কালী তীর্থ – বেনে পাড়ার কালী

265

আজকের কালী তীর্থ পর্বে লিখবো আড়বেলিয়া বেনে পাড়ায় অবস্থিত পাঁচশো বছরের বিখ্যাত কালী মন্দিরের কথা|আজ থেকে প্রায় ৫০০ বছর আগে বসিরহাট মজুমদার বাড়িতে কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়। কথিত আছ যশোহরের রাজা প্রতাপাদিত্যের রাজত্বের শেষদিকে যখন রাজ‍্যে বিশৃঙ্খল অবস্থা। সেই সময় রাজা প্রতাপাদিত্যের রাজ‍্যের দেওয়ান ছিল আড়বেলিয়ার এই মজুমদার পরিবারের পূর্বশূরী এক বংশধর। রাজা প্রতাপাদিত্য দ্বারা প্রতিষ্ঠিত যশোরের বিখ্যাত য কালী মন্দির যা যশোরেশরী নামে খ‍্যাত|এই যশোরেশ্বরী কালীমাতা দ্বারা মজুমদার পরিবারের ওই পুরুষ স্বপ্নে আদেশ পান, “আমাকে এখান থেকে তুই নিয়ে চল, এখানে আমি থাকতে পারছিনা।” দেবীর নির্দেশ মতো তিনি মন্দিরের দেবী ঘট ও মায়ের হাতের খাঁড়া নিয়ে যশোহর ত‍্যাগ করেন।বেনে পাড়ায় একটি খড়ের চালা ঘরে দেবীর ঘট স্থাপন করে পুরোহিতকে দিয়ে পুজো শুরু করেন। দেবী স্বপ্নাদেশ দেন মন্দিরে যেন কোনও বিগ্রহ বা প্রতিমা স্থাপন না করা হয়। সেই থেকে আজ অবধি বিনা বিগ্রহে কেবলমাত্র ঘটে এই মন্দিরে কালীমাতার পূজা অর্চনা চলে আসছে।বর্তমানে মন্দিরে একটি বেদীর উপর কাঠের বড়ো সিংহাসন ও রুপার খাটে দেবীর তামার ঘট প্রতিষ্ঠিত আছে। মজুমদার পরিবারের সদস্যরা জানান, এই মজুমদার পরিবারে ভিটায় প্রতিমা সহযোগে কোনওরকম পূজা অর্চনা করা নিষেধ। এমনকি কোনরকম দেবদেবীর ক‍্যালেন্ডার এই পরিবারের ঘরে টানানো যাবেনা। এই বিধান সেই প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে।প্রতি বছর কার্তিক মাসে আড়ম্বরপূর্ণ ভাবে মন্দিরে পূজা হয়। পাশাপাশি আড়বেলিয়া গ্রামে কোন কালীপূজা করতে হলে প্রথমে এই বেনে পাড়ার কালী মন্দিরে পূজা উৎসর্গ করে তবেই কালীপূজা করতে হয়|আবার ফিরে আসবো কালী তীর্থ নিয়ে যথা সময়ে|পড়তে থাকুন|