শিব অবতার – পিপলাদ
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
সনাতন ধর্মে যেমন বিষ্ণুর দশ অবতারের উল্লেখ আছে তেমনই দেবাদিদেব মহাদেবের একাধিক অবতার ও আছে|নানা অবতারের রূপ ধারণ করে বারবার পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়েছেন মহাদেব। পুরাণ থেকে তাঁর মোট উনিশটি অবতারের কথা জানা যায়|যদিও বিভিন্ন সময়ে শিব বিশেষ বিশেষ কারণে আরো কিছু রূপে
অবতীর্ণ হয়েছেন।
আজ শিবের একটি বিশেষ অবতার পিপলাদ বা পিপ্পল্লাদ সম্পর্কে জানবো।পিপলাদ একজন তেজদীপ্ত ব্রহ্ম ঋষি ছিলেন এবং তাকে সাক্ষাৎ শিবের অবতার রূপেই বিবেচনা করা হয়।
ত্যাগের মূর্ত প্রতীক সাধু দধিচি ও তাঁর স্ত্রী স্বর্চার সন্তান পিপলাদ হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন শিব। শৈশবে পিসি দধিমতির কাছে পালিত হয়েছিলেন তিনি। প্রবল পরাক্রমী ছিলেন পিপলাদ|এই পিপলাদ ও গ্রহ রাজ শনির মধ্যে একবার বিবাদ দেখা দেয়|
বড় হয়ে যখন পিপলাদ জানতে পারেন যে তাঁর বাবাকে সমস্যায় ফেলেছিলেন শনি। ক্ষুব্ধ পিপলাদ শনিকে অভিশাপ দিলে স্বর্গ থেকে পতন হয় শনির। দেবতারা এসে পিপলাদের কাছে শনির হয়ে ক্ষমাভিক্ষা করলে পিপলাদ শনিকে ক্ষমা করে দেন এবং বলেন যে শনির দৃষ্টি যার ওপর পড়বে, তিনি শিবের পুজো করলে শনির দশারে অশুভ প্রভাব কেটে যাবে। শুধু তাই নয় তিনি শনি দেবের থেকে এই প্রতিশ্রুতিও আদায় করে নেন যে যে ১৬ বছর বয়সের আগে কোনো বালকের কোনো ক্ষতি শনিদেব করতে পারবেন না।
আজও জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে শিবের পুজো করলে ও শিব কৃপা লাভ করলে শনি গ্রহের কু প্রভাব থেকে মুক্তি লাভ হয় এবং এই আস্থার মূলে আছেন মহর্ষি পিপলাদ।
সমগ্র চৈত্র মাস ধরে শিব মহিমা এবং শিবের একাধিক এমন অবতার ও শিব মন্দিরের ইতিহাস আপনাদের সামনে তুলে ধরবো। ফিরে আসবো
আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।