শিব তীর্থ – দুর্গেস্বর মহাদেব

27

শিব তীর্থ – দুর্গেস্বর মহাদেব

 

পন্ডিতজি ভৃগুর শ্রীজাতক

 

সম্প্রতি উত্তর ভারতের কিছু বিখ্যাত শিব মন্দির দর্শন করলাম। ফিরে এসে মনে হলো বাংলায় এমন কতো প্রাচীন শিব মন্দির আছে

যেগুলো হয়তো সেভাবে প্রচারের আলোয় আসেনি। চৈত্র মাস চলছে আর কদিন পরেই নীল ষষ্টি এই সময় ধারাবাহিক ভাবে বাংলার প্রাচীন কিছু শিব মন্দিরের অজানা কথা নিয়ে আলোচনা করবো।আজ লিখবো কলকাতায় অবস্থিত দুর্গেশ্বর মহাদেব’ মন্দির নিয়ে।

 

বিশালকায় এই মন্দিরের উচ্চতা আনুমানিক পঞ্চাশ ফুট, ভাস্কর্যের রূপকার ছিলেন শিল্পী গদাধর দাস। এই মন্দিরের ভিতরে রয়েছে প্রায় দশ ফুট উচ্চতার শিবলিঙ্গ। এতবড় শিব কলকাতার কোন মন্দিরে নেই,প্রকাণ্ড আয়তনের শিবলিঙ্গের মাথায় জল ঢালতে হয় লোহার সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে|

 

কলকাতার নিমতলা অঞ্চলে অবস্থিত দুর্গশ্বর মহাদেব’ মন্দির বাংলার প্রাচীন আটচালা মন্দির শিল্পের উৎকৃষ্ট উদাহরণ, হাটখোলার দত্ত পরিবারের মদনমোহন দত্তের দুই পুত্র রসিকলাল দত্ত এবং জহরলাল দত্ত এর প্রতিষ্ঠা করেন।আনুমানিক ১৭৯৪ সালে অর্থাৎ প্রায় আড়াইশ বছর আগে। শোনা যায় সেকালে এর পাশ দিয়ে বয়ে যেত গঙ্গা|

 

এই শিব মন্দির ও প্রতিষ্ঠিত শিব লিঙ্গ নিয়ে একটি অদ্ভুত গল্পও প্রচলিত আছে।শোনা যায়, একসময় এই শিবলিঙ্গ মাঝে মাঝে ‘নিজের জায়গা থেকে সরে’ গঙ্গায় চলে যেত এবং এই চলে যাওয়া আটকাতে শিবলিঙ্গ কে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখার রীতি প্রচলিত হয়। আজও সেই রীতি বজায় আছে।

 

বর্তমানে ভগ্নপ্রায় এই মন্দিরে আজও আসেন বহু দর্শনার্থী।বিশেষ বিশেষ তিথীতে বিশেষ পূজা ও জন সমাগম ও লখ্য করা যায়, অনেকেই মন্দিরকে বুড়ো শিবের মন্দির বা মোটা মহাদেব।

মন্দির ও বলেন|

 

আগামী দিনে এমন আরো অনেক প্রাচীন শিব মন্দিরে কথা নিয়ে ফিরে আসবো আপনাদের সামনে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।