সমুদ্র মন্থন রহস্য
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
পুরানে বর্ণিত নানা অলৌকিক এবং রোমাঞ্চকর ঘটনাগুলির মধ্যে সমুদ্র মন্থন সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। তার অনেক কারন আছে। আজকের এই পর্ব সমুদ্র মন্থন এবং সমুদ্র মন্থনে
দেবাদিদেব মহাদেবের ভূমিকা নিয়ে।
দেবতাদের শ্রেষ্ঠত্ত্ব প্রদান করতে এবং অসুর দের শক্তি সীমিত করে সৃষ্টি রক্ষা করতে অমৃতের সন্ধানে সমুদ্র মন্থন হয়। তবে শুধু অমৃত নয়
অমৃতের সাথে হলাহল বিষ, লক্ষ্মী, ঐরাবত হাতি, উচ্চৈঃশ্রবা ঘোড়া, পারিজাত বৃক্ষ সহ ১৪টি রত্ন উঠে এসেছিল এই মন্থনে। যেহেতু কুবের ধনসম্পদের দেবতা তাই এই ধন ভান্ডার রক্ষা করার দায়িত্ব তাকে দেয়া হয়।
অশুরদের অত্যাচারে যখন দেবলোকের জীবন দুর্বিসহ হয়ে পড়েছিল ঠিক সেই সময়েই অমরত্ব লাভের জন্য যাবতীয় সমুদ্রমন্থন করা হয়েছিল সমুদ্র মন্থনের ফলেই মিলবে অমৃত সেই অমৃত পান করেই লাভ করা যাবে অমরত্ব ৷ সেই মতই শুরু হয়েছিল সমুদ্রমন্থন| সমুদ্র মন্থনের সময়ে একধিক জিনিসপত্র সমুদ্রগর্ভ তেকে বেরতে শুরু করেছিল ৷ হঠাৎ একটি বড় মাটির পাত্রে উঠে এসেছিল কিছু একটা|
তাই নিয়েই বেধেছিল গোলযোগ ৷ অবশেষে জানতে পারা গিয়েছিল মাটির পাত্রে উঠে আসা তরল আসলে অমৃত নয় সেটি গরল অর্থাৎ বিষ ৷ সেই বিষ নির্গত না করলে বা রাখলে পাওয়া যাবেনা অমৃত ৷ তবে সেই অমৃত স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতাল কোথায় রাখা হবে ? সেই বিষ যেখানেই রাখা হবে থাকবে না প্রাণের স্পন্দন ৷
ত্রিলোকজুড়ে যখন এসেছিল এমন সমস্যা স্বয়ং এগিয়ে এসেছিলেন ভগবান শিব ৷ তাঁর কণ্ঠে ধারণ করেছিলেন জগতের বিষ ৷ বেঁচেছিল ত্রিলোক ৷ মহাদেব কণ্ঠে বিষ ধারণ করাতেই তাঁর কণ্ঠের রং হয়েছিল নীল ৷ শিবের গলার রঙ নীল বলেও তাঁকে নীলকণ্ঠ বলা হয়ে থাকে ৷সেই সময় দেবী পার্বতী তাঁর স্তন দুগ্ধ পান করিয়ে দেবাদিদেবের সমস্ত জ্বালা নিবারণ করেছিলেন। এই ভাবেই সৃষ্টির রক্ষা করেছিলেন মহাদেব, তাই তাঁকে ‘সৃষ্টির রক্ষাকর্তা’ বলা হয়।
আর কিছুদিন পরেই অক্ষয় তৃতীয়া।
বিশ্বাস করা হয় যে অক্ষয় তৃতীয়ার দিনই সমুদ্র মন্থন থেকে দেবী লক্ষ্মী আবির্ভূত হয়েছিলেন। তাই অক্ষয় তৃতীয়া যেকোনো শুভ কাজের জন্য আদর্শ তিথি।
আজকের পৌরাণিক আলোচনা এখানেই
শেষ করছি|দেখা হবে আগামী পর্বে। থাকবে অন্য পৌরাণিক বিষয়।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
