জগদ্ধাত্রী পূজোর শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন

33

বাংলায় জগদ্ধাত্রী পুজো শুরুর ইতিহাস নিয়ে আপনাদের আগেই বলেছি|আজ জগদ্ধাত্রী পূজোর শাস্ত্রীয় ও পৌরাণিক তাৎপর্য আপনাদের জানাবো|শাস্ত্র মতে মা দুর্গা মর্ত্য থেকে কৈলাসে ফিরে যাওয়ার পর আবার মর্ত্যে ফেরেন দেবীজগদ্ধাত্রী রূপে।পুরান মতে মা দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করার পর দেবতারা আবার নিজেদের পুরানো গর্বে অভিভূত অবতারে ফিরে যান। নিজেদের ক্ষমতার অহংয়ে তারা আবার অন্ধ হয়ে পড়েন। যেন তাঁরাই দণ্ডমুণ্ডের কর্তা, তাঁরা ছাড়া আর কারও কোনও শক্তিই নেই আর কী!দেবতাদের এই অহংকার দেখে ভারী ক্রুদ্ধ হয়ে যান ব্রহ্মা। তিনি যক্ষরূপ ধারণ করে দেবতাদের একে একে ডেকে পাঠান। একটি সামান্য ঘাসকে রেখে তিনি পবনদেবকে বলেন তা নিজ ক্ষমতায় সরিয়ে দেখাতে। পবনদেব হাজারো চেষ্টার পরেও বিফল হন। এরপর বরুনদেবকে ডেকে পাঠানো হয় এবং বলা হয় ঘাসটিকে ভিজিয়ে দেখাতে। তিনিও অসফল হন। তারপরে ডাক পরে অগ্নিদেব, তিনিও ঘাসটিকে জ্বালাতে সক্ষম হন না।এই ভাবে দেবতাদের অহংকার চূর্ণ হয়|প্রত্যেক দেবতা একে একে অসফল হওয়ার পরে আসেন ব্রহ্মা। এবং তিনি দেবতাদের বোঝান যে সবার ওপরে পরম ব্রহ্মই সত্যি। তাহার ওপর কেহ না। তিনি সৃষ্টি কর্তা|তিনি আরও বলেন, দেবতাই হোক কিংবা মানব অথবা দৈত্য, এই জগতে সবচেয়ে বড় একটি অসুরের বিরুদ্ধে তাঁদের লড়াই করতে হবে আর সেটি হল তাঁদের মানসিক অহংয়ের অসুর।করিন্দ্রাসুর আসলে এই অহং বোধের প্রতিফলন|আর এই অসুরকে বধ করতেই পরম ব্রহ্ম যে দেবীর রূপ নেন, তিনিই জগদ্ধাত্রী। সেই দেবীর আরাধনা হয় এই শুক্লা নবমী তিথিতে|আজ আপনাদের সবাইকে জগদ্ধাত্রী পুজোর শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|দশ অবতার রহস্য নিয়ে আবার ফিরে আসবো যথা সময়ে|ভালো থাকুন|পড়তে থাকুন|ধন্যবাদ |