কালী কথা – ভবানী পাঠকের কালী
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
জলপাইগুড়ি তে অবস্থিত এই প্রাচীন একটি কালী মন্দির সাধারণ মানুষের কাছে আজও ভবানী পাঠকের মন্দির নামে পরিচিত।কথিত আছে এই দুর্গম অঞ্চল শাসন করতো এক দুর্ধর্ষ দস্যু রানী এবং এক মাতৃ সাধক যাদের বঙ্কিম চন্দ্রের কালজয়ী উপন্যাসে যথাক্রমে দেবী চৌধুরানী এবং ভবানী পাঠক নামে অভিহিত করা হয়েছে|উপন্যাসে উল্লেখিত ত্রিস্রোতা নদীই বর্তমানে তিস্তা নদী যে নদী দিয়ে যাতায়াত করতো দেবী চৌধুরানীর বজ্রা|
প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠাতার সঠিক নাম নিয়ে কিঞ্চিৎ মতবিরোধ থাকলেও জনশ্রুতি অনুসারে এই মন্দির ভবানী পাঠকই বানিয়েছিলেন|
আজও এক ইতিহাসের সাক্ষী বহন করে চলেছে ভবানী পাঠকের কালী মন্দির|জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের শিকারপুর চা বাগানের মধ্যে রয়েছে ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরানীর মন্দির।বঙ্কিম চন্দ্রের উপন্যাস অনুসারে ভবানী পাঠক ডাকাত সর্দার হিসাবে পরিচিত থাকলেও তিনি সন্ন্যাসীর মতো জীবনযাপন করতেন। তিনি অত্যাচারী ইংরেজ ও দেশীয় জমিদারদের জিনিস লুঠপাট করে তা দীন দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন এবং বেজায় কালী ভক্ত ছিলেন ভবানী পাঠক|
শোনা যায় মন্দিরে প্রথমে কাঠের মূর্তিই ছিল। দুই পাশে দুটি কাঠের কালী মূর্তি। সেই কালীকে পুজো করেই নাকি ভবানী পাঠক তাঁর অভিযানে বের হতেন। পরে কোনোভাবে সেই কাঠের মূর্তি পুড়ে যাওয়ায় মাটির মূর্তি তৈরি হয়|বর্তমানে ঐতিহাসিক এই মন্দিরে মন্দিরে মা কালীর মূর্তি ছাড়াও তিস্তাবুড়ি, ভবানী পাঠক, দেবী চৌধুরানী, গঙ্গা দেবী, সিদ্ধপুরুষ মোহনলালের মূর্তি আছে, জলপাইগুড়ির দর্শনীয় স্থান গুলির মধ্যে অন্যতম এই ভবানী পাঠকের কালী মন্দির|
প্রায় প্রতি অমাবস্যায় এখানে বড়ো আকারে কালী পুজো হয় কার্ত্তিক অমাবস্যায়। মন্দির প্রতিদিন ভোর পাঁচটায় খোলে বন্ধ হয় বিকেল পাঁচটায়।
আজ এই পর্ব এখানেই শেষ করলাম|ফিরবো আগামী কালী কথা পর্বে। মৌনী
অমাবস্যা উপলক্ষে যারা জ্যোতিষ পরামর্শ এবং শাস্ত্র মতে গ্রহের প্রতিকার চান তারা এখনো যোগাযোগ করতে পারেন। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
