কৃষ্ণ কথা – কৃষ্ণ ভক্ত মহাদেব 

5

কৃষ্ণ কথা – কৃষ্ণ ভক্ত মহাদেব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সবে শেষ হলো এবছরের মহা শিব রাত্রি আর কিছুদিন পরেই দোল পূর্ণিমা। শিব এবং কৃষ্ণের সম্পর্ক ভক্ত এবং ভগবানের সম্পর্ক। শিব পরম বৈষ্ণব এবং তিনি সদা তার আরাধ্য বিষ্ণু বা কৃষ্ণের ধ্যানে মগ্ন। আজ দেবাদিদেবের এমন এক লীলার কথা লিখবো যেখানে তার কৃষ্ণ প্রেম গভীর ভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

 

একবার ভক্ত মহাদেব তার আরাধ্য বিষ্ণুকে কৃষ্ণ রূপে দেখতে এবং তার সান্নিধ্য লাভ করতে ব্যাকুল হয়ে ওঠেন।তখন তিনি কৈলাশে গভীর ধ্যানে মগ্ন সেই অবস্তায় তিনি শ্রী কৃষ্ণের বাঁশির মধুর ধ্বনী শুনতে পেলেন।সেই অতীন্দ্রিয় শব্দ অনুসরণ করে তিনি বৃন্দাবনে পৌঁছান যেখানে ভগবান গোপীনাথ তাঁর গোপীদের সাথে মহা রাস-লীলা শুরু করার জন্য প্রস্তুত ছিলেন।

 

মহা-রাসে যোগদানের তীব্র আকাঙ্ক্ষায় শিব নিধী বনের প্রবেশদ্বারের কাছে যান কিন্তু দ্বার রক্ষী যোগমায়া তাকে থামিয়ে দেন এবং বলেন – কৃষ্ণ ব্যতীত কোনও পুরুষের প্রবেশের অনুমতি নেই। প্রবেশ করতে চাইলে আপনাকে ব্রজের দাসী অর্থাৎ এক গোপীর রূপে থাকতে হবে।

 

এরপর শিব মানসরোবরের জলে ডুব দেন এবং সেখানে স্নান করার পর ভগবান শিব হ্রদ থেকে সুন্দরী গোপীনীর রূপে আবির্ভূত হন এবং সেই রূপে শ্রী কৃষ্ণের রাস স্থলে গিয়ে তার ভগবানের দর্শন লাভ করেন।

 

কিন্তু ভগবান অন্তর্যামী এবং তিনি শিবের এই ছদ্মবেশ ধরে ফেললেন এবং বললেন “হে গোপীশ্বর, তোমাকে গোপী রূপে দেখে আমি খুব খুশি হয়েছি। কিন্তু আপনি জানেন যে এই রস গৃহস্থদের জন্য নয়। অতএব, যেহেতু আপনি অংশগ্রহণ করেছেন এবং আপনার ইচ্ছা পূরণ করেছেন, তাই আমি আপনাকে রাস স্থানের দ্বার পাল নিযুক্ত করলাম এবং আপনি এই স্থানে সর্বদা গোপেশ্বর মহাদেব রূপে বিরাজ করবেন।

 

আজও শিব তার আরাধ্য হরির ইচ্ছেয় ওই স্থানে গোপেশ্বর রূপে বিরাজমান।ভগবানের সাথে মিলিত হতে শুদ্ধ ভক্তরা সব কিছু করতে পারেনা এমনকি স্বয়ং মহাদেবও ব্যাতিক্রম নন।কৃষ্ণ প্রেমে তার অনেক ভক্তই এমন কান্ড ঘটিয়েছেন এবং ভগবানের সাক্ষাৎ পেয়েছেন।

 

দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে আবার পরের পর্বে ধারাবাহিক কৃষ্ণ কথা নিয়ে ফিরে আসবো।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।