কালী কথা – বৈষ্ণব কালী

8

কালী কথা – বৈষ্ণব কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সাধারণত বৈষ্ণব অর্থাৎ বিষ্ণুর উপাসক এবং শাক্ত অর্থাৎ শক্তির উপাসক। সনাতন ধর্মে শাক্ত ও বৈষ্ণব দুটি ভিন্ন দর্শন এবং দুটি ভিন্ন ধারা।দুয়ের মধ্যে মত পার্থক্য এবং বিরোধ বহু প্রাচীন কিন্তু

বাংলায় হুগলির হরিপালের শ্রীপতিপুরে বিখ্যাত অধিকারী পরিবারের কাছে এই দুই প্রকার সাধনা অর্থাৎ বিষ্ণু  ও দেবী কালি দুয়ে মিলে এক হয়ে

গেছে। আজকের কালী কথা পর্বে।হরিপালের বিখ্যাত বৈষ্ণব কালীর পুজো নিয়ে লিখবো।

 

শাস্ত্রে একটি ঘটনার উল্লেখ আছে একবার শ্রীকৃষ্ণ ও রাধিকা যখন লীলা করছিলেন সেই

খবর গিয়ে পৌছায় রাধিকার স্বামী আইহন ঘোষেরকাছে কিন্তুরাধিকার স্বামী আয়ন ঘোষ এসে

দেখেন রাধিকা কালি পুজো করছেণ,

প্রেমিকা কে অপমানের হাত থেকে বাঁচাবার জন্য স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ কালির রূপ ধরেন, যা কৃষ্ণকালী ।নামে পরিচিত সেই রুপই হুগলীর এই শতাব্দী প্রাচীন পুজোয় দেখা যায়।

 

এখানেদেবী কালির গলায় কন্ঠি মালা, বৈষ্ণব

তিলক আঁকা পুজোতে কোনরকম বলি নয়,

দেবী তৃপ্ত হন বাঁশির সুরে। আজ থেকে ৭০ বছর আগে বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী

বটোকৃষ্ণ অধিকারীর তন্ত্রসাথনায় সিদ্ধ হয়েপ্রথম শুরু করেন এই পুজো। এখানে মা পরম বৈষ্ণবী।

 

সাধক বটকৃষ্ণ অধিকারী এই গ্রামেরই

এক দরিদ্র গোড়া বৈষ্ণব পরিবারে জন্ম

গ্রহণ করেন বৈষ্ণব সূলোভ আচরণ ছোট

থেকেই দেখা গিয়েছিলো অধিকারী

মশাইয়ের মধ্যে। বড়ো হয়ে সংসার ধর্ম করার পরেও তন্ত্রসাধনার দিকে আগ্রহছিল তার বেশি।একসময় তিনি শ্মশানে সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন ও স্বপ্নাদৃষ্ট হয়ে এইখানে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন এই মাতৃ মন্দির। শুরু হয় পুজো।

 

স্বপ্নেই তিনি দেখে ছিলেন যে তার দেবী মূর্তি সাধারণ কালো বা নীল নয় দেবীর গাত্র বর্ণ সবুজ এবং শ্যাম ও শ্যামা এক সাথে বিরাজমান। তাই এই অদ্ভুত রুপই প্রতিষ্ঠিত হন দেবী

 

যদিও আজকের এখানেই শেষ করছি। তবে মৌনী অমাবস্যা উপলক্ষে চলতে থাকবে কালী কথা। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।