দশ অবতার রহস্য – বলরাম অবতার

27

দশঅবতার পর্বে আজ আপনাদের বলরামের কথা বলবো যিনি দ্বাপর যুগে কৃষ্ণের ভ্রাতা ও লীলা সঙ্গী রূপে এসেছিলেন|বলরামের জন্ম বৃত্তান্ত নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন কিছু মত প্রচলিত আছে যদিও শাস্ত্র মতে কৃষ্ণের সত্‍ মা রোহিণীর গর্ভে জন্ম হয় বলরামের। যদিও তিনি ছিলেন আসলে কংসের কারাগারে বন্দি বসুদেব ও দেবকীর সপ্তম গর্ভের সন্তান। কংসের হাত থেকে তাঁকে বাঁচানোর জন্য শ্রীহরি নির্দেশে সপ্তম গর্ভের ভ্রুণ রোহণীর গর্ভে প্রতিস্থাপিত করা হয়। কংসকে জানানো হয় যে দেবকী মৃত সন্তান প্রসব করেছেন। কৃষ্ণের থেকে বলরামের চরিত্র ছোটবেলা থেকেই ভিন্ন। শান্ত প্রকৃতির বলরাম রেগে গেলে মারাত্মক রূপ ধারণ করতেন আবার কৃষ্ণ যেমন কালো, বলরাম ফর্সা। কৃষ্ণের পছন্দ হলুদ বর্ণের কাপড়়, বলরামের পরনে সব সময় নীল বস্ত্র। বলরামের অস্ত্র এক বিশাল লাঙল। তিনি এ কারণে ‘হলধারী’ নামেও পরিচিত। অস্ত্রবিদ্যায় তিনি অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন। ভীম এবং দুর্যোধন তাঁর কাছে গাদচালনা শিখেছিলেন।বলরাম ছিলেন অত্যান্ত বলশালী ও বীর যোদ্ধা|শক্তি ও আধ্যাত্মিকতার মিলন হয়েছে বলে তাঁর নাম বলরাম। অনেকের মতে বিষ্ণুর এক অবতার রামের ছোট ভাই লক্ষ্মণ দ্বাপর যুগে তাঁর বড় ভাই বলরাম হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন।পুরাণ মতে বলরাম নীলবস্ত্র পরিহিতা , কনক ভূষনা ,তার অস্ত্র লাঙল বা হাল।তাই তাঁকে” হলধর”ও বলা হয়। কোনো কোনো মূর্তিতে তাঁর হাতে গদা দেখা যায় । শাস্ত্রে তাঁকে বিষ্ণুর দশ অবতাররের মধ্যে অন্যতম অবতার রূপে স্থান দেয়া হয়েছে|তিনি ভগবানের অষ্টম অবতার|মহাভারতের বন পর্বে উল্লেখিত হয়েছে- বলরাম হলেন বিষ্ণুর অবতার এবং অন্যদিকে, কৃষ্ণ হলেন সমস্ত অবতার এবং অস্তিত্বের উৎস।বলরাম স্বতন্ত্র ও স্বাধীনচেতা|মহাভারতে কৃষ্ণের পাণ্ডবদের পছন্দ করলেও বলরাম কিন্তু কৌরবদের প্রতি দুর্বল ছিলেন। ভীমের তুলনায় দুর্যোধন ছিলেন তাঁর প্রিয় ছাত্র। এমনকি নিজের বোন সুভদ্রার সঙ্গে দুর্যোধনের বিয়ে দিতেও চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কৃষ্ণ তা বানচাল করে অর্জুনের সঙ্গে সুভদ্রার বিয়ের ব্যবস্থা করেন। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে বলরাম কোনও পক্ষ অবলম্বন না করলেও ভীম যখন অনৈতিক ভাবে দুর্যোধনের ঊরুভঙ্গ করেন, তখন বলরাম এতটাই রেগে যান যে নিজের লাঙল তুলে ভীমকে আক্রমণ করতে উদ্যত হন তিনি। কিন্তু কৃষ্ণের কথায় তিনি নিজেকের সংবরণ করে নেন।বলরাম অবতার আসলে কৃষ্ণের ছায়া সঙ্গী হিসেবে তার সাথে প্রতিটি লীলায় অংশগ্রহন করতে আবির্ভূত হয়েছিলেন|সব দিক দিয়ে স্বার্থক ও সফল তার এই রূপ যা আমাদের বার বার শ্রী রাম ও লক্ষণের কথা মনে করিয়ে দেয়|যদু বংশ ধ্বংসের এবং কৃষ্ণের মৃত্যুর পূর্বে বলরাম দ্বারকার এক বটবৃক্ষের নিচে যোগসমাহিত অবস্থায় কাটান।কিছু শাস্ত্রে উল্লেখ আছে এই সময় বলরামের মুখ থেকে রক্তবর্ণ ও সহস্রমুখ এক সাপ নির্গত হয়ে সমুদ্রে চলে যায়।এরপর তাঁর মৃত্যু ঘটে।এই ঘটনার কারণে অনেকে তাঁকে নাগরাজের শেষ অবতার হিসাবে মান্য করে থাকেন। ইনি রাজা রৈবতের কন্যা রেবতীকে বিবাহ করেছিলেন।রেবতীর গর্ভে তাঁর নিশধ ও উল্মক নামে দুটি পুত্র জন্মায়|বুদ্ধ অবতারের কথা নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে|চলতে থাকবে আধ্যাত্মিক ও পৌরাণিক বিষয় নিয়ে আলোচনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|