চড়ক পুজোর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
যে প্রাচীন শাস্ত্র গুলিতে শিব মহিমা বর্ণনা করা হয়েছে যেমন লিঙ্গপুরাণ, শিব পুরাণ এবং ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণে চৈত্র মাসে শিবের আরাধনার কথা বলা থাকলেও চড়ক পুজোর উল্লেখ নেই। তবে পাশুপত সম্প্রদায় প্রাচীন কালে এই উৎসব পালন করত।নববর্ষের প্রথম দু-তিন দিন ধরে চড়ক উৎসব চলে এবং শৈব সম্প্রদায়ের এটি একটি প্রধান উৎসবে পরিণত হয়েছে।
ঠিক কবে থেকে এবং কী ভাবে চড়ক পুজো শুরু হয় তার সুনির্দিষ্ট ইতিহাস পাওয়া যায় না।
বলা হয়ে থাকে ১৪৮৫ খ্রিস্টাব্দে সুন্দরানন্দ ঠাকুর নামের এক রাজা চড়ক পুজো চালু করেন এবং সেই রীতি মেনে আজও চড়ক পূজো চলছে।
আবার কিছু শাস্ত্র বলে দ্বারকাধীশ কৃষ্ণের সঙ্গে একবার মহাদেবের একনিষ্ঠ উপাসক বাণরাজার যুদ্ধ হয়। সেই যুদ্ধে জয়লাভ ও অমরত্ব লাভের প্রার্থনায় বাণরাজা নিজের শরীরের রক্ত দিয়ে শিব পূজো করেন। শিব কৃপা লাভের পর সেদিন ভক্তিমূলক নাচগানও হয় । সেই দিন ছিল চৈত্র সংক্রান্তি। তখন থেকেই এই পুজোর শুরু হয়।
একটি অস্থায়ী গাছ কে কেন্দ্র করে চড়ক পূজো অনুষ্ঠিত হয়।চড়কগাছে ভক্ত বা সন্ন্যাসীকে লোহার হুড়কা দিয়ে চাকার সঙ্গে বেঁধে দ্রুতবেগে ঘোরানো হয়। মনে রাখতে হবে চড়ক পুজোর মূলে রয়েছে ভূতপ্রেত ও পুনর্জন্মবাদের প্রতি বিশ্বাস। চড়ক পুজোর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হল দৈহিক যন্ত্রণা। এখানে অনেকটা কঠিন হট যোগের ন্যায় দৈহিক যন্ত্রনা লাভের মধ্যে দিয়ে নিজের আরাধ্য দেবতার কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন তার ভক্তরা।
অত্যন্ত নিষ্ঠা এবং ভক্তি সহকারে শিব ভক্তরা এই
চড়ক পুজোর আয়োজন করেন।
পুজোর আগের দিন চড়ক গাছটিকে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা হয়। এতে জলভরা একটি পাত্রে শিবের প্রতীক শিবলিঙ্গ রাখা হয়, পূজারীরা একে ‘বুড়োশিব’ বলে থাকেন। এছাড়া এই সময় মাটির তৈরী কুমির পুজোর রীতি আছে অনেক স্থানে।
এই ছিলো সংক্ষেপে চরক পুজোর ইতিহাস এবং আধ্যাত্মিক তাৎপর্য। সবাইকে জানাই চড়ক পুজোর শুভেচ্ছা। ফিরে আসবো আগামী
পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।
