বয়রা কালীমন্দিরের ইতিহাস

48

বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অদ্ভুত নিদর্শন উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ শহরের প্রাচীন বয়ড়া কালী মন্দির যাকে কেন্দ্র করে শোনা যায় বেশ কিছু অলৌকিক ঘটনা|আজ এই মন্দিরের কথা বলবো|বর্তমান ১০ নং জাতীয় সড়কের ধারে মা বয়রা কালীর মন্দির। শহরের বুকে বয়ে চলেছে শ্রীমতি নদী। হতে পারে বর্তমানে নদী হারিয়েছে তার যৌবন। তবে এককালে এই নদীতে পারাপার হতো বাণিজ্যের বড়ো বড়ো নৌকা। কাহিনীটি সেই সময়েরই। এই নদীপথ দিয়ে যাতায়াত করতেন যেসব বণিকরা তারাই নদীর ধারে এক বয়রা গাছের নীচে মা কালীর পূজো শুরু করেন। সেই থেকেই এখানে মা কালীর নাম বয়রা কালী। তারা প্রতিষ্ঠা করেন দেবীর বেদী।শোনা যায় জঙ্গলাকীর্ণ সেই জায়গা ধীরে ধীরে পরিণত হয় ডাকাতদের আস্তানায়। মায়ের পুজো শুরু করে তারাও। ইতিমধ্যে এলাকায় নিযুক্ত হয়েছেন নতুন দারোগা তিনি ভিন্ন ধর্মের মানুষ সালটা ১৯৩২। তবে নতুন দারোগার আবার অভিনয় চর্চায় বেশ ঝোঁক। মাঝে মাঝেই এলাকার মানুষজনদের নিয়ে নাটক-যাত্রাপালার আসর বসাতেন। উৎসাহ দিতেন মানুষজনকে যাতে এই চর্চা কখনো বন্ধ না করে। এই দারোগা মশাইয়ের স্বপ্নে একদিন হাজির হোন মা বয়রা কালী স্বয়ং! তিনি তাঁকে আদেশ দেন মন্দির প্রতিষ্ঠা করবার। দারোগা নিজে ভিন্ন ধর্মের হলে হবে কি, সব ধর্মের প্রতি তাঁর সমান শ্রদ্ধা।তিনি বেরিয়ে পড়েন মন্দির নির্মাণের অর্থ সংগ্রহ করতে। এলাকাবাসীর কাছে যতটুকু সম্ভব চাঁদা সংগ্রহ করেন এবং বাকি অর্থ তিনি জোগাড় করেন এক লবণ গাড়ির নিলাম থেকে। আয়োজন করলেন পুজোর সমস্ত সামগ্রীর। সেই কাঁচা মন্দির আজ পরিণত হয়েছে পাকা মন্দির বাড়িতে।মন্দিরে আজও মহাড়ম্বরে প্রতি দীপান্বিতা অমাবস্যায় পূজিতা হয়ে আসছেন মা। বিদেশ বিভূুঁই থেকেও হাজির হয় ভক্তগণ। পুজোর দিনে লক্ষাধিক ভিড় সামলাতে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। ১৯৯৮ সালে ভক্তদের চেষ্টায় এবং অর্থে গড়ে তোলা হয় মা বয়রার অষ্টধাতুর মূর্তি।পুজোর দিন মাকে সাজানো হয় সোনার গয়নায়। ভোগে থাকে তিন রকমের সব্জি এবং পাঁচ রকমের মাছ ভাজা। পূজোর দিন রাত্রিবেলায় নাকি মা বের হোন ভক্তদের মাঝে। অনেকেই নিঝুম রাস্তায় শুনেছেন মায়ের নূপুরের শব্দ। মায়ের পূজোয় অংশ নেন এলাকার অন্য ধর্মের লোকেরাও। সরকারি নিয়ম মেনে পুজোয় বন্ধ হয়েছে বলি প্রথা।মন্দিরের বর্তমান সেবাইতরা বলেন, “মা খুবই জাগ্রত ৷ তাই বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা ছুটে আসেন পুজো দিতে ৷ মানসিক করেন ৷ দীপাবলির রাতে আনুমানিক লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম হয় ৷ প্রাচীন পদ্ধতিতে পুজো করা হয় ৷ বিশেষত্ব হল মা-কে পাঁচ রকমের মাছ ভাজা ভোগ হিসেবে দেওয়া হয় ৷ আর কিছু জুটুক বা না জুটুক মাছ ভাজাটা দিতেই হবে ৷আগামী 24 নভেম্বর দীপান্বিতা অমাবস্যায় হৃদয়েস্বরী মা সর্বমঙ্গলার মন্দিরে ও তারাপীঠ মহা শ্মশানে এক যোগে হবে হোম যজ্ঞ ও তন্ত্র মতে গ্রহের প্রতিকার প্রদান|তারা পীঠে আমি নিজে উপস্থিত থাকবো|আপনারা হয়তো জানেন শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খন্ডনের অন্যতম শ্রেষ্ট তিথি দীপান্বিতা অমাবস্যা আবার একবছর পরে আসবে এই সুযোগ তাই আপনারা চাইলে এই মহা যজ্ঞে এবং গ্রহ দোষ খণ্ডন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন|বাড়িতে বসে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখতে পারেন সমস্ত অনুষ্ঠান|দীপান্বিতা অমাবস্যা উপলক্ষে ধারাবাহিক ভাবে চলতে থাকবে কালী তত্ত্ব ও বিভিন্ন কালী মন্দির নিয়ে আলোচনা|ফিরে আসবো আগামী পর্বে কালী কথা নিয়ে|থাকবে অন্য কোনো প্রাচীন মন্দিরের ইতিহাস|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|