লৌকিক দেব দেবী – মনসা
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
ধারাবাহিক ভাবে লিখছি বাংলার লৌকিক দেব দেবীদের নিয়ে।আজকের পর্ব
দেবী মনসা কে নিয়ে।
মনসা বাংলার লৌকিক দেবীদের মধ্যে সর্বাধিক জাগ্রতা।শ্রাবন মাসে বর্ষার প্রকোপে সাপের বিচরণ বেড়ে যায়। বহু মানুষের মৃত্যু হয় সাপের কামড়ে।তাই সর্পদংশন প্রতিরোধ ও সাপের বিষের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে তাঁর পূজা করা হয়।এক্ষেত্রে মনসা মূলত সাপের দেবী।
আবার বহু স্থানে ধন-সম্পদ এবং সমৃদ্ধির জন্য মা মনসার পূজা করা হয়। জনশ্রুতি, লোককথা বা কিংবদন্তী অনুসারে মনসা মূলত একজন আদিবাসী দেবতা কারণ শুরুতে নিম্নবর্ণীয় হিন্দুদের মধ্যে তাঁর পূজা প্রচলিত ছিল। পরবর্তীকালে উচ্চবর্ণীয় হিন্দুসমাজেও মনসা পূজা প্রচলন লাভ করে। বর্তমানে মনসা আর আদিবাসী দেবতা নন বরং তিনি একজন সনাতনী দেবীতে রূপান্তরিত হয়েছেন।
মনসা মঙ্গল কাব্য অনুসারে শিব ভক্ত চাঁদ সওদাগরের মাধ্যমে মর্তে দেবী মনসার পুজো প্রচলন হয়|মঙ্গলকাব্যে তাঁকে শিবের কন্যা বলা হয়েছে আবার পুরাণ অনুসারে তিনি ঋষি কশ্যপের কন্যা। একদা সর্প ও সরীসৃপগণ পৃথিবীতে কলহ শুরু করলে কশ্যপ তাঁর মন থেকে মনসার জন্ম দেন।
বিভিন্ন গ্রন্থে বর্ণিত বিবরণ অনুযায়ী মনসা সর্বাঙ্গে সর্পাভরণভূষিতা এবং পদ্ম অথবা নাগপৃষ্ঠে আসীনা। তাঁর মাথার উপর সপ্তফণাযুক্ত নাগছত্র দেখা যায়। কখনো কখনো তাঁর কোলে একটি শিশুকেও দেখা যায়। মনে করা হয় এটি তাঁর পুত্র আস্তিক। মনসার একটি চোখে দৃষ্টি নেই কারণ তাঁর একটি চোখ সৎ-মা চণ্ডী কর্তৃক দগ্ধ হয়েছিল|
ফিরে আসবো পরবর্তী লৌকিক দেবী বা
দেবতাকে নিয়ে আগামী পর্বে।
পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
