লৌকিক দেব দেবী – শীতলা
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
গ্রাম বাংলার এক অতি প্রসিদ্ধা এবং জাগ্রতা দেবী হলেন শীতলা দেবী।কিছু পুরানে তার উল্লেখ থাকলেও তাকে লৌকিক দেবী রূপেই প্রাধান্য এবং মান্যতা দেয়া হয়।
দেবী বসন্ত রোগের জ্বালা নিবারণ করেন এবং
শীতলতা প্রদান করেন তাই শীতলা নামে পরিচিত হয়েছেন। বসন্ত ও চর্মরোগ থেকে পরিত্রাণের উদ্দেশ্যে শীতলা পূজা করা হয়।বিশেষ করে যখন চিকিৎসা ব্যাবস্থা উন্নত ছিলোনা তখন বহু মানুষ মারা যেতেন বসন্ত রোগে সেই সময় গ্রামে গ্রামে শীতলা দেবীর আরাধনা করা হতো। গ্রাম বাংলারা মানুষের অন্যতম ভরসা এই দেবী।
দেবী শীতলাকে দয়াময়ী নামেও অভিহিত করা হয়। কূলাকৃতির মুকুট এবং গর্দভের উপর উপবিষ্ট। দেবী শ্বেতবর্ণা।হাতে রয়েছে পূর্ণকুম্ভ পবিত্র জল অমৃতময় শীতল জল ছিটিয়ে রোগ, তাপ ও
শোক দূর করেন দেবী আবার কোথাও তিনি নিমের পাতা বহন করেন কারন নিম রোগ প্রতিরোধকারী উদ্ভিদ।আয়ুর্বেদিক গুনে ভরপুর।
সাধারণত শ্রাবণ মাসের শুক্লা সপ্তমী তিথিতে
দেবী শীতলার পূজা করা হয়।গ্রীষ্মের মরসুমি ফলই দেবীর প্রধান ভোগ হিসেবে
নিবেদন করা হয়।
পূর্ব মেদিনীপুরের নাচিন্দা গ্রামে রয়েছে এক জাগ্রত শীতলা মাতার মন্দির যেখানে
দেবী শীতলাকে নিয়ে প্রচলিত আছে
বহু অলৌকিক জনশ্রুতি।
শোনা যায় যেখানে শীতলা মন্দির, তার কাছাকাছিই থাকতেন এক অসুস্থ বৃদ্ধা।
একদিন রাতে ওই বৃদ্ধাকে স্বপ্নে দেখা দেন দেবী শীতলা এবং তিনি বলেন, ‘তুই চুপচাপ শুয়ে থাকিস না। তোর বাড়ির সামনের পুকুরে রোজ স্নান করবি।স্নান শেষে একট গাছের নীচে ঘট স্থাপন করবি।আমার পুজো করবি। আমার পুজো করলে তোর আর কোনো দুঃখ থাকবেনা। আমার পুজো করলে রোগগ্রস্ত মানুষ মুক্তি পাবে। সন্তানহীনা সন্তান লাভ করবে।
স্বপ্ন দেখার পর বৃদ্ধারা ঘুম ভেঙে যায়।সেদিন ছিল অক্ষয় তৃতীয়া।তিনি স্বপ্নে দেখানো দেবীর নির্দেশমতোই পুকুর থেকে স্নান সারেন। তারপর একটি গাছের নীচে জলভর্তি ঘট স্থাপন করেন।দেবীর পুজো করেন এবং সুস্থ হয়ে ওঠেন।সেই থেকে প্রতিবছর অক্ষয় তৃতীয়ায় বিশেষ পুজো হয় এই মন্দিরে। পুজো উপলক্ষে মেলাও বসে।
ফিরে আসবো আগামী পর্বে। থাকবে লৌকিক দেব দেবী নিয়ে আরো অনক তথ্য।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
