচ্য বিষয় সেই ইতিহাস নয় বরং এই বসিরহাটের সংগ্রামপুরে দক্ষিণাকালীর একটি মন্দির।

 

জঙ্গলের মধ্যে ছিল কালীর থান। কালীভক্ত রাজা কৃষ্ণচন্দ্র একবার ইছামতীর বুকে নৌকো বিহারের সময়ে রাতে স্বপ্ন দেখেন ইছামতীর উত্তর দিকের জঙ্গলের মধ্যে আলো ঠিকরে বেরোচ্ছে। তার মধ্যে দাঁড়িয়ে এক মহিলা বলছেন এখানে কালীমন্দির প্রতিষ্ঠা করতে। পর দিন সকালে স্বপ্নের কথা শুনে মন্ত্রীর পরামর্শে কৃষ্ণচন্দ্র জঙ্গল পরিষ্কার করে সেখানে দক্ষিণাকালীর মূর্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মন্ত্রীকে বলেন।রাজার নির্দেশ মতো বন জঙ্গল পরিষ্কার করে তৈরী হয় মন্দির শুরু হয় তৈরী। মন্দির তৈরী হলে দেবী দক্ষিনা কালীর মূর্তি স্থাপন করে শুরু হয় দেবী আরাধনা। সেই পরম্পরা আজও চলছে। যদিও সেই রাজাও নেই সেই রাজত্ব ও নেই। তবু দেবী দক্ষিনা কালী স্বমহিমায় বিরাজ করছেন এই মন্দিরে।

 

একাধিক কিংবদন্তী এবং অলৌকিক ঘটনার কথা শোনা যায় এই পুজোকে কেন্দ্র করে। শোনা যায় কৃষ্ণ চন্দ্র পরবর্তী সময়ে মন্দিরের কাঠামো ভেঙে পড়লে সেখানে টাকির রায়চৌধুরী জমিদারেরা কাছারিবাড়ি করেন।স্থানীয় এক সাধককে সাময়িক ভাবে পুজোর দায়িত্ব দেয়া হয়।এক রাতে দেবী সেই সাধককে স্বপ্নে জানান যে এখানে কালী মন্দির নির্মাণের করতে হবে । জমিদার বাবুর কানে পৌছায় সেই খবর। সাথে সাথে একটি অস্থায়ী মন্দির করে আবার দেবীকে সেখানে শাস্ত্র মতে স্থাপন করা হয়।পরবর্তীকালে টাকির জমিদার সূর্যকান্ত রায়চৌধুরী পাকা মন্দির তৈরি করেন।

 

কয়েক শতাব্দী ধরে দেবী এখানে পূজিতা হচ্ছেন একই ভাবে।ভক্তদের বিশ্বাস, মা কালী এখানে লালপাড় শাড়ি পরে ভক্তদের খোঁজ নিতে গভীর রাতে গ্রামে ঘুরে বেড়ান।

 

এই মন্দিরে পুজোর ক্ষেত্রে বিশেষ করে ভোগের ক্ষেত্রে কিছু বৈচিত্র চোখে পড়ে।মটর ডালে কচুরমুখির সঙ্গে এঁচোড়-চিংড়ি ও সাদা ভাতের ভোগ রান্না হয় মাটির হাঁড়িতে।জনশ্রুতি আছে

এক বার মন্দিরের পুকুরের পোনা মাছ ধরে রান্না হয়। ভোগ খেতে খেতে বসে সবাই দেখেন, তা চিংড়ি মাছ। সেই থেকে সেবাইতদের রান্না করা ভোগে চিংড়ি মাছ দেওয়ার রীতি চালু করেন।

 

বসিরহাট সংলগ্ন একাধিক গ্রামে এই দেবী সর্বাধিক জাগ্রত এবং প্রসিদ্ধ। এই পুজোই একমাত্র বড়ো পুজো হিসেবে পালিত হয়।

দ্বিতীয় মৃন্ময়ী মূর্তি তৈরী হয়না এই মন্দির সংলগ্ন এলাকায়।

 

পরবর্তী পর্বে ফিরে আসবো বাংলার এক অন্য প্রাচীন কালী মন্দিরের ইতিহাস এবং

অনেক অলৌকিক ঘটনানিয়ে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।