শিব কথা – জলেশ্বর মহাদেব

246

চৈত্র মাস প্রায় শেষ হতে চললো। সামনেই চরক উৎসব এবং নীল ষষ্ঠী।বাংলা নব বর্ষকে বরন করা আর কিছুদিন পরেই। আজ আপনাদের এমন এক অদ্ভুত শিব মন্দির নিয়ে লিখবো যার সাথে এই চরক উৎসবের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় রয়েছে জলেশ্বর শিব মন্দির যেখানে মূল বিগ্রহ বছরে মাত্র একবার উঠে আসে শিব পুকুর থেকে। বাকি সময় জলের নীচেই থাকেন মহাদেব।প্রতি চৈত্র মাসের তৃতীয় সোমবার চড়কের সময়ে সন্ন্যাসীরা এই শিব লিঙ্গ মন্দিরের সামনের শিব পুকুর থেকে তুলে আনেন। এবং তারপর হালিশহরের গঙ্গায় শিব লিঙ্গটি স্নান করান এবং স্নানের পর গ্রামের আটটি পরিবারে পূজিত হয় এই শিবলিঙ্গ।সব শেষে পয়লা বৈশাখের দিন আবার এই শিবলিঙ্গ ডুবিয়ে দেওয়া হয় শিবপুকুরে। যদিও মন্দিরে সারা বছর অন্য একটি বিগ্রহ রাখা হয় এবং পুজো করা হয়।জলের নীচে ঈশ্বর বাস করার কারনে শিব এখানে জলেশ্বর মহাদেব নাম খ্যাত।ইতিহাস বলছে সেন বংশের রাজত্বকালে, দ্বাদশ শতকের শেষের দিকে এখানে শিব পূজার প্রচলন শুরু হয়।পরবর্তীতে গোবরডাঙার জমিদার রমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় শিবমন্দিরের জন্য বেশ কয়েক বিঘা জমি দান করেন। সেই জমিতে তৈরী হয় মহাদেবের মন্দির ও শিব পুকুর।মন্দিরের পাশেই রয়েছে এক বহু প্রাচীন গাছ। সেখানে মনস্কামনা পূরণের জন্য ভক্তরা ঢিল বেঁধে যান। সব মিলিয়ে জলেশ্বর শিব মন্দির, শিবপুকুর এবং এই মনোস্কামনা পূরণ করা বিশাল বৃক্ষ এক অদ্ভুত ও অলৌকিক পরিবেশ সৃষ্টি করে যা ভাষায় প্রকাশ করা যায়না। উপলব্ধি করতে হয়।ফিরে আসবো শিব কথা নিয়ে আগামী পর্বে। থাকবে অন্য কোনো শিব মন্দিরের কথা। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।