স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় পতাকার ইতিহাস

50

আজ ভারতের স্বাধীনতা দিবস|এই বছর স্বাধীনতা দিবসে একটু আলাদা কারন এবছর কেন্দ্র সরকার প্রতিটি বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন কে উৎসাহ দিতে একটি কর্মসূচি গ্রহন করছে যারা ‘ হার ঘর তিরঙ্গা ‘ নিঃসন্দেহে অভিনব প্রয়াস|আমাদের তিরঙ্গা জাতীয় পতাকার ও একটা ইতিহাস আছে|এই পতাকা সৃষ্টির সাথে জড়িয়ে আছে অনেক ঘটনা ও অনেক গল্প|ভারতের জাতীয় পতাকার রূপটি অতি সুন্দর এবং অর্থবহ|এই পতাকারা কেন্দ্রে চব্বিশটি দণ্ডযুক্ত নীল “অশোকচক্র” সহ গেরুয়া, সাদা ও সবুজ আনুভূমিক আয়তাকার ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা। ১৯৪৭ সালের ২২ জুলাই গণপরিষদের একটি অধিবেশনে এই পতাকার বর্তমান রূপটি ভারত অধিরাজ্যের সরকারি পতাকা হিসেবে গৃহীত হয়েছিল|স্বাধীনতারা কিছু বছর আগে আগে ১৯১৬ সালে অধুনা অন্ধ্রপ্রদেশের মছলিপত্তনম শহরের নিকটস্থ ভাটলাপেনামারু গ্রামের বাসিন্দা পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া একটি সাধারণ জাতীয় পতাকার রূপদানের চেষ্টা করেন|অনেক ঘটনা ও টানা পোড়েনের পর তিনিই হন দেশের জাতীয় পতাকার স্রষ্টা বা রূপকার|ভেঙ্কাইয়া এই পতাকার জন্য মহাত্মা গান্ধীর অনুমোদন চাইতে গেলে গান্ধীজি তাঁকে “ভারতের মূর্তপ্রতীক ও দেশের সকল অমঙ্গলহারী” চরকার চিত্র পতাকায় যোগ করার পরামর্শ দেন গান্ধীজি|যদিও তা বাস্তবায়িত হয়নি|পরবর্তীকালে ১৯৩১ সালের করাচি কংগ্রেস অধিবেশনে পতাকা সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রস্তাবটি পাস হয়। পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া অঙ্কিত একটি ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা গৃহীত হয়। এই পতাকায় আনুভূমিক গেরুয়া, সাদা ও সবুজের মধ্যস্থলে একটি চরকা খচিত ছিল। গেরুয়া ত্যাগ; সাদা সত্য ও শান্তি এবং সবুজ বিশ্বাস ও প্রগতির প্রতীক তথা চরকা ভারতের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও দেশবাসীর শ্রমশীলতার প্রতীক হিসেবে গৃহীত হয়।ওই বছরই ২ রা এপ্রিল কংগ্রেস কর্মসমিতি একটি সাত সদস্যের পতাকা সমিতি গঠন করে। পতাকায় ব্যবহৃত তিনটি রং নিয়ে আপত্তি আছে ওঠে কারণ এই রংগুলি সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে চিহ্নিত এই মর্মে একটি প্রস্তাব পাস হয়। পতাকার রঙ আবার পরিবর্তন করা হয়|আবার সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হচ্ছে এই অভিযোগের ভিত্তিতে পতাকার এই রঙ বাতিল করা হয়|স্বাধীনতা প্রাপ্তির কয়েকদিন পূর্বে ভারতের জাতীয় পতাকার বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য গণপরিষদ স্থাপিত হয়। গণপরিষদ রাজেন্দ্র প্রসাদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে। এই কমিটির সদস্যরা ছিলেন মৌলানা আবুল কালাম আজাদ, সরোজিনী নাইডু, চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী, কে এম মুন্সি ও বি আর আম্বেডকর। পতাকা কমিটি স্থাপিত হয় ১৯৪৭ সালের ২৩ জুন।এই কমিটি পতাকা নিয়ে আলোচনা শুরু করে। তিন সপ্তাহ পরে ১৯৪৭ সালের ১৪ জুলাই তাঁরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের পতাকাটি উপযুক্ত সংস্কারের পর সব দল ও সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণীয় করে তুলে জাতীয় পতাকা হিসেবে গৃহীত হবে। পরে এমন প্রস্তাবও গৃহীত হয় যে ভারতের জাতীয় পতাকার কোনো সাম্প্রদায়িক গুরুত্ব থাকবে না। চরকার পরিবর্তে সারনাথ স্তম্ভ থেকে ধর্মচক্র-টি গৃহীত হয় পতাকায়।এই পতাকাই ভারতের জাতীয় পতাকা রূপে স্বীকৃত হয় এবং ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট স্বাধীন ভারতে প্রথমবার এই পতাকাটি উত্তোলিত হয়|ভারতের জাতীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সবারই জেনে রাখা দরকার| জাতীয় পতাকা ক্ষতিগ্রস্থ হলে বা নোংরা হলে, এটিকে ফেলে দেওয়া বা অমর্যাদার সহিত নষ্ট করা যায় না।রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পতাকাকে সঠিক ভাবে বিদায় জানানো হয় বা সংরক্ষন করাই নিয়ম|স্বাধীনতা দিবস পালন করুন এবং অবশ্যই জাতীয় পতাকাকে যথাযত সন্মান দিন|আমার সকল পাঠক ও অনুরাগীদের জানাই স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|জয় হিন্দ|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|